(Jon Lennon Wall)
‘‘তুমি শিশির প্রথম ভোরের তৃণে
আবার তুমি সদ্যজাত দিনও।
সূর্য তুমি ঊষার লগনের
সেই তুমিই নিবিড় কোমল তৃণ।’
‘ডিলান দেওয়াল? ডিলান দেওয়াল… না-তো, মনে করতে পারছি না তো। তুমি লেনন-দেওয়ালের কথা বলছ না তো?’
‘ঠিক-ঠিক! একদম গুলিয়ে ফেলেছিলাম। লেনন দেওয়াল!’
ফুটফুটে মেয়েটির মুখ প্রথম ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ার মতো উজ্জ্বল হয়ে উঠল— ‘অবশ্যই। অবশ্যই যাবে, আমি লিখে দিচ্ছি!’
মেয়েটির বয়স কত হবে— ২৫-২৬? চেক প্রজাতন্ত্রের জমজমাট রাজধানী, প্রাহার অজস্র চোখ টেরিয়ে দেওয়া ইমারতের মধ্যে ১১৫ ফিট বাই ১৬.৪০ ফিটের এক টুকরো দেওয়ালের কথা শুনেই মুখ ঝলমল করে ওঠার বয়স তো তার নয়! কারণ ‘হাহাকারের দেওয়াল’-এর স্বরে ‘মানছি-না’ মিশে এ প্রাচীর ‘লেনন দেওয়াল’ হয়ে ওঠার আশ্চর্য ইতিহাসের কথা যেখানে ফুরিয়ে গিয়েছে বলে ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক, নির্ঘাত তার বছর দশেক পরে এ মেয়ের জন্ম। তবু ফুলের মতো ফুটে উঠল সেই মুখ। স্পষ্ট দেখলাম এতক্ষণ বলে চলা প্রাহা শহরের এন্তার ‘পর্যটক-দর্শনীয়’ স্থানের সঙ্গে তার মনে এ দেওয়ালের তফাত আছে। আমি যে হোটেলে ছিলাম, সে তার রিসেপশনিস্ট।
সে তফাত অবশ্য লক্ষ্য করেছিলাম আর একটা, বা একগুচ্ছ, গন্তব্যের কথা বলার সময়েও। তার গপ্পো অন্য কোথাও, অন্য কোনওদিন, তবে সেগুলোতে যাওয়ার জন্যই হোটেল থেকে একটা ট্যাক্সি ভাড়া করা নিয়ে মেয়েটির সঙ্গে আমার মৃদু দরাদরি চলছিল। দরাদরি শেষ। ঠিক হয়ে গেল পরের দিন সকালেই প্রাতরাশ করে বেরিয়ে পড়ব। এক্ষণে আমার সহসা মনে পড়ল প্রাহার বিখ্যাত জন লেনন দেওয়ালের কথা। এই রে! নতুন জায়গা জুড়লেই তো আবার ভাড়া বাড়বে। কিন্তু কিন্তু করে বলি। ভাড়া এক পয়সায় বাড়ল না। খচখচ করে গন্ত্যবের তালিকায় দেওয়াল পড়ে গেল। এ তালিকা চলে যাবে ট্রাভেল ডেস্ক হয়ে ড্রাইভার সাহেবের কাছে।
১৯৬০-এর দশকে এই লৌহ চাদর আরও নিশ্ছিদ্র হল। তারপর এল ১৯৬৮-র প্রাহা বসন্ত। ছিল ঠিক সাত মাসের থেকে দশ দিন কম। ১৯৫৭ থেকে রাজত্ব করছিলেন স্তালিনপন্থী প্রেসিডেন্ট আন্তোনিন নোভোতনি। কঠোর, নিরেট কমিউনিস্ট শাসন।
মনে একটা সন্দেহ ছিল। গাড়িতে উঠে ষাটের ওই পাশের চালকমশাই আলেক্স-এর সঙ্গে আলাপ জমে ওঠার পরে এক ফাঁকে শুধিয়ে নিলাম— ‘আমরা লেনন দেওয়ালেও যাচ্ছি তো?’
