২০২৪ সালের জুন মাস। যোধপুর পার্কের একতলার ফ্ল্যাটে সন্ধ্যা আটটা। কলকাতা গরমে ফুটছে। লেখকের তৃতীয়বার পেসমেকার পাল্টানোর ৭ দিনও হয়নি। চিকিৎসকের তাই নির্দেশ ছিল, সাতদিন পর দেখাসাক্ষাতের অনুমতি। কিন্তু সেদিন আমার রাত দু’টোয় ফ্লাইট বলে, ছ’দিনের মাথায় ভক্তের জন্য এযুগের এক জীবন্ত কিংবদন্তী কলমেশ্বরের ডাক এল। লিখছেন শুভশ্রী নন্দী...
একটা সমাধি ফলকের উপর আলো এসেছে চুম্বনের অপেক্ষায়। ফলকের শরীরে জ্বলজ্বল করছে একটি মৃত্যুহীন বাক্য: ‘এখানে শুয়ে আছে সে, যার নাম জল দিয়ে লেখা।’ জুঁই ফুলের সুবাস নিয়ে সেই কবরের সামনে আমি দাঁড়িয়ে আছি। হঠাৎ কোনও অজানা নাইটিঙ্গেল পাখির আদুরে কণ্ঠের ছোঁয়ায় ফুলের এক-একটা পাপড়ি যেন তাঁর কবিতার অমোঘ উচ্চারণ হয়ে গেল— জন কিটস। লিখছেন সায়ন ভট্টাচার্য...
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহে ধাক্কা খেয়ে, ব্রিটিশরা শৈব, শাক্ত, বৈষ্ণব, ঐন্দ্র, গাণপত্যাদি ধর্মধারাকে, বেদ-বেদান্ত-উপনিষদাদি ও ষড় দর্শনের সঙ্গে একটি ছাঁচে ফেলতে চাইল। একটি ‘হিন্দু’ সম্প্রদায় সৃষ্টি করলে, একটি ধর্মশাস্ত্র (যেমন মনুস্মৃতির) অধীনেই শাসন করতে পারবে ভেবেছিল। এই অবস্থায় বৈদিক ধর্ম, পৌরাণিক ধর্ম ইত্যাদি সরে গিয়ে চলে আসে ‘সনাতন ধর্ম’। লিখছেন শুদ্ধসত্ত্ব ঘোষ...
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন অর্থাৎ ইউপিএসসি-র কঠিন ছাঁকনি পেরিয়ে প্ল্যানিং কমিশনে যোগ দেওয়া নানান পেশার বিশারদ আধিকারিকেরাই সংস্থার মূল শক্তি। বিভিন্ন স্তরে প্রয়োজন অনুযায়ী বিশারদ নিয়োগের জন্য ইউপিএসসি বিজ্ঞাপন দিত। পড়ুন প্ল্যানিং কমিশন প্রবর্তন থেকে বিসর্জন পর্ব ৯। লিখছেন অমিতাভ রায়...
সত্তরের দশক। ডায়মন্ডহারবার, বারাসাত, কোন্নগর এবং আরও বহু জায়গায় যুবকদের মৃতদেহ পাওয়া যাচ্ছিল৷ গণহত্যা৷ কাশীপুর-বরানগরের গঙ্গায় ভেসে গেল অগণন লাশ৷ সমর সেনের ‘ফ্রন্টিয়ার’ লিখল, ‘যুবকদের মারা হয়েছিল কারণ তারা ছিল প্রচলিত ব্যবস্থায় আস্থাহীন এবং নকশালপন্থী৷’ মধুময় পালের কলমে পড়ুন দেশভিখারির জমিজিরেত। আজ পর্ব ৮...
ওপার বাংলা থেকে এসে আমাদের বাড়ির একতলায় যোগেনদারা থাকতেন। সেই একতলায় ঢুকেই সেদিন বললেন ‘আমার প্রথম ছবি আঁকা এই বাড়ির দেয়ালে, একটা ময়ূর এঁকেছিলাম।’ লিখছেন অরিজিৎ মৈত্র...
১৯৮৩ থেকে মোটামুটি ১৯৮৬-৮৭ সাল পর্যন্ত এমন একটা সময়। বাজারে হঠাৎ খুচরো পয়সার খুব আকাল দেখা দিল। এই সমস্যার সুরাহা করার জন্য বিভিন্ন বাস সংগঠনগুলি রাজ্যের পরিবহন দফতরের সাথে আলোচনায় বসে ঠিক করল, এই সংকটের মোকাবিলায় তারা বাসে কুপন চালু করবে। লিখছেন সুধীন্দ্রকুমার চক্রবর্তী...
দিনরাত তাঁদের প্রচেষ্টা থাকে মানুষকে সুস্থ করে তোলার, মৃত্যুকে হারিয়ে জীবনকে উদযাপন করার। কিংবদন্তি চিকিৎসক ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাই প্রতি বছর ১লা জুলাই পালন করা হয় ডক্টরস ডে। তবে স্টেথোস্কোপ, ছুরি, কাঁচি ছাড়াও বহু ডাক্তারের থাকে নিজস্ব কিছু শখ বা নেশা। বিশিষ্ট ইএনটি বিশেষজ্ঞ গৌতম বিশ্বাস যেমন ডাক্তারি পেশায় নাম করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে লালন করে চলেছেন তাঁর ফটোগ্রাফির শখটিও। ডাক্তারি, ছবি তোলার শখ, এই সমস্ত নিয়েই আজ বাংলালাইভ তাঁর মুখোমুখি। চিকিৎসক গৌতম বিশ্বাসের সঙ্গে কথোপকথনে সংকেত ধর...
