সেদিন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সামনে দাঁড়িয়ে স্বয়ং রাজা রামমোহন রায়। দেবেন্দ্রনাথ তখন নেহাত বালক। বারো বছর বয়স। দেবেন্দ্রনাথের হাতে একটি আমন্ত্রণপত্র। ঠাকুর পরিবারের দুর্গাপুজোর নিমন্ত্রণ। রাজা রামমোহন রায়কে দেবেন্দ্রনাথ বলছেন, ‘সামনে পুজো, তাই তিনদিনই প্রতিমা দর্শনে আপনার নিমন্ত্রণ। পত্রে দাদু এই অনুরোধ করেছেন।’ লিখছেন পায়েল চট্টোপাধ্যায়...
গল্পটা আজকের নয়, আজ থেকে আনুমানিক ২৬০ বছর আগের। সাবেক কলকাতার পোস্তা অঞ্চলে সেদিন বেজে উঠেছিল আগমনী ঢাক, যার পুরোধা ব্যাক্তি ছিলেন চুঁচুড়া থেকে আগত স্বর্ণ ব্যবসায়ী শ্রী বৈষ্ণবদাস মল্লিক। আজও তাঁর তৈরি বসতবাটিতে মহাসমারোহে মহামায়ার আগমন ঘটে। লিখছেন নির্মাল্য চ্যাটার্জি...
দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের কাছে কল্যাণপুরে বন্দ্যোপাধ্যায় বাড়িতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দুর্গাপুজোর অধিকাংশ দায়িত্ব সামলান পরিবারের পুরুষ সদস্যরা। ফল কাটা থেকে শুরু করে নৈবেদ্য সাজানো— দুর্গাপুজোর প্রায় প্রতিটি পর্বেই তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি। লিখছেন অমিতাভ গুপ্ত...
ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময় ছিল ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল। সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মেয়াদ ১৯৯০-এর মার্চ মাসে শেষ হয়ে গেলেও অস্থির সময়ে পরবর্তী পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ১৯৯০-৯১ এবং ১৯৯১-৯২ আর্থিক বর্ষে শুধুমাত্র বার্ষিক পরিকল্পনা করা হয়েছিল। পড়ুন প্ল্যানিং কমিশন প্রবর্তন থেকে বিসর্জন পর্ব ৭। লিখছেন অমিতাভ রায়...
পূর্ববাংলার মুক্তিযুদ্ধকে দুই কুকুরের লড়াই কেন বলা হবে? কোনও এক ওপর মহল থেকে যে ব্যাখ্যা শেখানো হয়েছিল তা হল, দুই কুকুর মানে মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং সোভিয়েত সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ৷ সামাজিক সাম্রাজ্যবাদের মদতে ভারতীয় সম্প্রসারণবাদ অখণ্ড পাকিস্তানকে ভাঙতে চাইছে, তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের আড়ালে ভারত পূর্ব পাকিস্তানে আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে৷ মধুময় পালের কলমে পড়ুন দেশভিখারির জমিজিরেত। আজ পর্ব ৭...
কলকাতা দূরদর্শন বিশেষ অনুষ্ঠান করল সমরেশ বসুকে নিয়ে। সেই অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছিলেন মৃণাল সেন। এরপর একদিন মা আমার হাতে দূরদর্শনের কনট্র্যাক্ট ফর্ম দিয়ে পাঠাল ভবানীপুরের বেলতলা রোডে মৃণাল সেনের বাড়িতে, কারণ ওঁকে দিয়ে কন্ট্রাক্ট ফর্মটা সই করাতে হবে। লিখছেন অরিজিৎ মৈত্র...
১৯৮৩ থেকে মোটামুটি ১৯৮৬-৮৭ সাল পর্যন্ত এমন একটা সময়। বাজারে হঠাৎ খুচরো পয়সার খুব আকাল দেখা দিল। এই সমস্যার সুরাহা করার জন্য বিভিন্ন বাস সংগঠনগুলি রাজ্যের পরিবহন দফতরের সাথে আলোচনায় বসে ঠিক করল, এই সংকটের মোকাবিলায় তারা বাসে কুপন চালু করবে। লিখছেন সুধীন্দ্রকুমার চক্রবর্তী...
দিনরাত তাঁদের প্রচেষ্টা থাকে মানুষকে সুস্থ করে তোলার, মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনকে উদযাপন করার। কিংবদন্তি চিকিৎসক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাই প্রতি বছর ১লা জুলাই পালন করা হয় ডক্টরস ডে। তবে স্টেথোস্কোপ, ছুরি, কাঁচি ছাড়াও বহু ডাক্তারের থাকে নিজস্ব কিছু শখ বা নেশা। বিশিষ্ট ইএনটি বিশেষজ্ঞ গৌতম বিশ্বাস যেমন ডাক্তারি পেশায় নাম করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে চলেছেন তাঁর ফটোগ্রাফির শখটিও। ডাক্তারি, ছবি তোলার শখ, এই সমস্ত নিয়েই আজ বাংলালাইভ তাঁর মুখোমুখি। চিকিৎসক গৌতম বিশ্বাসের সঙ্গে কথোপকথনে সংকেত ধর...
ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘উৎসব’ ছবিটিতে অন্যতম মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। সেই অভিনয় তাঁর জীবনের প্রথম অভিনয়ও! আজ ৩০ মে, পরিচালকের প্রয়াণবার্ষিকীতে 'উৎসব'-এর শুটিং ও 'ঋতুদা'র সঙ্গে বিজড়িত নানা স্মৃতির গল্প শোনালেন রাতুল শঙ্কর ঘোষ। কথালাপে আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়...
এক অক্লান্ত সুরস্রষ্টা, এক সাঙ্গীতিক কিংবদন্তী, যাঁকে আপামর ভারতবাসী একডাকে চেনেন সলিল চৌধুরী নামে, সেই সুরসাধককে নিয়ে কলম ধরলেন এ কালের বিশিষ্ট সঙ্গীতরসিক ও গবেষক স্বপন সোম। আজ দ্বিতীয় পর্ব।
এক অক্লান্ত সুরস্রষ্টা, এক সাঙ্গীতিক কিংবদন্তী, যাঁকে আপামর ভারতবাসী একডাকে চেনেন সলিল চৌধুরী নামে, সেই সুরসাধককে নিয়ে কলম ধরলেন এ কালের বিশিষ্ট সঙ্গীতরসিক ও গবেষক স্বপন সোম।
১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার ‘বাবু সমাজ’-এর টিকিতে টান পড়ে। প্রহসন ও নকশাধর্মী গদ্যে দেখা যেত শ্লেষের আবরণ। কালীপ্রসন্ন সিংহ তা থেকে বের করে নিয়ে আসেন চলিত ভাষার মাধ্যমে। কলকাতার জনজীবনের কথা উঠে আসে সে লেখায়। লিখছেন অরিন চক্রবর্তী
কিংবদন্তি শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের মৃত্যুর এগারো বছর পর, তাঁর তৈরি এমনই কিছু কাটআউট নিয়ে ইমামি আর্টের উদ্যোগে ‘এসেনশিয়াল ফর্মস’ শীর্ষক প্রদর্শনী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটিতে।
সোমনাথ হোর বলছেন,"আমি যা আঁকি তা আমার সত্তাকেই নির্মাণ করে- একান্তই নিজের 'ক্ষত'কে খুঁজে ফেরা।" এক অন্ধকার সময়ে, ছেনি বাটালি দিয়ে খুঁড়ে তুলে আনছেন তিনি।
নবতিপর শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ পদ্মসম্মানে ভূষিত হন গতবছর, ২০২১ সালে। লাগাতার অসুস্থতা ও কোভিডজনিত সমস্যার জেরে সে পুরস্কার সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন শয্যাশায়ী শিল্পী। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করলেন বিবেক সেনগুপ্ত।
বর্তমান যুগে পুরনো ভাবধারাকে নতুন মোড়কে পরিবেশন করার চেষ্টায় বাংলা সনটি হিজরি সনের উপরেই ভিত্তি করে যেন বঙ্গাব্দের জন্ম হয়েছে!! মুহম্মদ তালিব ভূমিকায় (পৃ. ৭) জোর গলায় বলেছেন—‘এটি সর্বসম্মত মত যে, বাংলা সনের জন্ম হয় সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে, বিশেষ করে তাঁরই নির্দেশে (৯৯২ হি ১৫৮৪ খ্রি) বাংলা সনের উদ্ভাবন হয়।
আসুন,মার্ক্সের বিবাহ বাসর থেকে কাহিনিটা শুরু করি। দিনটা ১৮৪৩ সালের ১৯ জুন। সকাল ১০টা নাগাদ একটি দাপুটে প্রেম তীরবর্তী। সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স এবং ফ্রাউলিন জোহানা বার্থা জুলিয়া জেনি ভন ভেস্টফালেন। মার্ক্স, বেকার, বয়স ২৫। সবুজ সিল্কের গাউন, ওড়না, গোলাপি টুপিতে জেনি-- বয়স ২৯। যে শহরে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা, সেই ট্রিয়ের থেকে ৫০ মাইল দূরের ক্রোয়েটসনাখের রিসর্টে বিয়েটা হচ্ছে।
মল্লচর্চার ঐতিহ্যশালী পরিবারে জন্মেছিলেন যতীন্দ্রচরণ গুহ। কিন্তু এ নাম স্থায়ী হল না। গোবর গোহ নামেই বিশ্বজয় করলেন কুস্তির মারপ্যাঁচে। সম্প্রতি পেরিয়ে গেল তাঁর ১২৮তম জন্মবার্ষিকী। লিখছেন অভীক চট্টোপাধ্যায়।