Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

জন অরণ্যে হারিয়ে যাওয়ার নয়

অমর মিত্র

ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬

Shankar Obituary
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Shankar Obituary)

‘চিৎপুর রোডের চলমান জনস্রোতের দিকে তাকিয়ে মায়ের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে সোমনাথের। মা বলতেন, জন্মদিনে ভালো হবার চেষ্টা করতে হয়। কাউকে হিংসে করতে নেই, কারুর ক্ষতি করতে নেই এবং মিথ্যে কথা বলা বারণ। ১লা আষাঢ়ের এই জটিল অপরাহ্নে রবীন্দ্র সরণিতে দাঁড়িয়ে সোমনাথ তাই মিথ্যে কথা বলতে পারবে না। কেউ প্রশ্ন করলে সোমনাথকে স্বীকার করতেই হবে, সে চলেছে মেয়েমানুষের সন্ধানে। চমকে উঠছেন? বিব্রত বোধ করছেন? ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না? ভাবছেন, শুনতে ভুল করলেন? না, ঠিক শুনেছেন? ভদ্র, সভ্য, সুশিক্ষিত তরুণ সোমনাথ ব্যানার্জি চলেছে মেয়েমানুষের সন্ধানে এই শহরে যাদের কেউ বলে বেশ্যা, কেউ-বা কলগার্ল।’

১৯৭৬ সাল। তখন এমারজেন্সি। নক্সাল আন্দোলনকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বহু যুবক জেলখানায়। নক্সাল আন্দোলন ছিল যুব বিদ্রোহ। ভারত সরকার প্রচার করছে দেশ ভাল আছে। সেই সময়ে শংকর বললেন, দেশ ভাল নেই। লিখলেন, ‘জন অরণ্য’। আর সেই উপন্যাসের শুরুতে আছে বেকার সোমনাথ চিৎপুর রোডে। ঠিক দুপুরবেলা। সেদিন আবার পয়লা আষাঢ়। সোমনাথের জন্মদিন। সে যাচ্ছে মেয়ে খুঁজতে। দরকার। ভেট দিতে হবে গোয়েঙ্কাকে। তাহলে অর্ডার পাবে। তার ব্যবসা দাঁড়াবে এই কাজটি সফল ভাবে সম্পন্ন করতে পারলে।


আরও পড়ুন: রায়বাবুর সই করা চেক কখনও ব্যাঙ্কে ফেলেননি শঙ্কর


স্বাধীনতার পঁচিশ বছর পার হয়ে গেছে। তখন জনজীবনের ধূমায়িত অসন্তোষ আছড়ে পড়ছে। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে। শ্রমিক বেকার হচ্ছে। লেখক কি সময়কে এড়িয়ে থাকবেন? সেই সময়ে মহাশ্বেতা দেবীর নতুন রূপে আবির্ভাব বলতে পারি। ‘হাজার চুরাশীর মা’ লেখা হল ১৯৭২-এ। বাংলা রঙ্গমঞ্চে তরুণ নট-নাটককাররা নিয়ে আসছেন ‘রাজরক্ত’, ‘চাকভাঙা মধু’, ‘জগন্নাথ’, ‘মারীচ সংবাদ’। লেখা হল ‘সীমাবদ্ধ’, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ (সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়)।

শংকরের ‘সীমাবদ্ধ’ উপন্যাসটি সময়কে ধারণ করেছিল আরেকভাবে। তিনি কর্পোরেট জগতকে চিনতেন। সেখানে যে হৃদয়হীন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় মুনাফার জন্য, তার কথা লেখা হল সমস্যার মূলে প্রবেশ করে। সীমাবদ্ধ ১৯৭১, জনঅরণ্য ১৯৭৬, সভ্যতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল।

Shankar Obituary
ভদ্র, সভ্য, সুশিক্ষিত তরুণ সোমনাথ ব্যানার্জি চলেছে মেয়েমানুষের সন্ধানে এই শহরে যাদের কেউ বলে বেশ্যা, কেউ-বা কলগার্ল।