ঋতুপর্ণ ঘোষ পরিচালিত ‘উৎসব’ ছবিটিতে অন্যতম মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। সেই অভিনয় তাঁর জীবনের প্রথম অভিনয়ও! আজ ৩০ মে, পরিচালকের প্রয়াণবার্ষিকীতে 'উৎসব'-এর শুটিং ও 'ঋতুদা'র সঙ্গে বিজড়িত নানা স্মৃতির গল্প শোনালেন রাতুল শঙ্কর ঘোষ। কথালাপে আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়...
এক অক্লান্ত সুরস্রষ্টা, এক সাঙ্গীতিক কিংবদন্তী, যাঁকে আপামর ভারতবাসী একডাকে চেনেন সলিল চৌধুরী নামে, সেই সুরসাধককে নিয়ে কলম ধরলেন এ কালের বিশিষ্ট সঙ্গীতরসিক ও গবেষক স্বপন সোম। আজ দ্বিতীয় পর্ব।
এক অক্লান্ত সুরস্রষ্টা, এক সাঙ্গীতিক কিংবদন্তী, যাঁকে আপামর ভারতবাসী একডাকে চেনেন সলিল চৌধুরী নামে, সেই সুরসাধককে নিয়ে কলম ধরলেন এ কালের বিশিষ্ট সঙ্গীতরসিক ও গবেষক স্বপন সোম।
১৮৬২ খ্রিষ্টাব্দে ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কলকাতার ‘বাবু সমাজ’-এর টিকিতে টান পড়ে। প্রহসন ও নকশাধর্মী গদ্যে দেখা যেত শ্লেষের আবরণ। কালীপ্রসন্ন সিংহ তা থেকে বের করে নিয়ে আসেন চলিত ভাষার মাধ্যমে। কলকাতার জনজীবনের কথা উঠে আসে সে লেখায়। লিখছেন অরিন চক্রবর্তী
কিংবদন্তি শিল্পী মকবুল ফিদা হুসেনের মৃত্যুর এগারো বছর পর, তাঁর তৈরি এমনই কিছু কাটআউট নিয়ে ইমামি আর্টের উদ্যোগে ‘এসেনশিয়াল ফর্মস’ শীর্ষক প্রদর্শনী সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হল কলকাতা সেন্টার ফর ক্রিয়েটিভিটিতে।
সোমনাথ হোর বলছেন,"আমি যা আঁকি তা আমার সত্তাকেই নির্মাণ করে- একান্তই নিজের 'ক্ষত'কে খুঁজে ফেরা।" এক অন্ধকার সময়ে, ছেনি বাটালি দিয়ে খুঁড়ে তুলে আনছেন তিনি।
নবতিপর শিল্পী নারায়ণ দেবনাথ পদ্মসম্মানে ভূষিত হন গতবছর, ২০২১ সালে। লাগাতার অসুস্থতা ও কোভিডজনিত সমস্যার জেরে সে পুরস্কার সম্প্রতি হাতে পেয়েছেন শয্যাশায়ী শিল্পী। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের স্মৃতি রোমন্থন করলেন বিবেক সেনগুপ্ত।
বর্তমান যুগে পুরনো ভাবধারাকে নতুন মোড়কে পরিবেশন করার চেষ্টায় বাংলা সনটি হিজরি সনের উপরেই ভিত্তি করে যেন বঙ্গাব্দের জন্ম হয়েছে!! মুহম্মদ তালিব ভূমিকায় (পৃ. ৭) জোর গলায় বলেছেন—‘এটি সর্বসম্মত মত যে, বাংলা সনের জন্ম হয় সম্রাট আকবরের রাজত্বকালে, বিশেষ করে তাঁরই নির্দেশে (৯৯২ হি ১৫৮৪ খ্রি) বাংলা সনের উদ্ভাবন হয়।
আসুন,মার্ক্সের বিবাহ বাসর থেকে কাহিনিটা শুরু করি। দিনটা ১৮৪৩ সালের ১৯ জুন। সকাল ১০টা নাগাদ একটি দাপুটে প্রেম তীরবর্তী। সাতপাকে বাঁধা পড়ছেন কার্ল হাইনরিশ মার্ক্স এবং ফ্রাউলিন জোহানা বার্থা জুলিয়া জেনি ভন ভেস্টফালেন। মার্ক্স, বেকার, বয়স ২৫। সবুজ সিল্কের গাউন, ওড়না, গোলাপি টুপিতে জেনি-- বয়স ২৯। যে শহরে তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা, সেই ট্রিয়ের থেকে ৫০ মাইল দূরের ক্রোয়েটসনাখের রিসর্টে বিয়েটা হচ্ছে।
মল্লচর্চার ঐতিহ্যশালী পরিবারে জন্মেছিলেন যতীন্দ্রচরণ গুহ। কিন্তু এ নাম স্থায়ী হল না। গোবর গোহ নামেই বিশ্বজয় করলেন কুস্তির মারপ্যাঁচে। সম্প্রতি পেরিয়ে গেল তাঁর ১২৮তম জন্মবার্ষিকী। লিখছেন অভীক চট্টোপাধ্যায়।