Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

ডিজিটাল যুগে কপিরাইট

মৌসুমী দত্ত রায়

এপ্রিল ২৩, ২০২৬

Digital Copyright
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close

চুরি, চোর এবং চোরের মায়ের বড় গলা— একটি হাসিকান্নার দলিল

(Digital Copyright)

যে যুগে সবাই ‘কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’, সে যুগে চোর কে?

হ্যাঁ, একটা সময় ছিল, যখন কেউ কারও লেখা চুরি করলে, অন্তত তা লুকিয়ে করত। বইয়ের পাতা ছিঁড়ে পকেটে ভরত, তারপর ঘরে গিয়ে চুপচাপ নিজের নামে চালিয়ে দিত। সেই চুরিতেও একটা শিল্পকলা ছিল, এ কথা অস্বীকার করা যাবে না, ছিল পরিশ্রমও।

আজকাল? স্ক্রিনশট, কপি, পেস্ট। তিন সেকেন্ডের খেলা! ব্যস।


আরও পড়ুন: যুদ্ধের তেরো দিন


সোশ্যাল মিডিয়া এসে কপিরাইট আইনটাকে যা করেছে, তা অনেকটা এরকম— ধরুন, আপনি যত্ন করে একটা সুন্দর কেক বানালেন। তারপর দেখলেন, পাশের বাড়ির লোক সেই কেকের ছবি তুলে নিজের জন্মদিনের পোস্টে দিয়েছে এবং নিচে লিখেছে: ‘আমার হাতের রান্না।’ আপনি বলতে গেলেন— সে বলল, ‘ইন্টারনেটে যা আছে তা সবার।’

বলে রাখা ভাল, এই রচনাটি সেই কেকচোরদের নিয়ে।

Digital Copyright
কপিরাইট আইন মূলত বলে: আপনি যদি কিছু সৃষ্টি করেন— লেখা, ছবি, গান, ভিডিও বা গবেষণা— সেটি আইনগতভাবে আপনার সম্পত্তি

কপিরাইট আইন— একটি বেদনাদায়ক পরিচয়

কপিরাইট আইন মূলত বলে: আপনি যদি কিছু সৃষ্টি করেন— লেখা, ছবি, গান, ভিডিও বা গবেষণা— সেটি আইনগতভাবে আপনার সম্পত্তি। কেউ আপনার অনুমতি ছাড়া সেটি ব্যবহার, প্রকাশ বা বিতরণ করতে পারবে না।

ভারতে এটি নিয়ন্ত্রণ করে Copyright Act, 1957। বাংলাদেশে আছে Copyright Act, 2000 (সংশোধিত ২০০৫)। আন্তর্জাতিকভাবে Berne Convention বলছে— কোনও নিবন্ধন ছাড়াই, সৃষ্টির মুহূর্ত থেকে কপিরাইট কার্যকর।

অর্থাৎ আপনি যখন এই বাক্যটি লিখলেন, তখনই এটি আপনার।

সমস্যা হল, আইন আর ইন্টারনেট— এই দু’টো জিনিস একসঙ্গে থাকে অনেকটা বাঘ আর ছাগলের মতো। একটা খাঁচায় আছে, অন্যটা মাঠে দৌড়াচ্ছে।

সেই হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ড এবং স্মৃতির সেতু

এবার আসি আসল গল্পে।

ধরুন একদিন সকালে চায়ের কাপ হাতে ফোনে স্ক্রোল করছেন। হোয়াটসঅ্যাপে ঢুকলেন— দেখলেন, কে যেন একটা পুরনো খবরের কাগজের কাটিং পাঠিয়েছে। সাদা কালো ছবি, কালো হরফে বিজ্ঞাপন, কাগজের রং হলদেটে হয়ে গিয়েছে বয়সের ভারে। ছবিটা দেখেই চোখ আটকে গেল।

১৯৩৯ সাল। আমেরিকার কোনও এক শহরের খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে একটি সিনেমার বিজ্ঞাপন। ছবির নাম— Intermezzo: A Love Story। প্রযোজক ডেভিড ও. সেলজনিক, যাঁর হাতে সেই একই বছর জন্ম নেবে Gone with the Wind।

Digital Copyright
বিজ্ঞাপনের হরফে তাঁর নামটি ছোট, যেন পরীক্ষামূলক উপস্থিতি, সেই নামটি— Ingrid Bergman