কী আশ্চর্য! তাঁরও মুখে সূর্যোদয় হল— ‘অবশ্যই। তবে কি জান, সে দেওয়াল আগের মতো আর নেই।’
‘কেন?’
‘আর বলো না। মার্কিনি সব কাগজে এ দেওয়ালের কথা ফলাও করে ছাপার পর থেকেই রাজ্যের পশ্চিমা টুরিস্ট এর সামনে ভিড় করে। সে করুক, মুশকিল হল আশেপাশের বার থেকে মদ খেয়ে মাতাল যুবক-যুবতিরা দেওয়ালটার ওপর যা-খুশি স্প্রে-পেন্ট করে চলে যায়। সে সব বন্ধ করতে পুলিশ সিসি ক্যামেরা বসিয়েছে।’
উত্তেজিত আলেক্স পিছনের সিটে বসা আমার দিকে ঘুরে বলতে থাকে, ‘ভাবতে পারো, লেনন-দেওয়ালে সিসি ক্যামেরা! সিসি ক্যামেরা!’
বুকটা ধড়াস করে ওঠে কারণ শহর ছাড়িয়ে তখন তার স্কোডা গাড়ির স্পিডোমিটারের কাঁটা ১৪০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে বাইরের ক্রমাগত চলতে থাকা দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ খেতের বিরক্তিকর দৃশ্যে মগ্ন হয়ে থাকার ভানে মগ্ন হয়ে পড়ি, কথোপকথনটা চালিয়ে যাওয়ার ষোল আনা ইচ্ছে সত্ত্বেও। তবে এ লেখার আগে নেট ঘেঁটে মিলিয়ে নিয়েছিলাম, তার কথা ষোল আনা সত্যি। ২০১৯ সালে প্রাহা-১ পুরসভা এই সিদ্ধান্ত নেয়1।
প্রাহা-১ পুরসভার মেয়র পাভেল চিজ়িনস্কি-র বক্তব্য, ‘‘লোকজন আসছে, অসভ্য ব্যবহার করা শুরু করেছে, প্রায়শই মাতাল হয়ে। জঞ্জাল ফেলে যাচ্ছে, এমনকী গাছের ওপরেও স্প্রে-পেন্ট করে দিচ্ছে। আমরা তো গাছগুলোকে পরিষ্কার করতেও চাই না, কারণ তা করতে গেলে গাছের ক্ষতি হয়।2’’ খবরে প্রকাশ, এই তাণ্ডবকারীরা সক্কলে পর্যটক। বলাই বাহুল্য পশ্চিমী। বিবিধ ট্যুর কোম্পানি তাদের ‘ঐতিহাসিক প্রাহা ঘুরে দেখুন’ প্যাকেজের মধ্যে যুক্ত করেছে ২১.৫০ ডলার দিলেই যা-চাও বিয়ার। আর ঐতিহাসিক ট্যুর সাধারণত শেষ হয় লেনন দেওয়ালের সামনে। লিখে দেওয়া হচ্ছে যা খুশি— ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গালাগালি থেকে মায় পুরুষাঙ্গের স্কেচ পর্যন্ত। আটকানো দরকার। তাই সিসি ক্যামেরা, যাতে বেগড়বাই করলেই স্থানীয় পুলিশ চেকপোস্ট পাকড়াও করতে পারে।
কিন্তু ষাটোর্ধ্ব আলেক্স ভাবতেই পারছেন না।
কেন ভাবতে পারছেন না, কেন পর্যটকদের ভিড়, কেন আমিও তার সামনে দু-দণ্ড চুপচাপ দাঁড়িয়ে দুটো ছবি তুলতে চাই, এ সবের হদিশ পেতে গেলে ওই ওপরের কবিতাটায় পৌঁছতে হবে—
৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮। মিউনিখ চুক্তি সাক্ষরিত হল। হিটলার তখন মধ্যগগনমুখী। তাঁর দাপটের সামনে হাত কচলাচ্ছে সারা ইউরোপ। ইউরোপের মানচিত্র নতুন করে এঁকে নিতে মিউনিখের ফুহ্ররহৌসে মিলিত হলেন চার রাষ্ট্রপ্রধান— ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান এদুয়ার্দ দালাদিয়ের, ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি এবং জার্মানির তৃতীয় রাইখের চ্যান্সেলর অ্যাডল্ফ হিটলার।