সত্যজিৎ রায় তখন কলকাতা শহর নিয়ে যে তিনটি ছবি করে সময়ের হাত ধরলেন, তার দুটি হল শংকরের উপন্যাস। উপন্যাস দুটি এখনও যে আলোচিত, কারণ নিহিত বাস্তবতা। দেশ সেই সময় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি সত্য, শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা অপরিমেয়। শংকরের লেখার ভিতরে ছিল নানা কোণ থেকে জীবনকে দেখার প্রয়াস।

তাঁর প্রথম লেখা ‘কত অজানারে’। হাইকোর্ট যখন সমস্ত দিন বিশুষ্ক আইনের কচকচিতে ব্যস্ত থাকে, সেই জায়গা থেকে জীবন রস আহরণ করা সহজ কিছু নয়। ‘কত অজানারে’ যখন লেখেন, তখন তাঁর বয়স, বছর কুড়ি। শুনেছি তাঁর পাণ্ডুলিপি গৌরকিশোর ঘোষ নিয়ে যান সাগরময় ঘোষের নিকটে। সম্পাদক বুঝেছিলেন বাংলা সাহিত্যে নতুন এক প্রতিভার আবির্ভাব হয়েছে। ‘কত অজানারে’ ধারাবাহিক ছাপা হয় দেশ পত্রিকায়। সেই প্রথম শংকরকে চিনল বাঙালি পাঠক।

বাঙালির জীবন তখন বিধ্বস্ত। দেশভাগের দশ বছরও হয়নি। বাঙালি নতুন কিছু চাইছিল। ‘কত অজানারে’ সেই নতুনের প্রতিনিধি হয়ে এল।

১৯৫৫-র বৈশাখে সে লেখা গ্রন্থাকারে এল। বাঙালির জীবন তখন বিধ্বস্ত। দেশভাগের দশ বছরও হয়নি। বাঙালি নতুন কিছু চাইছিল। ‘কত অজানারে’ সেই নতুনের প্রতিনিধি হয়ে এল। এ নিয়ে ভিন্ন মত হতে পারে, কিন্তু উত্তাল ওই সময়ে জীবনের এই নতুন রূপ গৃহীত হতে সময় লাগেনি। আসলে আত্মস্মৃতিমূলক উপন্যাস বাঙালি জীবনের এক সংকটাকুল সময়ে হয়তো সংকটমুক্তির দিশা দেখিয়ে থাকতে পারে। এই উপন্যাসের কথক বা প্রোটাগনিস্ট জীবনকে যে প্রসন্ন দৃষ্টিতে দেখেছিলেন, সেই দৃষ্টিই ছিল আকর্ষণের মূল কারণ।

লেখক শুরু করছেন এই ভাবে—

“এর নাম হাইকোর্ট।

অবাক হয়ে হাইকোর্টের উঁচু চুড়োটার দিকে তাকিয়ে আমার মনে হলো, এর নাম হাইকোর্ট। বিভূতিদার মুখের দিকে তাকালাম। বিভূতিদার হাত ধরেই এখানে এসেছি। চাকরি হবে, যা-তা চাকরি নয়। সায়েব ব্যারিস্টার, তাঁর কাছে চাকরি।

Shankar Obituary
বিভূতিদার মুখের দিকে তাকালাম। বিভূতিদার হাত ধরেই এখানে এসেছি। চাকরি হবে, যা-তা চাকরি নয়।

