(Eli Cohen)
‘ইটস হিম’
বুয়েন্স এয়ার্সের শহরতলি সান ফান্দার্দোর হাইওয়ে ২০২। সেই রাস্তায় রোজ সন্ধ্যায় কাঁটায় কাঁটায় ৭টা ৪০ মিনিটে ২০৩ নম্বর বাসটা আসে। একটা কিয়স্কের উল্টোদিকে বাসটা দাঁড়ায়। লোকটা বাস থেকে নামে। একই সঙ্গে আর একজন মহিলাও নামে। মহিলা হনহন করে হেঁটে চলে যায়। লোকটা কিয়স্ক থেকে এক প্যাকেট সিগারেট কেনে। মিনিটখানেক লাগে তাতে। তারপর রাস্তা পার হয়ে বাড়ির দিকে হাঁটা দেয়। পাশের গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটেই তার বাগান ঘেরা বাড়ি। ঢোকার আগে বাড়ির চারিদিকে একবার চক্কর মেরে দেখে নেয়, সব ঠিকঠাক রয়েছে কি না। অর্থাৎ, বেশ সন্দিগ্ধ লোকটা।
রুটিন বাঁধা জীবন লোকটার। বাড়ি ফিরে স্ত্রী-পুত্রের সঙ্গে গল্প। তারপরই ডিনার। এর নড়চড় হয় না।
আরও পড়ুন – (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (৯) (১০)
কিন্তু ১৯৬০ সালের ১১ মে, বুধবারের সন্ধ্যায় এই রুটিনের ছন্দপতন হল। ৭টা ৪০-এর বাসটা এল না। আর, তাতেই অস্থির হয়ে পড়ল লোকটার জন্য অপেক্ষমান দু’টো গাড়িতে জনা সাতেক মানুষ। কোনওদিন তো এরকম হয় না? সাতপাঁচ চিন্তা মাথায় এল। বিপদের গন্ধ পেয়ে পাখি ফুড়ুৎ হয়ে যায়নি তো?
এই শঙ্কার যথেষ্ট কারণ আছে। লোকটা আদতে এক কুখ্যাত নাৎসি এসএস অফিসার, যার হাতে লেগে লক্ষ লক্ষ ইহুদি গণহত্যার রক্ত। তাঁকে শেষ দেখা গিয়েছিল ঠিক পনেরো বছর আগে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে ১৯৪৫ সালে ১১ মে, অস্ট্রিয়ার আল্পস পর্বতে। মার্কিন ফৌজের বন্দি দশা থেকে জাল নথির সাহায্যে নিজের নাম পাল্টে অটো একম্যান করে সে মুক্তি পায়। এরপর যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল মানুষটা।

শোনা যায়, এরপর সে অটো একম্যান পরিচয়ে জার্মান প্রদেশ বাভারিয়ার সাম-এ কিছুদিন কাজ করে। কিন্তু যখন বোঝে জাল পরিচয়ে সেখানেও বেশি দিন থাকা যাবে না, সেখান থেকেও পালায়। এরপর আরেক জার্মান প্রদেশ লোয়ার স্যাক্সনিতে লুনবার্গ হিথের জঙ্গলে অটো হেঙ্গিংগার পরিচয়ে কাঠ চেরাইয়ের কারখানায় কাজ করে। এমনকি ভুয়ো পরিচয় ভাঙিয়ে বার্গেন শহরের অনতিদূরে আল্টেনসাল্জকথ গ্রামে জমি লিজ নেয়। ১৯৫০ সাল অবধি সেখানে থাকেও।