তুমি শিশির প্রথম ভোরের তৃণে
আবার তুমি সদ্যজাত দিনও
সূর্য তুমি ঊষার লগনের
সেই তুমিই নিবিড় কোমল তৃণ
সঙ্গের ছবিতে3 চেক ভাষায় চক দিয়ে যে কবিতাটা একটা দেওয়ালের ওপর লেখা আছে, এ কবিতা তারই ইংরেজি তরজমার তরজমা4। আর সেই দেওয়ালটাই আজ পরিচিত ‘জন লেনন দেওয়াল’ নামে। এ ছবি ১৯৭০-এর দশকের।

কাজেই কবিতাটাও সেই জন্যই। এই কবিতায় পৌঁছতে গেলে আমাদের সংক্ষেপে আগে শুনতে হবে ‘প্রাহা বসন্ত’ ও সে বসন্ত মরীচিকার মতো মিলিয়ে যাওয়ার কথা।
৩০ সেপ্টেম্বর, ১৯৩৮। মিউনিখ চুক্তি সাক্ষরিত হল। হিটলার তখন মধ্যগগনমুখী। তাঁর দাপটের সামনে হাত কচলাচ্ছে সারা ইউরোপ। ইউরোপের মানচিত্র নতুন করে এঁকে নিতে মিউনিখের ফুহ্ররহৌসে মিলিত হলেন চার রাষ্ট্রপ্রধান— ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেন, ফ্রান্সের রাষ্ট্রপ্রধান এদুয়ার্দ দালাদিয়ের, ইতালির একনায়ক বেনিতো মুসোলিনি এবং জার্মানির তৃতীয় রাইখের চ্যান্সেলর অ্যাডল্ফ হিটলার। তদানীন্তন চেকস্লোভাকিয়ার অংশ, জার্মান বংশোদ্ভূত মানুষের বাসভূমি, সুডেটেনল্যান্ড থালায় সাজিয়ে জার্মানির হাতে তুলে দেওয়া হল। যাতে ক্রুদ্ধ, গোটা ইউরোপটাই দখল করে নেওয়ায় উদ্যত হিটলার সাহেব একটু শান্ত হন।

চেক ও স্লোভাকরা এ চুক্তির নাম দিল— ‘মনিক্রোভস্কা জ়্রাদা’, মিউনিখ বিশ্বাসঘাতকতা। সারা ইউরোপে তখন হিটলার-চেম্বারলেন-দালাদিয়ের-মুসোলিনির সে কী জয়জয়কার— যাক, আর ভয় রইল না, এবার শান্তি। ইতিহাসের চাকা গড়াল ঠিক উল্টো দিকে। সেই শুরু হল হিটলারের জয়যাত্রা। কিছুদিনের মধ্যেই, ১৯৩৯ সালের ১৬ মার্চ, গোটা চেকস্লোভাকিয়া অঞ্চল দখল করে চোখ ধাঁধানো প্রাহা কেল্লা থেকে হিটলার ঘোষণা করে দিলেন বোহেমিয়া ও মোরাভিয়া প্রোটেক্টরেট তৈরির কথা। সেই থেকে বিশ্বযুদ্ধের শেষ অর্থাৎ ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত চেকস্লোভাকিয়া ছিল নাৎসি জার্মানির দখলে।
এই দখলমুক্তি শুরু হয়েছিল ৫ মে প্রাহার ও সমগ্র বোহেমিয়া এবং মোরাভিয়ার মানুষের সশস্ত্র বিদ্রোহ দিয়ে, শেষ হল ৯ মে সোভিয়েত মুক্তি ফৌজের প্রাহাতে ঢুকে পড়ার পর। এই ছয় বছরে খুন হয়েছিলেন অন্তত ২ লক্ষ ৯৪ হাজার চেক, যাঁদের সিংহভাগ ইহুদি।
