কেমন মেঘলা মেঘলা একটি দিন মাথায় করে আমাদের বৃত্তে ফিরে এলাম আমরা। কেমন মেঘলা মেঘলা একটি দিন। যেন মুহূর্তপরেই ঝুলো আকাশ আর গাছপালা সবাই হু হু করে কেঁদে উঠবে। তোমার আমার একে অপরের দিকে তাকিয়ে থাকা মুখ তখন ময়লা, আর্দ্র। কিছুই নতুন করে বলার নেই বলে আমরা এ অন্যের ফাটলগুলি আরো একবার জরিপ করছি। কতদিনের তুমি! কতদিনের আমিও। পুরনো টিনের গায়ে চকচকে, শুধু চকচকে রঙের প্রলেপ। চোখে চোখ পড়লে কখনো তুমি কী দুঃখিত হাসো। উত্তরে আমিও সমতুল্য দুঃখিত হাসি। কত ঝলমলে রঙিন কাগজের দিন, কত ঘন মিষ্টির দিন দূরে পড়ে রইল আবার গণনাতীত একটা সময়ের জন্য। কত সুদৃশ্য রাত, ফুলের মঞ্জরি দেওয়া জুতো টিলার ওপারে পড়ে রইল। পড়ে রইল উষ্ণ ঝলসানো হাসাহাসি, পড়ে রইল স্তনের মোড়ক। আমি জানি তোমার মধ্যে ভীষণ জলোচ্ছ্বাসে একটি সমুদ্র পাথরে এসে আছড়ে পড়ছে। তার রেণু উড়ে বেড়াচ্ছে ঠিক পাশেরই রাস্তার বাতাসে। যেসব অলীক মানুষ সে রাস্তায় হাঁটে- তাদের পোশাকে অথবা চূর্ণবিচূর্ণ চুলে। আমি হাত বাড়িয়ে তোমার অনড় গোল হাতটি ছুঁতে চেষ্টা করি। সহসা সে নিজেরই অজান্তে পাশে সরে যায়
কতদিনের আমি, কতদিনের তুমি আবার আমাদের বৃত্তে ফিরে আসছি। আমরা জানি আমাদের অভ্যর্থনায় কেউ দাঁড়িয়ে নেই কোথাও। মরা সাপের মতো এঁকেবেঁকে ধুলোট একটি রাস্তা পড়ে আছে। একটি পা-ঠুঁটো কুকুর হয়তো সে রাস্তা ধরে ছাড়িয়ে যেতে চাইছে নিজের আয়ু। গোঁড়া হিন্দুর মতো কঠোর হয়ে, প্রকাণ্ড হয়ে দাড়িয়ে রয়েছে কোনো দেউরির মাথা। নিজেদের বৃত্তে ঢুকতেই আমাদের গা থেকে অতিরিক্ত মাংস খসে যাবে। উধাও হয়ে যাবে অতিরিক্ত তেল। ঘাড়ে বা গলায় যে নীলিমা ছড়ানো- তাও খসে পড়বে। শুধু দুটি প্রেতের একজন বুকে টইটম্বুর স্তন বসিয়ে বাথরুমে যাবে। অন্যজন সময় কাটাতে দেখবে নিজের হেলে থাকা লিঙ্গের দিকে। বাইরে তখনো কেমন মেঘলা মেঘলা দিন। ঝুলো আকাশ আর গাছপালা যেন ফুঁপিয়ে উঠবে। কতদূরে পড়ে রইল আরেকটি পৃথিবী যেখানে সবাই সুন্দর। মাখনের মতো নরম। যেখানে গাছের অন্ধকার কী অপরূপ আলোয় সাজানো! যেখানে পায়ের নীচে কী তরুণ সবুজ! যেখানে ধনী-দরিদ্র আর জোকার ভাত পায়। যেখানে একরাতের জন্য ঈশ্বর স্বর্গসমেত মাটিতে নেমে সবাইকে দৈব করে দেন। তাঁর পীতবসনে সলমা-জড়ি, তাঁর মণিবন্ধে অলস ক্লান্ত এক মদিরাক্ষী ফুল…
ছবি সৌজন্য: Wikimedia commons