ইতিমধ্যে ১৯৪৬ সাল থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ন্যুরেমবার্গে বিচার শুরু হয়েছে। সেখানেই তার একদা সহযোদ্ধা পোলান্ডের আউশউইৎস কনসেনট্রেশান ক্যাম্পের কমান্ডান্ট নাৎসি এসএস অফিসার রুডলফ ফ্রাঞ্জ ফার্দিনান্দ হোস, বিচারকদের সামনে লোকটার পাশবিকতার কাঁচা চিঠ্ঠা খুলে দিয়েছেন। এরপর ১৯৪৮ সালে ইজরায়েল জন্মলাভ করার পর থেকে মোসাদ আত্মপ্রকাশ করেছে। তাঁরা তন্নতন্ন করে লোকটাকে খুঁজছে। জার্মানির প্রত্যন্ত গ্রামেও আর নিরাপদ বোধ করল না লোকটা। রিকার্দো ক্লিমেন্ত পরিচয়ে ইতালির জেনোয়া থেকে ১৯৫০ সালের ১৭ জুন আর্জেন্টিনাগামী জাহাজে চেপে বসল। প্রায় মাসখানেক বাদে ১৪ই জুলাই বুয়েন্স এয়ার্সে পা রাখল ক্লিমেন্ট। কিছুদিন পরে মার্সিডিস বেঞ্জের গাড়ির কারখানায় কাজও জুটিয়ে নিল।
শেষমেশ বছর তিনেক আগে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এয়ার্সের শহরতলি সান ফান্দার্দোতে সে রিকার্দো ক্লিমেন্ত ছদ্মনামে পরিবারসহ লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেল।
লোকটার খোঁজ যাতে আর না পাওয়া যায়, তার জন্য বোনা হয়েছে একের পর এক মিথ্য জাল। যে স্ত্রী তাঁর জন্য এখন ১৪ নম্বর গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটের বাড়িতে অপেক্ষা করছে, সেই তখন জানিয়েছিল— তার স্বামী যুদ্ধে মারা গিয়েছে। লোকটাকে যাতে খুঁজে না পাওয়া যায়, সেই জন্য রটিয়ে দেওয়া হল— লোকটাকে ইহুদির দল খুন করেছে। কিন্তু তাতে খোঁজ বন্ধ হয়নি। আর এই অনুসন্ধানকে বিপথে চালিত করার জন্য ফের ভুয়ো খবর রটিয়ে দেওয়া হত। লোকটাকে পশ্চিম জার্মানি, ইংল্যান্ড, কুয়েত, যুক্তরাষ্ট্র এমনকি ইজরায়েলেও দেখা গিয়েছে। হন্যে হয়ে খোঁজাও হয়েছে। কিন্তু কিছুই মেলেনি। তবে হাল ছাড়া হয়নি।
শেষমেশ বছর তিনেক আগে সুদূর দক্ষিণ আমেরিকায় আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স এয়ার্সের শহরতলি সান ফান্দার্দোতে সে রিকার্দো ক্লিমেন্ত ছদ্মনামে পরিবারসহ লুকিয়ে রয়েছে বলে খবর পাওয়া গেল। শহরের আগের ঠিকানা থেকে তড়িঘড়ি পালাতে হয়েছিল বলে, বাধ্য হয়েই শহরতলির এমন এলাকায় চলে আসল, যেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবাই এখনও পৌঁছায়নি।

লোকটা আর কেউ নয়, অটো অ্যাডল্ফ আইখম্যান— নাৎসিদের ইহুদি গণহত্যা বা হলোকাস্টের অপারেশনাল ম্যানেজার। পদমর্যাদায় লেফটেনেন্ট কর্নেল তথা রাইখ সিকিউরিটি মেন অফিসের ফোর বি ফোর দফতর প্রধান। এই আইখম্যানের কাজই ছিল সুচারুরূপে ইহুদি গণহত্যা চালানো। লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে গ্যাস চেম্বার বা ফায়ারিং স্কোয়াডের সামনে ঠেলে দিয়েছে এই আইখম্যান। অর্থাৎ হিটলারের ইহুদি নিধন ও নির্মূলের জন্য ‘ফাইনাল সলিউসান’ পরিকল্পনার একজন প্রধান রূপকার।