বিজ্ঞাপনে ভূমিকায় লেসলি হাওয়ার্ড। এবং সঙ্গে একটি নাম— এক অপরিচিত সুইডিশ মেয়ে। হলিউড তাঁকে তখনও ভাল করে চেনেই না। বিজ্ঞাপনের হরফে তাঁর নামটি ছোট, যেন পরীক্ষামূলক উপস্থিতি।

সেই নামটি— Ingrid Bergman।

যে মেয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে Casablanca-র Ilsa হয়ে, অথবা Notorious-এর Alicia হয়ে পর্দায় অমর হয়ে যাবেন— তাঁর হলিউড অভিষেকের বিজ্ঞাপনে নামটি এতটাই ছোট যে খুঁজে নিতে হয়।

যে মেয়ে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে Casablanca-র Ilsa হয়ে, অথবা Notorious-এর Alicia হয়ে পর্দায় অমর হয়ে যাবেন— তাঁর হলিউড অভিষেকের বিজ্ঞাপনে নামটি এতটাই ছোট যে খুঁজে নিতে হয়।

একটু ভাবুন তো— এই অসাধারণ কাটিংটি আপনার হাতে এল কীভাবে? কোনও এক নিষ্ঠাবান সংগ্রাহক বছরের পর বছর ধরে এই ধরনের দুর্লভ টুকরো যত্নে সংগ্রহ করেছেন। পুরনো কাগজের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে, হলদেটে পাতা উল্টাতে উল্টাতে, নিলামে বিড করতে করতে। তারপর হয়তো ভালবেসে কোনও একটি গ্রুপে শেয়ার করেছেন।

সেখান থেকে একজন ফরওয়ার্ড করেছেন। সেখান থেকে আরেকজন। সেখান থেকে আরও কেউ। এইভাবে— ঠিক যেমন নদীর স্রোতে একটি পাতা ভেসে আসে— সেভাবেই ছবিটি একদিন সকালে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে এসে পড়েছে।

আপনি উৎসাহ নিয়ে একটা পোস্ট লিখলেন। ইনগ্রিড বার্গম্যানের সুইডেন থেকে হলিউড যাত্রা, সেলজনিকের সঙ্গে চুক্তির গল্প, ছবিটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব— সব মিলিয়ে একটা সুন্দর তথ্যসমৃদ্ধ রচনা। সেই বিজ্ঞাপনের ছবিটা দিলেন সঙ্গে। সূত্র উল্লেখ করতে পারেননি, কারণ সূত্র আপনি জানেনই না— ফরওয়ার্ড বার্তায় কোনও নাম ছিল না।

Digital Copyright
আমেরিকার কোনও এক শহরের খবরের কাগজে ছাপা হয়েছে একটি সিনেমার বিজ্ঞাপন, ছবির নাম— Intermezzo: A Love Story

লাইক পড়ল। মানুষ শেয়ার করল। ইতিহাসের একটুকরো আলো ছড়িয়ে পড়ল আরও বহু মানুষের কাছে। মনে হল, ভালই হচ্ছে।

“এটা আমার কালেকশন থেকে নেওয়া! কোথা থেকে পেয়েছেন, তা জানি না বলে পার পাবেন না! এটা চুরি! আপনি একজন চোর!”

তারপর— ঠিক যেন ঢাকের বাদ্যি থামার পর নিশুতি রাতে দরজায় কড়া নাড়ার মতো— একজন আবির্ভূত হলেন। কমেন্ট বাক্সে। উত্তেজিত। রাগান্বিত।

“এটা আমার কালেকশন থেকে নেওয়া! কোথা থেকে পেয়েছেন, তা জানি না বলে পার পাবেন না! এটা চুরি! আপনি একজন চোর!”

আপনি হতভম্ব। চোর? আপনি? যিনি সকালে উঠে ইনগ্রিড বার্গম্যানের ইতিহাস নিয়ে মানুষকে আনন্দ দিতে গিয়েছিলেন, তিনি হঠাৎ অভিযুক্ত আসামি।

আপনার কাছে কোনও উত্তর নেই, কারণ প্রশ্নটাই অদ্ভুত। কে পাঠিয়েছিল জানেন না। কোন গ্রুপ থেকে এসেছিল, জানেন না। কে প্রথম শেয়ার করেছিল জানেন না। হোয়াটসঅ্যাপ ফরওয়ার্ডের কোনও মানচিত্র হয় না, কোনও পাসপোর্ট নেই, নেই ভিসার ছাপও। সেখানে কারও নাম লেখা থাকে না।

