পঞ্চানন কর্মকার এক বিস্মৃত বাংলা হরফশিল্পী

Panchanan Karmakar
Panchanan Karmakar

পঞ্চানন কর্মকার এক বিস্মৃত বাংলা হরফশিল্পী

(Panchanan Karmakar)

শ্রাবণ মাস। সকাল থেকেই অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে। কাদামাখা পথে হুগলী নদীর ধার ধরে হেঁটে আসছে এক গ্রামের যুবক, বংশবাটি থেকে চুঁচুড়া সদরে। শতচ্ছিন্ন ছাতা মানছে না। কাঁধে ভারি ঝোলা। বুকের ভেতর প্রবল উত্তেজনা। ১৭৭৮ সালের শ্রাবণের এই ঘোর বর্ষায় পথে নেমেছে যুবক। ঘরে বউ সুধারানী আর মা-বাপ শত কোটি দেবতার নাম আউড়ে চলেছে। ভাই গদাধর বেশ কিছুটা পথ এগিয়ে দিয়ে গেছে- সাবধানে যাস ভাই! সব ভালোয় ভালোয় মিটলে হয়! (Panchanan Karmakar)

পঞ্চানন জড়িয়ে ধরে ভাইকে, ‘সব বর্ণগুলো ঠিক-ঠাক ছাপায় আসবে তো রে ভাই? তিন-চার বছরের দিনরাত্তির পরিশ্রম!’
সুধারানীর চোখের জল যেন আকাশ ভেঙে পড়ছে। বাংলা হরফ নির্মাণের এক ঐতিহাসিক দিন আজ। (Panchanan Karmakar)

আরও পড়ুন: বিস্মৃত পণ্ডিত জগন্নাথ তর্কপঞ্চানন

চুঁচুড়ায় জন অ্যান্ড্রুজের ছোট্ট বাড়িতেই প্রেস। বৃটিশরা তখনও তাদের এলাকায় প্রেস খুলতে দিত না। অগাষ্টাস হিকির অবস্থা কী হয়েছিল সবাই জানে। বৃটিশদের দুর্ণীতির ও অত্যাচারের খবর প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে ছাপাখানা খুলতে দিতে চায়নি বৃটিশরা। তাই জন অ্যান্ড্রুজ পর্তুগিজদের এলাকায় খুলেছিল একটি ছোট্ট প্রেস ও সঙ্গে বইয়ের দোকান। এখন পাল্টেছে ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর নীতিও। হেস্টিংস বুঝেছে একটা এলাকাকে করায়ত্ত করতে হলে, প্রথমেই দখল করা দরকার ভাষা ও শিক্ষা। ব্যবসা, বাণিজ্য, ধর্ম প্রচার ও রাজনৈতিক কারণে ভাষাকে দখল করা জরুরি। শেখাও জরুরি। ওয়ারেন হেস্টিংস একছত্র অধিপতি তখন এই বাংলার। দু’জন প্রাচ্যবিদ রাইটার এসেছে কলকাতায় রাইটারের চাকরি নিয়ে। ন্যাথানিয়াল ব্রাসো হালেদ আর চার্লস উইলকিন্স। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ওরিয়েন্টাল স্টাডিজের ভাষাবিদ উইলিয়াম জোন্সের সান্নিধ্যে থাকা হালেড ও উইলকিন্স ফার্সী শিখেই এসেছে। শিখেছে সংস্কৃত। (Panchanan Karmakar)

পঞ্চানন কর্মকারের ঝোলায় ছোট ছোট লোহার পাত। পাঞ্চ কাটা। এক দেড় ইঞ্চি ছোট ছোট লোহার টুকরোর মাথায় খোদাই করা অআকখ বাংলা বর্ণমালা। ছাপা হবে প্রথম বাংলা হরফ ছাঁদ। ফন্ট, টাইপ ফেস, এইসব কথা পঞ্চানন কর্মকার বোঝে না। সে শুধু বোঝে নকশা। এক একটা হরফ মানে এক একটা নকশা। (Panchanan Karmakar)

