Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

বসন্ত এসে গেছে

দিলীপ কুমার ঘোষ

ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬

Spring In Bengal
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Spring In Bengal)

‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল, ডালে ডালে পুঞ্জিত আম্রমুকুল’— বাংলার বসন্ত ভাবতে গেলে এর থেকে যথোপযুক্ত অভিব্যক্তি আর হয় না। বিশেষ করে আমের মুকুলের গুটি বাঁধার প্রস্তুতির মধ্যে যেন লুকিয়ে থাকে বসন্তের আগমন। গ্রামের আমবাগানে, মফস্বলের ফাঁক-ফোকরে, শহরের রাস্তার ধারে মুকুলিত আমগাছ জানান দিয়ে যায় ‘আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে’।

ইতিমধ্যে কেটে গেছে বসন্ত পঞ্চমী। পলাশপ্রিয়ার আরাধনা মাঘ মাসের শুক্লা পঞ্চমী তিথিতে হলেও হিন্দু বা বৈদিক পঞ্জিকা মতে এদিন থেকেই শুরু বসন্ত। তাই সরস্বতী পূজা বসন্ত পঞ্চমী। তা এই বাগদেবীর আরাধনায় কাতাদড়ির পাক খুলে, আম্রপল্লব তার মধ্যে ঢুকিয়ে তৈরি হয়েছে আমপাতার লম্বা লম্বা মালা, যা মণ্ডপে যত্ন সহকারে ঝুলে প্যান্ডেলের শোভাবর্ধন করেছে। পূজার অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে আমের মুকুল। আর কোনও পূজায় উপচার হিসেবে লাগে না আম্রমুকুল।


আরও পড়ুন – রাষ্ট্রচিন্তা: বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে


বসন্তদিনে আমের মুকুলের খোঁজ পাওয়া যায় বড়ু চণ্ডীদাসের ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যেও। সেখানে ফাগুয়া (ফাল্গুন) বা বসন্তকালে ফুল্ললিত কুসুমের সমাহারে, মলয় মারুতের স্পর্শে রাধার কৃষ্ণের প্রতি দেহমনে সমর্পিত হওয়ার আবেশমুগ্ধ অবসরে উঁকি মারতে দেখা যায় আম্রমুকুলকে। আচ্ছা, আমের মতো মধুর ফলকে সযত্নে বর্ধিত করে তোলা কি মহাকবি কালিদাসের বসন্তকে ‘মধুমাস’ বলে সম্বোধন করার আর এক কারণ?

হতে পারে, কারণ আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে কালিদাস ‘ঋতুরাজ’ বসন্ত নিয়ে কম উল্লসিত হননি। তাঁর ‘ঋতুসংহারম্’ কাব্যে অন্য পঞ্চঋতুর তুলনায় বসন্তকে নিয়ে শ্লোকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। বসন্ত নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত ‘মেঘদূতম্’ এবং ‘কুমারসম্ভবম্’ কাব্যেও। দ্বাদশ শতাব্দীর কবি জয়দেবের ‘গীতগোবিন্দম্’-এও পাওয়া যায় আম্রমঞ্জরীর ঘ্রাণ। বসন্তের সেই ঘ্রাণ সঞ্চারিত হতে থাকে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমোন্মাদনায়।

Spring In Bengal
মলয় মারুতের স্পর্শে রাধার কৃষ্ণের প্রতি দেহমনে সমর্পিত হওয়ার আবেশমুগ্ধ অবসরে উঁকি মারতে দেখা যায় আম্রমুকুলকে

জয়দেব অবশ্য বসন্তকে নিষ্ঠুর বা দুরন্ত হিসেবেও চিত্রিত করেছেন, কারণ বিরহী হৃদয়ে বসন্ত বড় নিদারুণ যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়। অবশ্য ‘মৈথিলি কোকিল’ বিদ্যাপতির পক্ষে ঠিক যেভাবে বসন্তকে আবাহন করার কথা, তিনি সেভাবেই আবাহন করেছেন— ‘আএল ঋতুপতি রাজ বসন্ত/ ধাওল অলিকুল মাধবি-পন্থ।’ কিন্তু তিনিও বসন্তরাতের উজ্জ্বল সৌন্দর্যের বিপ্রতীপে বসন্তে বিরহের তীব্রতা ফুটিয়ে তুলতে লিপিবদ্ধ করেছেন— ‘রয়নি উজাগরি দিন অন্ধীর।’ (Spring In Bengal)

এর বিপরীতে কবিকঙ্কনের বেচারি ফুল্লরা বারোমাস্যায় প্রতিটি মাস তথা ঋতুকে অভিযুক্ত করতে করতে বসন্তে এসে কেমন পেলব! ‘সহজে শীতল ঋতু ফাল্গুন মাসে। পোড়ায়ে যুবতীগণ বসন্ত বাতাসে।।’ এখানে ‘বসন্ত বাতাসে’ যুবতীদের পোড়ার মধ্যে যত না কষ্ট, তার থেকে বেশি মনে হয় আমোদ! কারণ ‘মধুমাসে মলয় মারুত মন্দ মন্দ। মালতীর মধুকর পিয়ে মকরন্দ।।’ (Spring In Bengal)

বাসন্তী দোলপূর্ণিমায় ফাল্গুন মাসে যাঁর জন্ম, সেই চৈতন্য মহাপ্রভু তো তাঁর জীবনীকারদের কাছে নিজেই বসন্তদেব। তাই বসন্ত তাঁদের কাছে মধুরতম ঋতু, পবিত্রতম লগ্ন। বসন্ত নিয়ে তাই তাঁদের না আছে কোনও আক্ষেপ, না আছে কোনও খেদ।

রবীন্দ্রনাথের “কোথা হা হন্ত, চির বসন্ত! আমি বসন্তে মরি” উচ্চারণের অনেক আগেই বসন্তকে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখে মা শীতলার দয়া ‘বসন্তের গুটিকা’ স্মল পক্সের উল্লেখ করেছেন কবি ঈশ্বর গুপ্ত।

আর রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’-এর দ্বিতীয় খণ্ড ‘বিদ্যাসুন্দর’ তো বসন্তবন্দনারই আর এক রূপ। এই প্রণয়কাব্যকে অবলীলায় বসন্তকাব্য বলা যেতে পারে।

কিন্তু বসন্তকে নিয়ে কেউ কি অন্য কিছু ভাবেননি? তা কেন! নিশ্চয়ই ভেবেছেন। রবীন্দ্রনাথের “কোথা হা হন্ত, চির বসন্ত! আমি বসন্তে মরি” উচ্চারণের অনেক আগেই বসন্তকে ব্যঙ্গাত্মক দৃষ্টিতে দেখে মা শীতলার দয়া ‘বসন্তের গুটিকা’ স্মল পক্সের উল্লেখ করেছেন কবি ঈশ্বর গুপ্ত। (Spring In Bengal)

অবশ্য সকলেই এমন নন। বাংলা কাব্যে আধুনিকতার ভগীরথ মাইকেল মধুসূদন দত্ত— যাঁর যাপিত জীবন বোধহয় বসন্তের চৈতালি রাতের স্বপ্ন— বসন্তভাবনায় লক্ষ করেছেন ‘পূজে ঋতুরাজে আজি ফুলজালে ধরণী!’

Spring In Bengal
তাঁর ‘ঋতুসংহারম্’ কাব্যে অন্য পঞ্চঋতুর তুলনায় বসন্তকে নিয়ে শ্লোকের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ। বসন্ত নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত ‘মেঘদূতম্’ এবং ‘কুমারসম্ভবম্’ কাব্যেও।

বসন্ত নিয়ে রবীন্দ্রনাথের এত বেশি ভাবনা, তার আলোচনা করতে গেলে কয়েক হাজার শব্দবিশিষ্ট প্রবন্ধের অবতারণা করতে হবে। তা নিয়ে অনেক বিদগ্ধজন লিখেছেনও। তাই সেদিকে না গিয়ে শুধু একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করে, রবীন্দ্রনাথের বসন্তবন্দনা থেকে আমরা অন্য দিকে মুখ ফেরাব। রবীন্দ্রনাথ তাঁর রোমান্টিক গীতিনাট্য ‘বসন্ত’ (১৩২৯ বঙ্গাব্দ) আনন্দ ও যৌবনের সার্থক রূপকার কাজী নজরুল ইসলামকে যখন উৎসর্গ করলেন, তখন নজরুল আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দি। পাত্র নির্বাচন স্বাভাবিক হলেও কী অদ্ভুত সময় নির্বাচন, তাই না! কিন্তু বসন্ত মনে হয় নজরুলের জন্যই সাজে, তাই হয়তো রবীন্দ্রনাথের এমন সিদ্ধান্ত। (Spring In Bengal)

মানবসভ্যতার সংকটকালে ঋতু বসন্তের আগমনেও মে দিবসের পদাতিক কবি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,/ চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/ কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।’

‘ফাল্গুনে বিকশিত কাঞ্চন ফুল’ হলেও ফাল্গুন মানে ফুলের উৎসব নয়। সে বৈষ্ণব পদাবলিতে যতই বসন্তকে ‘কুসুমাকর’ বলা হোক না কেন। আসলে বৈষ্ণব পদাবলি নিজেই ‘বসন্ত আউল রে’ উচ্চারণের মাধ্যমে হয়ে ওঠে রাধা-কৃষ্ণের মধুর প্রেমলীলা ও ফুলদোলে দোদুল্যমানতার এক অনন্য অনুভূতি। সে যে বসন্তকে বর্ণিল পুষ্পের সুগন্ধী বাতাবরণ নির্মাতা হিসেবে ভাববে, সেটাই স্বাভাবিক। (Spring In Bengal)

কিন্তু মানবসভ্যতার সংকটকালে ঋতু বসন্তের আগমনেও মে দিবসের পদাতিক কবি স্মরণ করিয়ে দেন, ‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা,/ চোখে আর স্বপ্নের নেই নীল মদ্য/ কাঠফাটা রোদ সেঁকে চামড়া।’ শুধু একথা বলেই তিনি থেমে যান না, শেষে আবার মনে করিয়ে দেন, ‘প্রিয়, ফুল খেলবার দিন নয় অদ্য/ এসে গেছে ধ্বংসের বার্তা,/ দুর্যোগে পথ হয় হোক দুর্বোধ্য/ চিনে নেবে যৌবন-আত্মা।’ (Spring In Bengal)

Spring In Bengal
বসন্ত নিয়ে রবীন্দ্রনাথের এত বেশি ভাবনা, তার আলোচনা করতে গেলে কয়েক হাজার শব্দবিশিষ্ট প্রবন্ধের অবতারণা করতে হবে। তা নিয়ে অনেক বিদগ্ধজন লিখেছেনও।

কিন্তু বসন্তদিন যতই যন্ত্রণাক্লিষ্ট হোক, বাংলার কবিমানস তাকে অস্বীকার করতে পারে না। তাই সেই একই কবি প্রায় দেড় যুগ পরে উচ্চারণ করেন, ‘ফুল ফুটুক, না ফুটুক আজ বসন্ত।’

বাংলার আরেক কবি চিরকিশোর সুকান্ত ভট্টাচার্যের ‘বসন্ত কাটে খাদ্যের সারিতে।’ জঠরের নিঃশব্দ ভ্রূকুটি উপেক্ষা করা সত্ত্বেও তিনি নিজেকে মনে করেন ‘দুর্ভিক্ষের কবি’। চরম অসহায়তার সঙ্গে তিনি দেখেন ‘ক্ষুধিত দিন ক্রমশ সাম্রাজ্য গড়ে তোলে।’ পঞ্চাশের মন্বন্তরের প্রতিভূ হয়ে ওঠে কবিকণ্ঠ। (Spring In Bengal)

‘মায়া রথে’ চেপে থাকলেও কানে ঠিকই এসে পৌঁছল ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ’। এই প্রতীকী নাম নিয়ে ১৯৬৭ সালে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে দার্জিলিং তরাইয়ের নকশালবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ল ঐতিহাসিক সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ।

যদিও, ১৯৪৪ সালে প্রকাশিত জীবনানন্দ দাশের ‘মহাপৃথিবী’ কাব্যের ‘শীতঘুম’ কবিতায় বসন্তের আগমন ধ্বনিত হয়েছে জীবনানন্দীয় শৈলীতে— ‘এদিকে কোকিল ডাকছে-/ পউষের মধ্য রাতে;/ কোনো-একদিন বসন্ত আসবে ব’লে?/ কোনো-একদিন বসন্ত ছিলো,/ তারই পিপাসিত প্রচার?’ (Spring In Bengal)

কিন্তু ব্যক্তি আমার সঙ্গে বসন্তের যোগ, তার মেলবন্ধন কেমন? বসন্ত এল, অথচ আমি নেই, তাহলে কি হতে পারে? সেটা জানার জন্য ১৯৬৬ পর্যন্ত অপেক্ষা! কলম ধরলেন গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়। লিখলেন, ‘মনে করো আমি নেই বসন্ত এসে গেছে।’, ‘কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে’, অথচ আমি নেই, সেটা যে আমার প্রিয়জনের কাছে কত বেদনার, শুধু সুখস্মৃতি আঁকড়ে ধরে থাকার যে মেদুর বিরহকাতরতা, তা অনবদ্য সুরারোপণে হৃদয়তান করে তুললেন রতু মুখোপাধ্যায়। আর সুমন কল্যাণপুর তাঁর সুললিত কণ্ঠে তার ব্যঞ্জনা ছড়িয়ে দিলেন তৃষিত হৃদয়ে। আমরা কেমন সহজেই অনুধাবন করলাম বসন্তের ‘শুক্লা তিথির ওই ছায়াপথে/ চলছে নতুন রাত মায়া রথে।’ (Spring In Bengal)

Spring In Bengal
বসন্ত শুধু যে মলয় বাতাসে ভাসমান কুহুধ্বনি ধন্য, ফুল্ল কুসুমিত রঙিন প্রেমের ফাগুন মাস নয়, তা যে একই সঙ্গে বিপ্লবস্পন্দিত রক্তরাঙা কালবৈশাখীর দ্যোতক, তা আমরা অনুভব করি।

কিন্তু ‘মায়া রথে’ চেপে থাকলেও কানে ঠিকই এসে পৌঁছল ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ’। এই প্রতীকী নাম নিয়ে ১৯৬৭ সালে চারু মজুমদারের নেতৃত্বে দার্জিলিং তরাইয়ের নকশালবাড়িতে ছড়িয়ে পড়ল ঐতিহাসিক সশস্ত্র কৃষক বিদ্রোহ। শুধু বাংলায় নয়, এই ‘বজ্রনির্ঘোষ’ শোনা গেল ভারতের বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে। সাফল্যের মাপকাঠিতে না হলেও, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক প্রভাবে এই ‘বসন্তের বজ্রনির্ঘোষ’ চিরস্থায়ী ছাপ রেখে গেল ইতিহাসে। (Spring In Bengal)

‘আরব বসন্ত’ তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর এবং ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়। সিরিয়া এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশে তীব্র অস্থিরতা, রাজনৈতিক ডামাডোল এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

ছাপ যে রেখে গেছে তা প্রমাণ করতেই বোধহয় ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর তিউনিসিয়ার রাস্তায় এক বিক্রেতা মোহাম্মদ বোয়াজিজি পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করেন। ধিকিধিকি জ্বলতে থাকা তুষের আগুন ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। শুধু উত্তর আফ্রিকার এই দেশে নয়, তা ছড়িয়ে পড়ে মধ্য প্রাচ্যেও। ‘আরব বসন্ত’ তিউনিসিয়া, লিবিয়া, মিশর এবং ইয়েমেনে দীর্ঘমেয়াদী স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটায়। সিরিয়া এবং অন্যান্য কয়েকটি দেশে তীব্র অস্থিরতা, রাজনৈতিক ডামাডোল এবং সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।


আরও পড়ুুন: মংপুতে মৈত্রেয়ী দেবী


বসন্তের নামে এই যে আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টা, তা যেন ঋতুটিকে আমাদের সামনে অন্যভাবে প্রতিভাত করে। বসন্ত শুধু যে মলয় বাতাসে ভাসমান কুহুধ্বনি ধন্য, ফুল্ল কুসুমিত রঙিন প্রেমের ফাগুন মাস নয়, তা যে একই সঙ্গে বিপ্লবস্পন্দিত রক্তরাঙা কালবৈশাখীর দ্যোতক, তা আমরা অনুভব করি। কিন্তু অনুভব করলে কী হবে, তা বুঝি সবসময় আমাদের মন মানতে চায় না। আসলে এ বোধ করি সংস্কার, যা এত সহজে যাওয়ার নয়। তাই ফাল্গুন এলেই আজও প্রথমে মনে আসে- ‘বাতাসে বহিছে প্রেম/ নয়নে লাগিল নেশা/ কারা যে ডাকিল পিছে/ বসন্ত এসে গেছে। (Spring In Bengal)

বসন্তের নামে এই যে আমূল পরিবর্তনের প্রচেষ্টা, তা যেন ঋতুটিকে আমাদের সামনে অন্যভাবে প্রতিভাত করে। বসন্ত শুধু যে মলয় বাতাসে ভাসমান কুহুধ্বনি ধন্য, ফুল্ল কুসুমিত রঙিন প্রেমের ফাগুন মাস নয়, তা যে একই সঙ্গে বিপ্লবস্পন্দিত রক্তরাঙা কালবৈশাখীর দ্যোতক, তা আমরা অনুভব করি। কিন্তু অনুভব করলে কী হবে, তা বুঝি সবসময় আমাদের মন মানতে চায় না। আসলে এ বোধ করি সংস্কার, যা এত সহজে যাওয়ার নয়। তাই ফাল্গুন এলেই আজও প্রথমে মনে আসে- ‘বাতাসে বহিছে প্রেম/ নয়নে লাগিল নেশা/ কারা যে ডাকিল পিছে/ বসন্ত এসে গেছে। (Spring In Bengal)

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Author Dilip Kumar Ghosh

পেশায় শিক্ষক দিলীপকুমার ঘোষের জন্ম হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের দফরপুর গ্রামে। নরসিংহ দত্ত কলেজের স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। নেশা ক্রিকেট, সিনেমা, ক্যুইজ, রাজনীতি। নিমগ্ন পাঠক, সাহিত্যচর্চায় নিয়োজিত সৈনিক। কয়েকটি ছোটবড় পত্রিকা এবং ওয়েবজিনে অণুগল্প, ছোটগল্প এবং রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে 'সুখপাঠ' এবং 'উদ্ভাস' পত্রিকায় রম্যরচনা এবং দ্বিভাষীয় আন্তর্জালিক 'থার্ড লেন'-এ ছোটগল্প প্রকাশ পেয়েছে।

Picture of দিলীপ কুমার ঘোষ

দিলীপ কুমার ঘোষ

পেশায় শিক্ষক দিলীপকুমার ঘোষের জন্ম হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের দফরপুর গ্রামে। নরসিংহ দত্ত কলেজের স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। নেশা ক্রিকেট, সিনেমা, ক্যুইজ, রাজনীতি। নিমগ্ন পাঠক, সাহিত্যচর্চায় নিয়োজিত সৈনিক। কয়েকটি ছোটবড় পত্রিকা এবং ওয়েবজিনে অণুগল্প, ছোটগল্প এবং রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে 'সুখপাঠ' এবং 'উদ্ভাস' পত্রিকায় রম্যরচনা এবং দ্বিভাষীয় আন্তর্জালিক 'থার্ড লেন'-এ ছোটগল্প প্রকাশ পেয়েছে।
Picture of দিলীপ কুমার ঘোষ

দিলীপ কুমার ঘোষ

পেশায় শিক্ষক দিলীপকুমার ঘোষের জন্ম হাওড়ার ডোমজুড় ব্লকের দফরপুর গ্রামে। নরসিংহ দত্ত কলেজের স্নাতক, রবীন্দ্রভারতী থেকে বাংলা সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। নেশা ক্রিকেট, সিনেমা, ক্যুইজ, রাজনীতি। নিমগ্ন পাঠক, সাহিত্যচর্চায় নিয়োজিত সৈনিক। কয়েকটি ছোটবড় পত্রিকা এবং ওয়েবজিনে অণুগল্প, ছোটগল্প এবং রম্যরচনা প্রকাশিত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে 'সুখপাঠ' এবং 'উদ্ভাস' পত্রিকায় রম্যরচনা এবং দ্বিভাষীয় আন্তর্জালিক 'থার্ড লেন'-এ ছোটগল্প প্রকাশ পেয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

জীবনানন্দ দাশ

সংস্কৃতি

আহার

শ্রুতি গঙ্গোপাধ্যায়
অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বিহার

কাকলি মজুমদার
মধুছন্দা মিত্র ঘোষ
নির্মাল্য চ্যাটার্জি

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

নির্মাল্য চ্যাটার্জি
দেবার্চন চ্যাটার্জি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com