মেদ ঝরাতে রোজ নিয়ম করে ঘি খান

1550

ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয় স্বাস্থ্য সচেতন বাঙালিরা অনেকেই ঘি খেতে পছন্দ করেন না| চিকিৎসা বিজ্ঞান কিন্তু অন্য কথা বলছে| একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঘি খাওয়ার সঙ্গে ওজন বাড়ার কোনও সম্পর্ক নেই| উল্টে মাথা থেকে পায়ের নখ অবধি শরীরের একাধিক অঙ্গের সচলতা বৃদ্ধিতে ঘি-এর কোনও বিকল্প নেই| আসুন জেনে নিন নিয়মিত ঘি খাওয়ার উপকারিতা কী কী|

১) বন্ধ নাক খুলে দেয় : ঠান্ডা লেগে নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া নতুন কিছু নয়| বন্ধ নাক ঠিক করতে সকালে ঘুম থেকে উঠে কয়েক ফোঁটা হাল্কা গরম ঘি নাকে দিন| দেখবেন সঙ্গে সঙ্গে আরাম পাবেন|

২) ক্যানসারকে দূরে রাখে : ঘি’য়ে উপস্থিত মৌলিক উপাদানগুলি ক্ষতিকারক কোষের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে| ফলে কোষের বিন্যাসে পরিবর্তন হয়ে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়| 

৩) পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে : ঘি’য়ে উপস্থিত বুটিরিক অ্যাসিড পেটের স্বাস্থ্য ঠিক রাখে|

৪) ব্রেন টনিক হিসেবে কাজ করে : এতে উপস্থিত ওমেগা-৬ এবং ফ্যাটি অ্যাসিড শরীর এবং মস্তিষ্ককে চাঙ্গা রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে|

৫) কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে : অনেকেই কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভোগেন| তাঁদের জন্য ঘি খুবই উপকারী| রাতে শুতে যাওয়ার আগে গরম দুধে এক চা চামচ শুদ্ধ ঘি মিশিয়ে পান করুন| দেখবেন সকালে পেট পরিষ্কার হয়ে যাবে|

৬) ওজন কমাতে সাহায্য করে : নিয়মিত ঘি খেলে ওজন কমে| শুনতে অবাক লাগলেও এটা কিন্তু সত্যি| একাধিক কেস স্টাডি করে দেখা গেছে ঘি-তে উপস্থিত এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত চর্বি ঝড়িয়ে ফেলতে সাহায্য করে|

৭) হার্টের জন্য ভাল : গবেষণা বলছে রিফাইনড অয়েলের তুলনায় ঘি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর| এমনকি দেখা গেছে নিয়মিত ঘি খেলে শরীর থেকে খারাপ কোলেস্ট্রোল কমে গিয়ে ভাল কোলেস্ট্রোলের বৃদ্ধি হচ্ছে|

৮) হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটায় : খাবার হজম করতে বিভিন্ন স্টমাক অ্যাসিডের প্রযোজন হয়| নিয়মিত ঘি খেলে স্টামাক অ্যাসিডের বৃদ্ধি হয়| ফলে বদহজম এবং গ্যাস-অম্বল হওয়ার আশঙ্কা কমে| প্রখ্যাত সেলেব্রিটি নিউট্রিশনিস্ট রজুতা দিওয়েকর তার লেখা একাধিক বইতে ঘিয়ের উপকারিতা সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে বলেছেন খিচুড়ি বা গুরুপাক খাবার ঠিক মত হজম করাতে এই সবের সঙ্গে ঘি খাওয়া জরুরি| কারণ ঘি যে কোনও ধরনের মশলাদার খাবারকে সহজে হজম করিয়ে দিতে সক্ষম|

৯) ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে :আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে ঘি হল প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার‚ যা ত্বক আর ঠোঁটের হারিয়ে যাওয়া আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে| শুধু তাই নয় প্রতি দিন অল্প পরিমাণে ঘি-এর সঙ্গে যদি সামান্য জল মিশিয়ে মুখে লাগাতে পারেন তা হলে ত্বকের বয়স চোখে পড়ার মত কমবে|

১০) চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ে : নিয়মিত ঘি খেলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটে| সেই সঙ্গে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেক সময় সাহায্য করে|

Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.