এখানে একটু থামা দরকার। কারণ সংগ্রাহকদের সম্পর্কে কথা বলতে গেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে বলতে হয়।

ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি ছবির যাত্রাপথ অনেকটা গুজবের মতো— কোথা থেকে শুরু হয়েছিল কেউ বলতে পারে না, কিন্তু সবাই নিজেকে মালিক ভাবে।

ডিজিটাল দুনিয়ায় একটি ছবির যাত্রাপথ অনেকটা গুজবের মতো— কোথা থেকে শুরু হয়েছিল কেউ বলতে পারে না, কিন্তু সবাই নিজেকে মালিক ভাবে। এই গোটা বিষয়টায় দোষী কে? আপনি নন। সেই সংগ্রাহকও মূলত নন— তাঁর কষ্টের সংগ্রহ নিজের নাম ছাড়া ছড়িয়ে পড়েছে, সেটা তাঁর বেদনার কথা, সেটা বোধগম্য। আসল দোষী হল সোশ্যাল মিডিয়ার সেই অন্ধকার গলি— যেখানে ছবি ঢোকে পরিচয় নিয়ে, বেরোয় পরিচয় হারিয়ে।

স্মৃতির রক্ষক— এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিশ্বাসঘাতকতা

যাঁরা পুরনো সিনেমার বিজ্ঞাপন, পত্রিকার কাটিং, থিয়েটারের টিকিট, বিবর্ণ ফটোগ্রাফ সংগ্রহ করেন— তাঁরা কোনও শখের বশে এটা করেন না শুধু। তাঁরা আসলে ইতিহাসের পাহারাদার। তাঁরা না থাকলে ১৯৩৯ সালের সেই Intermezzo-র বিজ্ঞাপনটি কবেই হারিয়ে যেত পুরনো কাগজের স্তূপে, কোনও পুরোনো বাড়ির স্যাঁতসেঁতে গুদামঘরে। 

এঁরা হলেন সময়ের নোঙর। এঁরা না থাকলে অতীত বলে কিছু থাকত না, শুধু থাকত বর্তমানের হট্টগোল।

Digital Copyright
১৯৩৯ সালের সেই Intermezzo-র বিজ্ঞাপনটি কবেই হারিয়ে যেত পুরনো কাগজের স্তূপে, কোনও পুরোনো বাড়ির স্যাঁতসেঁতে গুদামঘরে

এঁরা হলেন সময়ের নোঙর। এঁরা না থাকলে অতীত বলে কিছু থাকত না, শুধু থাকত বর্তমানের হট্টগোল। তাঁদের সংগ্রহের পেছনে আছে বছরের পর বছরের অধ্যবসায়। পুরনো বইয়ের দোকানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো। নিলামে প্রতিযোগিতা করা। যত্নে সংরক্ষণ করা, যাতে কাগজ নষ্ট না হয়। এই পরিশ্রম অতুলনীয়, এই নিষ্ঠা বিরল।

তাহলে সমস্যা ঠিক কোথায়?

সমস্যাটা হল সোশ্যাল মিডিয়ার স্বভাবের মধ্যে। একজন সংগ্রাহক যখন তাঁর দুর্লভ সংগ্রহ, কোনও গ্রুপে ভালবেসে শেয়ার করেন, তখন সেটি একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকে। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া সেই নিয়ন্ত্রণ মানে না। ছবিটি সেখান থেকে লাফ দেয়— গ্রুপ থেকে গ্রুপে, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে— প্রতিটি লাফে নাম খসে পড়ে, পরিচয় মুছে যায়।

যাঁর কাছে এসে ছবিটি পৌঁছায়, তিনি শুধু একটি সুন্দর ঐতিহাসিক মুহূর্ত দেখেন। উৎস জানার কোনও উপায় তাঁর নেই। তিনি সেটি শেয়ার করেন ভালবেসে, জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে— চুরির উদ্দেশ্যে নয়।

কেউ যদি পথে একটি চিঠি কুড়িয়ে পায় এবং সেটির সুন্দর কথাগুলো অন্যদের পড়ে শোনায়, তাহলে কি সে চোর? একেবারেই না— সে বরং একটি বার্তার বাহক।

কেউ যদি পথে একটি চিঠি কুড়িয়ে পায় এবং সেটির সুন্দর কথাগুলো অন্যদের পড়ে শোনায়, তাহলে কি সে চোর? একেবারেই না— সে বরং একটি বার্তার বাহক।

