তিনি আমেরিকায় জন্মালে অস্কার সম্মানে ভূষিত হতেন | বলেছিলেন স্বয়ং সত্যজিৎ রায় |

যাঁর সম্বন্ধে এ কথা বলেছিলেন কিংবদন্তি পরিচালক‚ সেই অভিনেতাকে অভিনয়ের জন্য অনেক বেশি পারিশ্রমিক দিতে চেয়েছিলেন তিনি | কিন্তু অভিনেতা নিতে রাজি হননি | বলেছিলেন‚ এত বেশি টাকা আমায় দেবেন না | তাহলে এর পরে আর কাজ পাব না |

সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে মাত্র দৈনিক ১৫ টাকা পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন তিনি | যেখানে সত্যজিৎ রায় দিতে চেয়েছিলেন দৈনিক ১০০ টাকা | তুলসী চক্রবর্তীকে | পরশপাথর ছবিতে অভিনয়ের জন্য |

১৮৯৯-এর ৩ মার্চ তুলসী চক্রবর্তীর জন্ম গোরাইয়ে | বাবা ছিলেন রেলকর্মী | তুলসীর ছোটবেলা কেটেছে কলকাতায়‚ জ্যাঠার কাছে | জ্যাঠা ছিলেন স্টার থিয়েটারের তবলচি | কাকার হাতে ধরে তিনি যেতেন থিয়েটারে | খুব সামনে থেকে দেখতেন বড় বড় অভিনেতাদের অভিনয় |

সেই দেখেই তাঁর ছোটবেলা থেকে সাধ হয়‚ বড় হয়ে গায়ক-অভিনেতা হবেন |

১৯৩২ থেকে ১৯৬১‚ তিন দশক ধরে আমৃত্যু‚ বাংলা চলচ্চিত্রকে একের পর এক রত্ন উপহার দিয়ে গেছেন তিনি | আটপৌরে ধুতি‚ গলায় পৈতে |

কখনও তিনি পথের পাঁচালীর প্রসন্ন পণ্ডিত | কখনও সাড়ে চুয়াত্তর-এর মেসমালিক রজনীবাবু | আবার কখনও একটি রাত-এর সন্দেহপ্রবণ সরাইখানা মালিক গোসাঁইজী | অনবদ্য অভিনয়ে ম্লান হয়ে যায় আশেপাশের তারকা‚ মহাতারকারা |

তিনি না থাকলে সত্যজিৎ রায় হয়তো ভাবতেনই না পরশপাথর করবার কথা | তুলসী চক্রবর্তী ছাড়া আর কে ফুটিয়ে তুলবে পরেশ চন্দ্র দত্তকে ! কিংবা সাড়ে চুয়াত্তরে কে ভুলবে তাঁর সেই লণ্ঠন তুলে মলিনা দেবীর পমেটম মাখা মুখ দেখা !উত্তম সুচিত্রা নয়‚ সাড়ে চুয়াত্তরের প্রকৃত নায়ক নায়িকা কিন্তু তুলসী চক্রবর্তী-মলিনা দেবী |

পৈতে নাড়তে নাড়তে তাঁর মুখে বাপরে বাপরে বাপরে বাপ !’ শুনলে মনে হতো যেন পাশের বাড়ির জেঠু কথা বলে উঠলেন | এতটাই সাবলীল‚ মুক্তধারা ছিল তাঁর অভিনয় | জীবনে একফোঁটাও মেক আপ ব্যবহার করে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াননি তিনি |

ক্যামেরার আড়ালে তাঁর জীবন ছিল কঠিন দারিদ্রে জর্জরিত | যৎসামান্য উপার্জনে নুন আনতে পান্তা ফুরোনোর মতো দশা | এতটাই ছিল অভাব‚ টালিগঞ্জে স্টুডিও পাড়া থেকে হাওড়া শিবপুরে বাড়ি অবধি হেঁটে যেতেন | তবু ছাড়তে পারেননি অভিনয় |

একটাই ভাবনা ছিল | ব্রাহ্মণীকে কী অবস্থায় রেখে যাবেন ! অমূলক হয়নি তাঁর আশঙ্কা | ১৯৬১ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রয়াত হন অপুত্রক তুলসী চক্রবর্তী | তার পরে অত্যন্ত অভাবে দিনাযাপন করেছিলেন তাঁর স্ত্রী | তিনিও কোনওদিন স্বাচ্ছন্দ্যের মুখ দেখেননি | কেউ খোঁজ নেয়নি | সবার অলক্ষ্যে অনটনের সঙ্গে যুঝে গেছেন প্রতিভাবান শিল্পীর সহধর্মিণী |

আরও পড়ুন:  ভাইদের মৃতদেহ খেয়ে জীবনধারণ করে বাবার হাড় থেকে পাশার ঘুঁটি বানিয়ে প্রতিশোধের খেলা খেলতে থাকেন শকুনি

1 COMMENT

  1. Seser lekha tai koster… jini sabar muk hasite voria diten avinoy dia voria diten mon … tar jibone koto kosto chilo