এর আগে তো রাস্তায় ছোটখাটো জিনিস ফেরি করেছি। কিন্তু ‘বাণিজ্যে বসতে লক্ষ্মী’ মন্ত্র মনে-প্রাণে জপ করেও জীবনধারণ যখন প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল তখন বাণিজ্যদেবীর ভগিনী দেবী সরস্বতী অপ্রত্যাশিতভাবে কৃপাবৰ্ষণ করলেন। অবশ্য আমার পক্ষে খুরুট রোডের বিবেকানন্দ স্কুলে মাস্টারি লাভ কোনোদিনই সম্ভব হতো না, যদি না ওই স্কুলের শ্রদ্ধেয় প্রধানশিক্ষক আমার ‘বাজেট-সংকট’ সম্বন্ধে কিছুটা ওয়াকিবহাল হতেন। মাস্টার মানে অঙ্ক ইংরেজির নয়। মাস্টার সমাজে, অঙ্ক ও ইংরেজির মাস্টারমশায়রা কুলীন। বাকি সব ইতরে জনা সর্বশাস্ত্রবিদ। আমি শেষোক্ত দলে। সুতরাং ভূগোল, ইতিহাস, বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য, বাংলা, সংস্কৃত কোনোটা পড়াতে বাকি রাখিনি। সেখান থেকে সোজা চলে এসেছি রামকৃষ্ণপুর ঘাট এবং হোরমিলার কোম্পানীর ‘অম্বা’ স্টীমারে নদী পেরিয়ে হাইকোর্ট।”

‘জন অরণ্য’ উপন্যাসের সোমনাথকে কি ৫০ বছর পরের প্রজন্ম চিনতে পারে না? সে কি টের পায় না, সে নিজেই সোমনাথ?

জীবন হল অগাধ সমুদ্র। সেই সমুদ্রে দিশা খুঁজে চলে মানুষ। এই কথক সেই দিশাহীন জীবনের এক অভিযাত্রী। আরম্ভেই যে জীবনের কথা বলেছেন লেখক সেই জীবনের ভিতর সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষ নিজেকে শনাক্ত করতে পেরেছিল। (Shankar Obituary)

ব্যক্তি মানুষ যদি তার নিজের ছায়া দেখতে পায় লেখকের সৃষ্ট চরিত্রের ভিতর, তবে সে তাকে আজন্মের মতো গ্রহণ করে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই লেখা পড়ে। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশে এত বছরেও অভাব কষ্ট সবই রয়ে গেছে। বাহ্যিক পরিবর্তন তো মানুষের অন্তরকে বদলাতে পারে না। (Shankar Obituary)

Shankar Obituary
সময়ের পরিবর্তন হয়েছে বটে, উপন্যাসটি পড়তে গেলে টের পাওয়া যায় তখন এমন ছিল, আবার এও বুঝতে পারি থেমে যায়নি সেই সব কঠিন জীবনের খর রৌদ্রময় দিন।

‘জন অরণ্য’ উপন্যাসের সোমনাথকে কি ৫০ বছর পরের প্রজন্ম চিনতে পারে না? সে কি টের পায় না, সে নিজেই সোমনাথ? সে মনে মনে উচ্চারণ করে আমিই সে। নিষ্ঠুর সমাজ, নিষ্ঠুর পৃথিবী, মানুষের জন্য যেন এতটুকু করুণার আলোড়ন নেই। সবই নিঃশেষিত। সময়ের পরিবর্তন হয়েছে বটে, উপন্যাসটি পড়তে গেলে টের পাওয়া যায় তখন এমন ছিল, আবার এও বুঝতে পারি থেমে যায়নি সেই সব কঠিন জীবনের খর রৌদ্রময় দিন। পয়লা আষাঢ় গেল বৃষ্টিহীন তাপিত হয়ে। (Shankar Obituary)

সোমনাথের বন্ধু সুকুমারের কথা কি আমরা ভুলে গেছি? চাকরির জন্য জেনারেল নলেজ পড়ে পড়ে হদ্দ। চাকরি আর হয় না। একটা না একটা ভুল করে চাকরির সাক্ষাৎকারে। আমি আমার সেই সদ্য যৌবনকালের কথা মনে করছি, ‘হোয়াট ইজ জুলস ল? হু ইজ দ্য প্রেসিডেন্ট অফ ওমান? হু রোট ওয়ার্ড নাম্বার সিক্স?’ ইন্টারভিউ বোর্ডের তিন সুটেড বুটেড কর্তার কাছ থেকে গোলার মতো প্রশ্ন ছুটে আসছে। তাঁদের মুখে নেই কোনও নরম ভাব। কী রাগী আর কী কঠিন সেই নিয়োগ কর্তাদের মুখ! সোমনাথের বন্ধু সুকুমারেরও তেমন হয়েছিল কি? উদ্ধৃত করি— (Shankar Obituary)