তাই যখন একজন সংগ্রাহক হোয়াটসঅ্যাপে পাওয়া ছবি শেয়ার করা কাউকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেন, তখন তাঁর রাগ ভুল ঠিকানায় পৌঁছে যায়। যাকে বলা হচ্ছে, সে নির্দোষ। সে জানেই না সূত্রটি কী। তাকে অপমান করে সংগ্রাহকের সংগ্রহের মর্যাদা বাড়ে না, বরং কমে।

যে মানুষ নিজের সময়, অর্থ এবং আবেগ দিয়ে ইতিহাস সংরক্ষণ করেন— তাঁর ক্রোধ যদি একজন নিরীহ পাঠকের দিকে ছোটে, তাহলে তাঁর সেই সংরক্ষণের উদ্দেশ্যটাই প্রশ্নের মুখে পড়ে। ইতিহাস কি শুধু একজনের জন্য? নাকি সবার?

সত্যিকারের রাগটা হওয়া উচিত সেই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে— সোশ্যাল মিডিয়ার সেই নির্মম কালচারের বিরুদ্ধে— যেটি একটি ছবির গায়ে লেগে থাকা পরিচয়টুকু ছিঁড়ে নেয়। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইন্সটাগ্রাম— এরা কেউ বলে না, ‘এই ছবির উৎস কোথায়?’ এরা শুধু বলে, ‘শেয়ার করো, ভাইরাল হোক।’

আর আজকের দুনিয়ায় তথ্য ও ইতিহাস শেয়ার করা শুধু একটি অভ্যাস নয়— এটি একটি সংস্কৃতি। মানুষ জানতে চায়, শিখতে চায়, অন্যকে শেখাতে চায়। সেই প্রবণতাটি সুন্দর। তাকে সম্মান করতে হবে।

প্রশ্ন উঠতে পারে, তাহলে সমাধান কী? সমাধান সহজ— সংগ্রাহকরা যখন শেয়ার করবেন, তখন স্পষ্ট করে লিখবেন: ‘এটি আমার সংগ্রহ থেকে। অনুগ্রহ করে নাম সহ শেয়ার করুন।’ এই একটি বাক্য হাজার রাগের চেয়ে বেশি কার্যকর। এবং যিনি ফরওয়ার্ড মেসেজ পেয়ে পোস্ট করেছেন, তিনিও সেই বাক্যটি দেখলে অবশ্যই কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করবেন।

Digital Copyright
ঠিক যেমন নদীর স্রোতে একটি পাতা ভেসে আসে— সেভাবেই ছবিটি একদিন সকালে আপনার হোয়াটসঅ্যাপে এসে পড়েছে

এফেমেরা কালেক্টর (Ephemera Collector)সাময়িকের চিরস্থায়ী রক্ষক

এফেমেরা হল সেই সব বস্তু যা মূলত সাময়িক ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছিল— সিনেমার টিকিট, পুরনো বিজ্ঞাপন, ডাকটিকিট, ম্যাচবাক্সের লেবেল, পুরনো মেনু কার্ড, ক্যালেন্ডার, ট্রেনের টাইমটেবিল, সিনেমার হ্যান্ডবিল। এগুলো কখনও ‘শিল্পকর্ম’ হিসেবে তৈরি হয়নি— তৈরি হয়েছিল ব্যবহারের জিনিস হিসেবে।

এফেমেরা কালেক্টররা এই বস্তুগুলোকে বাঁচান ধ্বংসের হাত থেকে। এঁরা না থাকলে কোনও জাদুঘরে ১৯৩৯ সালের সিনেমার বিজ্ঞাপন থাকত না, গবেষকরা সেই যুগের রুচি বা সংস্কৃতির হদিস পেতেন না। এঁরা সত্যিকারের ইতিহাসের আনসাং হিরো।

সংগ্রহ যদি ভালবাসার কাজ হয়, তাহলে সেই ভালবাসা ফরওয়ার্ডকারীর দিকেও বাড়িয়ে দিন— রাগ নয়, পরিচয়টুকু দিন। সংগ্রাহকদের দুনিয়াটা বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে— সব সংগ্রহ এক নয়। 