এই কাহিনিতে এগোনোর আগে ছোট্ট একটি তথ্য। ইজরায়েলের ইনটেলিজেন্স বা গুপ্তচর বিভাগ মূলত তিনভাগে বিভক্ত। দেশের অভ্যন্তরীণ গুপ্তচর ব্যবস্থা ও সন্ত্রাসবিরোধী কাজকর্ম দেখে জেনারেল সিকিউরিটি সার্ভিস (সংক্ষেপে জিএসএস), যাকে শিন বেত-ও বলা হয়। দেশের বাইরে এসব করার ভার মোসাদের উপর, আর সেনাবাহিনীতে রয়েছে মিলিটারি ইন্টেলিজেন্স।
আহারোনি আবার গাড়ির ইঞ্জিনের বনেট খুলে দেখছে। ভাবখানা এমন যেন গাড়ির কিছু গণ্ডগোল হয়েছে। গাড়ি খারাপ হলে সাহায্য করার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে শিনবেতের দুই এজেন্ট জভি মালকিন ও মোশে ট্যাভর, যাদের আসল কাজ আইখম্যান এলে, তাকে বগলদাবা করে গাড়িতে তোলা।
আইখম্যানকে ধরার এই অপারেশনটা, শুধু নিজে তদারকি করার জন্য মোসাদের তৎকালীন প্রধান ইসার হারেল বুয়েন্স এয়ার্সে সশরীরে উপস্থিত। যখন এই ঘটনা ঘটছে, তখন গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটের মাইলখানেক দূরে এক কাফেতে বসে হারেল। এতদিন ধরে আইখম্যানকে ধরার ঘুঁটি সুনিপুণভাবে সাজিয়েছেন তিনি। শেষ অঙ্কে তাই কফির কাপ হাতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন খবরের জন্য।
হারেলের পরিকল্পনা রূপায়ণের জন্য সেই সন্ধ্যায় দু’টো গাড়িতে শিনবেতের জনাসাতেক এজেন্ট হাজির। গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটে আইখম্যানের বাড়ির অনতিদূরে রয়েছে কালো বুইক লিমোজিন। তাতে রয়েছেন এই অভিযানের নেতা শিনবেতের অপারেশন চিফ রফি এইতান, স্টিয়ারিং রয়েছে ইন্টারোগেশন ডিরেক্টর জভি আহারোনির হাতে। আহারোনি আবার গাড়ির ইঞ্জিনের বনেট খুলে দেখছে। ভাবখানা এমন যেন গাড়ির কিছু গণ্ডগোল হয়েছে। গাড়ি খারাপ হলে সাহায্য করার জন্য বাইরে দাঁড়িয়ে শিনবেতের দুই এজেন্ট জভি মালকিন ও মোশে ট্যাভর, যাদের আসল কাজ আইখম্যান এলে, তাকে বগলদাবা করে গাড়িতে তোলা।

এই পুরো অপারেশনে সাহায্য করার জন্য রয়েছে একটা কালো শেভ্রলে সেডান। যেখানে গ্যারিবল্ডি স্ট্রিট এসে মিশেছে ২০২ হাইওয়েতে, সেখানেই রয়েছে শ্রেভ্রলেটি। সেই গাড়িতে রয়েছেন শিনবেতের স্পেশাল অপারেশনের ডেপুটি চিফ আব্রাহাম স্যালোম, প্যারিসের শিনবেত এজেন্ট ইয়াকভ গ্যাত ও এক অ্যানাস্থেসিস্ট।
কিন্তু আইখম্যান আসতে দেরি করছে! অধীর হয়ে দলটা অপেক্ষা করছে। ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলল। আর তারই সঙ্গে বাড়তে লাগল টেনশন। কী হল? এত দেরি তো করে না। তাহলে কি আইখম্যান আগেই বাড়িতে চলে এসেছে? তাও না। তাহলে তো বাড়িতে একাধিক হ্যারিকেন জ্বলত। একটাই জ্বলছে। যেটা সম্ভবত আইখম্যানের স্ত্রী ভেরা বা ছেলে দিতার জ্বালিয়েছে। তাহলে?
