








(Gangasagar)
Raghurajpur Pattachitra
‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল ট্রাস্ট ফর আর্ট অ্যান্ড কালচারাল হেরিটেজ’ নির্মিত ঐতিহ্যবাহী গ্রাম রঘুরাজপুর। প্রতিটি বাড়িই সেখানে একজন শিল্পীর ঘর। সমুদ্রতীরবর্তী শহর পুরী থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এটি ওড়িশার প্রথম ঐতিহ্যবাহী গ্রাম, যা পুরী ভ্রমণকারী পর্যটক, শিল্পী এবং অভিযাত্রীদের জন্য একটি প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
নারকেল, তাল ও সুপারি গাছে ছড়ানো প্রায় ২০০টি বাড়ির এই ছোট্ট গ্রামের অলিগলিতে হাঁটলে আপনি দেখতে পাবেন, প্রতিটি বাড়ির সামনের দেওয়াল চমৎকার শিল্পকর্মে সজ্জিত; মহাভারত বা রামায়ণের মতো লোককথা বা পৌরাণিক কাহিনির চিত্রকর্ম, রঙিন আলংকারিক ম্যুরালে আঁকা বিয়ের ঘোষণা এবং রোদে শুকানোর জন্য রাখা শৈল্পিক শিল্পকর্ম।
আরও পড়ুন: ঐতিহ্যবাহী ‘মালুদ পঞ্চু দোলা মেলন যাত্রা’
চেনা গ্রামজীবনের ছবি আপনার চোখে পড়বে না। যুবকেরা গ্রামের চত্বরে বসে নেই; যুবতীরা নদীতে কাপড় কাচতে বা নদী থেকে জল আনতে ব্যস্ত নয়; ছোট ছোট শিশুরা বাড়ির সামনে খেলছে না; বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা নিত্যদিনের সাধারণ কাজকর্ম করছেন না– সকলেই তাঁরা ওড়িশার সবচেয়ে অবিশ্বাস্য শিল্পকলার কোনও না কোনও সৃষ্টিতে মগ্ন।
ওড়িশা, তথা ভারতের অন্যতম শিল্পকলা পটচিত্র (Pattachitra) হল রঘুরাজপুরের সবচেয়ে প্রচলিত শিল্পরূপ। এই শিল্প এই অঞ্চলে খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ অব্দ থেকে প্রচলিত। পটচিত্র নামটি সংস্কৃত ‘পট্ট’ (যার অর্থ ক্যানভাস) এবং ‘চিত্র’ (যার অর্থ ছবি) শব্দ থেকে উদ্ভুত। সুতরাং, পটচিত্র হল ক্যানভাসের উপর আঁকা একটি চিত্রকর্ম, যা সমৃদ্ধ রঙিন প্রয়োগ, সৃজনশীল মোটিফ ও নকশা এবং সরল বিষয়বস্তুর চিত্রায়ণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর বেশিরভাগই পৌরাণিক কাহিনিভিত্তিক। রঘুরাজপুরের শিল্পীরা তসর চিত্র, তালপাতার খোদাই, পাথর ও কাঠের খোদাই, কাঠ, গোবর ও কাগজের মণ্ড দিয়ে তৈরি খেলনা এবং মুখোশও তৈরি করেন।
এই গ্রামটি ওডিসি নৃত্যশৈলির সর্বশ্রেষ্ঠ প্রবক্তা পদ্মবিভূষণ গুরু কেলুচরণ মহাপাত্রেরও জন্মস্থান। ওডিসি নৃত্যশৈলির পূর্বসূরি গোটিপুয়া নৃত্যেরও উৎপত্তি এই রঘুরাজপুরে।