(Neem Sajne)
শীত-বসন্ত সন্ধিক্ষণে নিম আর সজনের গাঁটছড়া আমাদের দেশের সুপ্রাচীন এক যাপন। হেঁশেলের সাথী এই দুই জুটির সুখ্যাতি আয়ুর্বেদের পাতায় পাতায়। এক গবেষণামূলক কাজের সুবাদে দেখছি, এই পরম্পরা মহাভারতের আমল থেকেই। অর্থাৎ আনুমানিক সাড়ে ৫০০০ বছর আগে থেকে। মহাভারতের চরিত্রগুলি মিথ না বাস্তব সে বিতর্ক তো রয়েছেই। তবে বাংলায় একটি জনপ্রিয় প্রবাদ রয়েছে— ‘যাহা রটে তাহা কিছু বটে’। সেই রটনাতেই কি না জানা নেই, তবে নিম-সজনে জুটি ঋতু পরিবর্তনের সময় ভারতীয়দের রান্নাঘরে যোগ্য সম্মান পেয়েই এসেছে এতকাল।
কথায় বলে না, গেঁয়ো যোগী ভিখ পায় না? যারা এতদিন নিম-সজনে সেবন থেকে শত হস্ত দূরে ছিলেন, তাঁরাও আজ বিদেশের গবেষণাপত্রে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছেন। সৌজন্যে এআই। বন্ধুমহল মানে জেমিনি, গ্রক্স, চ্যাটজিপিটিসহ আরও জাতভাইদের সঙ্গে তুমুল প্রশ্নোত্তর সেশনে জোরদার হল কালেকশন করে দিনদিন তাঁদের জ্ঞানভাণ্ডারে সঞ্চিত করছেন নিম বা Azadirachta indica আর সজনে বা Moringa oleifera-র মাহাত্ম্য। হাতে পাঁজি থুড়ি মুঠোফোনের দৌলতে সেই মাহাত্ম্যে বলীয়ান হয়ে এই সময় বাজারীরাও চড়া মূল্যে বিক্রি করছেন আমাদের দেশের অতীব সহজলভ্য এই দুই আইটেম।
আরও পড়ুন: পুরাণে সিঙ্গল মাদার
নিম প্রজাতির মধ্যে তিক্ত নিম ছাড়াও আরেকটি নিম রয়েছে। যা মিঠা নিম। আমরা তাকে কারিপাতা বলি। আয়ুর্বেদে তা কৈটর্য (Murraya koenigii)। তিক্ত বা মিঠে যাই হোক, দুই প্রজাতির নিমেরই বেশ কদর মহাভারতের সুদক্ষ পাচক রাজা নলের আমল থেকেই। প্রাচীন ভারতীয় রন্ধনসাহিত্যের অন্যতম দলিল নল বিরচিত ‘পাকদর্পণ’ আর সেখানে ব্যবহৃত রেসিপিতে নিমের নাম। আয়ুর্বেদে তিক্ত নিম বা নিম্বপত্র ও মিঠে নিম বা সুরভিনিম্ব বা কৈটর্য, এই দুইয়েরই পাতা ঝরে গিয়ে বসন্তে কচিপাতার উদয় হয়।
সর্বগুণাণ্বিত এই দুই নিমই হল ভেষজ আকর। গাছের পাতা যেমন রান্নায় ব্যবহৃত হয়, তেমনই গাছের ছাল, ফল, মূল ওষুধ বানাতে কাজে লাগে। এটি আয়ুর্বেদে বলকারক, অগ্নিদীপক, পাকস্থলির পক্ষে অত্যন্ত হিতকর।

সংস্কৃতে কৈটর্য অর্থ কীটের ত্রাসকারী। চরকীয় চিন্তাধারায় প্রথম প্রজাতির মহানিম কীটনাশক বলে রোগজীবাণুর ত্রাস। অন্যদিকে, দ্বিতীয় প্রজাতির কারিনিম মানব দেহের অভ্যন্তরস্থ রোগজীবাণু ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে। তাই বুঝি সুশ্রূত বলেছেন—
‘বায়ু-অগ্নি অম্ব প্রকৃতয়ঃ বিবিধা কীটাঃ’