সুকুমারের হাতে একখানা শতচ্ছিন্ন হিন্দুস্থান ইয়ারবুক, একখানা জেনারেল নলেজের বই, আর কমপিটিশন রিভিউ ম্যাগাজিনের পুরানো কয়েকটা সংখ্যা। একটা বড় পাথরের ওপরে বসে সুকুমার পাতা ওল্টাচ্ছিল। বিরক্ত হয়ে সোমনাথের দিকে তাকিয়ে সুকুমার বলল, ‘মন দিয়ে একটু পড়ছি, কেন ডিসটার্ব করলি?’

“মেজদা বললেন, ‘তোর বন্ধুর মুখে এক জঙ্গল দাড়ি গুজিয়েছে। চুলে তেল নেই। পোস্টাপিসের কাছে আমার অফিসের গাড়ি থামিয়ে বললো, একটা প্রশ্ন ছিল। আমি প্রথমে বুঝতে পারিনি। ও নিজেই পরিচয় দিলো, ‘আমি সোমনাথের বন্ধ, সুকুমার।’ আমি ভাবলাম সত্যিই কোনো প্রশ্ন আছে। ছোকরা বেমালুম জিজ্ঞেস করলো, “চাঁদের ওজন কত? আমি বললাম, জানি না ভাই। সুকুমার রেগে উঠলো। জানেন। বলবেন না তাই বলুন। আমি বললাম, বিশ্বাস করো, আমি সত্যিই চাঁদের ওজন জানি না। ছোকরা বললো, ‘এত বড় কোম্পানির অফিসার আপনি, চাঁদের ওজন জানেন না? হতে পারে? তারপর ছোকরা কী বিড়বিড় করতে লাগলো, পুরো দুটো নম্বর কাটা যাবে।’ (Shankar Obituary)

Shankar Obituary
কলকাতা শহরজুড়ে নারী কেনাবেচার যে বাজার দেখিয়েছিলেন, তা সেই ১৯৭৬ সালে, পূর্ণ জরুরি অবস্থার বিপক্ষে রাষ্টের বিপক্ষে তোলা স্বরই।

মেজদা বললেন, ‘এর পর আমি আর দাঁড়াইনি। অফিসের ড্রাইভারকে গাড়িতে স্টার্ট দিতে বললাম।’ একটু থেমে মেজদা বললেন, ‘এর আগে ছোকরা তো এমন ছিল না। বদসঙ্গে আজকাল কী গাঁজা খাচ্ছে নাকি?’ (Shankar Obituary)

সৎ কিংবা বদ কোনও সঙ্গীই নেই সুকুমারের। নিজের খেয়ালে সে ঘুরে বেড়ায়। গড়িয়াহাট ওভারব্রিজের তলায় সুকুমারকে দূর থেকে সোমনাথ একদিন দেখতে পেল। খুব কষ্ট হল সোমনাথের। কাছে গিয়ে ওর পিঠে হাত দিল, “সুকুমার না?” (Shankar Obituary)

সুকুমারের হাতে একখানা শতচ্ছিন্ন হিন্দুস্থান ইয়ারবুক, একখানা জেনারেল নলেজের বই, আর কমপিটিশন রিভিউ ম্যাগাজিনের পুরানো কয়েকটা সংখ্যা। একটা বড় পাথরের ওপরে বসে সুকুমার পাতা ওল্টাচ্ছিল। বিরক্ত হয়ে সোমনাথের দিকে তাকিয়ে সুকুমার বলল, ‘মন দিয়ে একটু পড়ছি, কেন ডিসটার্ব করলি?’ (Shankar Obituary)

‘আঃ! সুকুমার’ বকুনি লাগাল সোমনাথ।

কলকাতা শহরজুড়ে নারী কেনাবেচার যে বাজার দেখিয়েছিলেন, তা সেই ১৯৭৬ সালে, পূর্ণ জরুরি অবস্থার বিপক্ষে রাষ্টের বিপক্ষে তোলা স্বরই। সুকুমার জেনারেল নলেজ পড়তে পড়তে পাগল হয়ে গেল, তার বোন পথে নামল।

সুকুমার বলল, ‘তোকে একটা কোশ্চেন করি। বল দিকিনি বেকার ক’রকমের?’’

