Guru Dutt
মাত্র ৩৯ বছরের জীবনকাল তাঁর। পরিচালিত ছবির সংখ্যা মাত্র ৮। তবে ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তাঁর নাম আজও স্বর্ণাক্ষরে লেখা। তিনি অভিনেতা, পরিচালক এবং প্রযোজক গুরু দত্ত!
বাঙালি ছিলেন না, অথচ তাঁর নাম শুনলে বাঙালি মনে হয় আজও। আসল নাম বসন্ত কুমার শিবশঙ্কর পাড়ুকোন। ছোটবেলায় এক দুর্ঘটনায় পড়ে নতুন নাম হয় – গুরুদত্ত। অর্থাৎ গুরুর প্রদত্ত, একটাই শব্দ। তবে ফিল্ম জগতে এসে গুরু আর দত্ত আলাদা করে নেন। অনেকেই মনে করেন, বাঙালিদের দত্ত পদবি অনুসারেই নিজের নামের শেষ অংশটিকে পদবি হিসাবে ব্যবহার শুরু করেন গুরু দত্ত।
ভিডিও: শশী হে – জন্মদিনে শশী কাপুর
জন্ম ১৯২৫ সালের ৯ জুলাই বেঙ্গালুরুতে। ছেলেবেলা কেটেছে বেঙ্গালুরু, কলকাতা ও মুম্বাইয়ে। ছোট থেকেই ঝোঁক ছিল সাহিত্য আর নৃত্যচর্চায়। তাই কয়েক বছরের চাকরিজীবন কাটিয়ে ১৯৪৪ সালে পরিচালক অমিয় চক্রবর্তীর সহকারী হিসেবে রুপোলি দুনিয়ায় পদার্পণ! ‘বাজ’ ছবির মাধ্যমে পরিচালক হিসাবে এবং ১৯৫৪-তে ‘আর-পার’ ছবির সাফল্যের মধ্য দিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠা পান।
তাঁর ছবিতে প্রথম থেকেই নয়্যার ঘরানার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। সঙ্গে মিশেছে অস্তিত্বের সংকট, শিল্পী হিসাবে বঞ্চনা ও স্বীকৃতি না পাওয়ার দুঃখ। যে তিনটি কাজকে তাঁর কেরিয়ারের সেরা ছবি হিসাবে ধরা হয় সেগুলি ‘প্যায়াসা’, ‘কাগজ কে ফুল’ ও ‘সাহিব বিবি অউর গুলাম’। ওই সময়ের পরিচালকদের মধ্যে দাঁড়িয়ে গুরু দত্ত একেবারেই স্বতন্ত্র! বিষাদের কাব্যিক প্রকাশ ওঁর থেকে শেখার। আজ গুরু দত্তের জন্মদিন আমাদের প্রণাম।