অর্থাৎ বায়ু, অগ্নি, জল, মাটির মতো প্রকৃতির বিশেষ বিশেষ রোগ সৃষ্টিকারী কীটসমূহ বিনাশ করে এই কৈটর্য।
ইংরেজিতে Margosa বলা হয় বলেই, আমাদের সুপরিচিত নিম সাবান ‘মার্গো’। নিমেরও কিছুই যায় না ফেলা। এ ঔষধি গাছের ডাল, পাতা, রস সবই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বহুবিধ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে।
দক্ষিণী হেঁশেলঘরে ব্যবহার বেশি হলেও, আজ স্বাস্থ্যসচেতনতায় এই কারিনিম বাংলার ঘরেও ব্যাপক জনপ্রিয়। ভারতের দক্ষিণী উপকূলে কারিপাতার ব্যাপক ব্যাবহারের মূলেও সেই মহাভারত। কারণ আজ সারা ভারতে যে ‘উডুপি’ বা ‘উডিপী’ ফুড চেইন দেখা যায়, তা মূলত উডিপীর রাজার কারণে। কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের সময় তিনি টানা ১৮ দিন দু’পক্ষের সেনা বাহিনীর জন্য বিশাল ছাউনি প্রস্তুত করে ইডলি-দোসা খাইয়েছিলেন। দক্ষিণী আমিষ বা নিরামিষ পদ যা-ই হোক, সেখানে যে কারিপাতা-সরষের ফোড়ন পড়ত, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
এবার আসি, আমাদের বাংলার মহানিম/ঘোড়ানিম বা আয়ুর্বেদের নিম্বপত্রে। ইংরেজিতে Margosa বলা হয় বলেই, আমাদের সুপরিচিত নিম সাবান ‘মার্গো’। নিমেরও কিছুই যায় না ফেলা। এ ঔষধি গাছের ডাল, পাতা, রস সবই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বহুবিধ কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। ঋতু সন্ধিক্ষণে নানা রোগব্যাধির কবলে পড়তে হয় আমাদের। তাই নিম সেবন অত্যন্ত জরুরি। আয়ুর্বেদে তাই বুঝি বলা হয়েছে—

বসন্তে ভ্রমণং কুর্য্যাৎ অথবা নিম্বভোজনম্ / অথবা যুবতী ভার্য্যা অথবা বহ্নিসেবনম্।।
অর্থাৎ বসন্ত যেহেতু রোগের আকর এক ঋতু, তখন ভ্রমণ, নিম্ব সেবন ও যুবতী স্ত্রীর অভাব হলে মরণই শ্রেয়।
নিমের প্রশস্তি গাওয়া হয়েছে অথর্ববেদেও। সেখানে নিমের নাম অরিষ্ট অর্থাৎ যে দূর থেকে শরীরের অগ্নিদাহ দূর করে শুভ সঞ্চারিত করে। (রিষ-শুভ) ঋতু পরিবর্তন কালে বিশেষতঃ বসন্ত-শরতে এই কটু-তিক্ত রস বিশিষ্ট ভেষজ নিত্য সেবন করলে এটি প্রতিষেধক ও রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
অষ্টোত্তর শতনাম না হোক, সোহাগী সজনের আয়ুর্বেদে অনেক আদুরে নাম। ইংরেজিতে Drumstick, বাংলায় সজিনা, সংস্কৃতে শোভাঞ্জন, তিক্ষংখণ্ডক, আক্ষীব বা মৌচাক আর হিন্দিতে শিগ্রু। শিগ্রুর অর্থ হল যা প্রবেশ করে বিদীর্ণ করে দেয়। আর সজনেও তেমনি। দেহে প্রবেশ করে রোগ বিদীর্ণ করতে ওস্তাদ।
আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য তিক্ত ও কষাটে রসের এই নিমকে সর্বপ্রকার অতিসার রোগের শত্রু বলেছেন। বেদোত্তর সমীক্ষায় বলা হয়েছে মধুর, স্নেহ এবং অম্ল খাদ্য অত্যাধিক সেবনে শরীরে যে রসধাতুর আধিক্য হয়, তার দ্বারা সমস্ত রসবহ স্রোতের পথ অবরুদ্ধ হয়ে বহু রোগ হয়। এইসব ক্ষেত্রে প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক দ্রব্য হল কটু, তিক্ত, কষাটে রসবিশিষ্ট ভেষজ নিম্ব। ঋতু পরিবর্তনকালে অর্থাৎ বসন্ত বা শরতে পিত্তরস ও শ্লেষ্মারস অতি সক্রিয় হয়ে রোগব্যাধি সৃষ্টি করে। সেখানে নিম বিশেষ কার্যকরী। অজীর্ণ, জন্ডিস বা কমলা রোগ, জ্বর, অরুচি বা ক্ষুধামান্দ্যে নিম অত্যন্ত সুফল দেয়।
‘ভাবপ্রকাশ নির্ঘণ্টু’-এর প্রামাণ্য দলিলস্বরূপ—
‘নিম্বঃ শীতো লঘুঃ গ্রাহী কটুঃ তিক্তো অগ্নি বাতকৃত্
অর্দয় শ্রম তৃট্ কাস জ্বর অরুচি কৃমিপ্রণুত্
ব্রণপিত্ত কফচ্ছর্দি কুষ্ঠ হ্রল্লাস মেহনুত।।’

এবার আসি মজার কথায়। অষ্টোত্তর শতনাম না হোক, সোহাগী সজনের আয়ুর্বেদে অনেক আদুরে নাম। ইংরেজিতে Drumstick, বাংলায় সজিনা, সংস্কৃতে শোভাঞ্জন, তিক্ষংখণ্ডক, আক্ষীব বা মৌচাক আর হিন্দিতে শিগ্রু। শিগ্রুর অর্থ হল যা প্রবেশ করে বিদীর্ণ করে দেয়। আর সজনেও তেমনি। দেহে প্রবেশ করে রোগ বিদীর্ণ করতে ওস্তাদ।
বসন্তে যেমন আমগাছে মুকুল, নিম গাছে কচি পাতা বা কাঁঠাল গাছে এঁচোড় ধরে, ঠিক তেমনই সজনে গাছে সজনে ফুল ও তা থেকে সজনে খাড়া বা ডাঁটা জন্মায়। এই সময়ে শরীরে ঋতুকালোদ্ভূত রোগের প্রতিষেধক, প্রতিরোধক হিসেবে নিমের মতোই সজনেও অব্যর্থ তার ওষধি গুণে। এ গাছের পাতা থেকে ছাল, ফুল থেকে ফল বা সজনে ডাঁটা ও তার বীজ কোনও কিছুই ফেলা যায় না। অত্যন্ত গুণযুক্ত এই ভেষজ উদ্ভিদের ফল ক্ষুধা উদ্দীপক, বাত ও পিত্তের দোষনাশক, কামোদ্দীপক, বর্ণের উজ্জ্বলতাবর্ধক, চক্ষুরোগের উপশমকারী, বীর্যবর্ধক, রুচিবর্ধক, জ্বরনাশক এবং শ্লেষ্মানিষ্কাশনকারী, এমন দাবি আয়ুর্বেদাচার্যের কারণ বৈদ্যকের নথিতে রয়েছে।
দেহের সার্বিক সুস্থতায় এই সময় নিমপাতার রস, নিম বেগুন, নিম ঝোল, সজনে ফুলের বড়া, সজনে পাতার পরোটা আর সজনে ডাঁটার তরকারি বা দুইয়ের সঙ্গতে নিম-সজনের সুক্তো রোজকার পাতে আবশ্যিক হয়ে পড়েছে।
“ওয়ং স্ব অগ্নিঃ আক্ষীব দধে জঠরে বাবশানঃ
সসবানঃ স্তূয়সে জাতবেদ শৈশিরেণ” ( শুক্ল যজুর্বেদ ১২। [৪৬-৪৭] )