(জন অরণ্য)

এই যে জীবনচিত্র, যৌবনের চিত্র, এ তো ফুরোয়নি। এমন বিমর্ষ যৌবরাজ্য নিয়ে কে লিখেছেন? সাহিত্য তো ফুর্তিফার্তার অযথা উল্লাস নৃত্যের জায়গা নয়। তা যদি হত, ‘জন অরণ্য’ উপন্যাসের ভিতর এই সময়ের ক্রোধ, বেদনা খুঁজে পেতাম না। ঠিক পঞ্চাশ বছর হল সেই উপন্যাসের। মনে হয় না কি, এ যেন এই সময়ের লেখা? (Shankar Obituary)

কলকাতা শহরজুড়ে নারী কেনাবেচার যে বাজার দেখিয়েছিলেন, তা সেই ১৯৭৬ সালে, পূর্ণ জরুরি অবস্থার বিপক্ষে রাষ্টের বিপক্ষে তোলা স্বরই। সুকুমার জেনারেল নলেজ পড়তে পড়তে পাগল হয়ে গেল, তার বোন পথে নামল। নিজের অজান্তে তাকে ব্যবহার করে সোমনাথ তার ব্যবসা দাঁড় করিয়ে নিল। এই পথে নীতি নৈতিকতার কোনও জায়গা নেই। দিনটি ছিল আষাঢ়স্য প্রথম দিবস। সোমনাথের জন্মদিন। এখন পড়তে পড়তে দম বন্ধ হয়ে আসে। (Shankar Obituary)

Shankar Obituary
তিনি সামাজিক ব্যাধির কথা লিখেও জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তা এমন ছিল যে, এক নব দম্পতি শঙ্করের বই আট-দশখানা উপহার পেতেন।

লেখকের জন্ম হয়, মৃত্যু হয়। যদি তেমন লিখতে পারেন, সেই বই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখে। ‘চৌরঙ্গী’, ‘নিবেদিতা রিসার্চ ল্যাবরেটরি’, ‘জন অরণ্য’, ‘কত অজানারে’, ‘সীমাবদ্ধ’ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে কি না, সময় জানাবে। আমি এখনও পড়ে বিচলিত হই। (Shankar Obituary)

তিনি সামাজিক ব্যাধির কথা লিখেও জনপ্রিয়। সেই জনপ্রিয়তা এমন ছিল যে, এক নব দম্পতি শঙ্করের বই আট-দশখানা উপহার পেতেন। আমরা ‘স্বর্গ মর্ত্য পাতাল’ তিনটি উপন্যাস একত্রে (‘জন অরণ্য’, ‘আশা আকাঙ্খা’, ‘সীমাবদ্ধ’) পেয়েছিলাম আট কপি। (Shankar Obituary)

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে এক বাংলাদেশি ভদ্রলোক হারুন রসিদ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে অনুরোধ করলেন, একবার শংকরের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি শংকরের গুণমুগ্ধ পাঠক।

সম্পর্ক ছিল অগ্রজ অনুজের মতো। মনে পড়ছে ২০২১ সালে পেলেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা থেকে এক বাংলাদেশি ভদ্রলোক হারুন রসিদ আমাকে হোয়াটসঅ্যাপ কল করে অনুরোধ করলেন, একবার শংকরের সঙ্গে কথা বলবেন। তিনি শংকরের গুণমুগ্ধ পাঠক। আমি ওঁকে ফোন করলাম। বললাম সব। উনি রাজি হলেন। বললেন, ফোন তো রাখতে পারছেন না, তবু কথা বলবেন। ওঁর হাত থেকে আমি একটি পুরস্কার পেয়েছিলাম। সেই সভা ওঁর সভা হয়ে গিয়েছিল। এক ঘণ্টা কি দেড় ঘণ্টা মজলিশি সেই বক্তৃতা আমি ভুলব না। শ্রোতারা ওঁকে থামতে দিচ্ছিল না। বিচিত্র জীবনের অনেক কথা সেদিন শুনেছিলাম। এ প্রয়াণ নয়, মহাপ্রয়াণ। আমার প্রণাম নিবেদন করি তাঁর চরণে। (Shankar Obituary)

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Author Amar Mitra

অমর মিত্রের জন্ম ১৯৫১ সালে বসিরহাটে। তবে বহুদিন কলকাতাবাসী। ১৯৭৪ সালে 'মেলার দিকে ঘর' গল্প লিখে সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। প্রথম উপন্যাস 'নদীর মানুষ' ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় অমৃত পত্রিকায়। প্রথম গল্পের বই 'মাঠ ভাঙে কালপুরুষ'-ও ওই সালেই। রাজ্য সরকারি চাকরি করেও আজীবন সাহিত্যসাধনায় ব্রতী। ২০০৬ সালে 'ধ্রুবপুত্র' উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০১ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান 'অশ্বচরিত' উপন্যাসের জন্য। ২০২২ সালে গাঁওবুড়ো গল্পের ইংরেজি অনুবাদ প্রথম এশিয়ান লেখক হিসেবে ও হেনরি পুরস্কার। ২০০৪ সালে সম্মানিত হন শরৎ পুরস্কারে।

Picture of অমর মিত্র

অমর মিত্র

অমর মিত্রের জন্ম ১৯৫১ সালে বসিরহাটে। তবে বহুদিন কলকাতাবাসী। ১৯৭৪ সালে 'মেলার দিকে ঘর' গল্প লিখে সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। প্রথম উপন্যাস 'নদীর মানুষ' ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় অমৃত পত্রিকায়। প্রথম গল্পের বই 'মাঠ ভাঙে কালপুরুষ'-ও ওই সালেই। রাজ্য সরকারি চাকরি করেও আজীবন সাহিত্যসাধনায় ব্রতী। ২০০৬ সালে 'ধ্রুবপুত্র' উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০১ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান 'অশ্বচরিত' উপন্যাসের জন্য। ২০২২ সালে গাঁওবুড়ো গল্পের ইংরেজি অনুবাদ প্রথম এশিয়ান লেখক হিসেবে ও হেনরি পুরস্কার। ২০০৪ সালে সম্মানিত হন শরৎ পুরস্কারে।
Picture of অমর মিত্র

অমর মিত্র

অমর মিত্রের জন্ম ১৯৫১ সালে বসিরহাটে। তবে বহুদিন কলকাতাবাসী। ১৯৭৪ সালে 'মেলার দিকে ঘর' গল্প লিখে সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। প্রথম উপন্যাস 'নদীর মানুষ' ১৯৭৮ সালে প্রকাশিত হয় অমৃত পত্রিকায়। প্রথম গল্পের বই 'মাঠ ভাঙে কালপুরুষ'-ও ওই সালেই। রাজ্য সরকারি চাকরি করেও আজীবন সাহিত্যসাধনায় ব্রতী। ২০০৬ সালে 'ধ্রুবপুত্র' উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার। ২০০১ সালে বঙ্কিম পুরস্কার পান 'অশ্বচরিত' উপন্যাসের জন্য। ২০২২ সালে গাঁওবুড়ো গল্পের ইংরেজি অনুবাদ প্রথম এশিয়ান লেখক হিসেবে ও হেনরি পুরস্কার। ২০০৪ সালে সম্মানিত হন শরৎ পুরস্কারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

জীবনানন্দ দাশ

সংস্কৃতি

আহার

শ্রুতি গঙ্গোপাধ্যায়
অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

বিহার

কাকলি মজুমদার
মধুছন্দা মিত্র ঘোষ
নির্মাল্য চ্যাটার্জি

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

নির্মাল্য চ্যাটার্জি
দেবার্চন চ্যাটার্জি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com