অকারণে কান্না পায় কেন?

470

জীবনে অনেক ওঠা পড়ার মধ্যে দিয়ে আমাদের সবাইকেই যেতে হয়| মাঝে মধ্যে এমন পরিস্থিতিও আসে যখন কোনও কারণ ছাড়াই কান্না পায় | এতে চিন্তার কিছু নেই| এমনটা সবার সঙ্গেই হয়| কিন্তু অকারণে আমাদের কান্না পায় কেন? এই প্রশ্নের উত্তর আজ অবধি পাওয়া না গেলেও,কয়েকটা সম্ভাব্য কারণ থাকতে পারে| আজকে তাই নিয়েই আলোচনা করা হল|


# ঋতুস্রাবের পূর্বের লক্ষণ : ঋতুস্রাব হওয়ার আগে অনেক মহিলাই পিএমএস বা Premenstrual Syndrome-এ আক্রান্ত হন| এর অন্যতম লক্ষণ সব সময় কান্না পাওয়া। এ ছাড়া মেজাজের পরিবর্তন হয়‚ অল্পতেই রাগ হয়| ঋতুস্রাব আরম্ভ হয়ে গেলে ধীরে ধীরে এই লক্ষণগুলো চলে যায়| এ ছাড়াও ঋতুস্রাবের আগে হরমোনের তারতম্যের জন্য, কারণ ছাড়াই মন খারাপ হতে পারে| 

# মেনোপজের আগে ও পরে : চল্লিশের কোঠায় পা দেওয়ার পরে, মহিলাদের শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে| এর ফলে মুড সুইং, হঠাৎ ঘাম হওয়া বা রাতে সহজে ঘুমতে না পারার মতো লক্ষণ দেখা যেতে পারে| এগুলো সবই মেনোপজের আগের লক্ষণ| অবশ্য এই লক্ষণগুলো হওয়া মানেই মেনোপজ হবে, এমন ভেবে নেবেন না| ক্ষেত্রবিশেষে, মেনোপজের বহু আগেই এই লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে| বয়স বাড়ার সঙ্গে মহিলাদের ওভারি বা ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমতে থাকে| তখন শরীরে হরমোনের লেভেল ওঠা নামা করতে থাকে| ফলে এক মুহুর্তে হয়তো আপনি হাসছেন কিন্তু পরমুহুর্তেই কেঁদে ফেলতে পারেন|

# পোস্টকয়টল ডিসফোরিয়া : আপনার কি যৌন মিলনের পর দুঃখ হয়‚ কাঁদতে ইচ্ছা করে? আপনি একা নন| এই অবস্থাকে বলা হয় পোস্টকয়টল ডিসফোরিয়া| পরীক্ষা বলছে ৪৬% মহিলারা জীবনে অন্তত একবার এমনটা অনুভব করেছেন| 

# ভিটামিন বি ১২-এর ঘাটতি : শরীরে কোষ ও রক্তের দেখভাল করে ভিটামিন বি ১২।  এ ছাড়াও ভিটামিন বি ১২ ডিএনএ গঠনে সাহায্যে করে| শরীরে ভিটামিন বি ১২ এর ঘাটতি হলে মন খারাপ‚ অকারণে কান্না পাওয়া‚ উৎকণ্ঠা‚ বিরক্ত হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে| এ ছাড়াও দুর্বলতা‚ ওজন কমে যাওয়া‚ খিদে না পাওয়া‚ কোষ্ঠকাঠিন্য‚ নার্ভের সমস্যা‚ কিছু মনে রাখতে না পারার মতো সমস্যা হতে পারে।

# রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে : বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসে যাঁরা আক্রান্ত, তাঁদের হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে| নির্ধারিত সময় খাবার না খাওয়া‚ অন্যদিনের তুলনায় কম কার্বোহাইড্রেট খাওয়া‚ অত্যধিক ব্যায়াম করা‚ অতিরিক্ত মদ্যপান করা কিংবা ডায়াবিটিসের ওষুধ ঠিক সময়ে না খাওয়ার কারণে এমন হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে যাঁদের ডায়াবিটিস নেই, তাঁদেরও রক্তে চিনি মাত্রা কমে যেতে পারে। এর ফলে সহজেই কেঁদে ফেলার প্রবণতা বেড়ে যায়| এ ছাড়াও মেজাজেও পরিূর্তন হয়। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে খুব বেশি খিদে পায়‚ বেশি পরিমাণে ঘাম হয়‚ শরীরে কাঁপুনি হয়‚ ক্লান্ত লাগে বা হৃদস্পন্দনের মাত্রা বেড়ে যায়| এমন হলে চিনি যুক্ত কোনও খাবার বা পানীয় অবশ্যই সেবন করুন|

# থাইরয়েডের সমস্যা : থাইরয়েড গ্ল্যান্ড যখন সঠিক পরিমাণে হরমোন তৈরি করে না, তখন সেই অবস্থাকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে| হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে সহজেই কান্না পেতে পারে| এ ছাড়াও ওজন বেড়ে যাওয়া‚ সব সময় ক্লান্তি অনুভব করা হাইপোথাইরয়েডিজমের লক্ষণ|

#  অবসাদ: গর্ভবতী মহিলাদের শরীরে হরমোনের তারতম্য ঘটে ফলে ডিপ্রেশন হতে পারে| এ ছাড়াও কোন কারণ ছাড়াই অনেকের অবসাদ হয়| কাছের কাউকে হারালে বা বিশেষ কোন ঘটনার জন্যও অবসাদ হতে পারে| এই সময় কিছুই ভাল লাগে না‚ সব সময় কাঁদতে ইচ্ছা করে‚ নিজেকে অপদার্থ মনে হয়‚ নিরাশ লাগে| এ ছাড়াও সন্তান জন্মানোর পর  অবসাদ হতে পারে| সেই অবস্থাকে পোস্টাপার্টাম ডিপ্রেশন বলা হয়| তবে তা সময়ের সঙ্গে ঠিক হয়ে যায়|

# কম ঘুম :  একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির গড়ে একদিনে ৭-৮ ঘণ্টার ঘুম দরকার| কিন্তু অনেক সময় শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুম পায় না| আমাদের মস্তিষ্ক তখন জরুরি ঘটনা আর তুচ্ছ ঘটনার মধ্যে তফাৎ করতে পারে না| এই সময় সাধারণ ঘটনাও অনেক বড় মনে হয়। ফলে আপনি প্রয়োজনের বেশি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন|

# স্ট্রেস : অত্যধিক মানসিক চাপের জন্য অনেক সময় কারণ ছাড়াই চোখে জল চলে আসে| আসলে অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে যে টেনশন তৈরি হয়েছে তা বের করে দেওয়ার রাস্তে খোঁজে শরীর| অত্যধিক স্ট্রেসের কারণে শরীর সহজেই ক্লান্ত হয়ে যায়| এ ছাড়াও মাথাব্যথা‚ পেটের সমস্যা‚ অন্যান্য ব্যথা-বেদনাও হতে পারে| তাই যদি মনে হয় আপনার জীবনে মানসিক চাপ খুব বেড়ে যাচ্ছে, তা হলে জীবন থেকে সেই চাপ কমিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন|


Advertisements

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.