এর অর্থ মহীধরের ভাষায় এরূপঃ হে আক্ষীব! তুমি শিশিরে প্রাণবান হও। তোমার শক্তি অগ্নিবৎ। জঠরে প্রবেশ করে অগ্নি প্রকাশ কর। তোমাকে স্তব করি।
আক্ষীব সজনের অপর নাম। যাস্কের মতে, আক্ষীবের অর্থ মাতাল। বৈদিক সংস্কৃতি বিস্তারের অনেক আগে থেকেই সজিনার রসে প্রস্তুত হত মদ্য। সজিনার ছালের মদ্য সাঁওতাল, মুন্ডা, ভীল, লোধা আদিবাসী সম্প্রদায়ের অতিপ্রিয় এক পানীয়।

আসলে আমাদের ভারতীয় শাস্ত্রে ঋতুপরিবর্তন কালকে যমদ্রংষ্টা বলা হয়েছে। কারণ এই সময় চরম অসুস্থতার শিকার হয়ে মানুষ এককালে মৃত্যুমুখে পতিত হত। সিজন চেঞ্জের সময় এই রোগভোগ আজও আমাদের সাথী। তবে আধুনিক কালে নানা ওষুধ বেরিয়েছে তাই মৃত্যুর হার কমেছে। কিন্তু দেহের সার্বিক সুস্থতায় এই সময় নিমপাতার রস, নিম বেগুন, নিম ঝোল, সজনে ফুলের বড়া, সজনে পাতার পরোটা আর সজনে ডাঁটার তরকারি বা দুইয়ের সঙ্গতে নিম-সজনের সুক্তো রোজকার পাতে আবশ্যিক হয়ে পড়েছে।
তা তেমনই এক হারানো বাঙালি পদ হল নিম ঝোল। এই পদটিকে সর্বকালীন সুক্তুনি বা ঝোল, ঠিক কোন পর্যায়ে ফেলা যায়, তা বুঝতে আমি হিমশিম খাই। কারণ বাঙালির এই বিশেষ সিগনেচার পদটি তিক্ত রসনার তৃপ্তি করে। এর পাকপ্রণালীতেও সুক্তোর বেসিক উপকরণ লাগে। যেমন আলু, কাঁচকলা, বেগুন, রাঙা আলু, সজনে ডাঁটা এবং মুলো। পদটিতে নিম-সজনে উভয়েরই যোগ্য ব্যবহার।
বাঙালি গিন্নিমায়েদের বাড়িশুদ্ধ সকলকে ঘাড় ধরে গুচ্ছের আনাজপাতি খাওয়ানোর মোক্ষম উপায় হল, পরিপাটি করে পাকশালে একটি জবরদোস্ত চচ্চড়ির জোগাড় করা। ঋতু পরিবর্তনের কালে নানাবিধ খাদ্যগুণ এবং ভিটামিনে ভরপুর তেমন এক ঘটিবাড়ির চচ্চড়ি নামেতে যেমনই হোক, স্বাদে কিন্তু একঘর।
আমার দিদা, ঠাম্মার সাতক্ষীরার এই নিম ঝোল বসন্তের হাওয়া বদলের সময় মুখের অরুচির অন্যতম এক হারানো রান্না। দিদাকে দেখেছি বাড়ির লাগোয়া নিমগাছ থেকে আঁকশি দিয়ে কচি নিমপাতা পাড়িয়ে, আগেভাগে বসন্তকালীন এই স্বাস্থ্যকর নিম ঝোলের বাজার করিয়ে রাখতে। নিমপাতা মুচমুচে করে ঘিয়ে ভেজে নিতেন। পুড়ে গেলে চলবে না। সুক্তোর আনাজপাতি কাটা নিয়েও খুব খুঁতখুঁতে ছিলেন। সব আনাজ সমান মাপের ফালাফালা হবে। সজনে ডাঁটা বা বরবটি তর্জনী সমান লম্বা হবে। যেহেতু, শীতের শেষে তখনও বাজারে শিম পাওয়া যায়, তাই নিম ঝোলে শিম দেওয়ারই রীতি। তবে সব এক মাপের না হলে সুন্দর দেখতে হবে না। এমনই বলতেন দিদা। এইসব কারণেই বোধহয় রন্ধনশিল্পকেও ভারতীয় চৌষট্টি কলার অন্যতম বলা হয়।