ক্ষমতার নানা মারপ্যাঁচে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত রাশিয়ার সক্রিয় সমর্থনে সরকার তৈরি করে ফেললেন চেকোস্লোভাক কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। মে মাসে ‘চেকস্লোভাক প্রজাতন্ত্র’ হল ‘চেকস্লোভাক গণপ্রজাতন্ত্র’। চেকস্লোভাকিয়ায় সেই শুরু হল কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র। ঠিক বারো বছর পরে ‘চেকস্লোভাক গণপ্রজাতন্ত্র’ হল ‘চেকস্লোভাক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’।
ভয়াবহ নাৎসি স্বৈরতন্ত্রের শেষ হল। কিন্তু চেকস্লোভাকিয়ার মানুষ সত্যিই মুক্ত হলেন কি? ১৯৪৫-এ নির্বাসিত চেকস্লোভাক সরকারের প্রধান এডোয়ার্ড বেনেশ তৃতীয় চেকস্লোভাকিয়া প্রজাতন্ত্র গড়ে দেশে ফিরলেন বটে, কিন্তু ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে চেকস্লোভাক কমিউনিস্ট জোট অন্যান্য সব দলের থেকে বেশি, ৩৮ শতাংশ, ভোট পেয়ে সরকারে যোগ দিয়েই তাঁর ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলতে লাগলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কমিউনিস্ট ভাক্লাভ নোসেকের নানা কাজে অতিষ্ঠ মানুষ ১৯৪৮-এর মে মাসে নির্ধারিত নির্বাচনে যে কমিউনিস্টদের উচিত শিক্ষা দেবেন, সকলে তা ধরেই নিয়েছিলেন। কিন্তু সে সুযোগই হল না।
ক্ষমতার নানা মারপ্যাঁচে ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সোভিয়েত রাশিয়ার সক্রিয় সমর্থনে সরকার তৈরি করে ফেললেন চেকোস্লোভাক কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা। মে মাসে ‘চেকস্লোভাক প্রজাতন্ত্র’ হল ‘চেকস্লোভাক গণপ্রজাতন্ত্র’। চেকস্লোভাকিয়ায় সেই শুরু হল কমিউনিস্ট স্বৈরতন্ত্র। ঠিক বারো বছর পরে ‘চেকস্লোভাক গণপ্রজাতন্ত্র’ হল ‘চেকস্লোভাক সমাজতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র’।
১৯৫০ থেকেই অবশ্য শুরু হয়ে গিয়েছিল কমিউনিস্ট বিরোধীদের খতম অভিযান। এর অন্যতম প্রধান প্রথম শিকার হলেন নাৎসি দখলদারির সময় আন্ডারগ্রাউন্ড প্রতিরোধের অন্যতম কর্মী, ১৯৪০ সালে গেস্তাপোর হাতে গ্রেফতার হয়ে পাঁচ বছর নাৎসি কারাগারে ভয়াবহ দিন কাটানো মিলাদা হোরাকোভা (ক্রালোভা)। বিচারে মৃত্যুদণ্ড হল। টেলিগ্রাম পাঠালেন স্বয়ং অ্যালবার্ট আইনস্টাইন— এটা করবেন না। নাৎসি জার্মানির কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি ছিলেন তিনি। ওঁকে বাঁচতে দিন।

চেকস্লোভাক কমিউনিস্ট সরকার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অপরাধে ১৯৫০ সালের ২৭ জুন ভদ্রমহিলাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দিল।