Panchanan Karmakar
প্রথম বাংলা গ্রামার বই যা ন্যাথানিয়াল ব্রাসি হালেদ লিখেছিলেন। এই বইতে প্রথম মুক্ত ও সচল মুদ্রণযোগ্য বাংলা হরফ ছাপা হয়। যে হরফছাঁদ নির্মাণ করেছিলেন পঞ্চানন কর্মকার। কিন্তু ব্রাসি হালেদ তাঁর দীর্ঘ ভূমিকায় উইলিয়াম বোল্টস থেকে চার্লস উইলকিন্স সবার নাম উল্লেখ করলেও, অনুল্লেখ রেখে গেলেন গ্রামের এক অক্ষরশিল্পীর কথা, পঞ্চানন কর্মকারের কথা। উপেক্ষার শুরু এখানেই।

গভর্ণর জেনারেল ওয়ারেন হেস্টিংস দায়িত্ব দিয়েছেন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর দুই রাইটারকে, সাহেবদের জন্য বাংলা গ্রামার বই ছাপাতে। দুই প্রাচ্যবিদ ন্যাথ্যানিয়াল ব্রাসো হালেদ ও চার্লস উইলকিন্স দিনরাত এক করে বাংলার বিভিন্ন প্রান্তের দলিল-দস্তাবেজ, পুঁথি যোগাড় করলেন। পড়াশোনা করলেন। দেখলেন একেক অঞ্চলের বাংলা হরফের গড়ন একেক রকম। খাগের কলম দিয়ে তখন লেখা হত তুলট কাগজে বা তালপাতায়। আঁশে আটকে যেত খাগের কলমে লিখতে গিয়ে। ফলে তৈরি হত আঁকাবাঁকা টিকি-দাড়ি বাংলা হরফের। সেই ছাঁদ নকল করত ছাত্ররা। ফলে এক এক এলাকায় এক একরকম হরফছাঁদ চলছিল। হালেদ এবং উইলকিন্স সাহেব পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন জেলার ও এলাকার দলিল-দস্তাবেজ ঘেঁটে, বিভিন্ন পুঁথি পড়ে, বিভিন্ন পন্ডিতদের সঙ্গে আলোচনা করে তৈরি করলেন একটি সুমঞ্জস্য বাংলা হরফছাঁদ। ওঁরা কাগজের উপর নকশা করার মতো করে হরফগুলি লিখলেন। উইলকিন্স ছিলেন নিজেই একজন দক্ষ লিপিকার। বাংলার মেঠো পথে ঘুরে বেড়িয়ে ও পড়াশোনা করে বুঝেছেন ইংরেজি হরফের কাঠিন্য এই বাংলা হরফের গড়নে নেই। বাংলা হরফে দরকার গাঙ্গেয় মাটির নরম পেলবতা আর বাংলা মায়ের লালিত্য। বাংলার জল হাওয়ায় বেড়ে ওঠা শিল্পীর হাতের কাজেই থাকবে সেই সুষমা। হালেদ এবং উইলকিন্স খোঁজা শুরু করলেন ছেনি হাতুড়ি দিয়ে নকশা করা বাংলার শিল্পীকে। (Panchanan Karmakar)

“পঞ্চানন বোঝে এই হরফের ছাঁদকে আরও সুন্দর, আরও কোমল, আরও ঢলোঢলো অনেকটা মায়ের মতো করা দরকার। করবে পঞ্চানন। তবে এখন উৎকণ্ঠা। ছাপা হলে কেমন দেখতে হবে বাংলা হরফ। “

হুগলীর বংশবাটি তথা বাঁশবাড়িয়ার রাজা নৃসিংহদেব তখন গড়ে তুলছেন বংশবাটি এখনকার বাঁশবেড়িয়া। সেখানেই দুর্ভিক্ষপীড়িত ও বর্গী উৎখাত মানুষেরা বসতি তৈরি করছে। রাজবাড়ির বাসন-কোসনে নকশা করার কাজ করে শম্ভু কর্মকার। শম্ভু কর্মকারের দুই ছেলে পঞ্চানন কর্মকার ও গদাধর কর্মকার। পঞ্চানন জন্মেছিল ১৭৫০ সালে জিরাটে বর্গী আক্রমণের সময়। নবজাতক পঞ্চাননকে কোলে নিয়েই শম্ভু কর্মকার স্বপরিবারে চলে আসে বংশবাটিতে। অল্প বয়স থেকেই পঞ্চানন কর্মকারের নকশার কাজ, নাম লেখার ডিজাইন খুব মনে ধরেছে রাজার। চারিদিকে প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে। চুঁচুড়া, চন্দননগর থেকে অর্ডার আসছে। রাজা নৃসিংহদেবের কাছ থেকে খবর গেল হালেদের কাছে, পঞ্চানন কর্মকারের নাম। মুন্সী খুশমতকে নিয়ে হালেদ ও উইলকিন্স হাজির হল ১৭৭৫-১৭৭৬ সাল নাগাদ বাঁশবাড়িয়ায় পঞ্চাননের বাড়িতে একদিন। পঞ্চাননের বয়স তখন ২৫ বা ২৬। (Panchanan Karmakar)

Panchanan Karmakar
পঞ্চানন কর্মকারের করা প্রথম সচল মুক্ত মুদ্রণ যোগ্য বাংলা হরফছাঁদ যা ছাপা হয়েছিল ১৭৭৮ সালে হুগলীর অ্যান্ড্রুজের ছাপাখানায়। লেখক ছিলেন ন্যাথানিয়াল ব্রাসি হালেদ।

১৭৭৮ সালের বর্ষাকালের সকালে অঝোর বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে ঢুকল পঞ্চানন অ্যান্ড্রুজের প্রেসে। বুকের ভেতর উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠা। সাহেবদের করা হরফের ডিজাইনের বাড়তি টিকি-দাড়ি-খাঁজ কমিয়ে আরও সহজ সরল করেছে পঞ্চানন। যদি সাহেবদের না পছন্দ হয়। পঞ্চানন বোঝে এই হরফের ছাঁদকে আরও সুন্দর, আরও কোমল, আরও ঢলোঢলো অনেকটা মায়ের মতো করা দরকার। করবে পঞ্চানন। তবে এখন উৎকণ্ঠা। ছাপা হলে কেমন দেখতে হবে বাংলা হরফ। (Panchanan Karmakar)

আরও পড়ুন: বিস্মৃত বিপ্লবী কল্পনা দত্ত

বাংলা লিপির প্রথম ছাপার নমুনা পাওয়া যায় ১৬৬৭ সালে, আমস্টারডামে। বইটির নাম সংক্ষেপে বলা হয় “চায়না ইলাস্ট্রেটা”। লেখক- আতানাসি উস কির্থে। ১৬৯২ সালে প্যারিসে ছাপা একটি বইয়ে বাংলা লিপি দেখতে পাওয়া যায়। বইটির বিষয়বস্তু ছিল ভারতবর্ষ। (Panchanan Karmakar)

কিন্তু ছিল না সচল হরফ নির্মাণের বিষয়টি। ছিল না বঙ্গদেশে বাংলা ভাষার মুদ্রণের ক্ষেত্রে সামঞ্জস্যপূর্ণ সর্বজনীন একটি বাংলা লিপির গড়ন। সেই হরফছাঁদ তৈরি করল পঞ্চানন কর্মকার। প্রথম বাঙালি হরফ নির্মাতা অক্ষরশিল্পী, যাঁর তৈরি হরফ ছাপা হচ্ছে বাংলার মাটিতে। (Panchanan Karmakar)

Panchanan Karmakar
উইলিয়াম বোল্টস (১৭৩৯-১৮০৮) এর প্রথম প্রচেষ্টা বাংলা মুক্ত বর্ণমালা তৈরির। ১৭৬৬-৬৭ সাল নাগাদ তিনি তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন সর্বজনগ্রাহ্য বাংলা ভাষার মুক্ত ও সচল বর্ণমালা।

চুঁচুড়ার অ্যান্ড্রুজের ছোট্ট প্রেসে ততক্ষণে এসে গেছে হালেদ ও উইলকিন্স। সাজিয়ে ফেলেছে পঞ্চাননের তৈরি বর্ণমালা। পঞ্চানন একটু দূরে উবু হয়ে বসে। ভিজে গেছে সর্বাঙ্গ। বাইরে প্রবল বৃষ্টি। অ্যান্ড্রুজ মেসিন রেডি করেছে। প্রচণ্ড শব্দে নেমে এল মেসিনের চাকতিতে লাগানো ব্লক, সাদা পাতার উপর। ছাপা হয়েছে প্রথম বর্ণমালা সঠিকভাবে। উল্লাসে জড়িয়ে ধরল হালেদ ও উইলকিন্স পঞ্চানন কর্মকারকে। ১৭৭৮ সালের জুলাই মাসে বর্ষা ঘনঘোর এক দিনে চুঁচুড়া শহরের একটি ছোট্ট ঘরে নির্মাণ হল বাংলা মুদ্রণ লিপি। প্রথম বাংলা গ্রামার বই A Grammar of The Bengal Language by Nathaniel Brassey Halhed, এই বই এর ভূমিকায় হালেদ উল্লেখ করল না পঞ্চানন কর্মকারের নাম। হরফ নির্মাণের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব দিয়ে গেল উইলকিন্সকে। পঞ্চানন কর্মকার থেকে গেল অনুল্লেখ, উপেক্ষিত ইতিহাসের পাতায়। (Panchanan Karmakar)

“১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরির ডাকে পঞ্চানন কর্মকার এক-প্রকার পালিয়ে এল শ্রীরামপুরে। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে পঞ্চাননকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিল উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড। এইখানে এসে জড়ো হল পন্ডিত রামরাম বসু।”

উইলকিন্স, এর পর চলে যায় ইংল্যান্ডে। যাওয়ার সময় পঞ্চানন কর্মকারের জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করে গেল ফোর্ট উইলিয়ামের ছাপাখানায় বাংলা হরফ নির্মাণের প্রধান হিসেবে। আরেক মুদ্রণ বিশেষজ্ঞ কোলব্রুকের অধীনে পঞ্চাননের চাকরি। কিছুদিন চাকরি করার পর পঞ্চানন বুঝতে পারে দমবন্ধ অবস্থা। সে শিল্পী। সে কামার নয়। বেতনভুক কর্মী হতে চায় না। সে তৈরি করতে চায় আরও সুন্দর বাংলার মায়ের মতো লাবণ্যময় বর্ণমালা। কিন্তু কোলব্রুকের তত্ত্বাবধানে সেই স্বাধীনতা সে পাচ্ছে না। পঞ্চাননের নাম তখন ছাপাখানার জগতে পরিচিত নাম। কিন্তু পঞ্চাননের শিল্পীমন অস্থির। বাংলা হরফকে করতে হবে আরও চিকন সুন্দর ঠিক মায়ের মতো। (Panchanan Karmakar)

Panchanan Karmakar
চার্লস উইলকিন্স (১৭৪৯-১৮৩৬) তৈরি করলেন বাংলা হরফছাঁদ যা পঞ্চানন কর্মকারকে দিয়েছিলেন নমুনা হিসেবে ১৭৭৬-৭৭ সালে। পঞ্চানন কর্মকারের শিল্পীসত্ত্বা এই নমুনা থেকেই বাংলা হরফছাঁদের পাঞ্চ তৈরি করল আরও নমনীয়, আরও কোমল, আরও সুন্দর, স্বাধীন।

১৮০১ সালে উইলিয়াম কেরির ডাকে পঞ্চানন কর্মকার এক-প্রকার পালিয়ে এল শ্রীরামপুরে। শ্রীরামপুর মিশন প্রেসে পঞ্চাননকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দিল উইলিয়াম কেরি, মার্শম্যান ও ওয়ার্ড। এইখানে এসে জড়ো হল পন্ডিত রামরাম বসু। পঞ্চানন কর্মকার খুশমতো মুন্সীর হাতের লেখা অনুযায়ী তৈরি করেছিল প্রথম হরফ। এখন মুহুরী কালিপ্রসাদ রায়ের সুন্দর হাতের লেখা অনুযায়ী তৈরি করল খুব সুন্দর এক-একটি লিপি দিয়ে বাংলা বর্ণমালা। ১৮০১ সালের, ৭ ফেব্রুয়ারি পঞ্চাননের তৈরি সুন্দর বাংলা হরফে প্রথম ছাপা হল কেরী সাহেবের অনুবাদে নিউ টেস্টামেন্ট। (Panchanan Karmakar)

শ্রীরামপুরে বটতলার কাছে তৈরি করল নিজের বাড়ি ও হরফ নির্মাণের ফাউন্ড্রি। দেবনাগরী, ওড়িয়া, মারাঠি, হরফ তৈরি হচ্ছে এখানে। পঞ্চাননের আফশোস চিনা হরফটি কাটতে পারেননি। তার আগেই অসুস্থ হয়ে যান তিনি। ১৮০৪ সালে পঞ্চানন কর্মকার শ্রীরামপুরে নিজের বাড়িতে মারা যাযন। উইলিয়াম কেরি বলেছিলেন, তোমার কথা ইতিহাসে লেখা থাকবে পঞ্চানন, বাঙালি ভুলবে না। (Panchanan Karmakar)

আরও পড়ুন: মাস্টারমশাই জ্যোতিষচন্দ্র, এক বিস্মৃত জ্যোতিষ্ক (পর্ব – ৩)

পঞ্চানন কর্মকারের তৈরি বর্ণমালার সংস্কার করলেন পঞ্চাননের নাতি কৃষ্ণচন্দ্রের কাছে এসে, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর। ১৮৫০ সালে সেই সংস্কারের পূর্ণ রূপ দেখল বাঙালি “বর্ণপরিচয়”বইতে। যদিও “বর্ণপরিচয়”-এর আগে বাংলা লিপির বা হরফছাঁদের নানা সংস্কার দেখা যায় বিভিন্ন ছোটদের শিক্ষাগ্রন্থে।
১৮২১ সালে ছাপা হয় রাধাকান্ত দেব প্রণীত বাঙ্গলা শিক্ষাগ্রন্থ। ১৮৩০ সালে ‘শিশুবোধক’ এবং ১৮৩৬ সালে বালকের ‘প্রথম পড়িবার বহি’ প্রকাশ হয়। প্রকাশক- কলিকাতা ট্রাস্ট সোসাইটি। (Panchanan Karmakar)

১৮৪০ সালে ‘শিশুসেবধি’ নামে শিশুপাঠ্য প্রকাশিত হয়। ১৮৪৬ সালে ‘বর্ণমালা’ শিশুপাঠ্য প্রকাশ করছে স্কুল বুক সোসাইটি। তবে শেষ পর্যন্ত বাংলা মুদ্রণে বিদ্যাসাগরের সংস্কার করা বর্ণমালা বাঙালির হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল বিশ্ব আসার আগে বাংলা বর্ণমালা বাঙালি ব্যবহার করেছে লেখা ও পড়ায় বিদ্যাসাগর প্রণীত ‘বর্ণপরিচয়’ অনুসারে। ডিজিটাল বিশ্বে আজ ইউনিকোড লিপির ব্যবহার। কিন্তু মূল উৎসে আছে প্রথম হরফছাঁদ নির্মাতার অবদান।
পঞ্চানন কর্মকার আজ এক বিস্মৃত বাঙালি হিসেবে থেকে গেলেন ইতিহাসের মলিন ধুলোয়। অথচ তাঁর তৈরি স্বাধীন মুক্ত বাংলা হরফ ছাঁদের উপর দাঁড়িয়ে আছে বাংলা ভাষার ইমারত। (Panchanan Karmakar)

বিশেষ দ্রষ্টব্য: উপরিউক্ত লেখার বানান বা বাক্যের কোনও সংশোধন বা পরিবর্ধন, পরিমার্জন করা হয়নি।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
Picture of রজত চক্রবর্তী

রজত চক্রবর্তী

আঞ্চলিক ইতিহাস ও বিস্মৃত বাঙালিরা রজত চক্রবর্তীর চর্চার প্রিয় বিষয়। বর্তমান পত্রিকা, ভ্রমণ আড্ডা, হরপ্পা, পরম্পরা, মাসিক কৃত্তিবাস, নতুন কৃত্তিবাসের মতো নানা পত্রিকায় তাঁর লেখালেখি। 'পঞ্চাননের হরফ', 'গৌরপ্রাঙ্গণের গোরা', 'আশকথা পাশকথা', 'পান্থজনকথা', 'ধুলো মাটি বাংলা', 'সাঁকোটা দুলছে' তাঁর উল্লেখযোগ্য প্রকাশিত গ্রন্থসমূহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কথাসাহিত্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়
বিতস্তা ঘোষাল
নীলাঞ্জন দরিপা

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

আরো পড়ুন

সমাজমাধ্যমের ভালমন্দ নিয়ে বহু বিতর্ক। তবু, এর কল্যাণেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত সাধারণ মানুষের কাছে তাও কিছুটা পৌঁছোয়। সমাজ মাধ্যমে কিছু শিল্পী নিয়মিত জনসমক্ষে আসেন। নিজেদের কাজ তুলে ধরেন। কিছু পেজও দায়িত্ব নিয়ে বিগত সময়ের কিংবদন্তী শিল্পীদের স্বল্পশ্রুত উপস্থাপনা ফের শোনার সুযোগ করে দেয়। সোশাল মিডিয়াতে ‘অ্যাক্টিভ’ শিল্পীদের কেউ কেউ পেজগুলোর

আমার আনন্দ আরও কিছুদিন কবিতা লেখায় ভুল ও ভ্রমের মধ্যে যে-ফারাক, তা মেনে কি বেঁচে থাকা যাবে দীর্ঘদিন সামান্য কয়েকটি লেখা অপেক্ষা শেখায় পুরোনো বন্ধুর মতো— দেখা হবে, আড্ডা হবে সময়ই হল না তালেগোলে হয়ে গেলে শেষ, তাই ভাল এই না-হওয়া পৃথিবী আমার না-পারা লেখা, আমারই আঙিনা দিয়া আনবাড়ি যায় বাংলালাইভে আজ তন্ময় ভট্টাচার্যের কলমে পাঁচটি কবিতা...

সেই কোন হাজার হাজার মাইল দূরের লিওনেল মেসি কি শুনেছিলেন সেই উচ্চারণ? একটা উত্তাল সময়। নয়ের দশকের ছেলেমেয়েদের কৈশোর থেকে যৌবনের যাবতীয় কিস্সাকে মেসি কামড়ে ধরে থাকলেন এতগুলো বছর। স্প্যানিশ মিডিয়া বলে, মারাদোনার মতো লাতিন আমেরিকার আদিম গন্ধ মেসির গায়ে ছিল না কোনওদিনই। বরং, মেসি অনেক বেশি কাতালান। সেই ন্যাপকিন কাগজে সই পর্বের পর থেকে কাতালান বিপ্লবের ক্রুয়েফীয় পতাকা অচিরেই এসেছে মেসির কাঁধে। লাউড্রপ কিংবা রোনাল্ডিনহোর ক্ষণস্থায়ী উপস্থিতি কাতালান জনতার মনে একটা নরম মাটি খুঁজে দিয়েছিল বড়জোর, সেই মাটিতেই মেসির চারা থেকে মহীরুহ হয়ে ওঠার সাক্ষী থাকল বার্সেলোনা। জার্সির রং বদল নিয়ে লিখছেন অর্পণ গুপ্ত

তাঁর গায়িকা সত্তা ঢাকা পড়ে গিয়েছিল স্বামীর জগৎজোড়া খ্যাতির আড়ালে। এক সময় বাংলা চলচ্চিত্রের নেপথ্য সংগীতশিল্পী হিসেবে খ্যাতিও লাভ করেন হেমন্তজায়া বেলা মুখোপাধ্যায়। ‘কাশীনাথ’ ছবিতে গাওয়া তাঁর গানগুলি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। আকাশবাণী কলকাতার একটি ঘরের হাফ ডোরের মাঝে পরিচয় হয় হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে। ‘এই আমাদের বড়ো খোকা’ বলে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন বাণীকুমার। 'স্মৃতির আকাশ থেকে' এই পর্বে হেমন্তজায়া বেলা মুখোপাধ্যায়, পড়ুন অরিজিৎ মৈত্রের বিশেষ কলাম...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com