তবে এই সংগ্রহের একটি বিশেষত্ব আছে— এফেমেরা মূলত গণ-উৎপাদিত। হাজার হাজার কপি ছাপানো হয়েছিল, হাজার হাজার মানুষের হাতে পৌঁছেছিল। তাই এফেমেরার কপিরাইটের প্রশ্নটি জটিল। মূল কপিরাইট মূল প্রকাশক বা প্রযোজনা সংস্থার— এবং বেশিরভাগ পুরনো এফেমেরা এত দিন পরে পাবলিক ডোমেনে চলে গিয়েছে।

সংগ্রাহক সেই বস্তুটির মালিক— কিন্তু বিষয়বস্তুর কপিরাইটের মালিক নন। এই পার্থক্যটা আইনের চোখে যেমন সত্য, নৈতিকতার চোখেও তেমনই।

ইউনিক অবজেক্ট কালেক্টর (Unique Object Collector)একের অদ্বিতীয় রক্ষক

যিনি একটি মূল শিল্পকর্ম সংগ্রহ করেন— একজন শিল্পীর হাতে আঁকা ছবি, একজন লেখকের হাতের লেখা পাণ্ডুলিপি, একটি ভাস্কর্য, একটি দুর্লভ আলোকচিত্র— তাঁর অবস্থান ভিন্ন। সেই বস্তুটি জগতে একটিই আছে।

এ ক্ষেত্রে সংগ্রাহকের দায়িত্ব আরও বড়, কারণ সেই বস্তুটি হারিয়ে গেলে আর ফিরে আসবে না। তাঁদের সংরক্ষণ সত্যিকারের অপরিহার্য।

তবু মনে রাখতে হবে— বস্তুর মালিকানা এবং শিল্পকর্মের কপিরাইট আলাদা জিনিস। আপনি একটি মূল তৈলচিত্র কিনলেন— সেটির মালিক আপনি। কিন্তু সেই ছবির প্রিন্ট বিক্রি করার অধিকার শিল্পীর বা তাঁর উত্তরাধিকারীর।

আপনি বই কিনলে বইটির মালিক হন, বইয়ের বিষয়বস্তুর নন। একইভাবে, কাটিং কিনলে কাটিংয়ের মালিক হন— ইতিহাসের মালিক নন।

দুই ধরনের সংগ্রাহকের কাজই মূল্যবান। দু’জনেই সম্মানের যোগ্য। কিন্তু সেই সম্মান তখনই সার্থক হয়, যখন তাঁরা বোঝেন— তাঁদের সংগ্রহের সবচেয়ে বড় উদযাপন হয় তখন, যখন মানুষ সেটা দেখে, জানে, শেয়ার করে। একটি বিজ্ঞাপন অন্ধকার ড্রয়ারে পড়ে থাকলে ইতিহাস বাঁচে না— ইতিহাস বাঁচে মানুষের কথায়, লেখায়, স্মৃতিতে।

ভাষার মৃত্যু এবং গবেষণার পুনর্জন্ম— অন্যের কলমে

আসা যাক আরও কঠিন প্রসঙ্গে।

আপনি বহু পরিশ্রম করে একটি প্রবন্ধ লিখলেন। তথ্য যোগাড় করলেন, সূত্র দিলেন, শ্রম দিলেন। প্রকাশিত হল।

কিছুদিন পর দেখলেন— একটি নামকরা পত্রিকায়, একজন পরিচিত লেখকের নামে, আপনার গবেষণার বড় অংশ সাজানো গোছানো ভাবে প্রকাশিত হয়েছে। শব্দ হয়তো একটু বদলানো, বাক্য গুলিয়ে দেওয়া— কিন্তু ধারণা, তথ্য, তুলনা, যুক্তির কাঠামো— সব আপনার।

এটি প্লেজিয়ারিজম— চৌর্যবৃত্তি। এবং এটি কপিরাইট লঙ্ঘন।

এই পরিস্থিতিতে আপনি কি কিছু করতে পারবেন? হ্যাঁ, পারবেন।

Digital Copyright
সমস্যাটা হল সোশ্যাল মিডিয়ার স্বভাবের মধ্যে

প্রথমত, প্রমাণ সংগ্রহ করুন— আপনার মূল লেখার প্রকাশনার তারিখ, URL, স্ক্রিনশট সব সুরক্ষিত রাখুন।

দ্বিতীয়ত, পত্রিকার সম্পাদককে জানান— তথ্যপ্রমাণসহ চিঠি দিন। অনেক সময় সম্পাদকও জানেন না লেখাটি চৌর্য।