অচিরেই এই দমন শুরু হল পার্টির মধ্যেও— ‘বুর্জোয়া প্রভাবে বিপথগামীদের’ বিরুদ্ধে। এর কুখ্যাত উদাহরণ ১৯৫২ ‘স্লানস্কি বিচার’। এই বিচারে প্রধান অভিযুক্ত ছিলেন রুদোল্ফ স্লানস্কি। ১৯২১ সালে কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দিয়ে তিনি ১৯৪৪-এ স্লোভাক প্রতিরোধকারীদের দলে থেকে সরাসরি জার্মান সেনার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিলেন। যুদ্ধের পর চেকস্লোভাক কমিউনিস্ট পার্টির মহাসচিব নিযুক্ত হলেন।
বস্তুত ১৯৪৮-এ দেশে কমিউনিস্ট পার্টি শাসন কায়েম করায় অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন তিনি, হয়েছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী। কিন্তু ১৯৫১ সালে তিনিই পড়ে গেলেন দলের শীর্ষ নেতৃত্বের চোখে সন্দেহভাজনদের তালিকায়। নভেম্বর মাসে গ্রেফতার হলেন। সঙ্গে আরও তেরো জন। ১৯৫২-র নভেম্বরে তাঁদের বিচার হল— ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড। ৩ ডিসেম্বর তা কার্যকর হল। এখানে বলে রাখা দরকার, এর অনেক পরে, কিন্তু কমিউনিস্ট জমানাতেই স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল ক্রালোভা ও স্লানস্কি দু’জনের বিরুদ্ধেই আনা যাবতীয় অভিযোগ ছিল সর্বৈব মিথ্যা।
১৯৬০-এর দশকে এই লৌহ চাদর আরও নিশ্ছিদ্র হল। তারপর এল ১৯৬৮-র প্রাহা বসন্ত। ছিল ঠিক সাত মাসের থেকে দশ দিন কম। ১৯৫৭ থেকে রাজত্ব করছিলেন স্তালিনপন্থী প্রেসিডেন্ট আন্তোনিন নোভোতনি। কঠোর, নিরেট কমিউনিস্ট শাসন।
চেক রাজনীতি, সমাজ, সাংবাদিকতা, শিল্পকলা, সাহিত্যের ওপর জারি হল কঠোর কমিউনিস্ট তাত্ত্বিক নির্দেশ। যেমন, জনপরিসরে অকথ্য অপমান নেমে এল যুগান্তকারী চেক কবি ইয়ারোস্লাভ সাইফার্টের ওপর— ব্যাটা পাকা বুর্জোয়া অকমিউনিস্ট5 অতিশয়, সমাজতান্ত্রিক বস্তুবাদী শৈলিতে বিশ্বাস রাখে না! অনেক পরে ১৯৮৪ সালে তিনি যখন নোবেল পুরস্কার পেলেন, চেকস্লোভাকিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম খবরটা কার্যত চেপে দিল।
১৯৬০-এর দশকে এই লৌহ চাদর আরও নিশ্ছিদ্র হল। তারপর এল ১৯৬৮-র প্রাহা বসন্ত। ছিল ঠিক সাত মাসের থেকে দশ দিন কম। ১৯৫৭ থেকে রাজত্ব করছিলেন স্তালিনপন্থী প্রেসিডেন্ট আন্তোনিন নোভোতনি। কঠোর, নিরেট কমিউনিস্ট শাসন। কিন্তু ভিতরে ভিতরে চঞ্চল হয়ে উঠছিল ছাত্রসমাজ ও সৃষ্টিশীল মানুষেরা। আসলে ১৯৬০-এর দশকের মাঝ থেকেই ধীরে ধীরে জনমনে ক্রোধ বাড়ছিল। ১৯৬৬ সালে বহুকাল ধরে চলে আসা ছাত্রদের উৎসব ‘মায়ালেস’-এ তাঁদের সঙ্গে পুলিশের দক্ষযজ্ঞ বাঁধল। পরের বছর হস্টেলের উন্নতির দাবিতে আরও একচোট। ১৯৬৭-তে এক দল চেকস্লোভাক লেখক সভা করে জানিয়ে দিলেন তাঁরা সমাজতান্ত্রিক বস্তুবাদী শৈলি-ফৈলি মানেন না।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত