(Poetry)
যাত্রা
আমার আনন্দ আরও কিছুদিন কবিতা লেখায়
ভুল ও ভ্রমের মধ্যে যে-ফারাক, তা মেনে কি
বেঁচে থাকা যাবে দীর্ঘদিন
সামান্য কয়েকটি লেখা অপেক্ষা শেখায়
পুরোনো বন্ধুর মতো— দেখা হবে, আড্ডা হবে
সময়ই হল না তালেগোলে
হয়ে গেলে শেষ, তাই ভাল এই না-হওয়া পৃথিবী
আমার না-পারা লেখা, আমারই আঙিনা দিয়া
আনবাড়ি যায়


প্রক্ষিপ্ত
যে-ছিদ্র দিয়েছি হতে, তা দিয়ে ঢুকেছে কালসাপ
ব্যক্তিভেদে সেও বেশ আদরণীয় ও তুমি হাত
মেলেছ এমনই, সর্প পেঁচিয়ে-পেঁচিয়ে সুযোগের
ব্যবহার জানে ভাল, শিহরিত হয়ে দ্যাখো, অনুমতি দাও
সাপও কী ভাবুক, আর, তুমিও কী পটু-সম্মোহন
ছিদ্র বেড়ে চলে, নিত্য আনাগোনা, লৌহঘর ঠেকাতে পারে না
ছোবল না-খেয়ে, ধ্বস্ত, জেনে ফেলি, কাহিনি নতুন
জ্ঞানমার্গ
জানিতে জানিতে কী যে জানোয়ার হয়েছি!
যা দেখি সকলই ঠিক
যা শুনি, ভুলের কোনও প্রশ্নই ওঠে না
প্রমাণ না-থাক, আগে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে
এমন আহত করা, যাতে
প্রাণভয়ে না-ঘটাও সত্যি বলে মেনে নেয়
সে-মুহূর্তে ছেড়ে দেওয়া, যেতে দেওয়া— কী যে তৃপ্তি
নিজেকে পশুর মতো লাগে
এমন পশুত্ব, এত ভগবান, সে আগে দ্যাখেনি


চাষ
উৎকৃষ্ট ও পরিচিত যৌনতার অভ্যাস ভেঙে
কে আর বেরোতে চায় হে, হারিয়ে গেলে যে পুনঃ
অর্জিত হবেক, নিশ্চয়তা নেই কোনও
শূন্যযৌনতার থেকে মারাত্মক স্মৃতিযৌনতায়
হাবুডুবু খাওয়া, নাকি অভ্যাস টিকিয়ে রাখতে মন—
এ এক প্রগাঢ় তর্ক, মনে-মনে লিঙ্গের ভেতর
ঘুরপাক খায়, যার নিয়ন্ত্রণে ডুবেছে ফসল
একা
শ্মশানে আসেনি কেউ। বসে আছ দুঃস্বপ্ন ডিঙিয়ে
ফাঁকা রাস্তা, ফাঁকা লোক, এতদিন করেকম্মে থেকে
দুনিয়া উদ্ধার হল, পাড়ার ছেলেরা
যেভাবে চিনেছে, তারও বেশি কিছু ছিলে যে, নিশ্চিত
জনশ্রুতি শোনা যায়, কিছু একটা ছিলে
কী যে তা…
খুলেছে পেটুক চুল্লি। লালা ছিটছে। তোমাকে খাওয়ার
আগে যে সাজিয়ে রাখা, চেখে দেখতে এল না বন্ধুরা

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়