তৃতীয়ত, লেখককে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করুন— ভদ্রভাবে, কিন্তু দৃঢ়ভাবে। প্রমাণ সামনে রেখে।

চতুর্থত, আইনি পথ— ভারতে Copyright Act, 1957-এর Section 51 অনুযায়ী এটি অপরাধ। দেওয়ানি মামলা করা সম্ভব।

    পঞ্চমত, সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বচ্ছতা— আপনার মূল লেখা এবং তাঁর লেখার তুলনামূলক পোস্ট করুন। পাঠক বিচারক।

    প্রসঙ্গত, ‘তিনি তো পরিচিত লেখক’— এটি কোনও অজুহাত নয়। বরং বড় লেখকের নৈতিক দায় বেশি।

    কপি-পেস্ট করা হয়েছে ফেসবুক গ্রুপে— এখন কী করবেন?

    আপনার পুরো লেখা হুবহু তুলে দেওয়া হয়েছে একটি ফেসবুক গ্রুপে, কোনও কৃতিত্ব ছাড়া।

    ফেসবুকের নিজস্ব IP Policy আছে। অন্যের বৌদ্ধিক সম্পত্তি অনুমতি ছাড়া পোস্ট করা তাদের নীতিবিরুদ্ধ। সেই পোস্টের নিচে থাকা তিনটি বিন্দু (⋯) থেকে ‘Find Support or Report Post’ বেছে নিন। তারপর ‘Intellectual Property’ থেকে কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ জানান। ফেসবুক DMCA (Digital Millennium Copyright Act)-র আওতায় কাজ করে। সঠিক অভিযোগ করলে পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়। এছাড়াও, সরাসরি পোস্টকর্তাকে মেসেজ করুন। অনেকেই জানেন না এটি অন্যায়। জানালে সরিয়ে নেন।

    ভবিষ্যতে প্রতিটি লেখার শেষে লিখুন— © [আপনার নাম], [বছর]। অনুমতি ছাড়া পুনঃপ্রকাশ নিষিদ্ধ। এই ছোট বাক্যটি অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত কপি-পেস্ট আটকে দেয়।

    সোশ্যাল মিডিয়ার মহাচুরির মেলা— কিছু দৃশ্য

    চারদিকে একটু তাকালে দেখবেন, এই মহাখেলা কত রকম রূপে চলছে।

    রূপ এক: ভাইরাল চুরি – কেউ একটি মৌলিক ছবি আঁকলেন। সেটি ভাইরাল হল। কিন্তু ভাইরাল হওয়া সংস্করণটি থেকে শিল্পীর নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। শিল্পী নিজে ভাইরাল পোস্টের কমেন্টে গিয়ে বলছেন, “এটা আমার আঁকা”— কেউ বিশ্বাস করছে না

    রূপ দুই: রান্নার রেসিপি চুরি – কোনও রন্ধনশিল্পী বছরের পর বছর নিজের রেসিপি তৈরি করেন, পরীক্ষানিরীক্ষা করেন, পোস্ট করেন। বড় ফুড ব্লগার হুবহু তুলে দেন নিজের পেজে— লক্ষ ফলোয়ারের কাছে। অনুমতি নেই, কৃতিত্ব নেই।

    রূপ তিন: অনুবাদ-চুরি – কেউ পরিশ্রম করে একটি বিদেশি প্রবন্ধ বাংলায় অনুবাদ করলেন। অনুবাদটিও সৃষ্টিশীল কাজ— কপিরাইটযোগ্য। অন্যজন সেই অনুবাদ তুলে দিলেন, সৌজন্য উল্লেখ নেই।

    রূপ চার: ইউটিউব স্ক্রিপ্ট কপি – একজন ইউটিউবার তাঁর ভিডিওর জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা গবেষণা করে স্ক্রিপ্ট লিখলেন। আরেকজন সেটি হুবহু পড়লেন ক্যামেরার সামনে। দর্শকরা বুঝতেই পারল না, কোনটা আসল।

    রূপ পাঁচ: মিম সংস্কৃতি এবং মূল ফটোগ্রাফার – কোনও আলোকচিত্রীর দুর্লভ মুহূর্তের ছবি সারা ইন্টারনেটে মিম হয়ে ছড়িয়ে পড়ল। শিল্পীর নাম কোথাও নেই। তিনি সেই ছবির জন্য কোনও সম্মান পাননি, স্বীকৃতি পাননি।

    রূপ ছয়: এআই ও কপিরাইটের নতুন যুদ্ধ – এখন এআই দিয়ে কারও লেখার ধরন নকল করা যায়, কারও সুর নকল করা যায়। এই ক্ষেত্রে আইন এখনও হাঁটি হাঁটি পা পা। স্রষ্টারা প্রশ্ন করছেন— আমার লেখা দিয়ে মেশিন ট্রেনিং হবে, আর সেই মেশিন আমাকেই টেক্কা দেবে?