সরষের তেলে কলাই ডালের বড়ি ভেজে তুলে রেখে, সব আনাজপাতি দিয়ে নাড়াচাড়া করে, সব আনাজ ন্যায়দম খেলে, নুন দিয়ে ঢাকা দিয়ে সেদ্ধ হলেই চিনি। আদা, সর্ষে, পোস্তবাটার মধ্যে আটা গুলে ঢেলে দিতেন দিদা। এবার, বড়ি দিয়ে ফোটানো। কড়াই থেকে অন্য পাত্রে ঢালবার আগে দুধ ছড়াতেন। তারপর নিমপাতা ভাজা ছড়িয়ে ফাইনাল টাচ হল ঘিয়ের মধ্যে পাঁচফোড়ন, তেজপাতা দিয়ে সন্তলন করে, সেই মিশ্রণে দেওয়া।
বাঙালি গিন্নিমায়েদের বাড়িশুদ্ধ সকলকে ঘাড় ধরে গুচ্ছের আনাজপাতি খাওয়ানোর মোক্ষম উপায় হল, পরিপাটি করে পাকশালে একটি জবরদোস্ত চচ্চড়ির জোগাড় করা। ঋতু পরিবর্তনের কালে নানাবিধ খাদ্যগুণ এবং ভিটামিনে ভরপুর তেমন এক ঘটিবাড়ির চচ্চড়ি নামেতে যেমনই হোক, স্বাদে কিন্তু একঘর। আর তা হল সজনে ডাঁটা, কলাই ডালের হিঙের বড়ি, কুমড়ো আর আলু দিয়ে বানানো সময়োপযোগী চচ্চড়ি। সর্ষের তেলে বড়ি ভেজে তুলে রেখে, পাঁচফোড়ন দিয়ে আলু, কুমড়ো ও সজনে ডাঁটা নেড়ে নিয়ে, বড়ি দিয়ে জল ঢেলে নুন, হলুদ। এবার ঢাকা দিয়ে সব আনাজ সেদ্ধ হলে, সরষে-শুকনোলঙ্কা বাটা দিয়ে, মাখা মাখা ঝোল নামানোর আগে সামান্য কাঁচা সর্ষের তেল ছড়ালেই কেল্লাফতে।

আগেকার দিনে সংসারের গৃহিণী যৌথ পরিবারের সব রান্না একা হাতে সামলে, প্রথম পাতে তেতো থেকে শেষপাতের মিষ্টি অবধি ফাইভ কোর্স পঞ্চব্যাঞ্জন রেঁধেবেড়ে সবার মুখে শুধু হাসি ফোটাতে চাইতেন না, পরিবারের স্বাস্থ্যের দিকেও নজর রাখতেন। তখন এই নিমপাতা দেখে কেউ নাক সিঁটকোলে গিন্নীমায়ের মুখ দিয়েও অবলীলায় বেরিয়ে আসত ‘নিমের বেলায় হ্যাক থু করে ফেল্ আর গুড়ের বেলায় চুকচুক করে গেল্’-এর মতো মেয়েলি প্রবাদ।
তাই চৈত্রে চড়কের ঢাকে কাঠি পড়লে সজনে খাড়া বুড়িয়ে যাওয়া আর মৌমাছি নিমফুলের মধু খাওয়ার আগেভাগেই আমাদের নিম-সজনে সেবন চলুক এই বসন্তে।
তথ্যসূত্র: চিরঞ্জীব বনৌষধি – আয়ুর্বেদাচার্য শিবকালী ভট্টাচার্য, PAKDARPANA OF NALA – by Dr. Madhulika. Edited by Prof Jay Ram Yadav
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
রসায়নের ছাত্রী ইন্দিরা আদ্যোপান্ত হোমমেকার। তবে গত এক দশকেরও বেশি সময় যাবৎ সাহিত্যচর্চা করছেন নিয়মিত। প্রথম গল্প দেশ পত্রিকায় এবং প্রথম উপন্যাস সানন্দায় প্রকাশিত হয়। বেশ কিছু বইও প্রকাশিত হয়েছে ইতিমধ্যেই। সব নামীদামি পত্রিকা এবং ই-ম্যাগাজিনে নিয়মিত লেখেন ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, রম্যরচনা ও প্রবন্ধ।