একমাত্র রফি এইতান অনড়। না, না, ঠিক আসবে। এত সহজে শিকার হাতছাড়া করা যাবে না। পনেরো বছর অপেক্ষা করা হয়েছে নরপিশাচটাকে ধরতে। আর একটু সময় না হয় লাগল। যত সময়ই লাগুক, অপেক্ষা করতে হবে।
(বস্তুত সেই সন্ধ্যায় শিফট শেষে ইউনিয়নের সঙ্গে মিটিং-এর জন্য আইখম্যানের বাড়ি ফিরতে মিনিট কুড়ি দেরি হয়েছিল। স্ত্রী ভেরা এই বিলম্বের কথা জানত। তাই কেন আইখম্যান আসতে দেরি করছে, তা নিয়ে এইতানরা চিন্তা করলেও, প্রাথমিকভাবে ভেরা নিশ্চিন্ত ছিল। রাত ৯টার পরেও আইখম্যান না ফেরায়, ভেরা ও তার ছেলের দুশ্চিন্তা বাড়তে থাকে।)
৭টা ৪৪ নাগাদ দূর থেকে আগুয়ান এক বাসের হেডলাইট দেখা গেল। সবাই মনে মনে তৈরি হয়ে নিল। বাস থামলে তার থেকে আইখম্যান নামবে। কিন্তু বাস দাঁড়ালই না। রফি এইতানদের চোখের সামনে দিয়ে হুশ করে হাইওয়ে ধরে চলে গেল। সবাই হতাশ। তাহলে বোধহয় আজ আইখম্যান আসবেই না। একমাত্র রফি এইতান অনড়। না, না, ঠিক আসবে। এত সহজে শিকার হাতছাড়া করা যাবে না। পনেরো বছর অপেক্ষা করা হয়েছে নরপিশাচটাকে ধরতে। আর একটু সময় না হয় লাগল। যত সময়ই লাগুক, অপেক্ষা করতে হবে।

বাসটা এল, ৮টা ৫-এ। বাসটা থামলে লোকটা নামল। রোজকার বাসযাত্রী সেই মহিলাও নামল। তারপর মহিলা উল্টোদিক হেঁটে চলে গেল। একটু কুঁজো হয়ে হাঁটছিল লোকটা। হাঁটতে হাঁটতে গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটে ঢুকল। গাড়ির হেডলাইটের আলোয় জোভি আহারোনির চিনতে ভুল হল না।
‘ইটস হিম’।
অ্যাডল্ফ আইখম্যান।
আন মোমেনতিতো সেনর
আইখম্যান যখন বাড়ির থেকে গজ তিরিশেক দূরে, তখন যেন মাটি ফুঁড়ে তার সামনে দাঁড়াল জভি মালকিন।
নিখুঁত স্প্যানিশে বলল, ‘আন মোমেনতিতো সেনর’।
হয়তো বিধাতা অলক্ষ্যে মুচকি হাসলেন। যে লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে সে একদা অবলীলাক্রমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের আর্তনাদও শোনার মতো কেউ তো ছিল না।
আইখম্যান চমকে তাকাল। প্রথমটা হকচকিয়ে গেলেও এক লহমায় বুঝে নিল এতদিনের দুঃস্বপ্ন মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে এসেছে তার সামনে। যে ক্ষমাহীন অপরাধ সে করেছে, তার কড়ায় গণ্ডায় হিসাব দেওয়ার সময় এবার উপস্থিত।
পালানোর চেষ্টা করার আগেই মালকিন ধরে ফেলল। দু’জনের খানিকটা মল্লযুদ্ধই হল। ঝটাপটিতে পাশের একটা শুকনো কাদার নর্দমার খাতে দু’জনে গিয়ে পড়ল। এইসময় আইখম্যান একবার চিৎকারও করল। কিন্তু সেই নির্জন রাতের রাস্তায় তার আর্তনাদ শোনার মতো কেউ ছিল না। হয়তো বিধাতা অলক্ষ্যে মুচকি হাসলেন। যে লক্ষ লক্ষ ইহুদিকে সে একদা অবলীলাক্রমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছিল, তাদের আর্তনাদও শোনার মতো কেউ তো ছিল না।

(তবে এই ধস্তাধস্তির সময় আইখম্যানের চশমা ভেঙে নর্দমায় পড়ে যায়। পরে আইখম্যানের স্ত্রী ভেরা তা খুঁজে পায়। তার বুঝতে বাকি থাকে না যে, তার স্বামীকে ইজরায়েলিরা অপহরণ করেছে।)