    Digital Copyright
    এঁরা না থাকলে অতীত বলে কিছু থাকত না, শুধু থাকত বর্তমানের হট্টগোল

    নিজেকে রক্ষা করবেন কীভাবে?

    কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর পথ:

    লেখার ক্ষেত্রে প্রতিটি লেখায় কপিরাইট নোটিস দিন। একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মে প্রথম প্রকাশ করুন যেখানে তারিখ রেকর্ড থাকে। গুরুত্বপূর্ণ লেখা ইমেইলে নিজেকে পাঠান— টাইমস্ট্যাম্প থাকবে।

    ছবির ক্ষেত্রে ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করুন। Google Reverse Image Search দিয়ে দেখুন আপনার ছবি কোথায় কোথায় ব্যবহার হচ্ছে।

    গবেষণার ক্ষেত্রে তথ্যসূত্র সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন নিজের লেখায়— এটি প্রমাণ করে আপনি কখন কী জানতেন।

    সোশ্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রে, ফেসবুকে DMCA অভিযোগ করুন। ইউটিউবে Copyright Strike দিন। ইন্সটাগ্রামে IP Infringement Report করুন। কমিউনিটি হিসেবে অন্যের লেখা শেয়ার করলে সূত্র উল্লেখ করুন— এটি সংস্কৃতির প্রশ্ন, আইনের আগে।

    আমরা কোথায় যাচ্ছি?

    ব্যস। এবার একটু থামি।

    একটা সভ্যতার বৌদ্ধিক স্বাস্থ্য বোঝা যায়, সে কীভাবে তার স্রষ্টাদের সম্মান করে, তা দিয়ে।

    সোশ্যাল মিডিয়া এসে ‘কন্টেন্ট’ শব্দটিকে এমনভাবে জনপ্রিয় করেছে, যে লেখাও কন্টেন্ট, ছবিও কন্টেন্ট, গানও কন্টেন্ট। সব কিছু ‘কন্টেন্ট’ হয়ে গেলে মনে হয়, এগুলো কারখানায় তৈরি হয়— মানুষ তৈরি করে না।

    অথচ প্রতিটি লেখার পেছনে আছে নিদ্রাহীন রাত। প্রতিটি গবেষণার পেছনে আছে বছরের পর বছরের পাঠ। প্রতিটি ছবির পেছনে আছে শিল্পীর চোখের প্রশিক্ষণ। AI এবং অ্যালগরিদমের যুগে সৃষ্টিশীলতার মূল্য দিন দিন কমছে বলে মনে হচ্ছে। কিন্তু আসলে কি তাই?

    না।

    মানুষ এখনও ব্যক্তিগত কণ্ঠস্বর খোঁজে। নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে লেখা কথা খোঁজে। সুচিত্রা সেনের নামহীন টাইটেল কার্ড দেখে যে বিস্ময় আর ভালবাসা আপনার মনে জন্ম নেয়— কোনও অ্যালগরিদম তা অনুভব করতে পারবে না।

    সেই অনুভব থেকেই লেখা হয় প্রবন্ধ। সেই প্রবন্ধই সম্পদ।

    আইন রক্ষা করুক বা না করুক— সেই সম্পদের মালিক আপনি।

    স্রষ্টাকে বলি, সংগ্রাহককে বলি, শেয়ারকারীকেও বলি

    যিনি কপি-পেস্ট করেন অনুমতি ছাড়া, নিজের নামে চালান— তিনি শুনুন: এটি চুরি। ডিজিটাল হলেই অপরাধ কমে না।

    Digital Copyright
    আজকের দুনিয়ায় তথ্য ও ইতিহাস শেয়ার করা শুধু একটি অভ্যাস নয়— এটি একটি সংস্কৃতি

    যিনি বছরের পর বছর ধরে ইতিহাসের টুকরো সংগ্রহ করেন— তাঁকে বলি: আপনি অসাধারণ। আপনার কাজ না থাকলে আমরা অনেক কিছুই হারিয়ে ফেলতাম। কিন্তু যখন আপনার সংগ্রহ সোশ্যাল মিডিয়ার ঢেউয়ে ভেসে কারও হোয়াটসঅ্যাপে পৌঁছায়, এবং সে মানুষটি সেটি ভালবেসে শেয়ার করে— তখন সে চোর নয়, সে আপনারই কাজের একজন অনিচ্ছাকৃত দূত। তাকে অপমান করলে আপনার সংগ্রহের মর্যাদা কমে, বাড়ে না। রাগটা সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে রাখুন, যে আপনার নামটি ছিনিয়ে নিয়েছে। নিরীহ পাঠকের দিকে নয়।

    যিনি পরিচিত লেখকের নামে অন্যের গবেষণা প্রকাশ করেন— তিনি শুনুন: পরিচিতি আপনাকে অনুমতি দেয় না, দায়িত্ব দেয়।

    এবং আমরা সবাই— যারা শেয়ার করি, ফরওয়ার্ড করি, লাইক দিই, মনে রাখি— প্রতিটি পোস্টের পেছনে একজন মানুষ আছেন। তাঁর নামটুকু উল্লেখ করতে এক সেকেন্ড লাগে। এই এক সেকেন্ডের অভ্যাসটুকু গড়ে উঠলে সংগ্রাহকের রাগও কমবে, লেখকের বেদনাও।

    সেই এক সেকেন্ডই সভ্যতার পরিমাপ

    © লেখক কর্তৃক সংরক্ষিত। পুনঃপ্রকাশে লেখকের অনুমতি আবশ্যক।

    (এবং না, এই শেষ লাইনটি কেউ যদি না মানেনএখন অন্তত আপনি জানেন কী করতে হবে।)

    মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

    Picture of মৌসুমী দত্ত রায়

    মৌসুমী দত্ত রায়

    মৌসুমীর জন্ম কলকাতায় হলেও গত তিন দশক ধরে নিউ ইয়র্কই তাঁর বাসস্থান এবং কর্মস্থান। এক্কেবারে বিশুদ্ধ ক্যালইয়র্কার। শুঁটকি মাছ থেকে চন্ডীপাঠ, Grateful Deads থেকে সুপ্রীতি ঘোষ আর এই diasporic dichotomy-র জাগলিংয়ে হাত পাকাতে পাকাতেই দিন কাবার। ভালোবাসেন বই পড়তে, ছবি আঁকতে, রান্না করতে, আড্ডা মারতে আর ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে। তবে সবচেয়ে ভালোবাসেন সক্কলকে নিয়ে জমিয়ে বাঁচতে!
    Picture of মৌসুমী দত্ত রায়

    মৌসুমী দত্ত রায়

    মৌসুমীর জন্ম কলকাতায় হলেও গত তিন দশক ধরে নিউ ইয়র্কই তাঁর বাসস্থান এবং কর্মস্থান। এক্কেবারে বিশুদ্ধ ক্যালইয়র্কার। শুঁটকি মাছ থেকে চন্ডীপাঠ, Grateful Deads থেকে সুপ্রীতি ঘোষ আর এই diasporic dichotomy-র জাগলিংয়ে হাত পাকাতে পাকাতেই দিন কাবার। ভালোবাসেন বই পড়তে, ছবি আঁকতে, রান্না করতে, আড্ডা মারতে আর ক্যামেরা হাতে ছবি তুলতে। তবে সবচেয়ে ভালোবাসেন সক্কলকে নিয়ে জমিয়ে বাঁচতে!

    One Response

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    Subscribe To Newsletter

    কথাসাহিত্য

    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    বিতস্তা ঘোষাল
    নীলাঞ্জন দরিপা

    সংস্কৃতি

    আহার

    অমৃতা ভট্টাচার্য
    ইন্দ্রনাথ রুদ্র
    অমৃতা ভট্টাচার্য

    বিহার

    কলমকারী

    ফোটো স্টোরি

    উপন্যাস

    বিতস্তা ঘোষাল
    বিতস্তা ঘোষাল
    বিতস্তা ঘোষাল
    [adning id="384325"]
    [adning id="384325"]

    Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

    Established: 1999

    Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

    Social media handles

    Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

    Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

    Twitter: @banglalive

    Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

    Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

    Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

    How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

    Guidelines:

    1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
    2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
    3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
    4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
    5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

     

    Submit Content

    For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com