এইতানরা কোনওভাবে আইখম্যানকে পালানোর সুযোগ দিতে চাননি। যেই আইখম্যান চিৎকার করল, তক্ষুনি মোশে ত্যাভোর যোগ দিল মালকিনের সঙ্গে। ফলে মালকিনের হাত থেকে নিজেকে ছাড়ানোর জন্য আইখম্যানের যাবতীয় প্রচেষ্টার ওখানেই ইতি। চ্যাংদোলা করে এনে তাকে গাড়ির পিছনের সিটে বসানো হল। মালকিন তাঁর গ্লাভস্ পরা হাত দিয়ে আইখম্যানের মুখ চেপে ধরল। এইতান বন্দীকে একটা কালো টেপ লাগানো বাইকচালকদের গগলস পরিয়ে দিল। জোভি আহারনি লিমুজিনের ইঞ্জিন চালু করল। দুটো গাড়িই গ্যারিবল্ডি স্ট্রিটের চৌহুদ্দি ছাড়িয়ে বিদ্যুৎ গতিতে হাইওয়ে ধরল।
ইতিহাস বলে, সেখানেই ২০ মে পর্যন্ত রাখা হয় আইখম্যানকে। তারপর ইজরায়েলি উড়ান পরিষেবার এল অল বিমানে নিয়ে যাওয়া হয় ইজরায়েলে। সেখানেই দীর্ঘ বিচারের পর প্রাণদণ্ড দেওয়া হয় আইখম্যানকে।
আইখম্যানের সামনে মালকিনের উদয় হওয়া থেকে আহারনির গাড়ি স্টার্ট করার মধ্যে ২৫ সেকেন্ড সময় পার হয়েছে।
একটু পরে বন্দীর হাত-পা বেঁধে গাড়ির মেঝেতে বসানো হল। যাতে চট করে কেউ দেখতে না পায়, তার জন্য চাদর মুড়ি দেওয়া হল। আহারোনি রক্ত জল করা স্বরে বলল, “চুপচাপ বসে থাকো। কিছু হবে না তোমার। যদি কোনওরকম এদিক-ওদিক হয়, গুলি করব। বোঝা গেল কথাটা?” একবার নয়, দু’বার কথাটা বলল আহারোনি। আইখম্যান নিরুত্তর।
গাড়ি ছুটে চলল সেফ হাউসের দিকে। ইতিহাস বলে, সেখানেই ২০ মে পর্যন্ত রাখা হয় আইখম্যানকে। তারপর ইজরায়েলি উড়ান পরিষেবার এল অল বিমানে নিয়ে যাওয়া হয় ইজরায়েলে। সেখানেই দীর্ঘ বিচারের পর প্রাণদণ্ড দেওয়া হয় আইখম্যানকে। ১৯৬২ সালের ১লা জুন মধ্যরাতে, মধ্য ইজরায়েলের অতিমাত্রায় সুরক্ষিত রমলা কারাগারে ফাঁসি হয় আইখম্যানের।
আইখম্যানকে ধরার মতোই নাটকীয়তায় পূর্ণ আর্জেন্টিনায় তার খোঁজ পাওয়া। গ্যারিবল্ডি স্ট্রিট কাণ্ড ২৫ সেকেন্ড হলেও এই নাৎসিকে ধরার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বছর আষ্টেক আগে। ১৯৫২ সালে। সে কাহিনি আরেক পর্বের জন্য তোলা থাক।
তথ্যসূত্র: ড্যানিয়েল গর্ডিস – ইজরায়েল: আ কনসাইজ হিস্টরি অফ আ নেশন রিবর্ন, জ্যাক্সন হ্যালে -এলি কোহেন: দ্য স্পাই হু নিয়ারলি বিকেম আ সিরিয়ান মিনিস্টার, এলি কোহেন – আ লাইফ অফ এসপিওনাজ অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস, নীল বসকম্ব – হান্টিং আইখম্যান: চেজিং ডাউন দ্য ওয়ার্ল্ডস মোস্ট নটোরিয়াস নাৎসি, গাই ওয়াল্টার্স – হান্টিং ইভিল, উকি গোনি – হাউ নাৎসি ওয়্যার ক্রিমিনালস এসকেপড ইউরোপ
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
মূলত শিল্প বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিকতায় ব্যপ্ত বিগত তিন দশক। তবে সুযোগ পেলে ক্যামেরা নিয়ে বেড়িয়ে পড়া বা অন্য ধরনের লেখাতে প্রাণের আরাম খোঁজার চেষ্টাও চলে
