(Women Detective)
বাংলা ভাষায় গোয়েন্দা সাহিত্যের ধারাটি অনন্য এবং সাহিত্যের নানা ক্ষেত্রের বৈচিত্র্যগুণে পুষ্ট, এ নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তা নির্দিষ্ট ছকে বাঁধা। আর এই ছকের ভিতর যাঁরা সবচেয়ে ফিট করে যায়, তাঁরা বেশিভাগই পুরুষ। গোয়েন্দা বলতে যে ছবিটি পাঠক, দর্শক বা শ্রোতার মানসপটে ভেসে ওঠে, তা একেবারে পুরুষালি ছাঁচে ঢালা। শারীরিক গড়ন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি, পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা, সবকিছুতেই ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হন গোয়েন্দারা। সেই অধিকার একসময় পর্যন্ত একচেটিয়া ছিল শুধুমাত্র পুরুষের।
বহু শতক ধরে বুদ্ধিমত্তা, পর্যবেক্ষণের এই পরিসরে ঠাঁই মেলেনি নারীর। তারপর কিছু সাহিত্যিকের কলমে বুদ্ধিমত্তার অধিকারিণীদের খোঁজ পাওয়া গেলেও তাঁদের জায়গা হয়নি সাহিত্যের পাতায়। অথচ শুরু থেকেই বাংলা সাহিত্যে গোয়েন্দা কাহিনি জনপ্রিয়। শক্ত, সামর্থ্য পুরুষের কাঁধে ভর দিয়েই সাহিত্যের এই ক্ষেত্রটি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে দীর্ঘদিন।
আরও পড়ুুন: শ্রোতার জাদু-সঙ্গী বেতারের কথা
উনিশ শতকের সময়কালে অবশেষে এই ক্ষেত্রটিতেও পরিবর্তন আসে। তবে সেও নেহাত ক্ষুদ্র পরিসরে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিতে মেয়ে গোয়েন্দার আবির্ভাব এবং বিবর্তন খানিকটা সোনার পাথরবাটির মতো। বরং, পুরুষ গোয়েন্দাদের পাশাপাশি সাহিত্য জগতে অস্তিত্বের অধিকার অর্জন করতে মেয়ে গোয়েন্দাদেরও লড়তে হয়েছে। তবে আনন্দের কথা এই যে, এই লড়াইয়ে কখনও কখনও সামিল হয়েছেন খোদ পুরুষ লেখকরাও।
উনিশ শতকের শেষ প্রান্তে বাংলা সাহিত্যের পাতায় প্রথমবার মেয়ে গোয়েন্দাদের কথা আলোচিত হতে শুরু করে। তবে প্রথমবার আলোচিত নারী গোয়েন্দা আর একুশ শতকের মহিলা গোয়েন্দাদের রূপ অনেকখানি আলাদা। এক্ষেত্রে উল্লেখ্য, ১৩০৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৯০০ সালে কুন্তলীন পুরস্কার-বিজয়ীদের তালিকায় সরলাবালা সরকারের নাম পাওয়া যায়। তিনিই প্রথম গোয়েন্দা কাহিনির স্রষ্টা। এরপর সুষমা সেন, শৈলবালা ঘোষ জায়া প্রমুখ লেখিকারাও গোয়েন্দা গল্প লিখেছেন। তবে এঁদের রচিত গোয়েন্দা চরিত্ররা পুরুষ। মোটামুটি বিংশ শতকের দ্বিতীয় ভাগ থেকে বাংলা সাহিত্যে মেয়ে-গোয়েন্দা সিরিজ রচিত হতে থাকে। এক চমৎকার বিষয় এ ক্ষেত্রে লক্ষ্য করা যায় যে, প্রতিটি মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র একে অপরের থেকে একেবারে আলাদা।

বিশ্লেষণাত্মক ভাবনাকে মাথায় রেখে আলোচনা শুরু করা যেতে পারে যাঁর কাহিনি দিয়ে, তিনি প্রভাবতী দেবী। প্রভাবতী দেবীর রচিত গোয়েন্দা কাহিনি কৃষ্ণা সিরিজ ও কুমারিকা সিরিজ সে সময় যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। ছাত্রীদের আত্মরক্ষার কৌশল সম্বন্ধে অবহিত করার জন্যই কৃষ্ণা সিরিজ লেখা শুরু করেছিলেন প্রভাবতী দেবী। কাহিনিগুলি অন্যান্য গোয়েন্দা কাহিনির থেকে অনেকটাই আলাদা। বাবা-মায়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে গিয়ে কিশোরী কৃষ্ণা কীভাবে গোয়েন্দা হয়ে ওঠে, তা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন লেখিকা। (Women Detective)
তবে এই কাহিনিতে দু’জন গুরুত্বপূর্ণ পুরুষ চরিত্রও রয়েছে। কৃষ্ণার মামা প্রণবেশ এবং এক পুলিশ ইন্সপেক্টর। এঁরা সর্বদা কৃষ্ণার পাশে থেকেছেন। প্রভাবতী দেবী সরস্বতীর কুমারিকা সিরিজটিও খানিকটা এই ধারাতেই রচিত। এখানে গোয়েন্দা অগ্নিশিখা রায়। তিনি সাহসিনী এবং বুদ্ধিমতী। এই মহিলা গোয়েন্দার কাহিনিতেও তাঁর কাকা মেজর অতুল, কুমারিকাকে সাহায্য করেছেন। প্রভাবতী দেবীর গোয়েন্দা কাহিনি শুধু অপরাধকে কেন্দ্র করেই রচিত নয়। বরং দুই নারী গোয়েন্দা কৃষ্ণা ও কুমারিকা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কীভাবে রহস্যের সমাধান করছেন, তা বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন প্রভাবতী দেবী। সময়কালের বিচারে এই কাহিনিগুলি সময়ের থেকে অনেকটা এগিয়ে। (Women Detective)
সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হত গোয়েন্দা গন্ডালুর গল্প। কাহিনিগুলিতে অপরাধীদের ধরে এই চারজন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দিত। এই কাহিনিগুলিতে অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। কোডিং-ডিকোডিং-এর মতো বিষয়ের ব্যবহার হয়েছে রহস্যের উন্মোচনে।
কৌতূহল, গোয়েন্দাদের অন্যতম গুণ। সাহিত্যিক নলিনী দাশ মূলত এই মানবগুণটির উপর ভিত্তি করেই রচনা করেছেন তাঁর গন্ডালু সিরিজ। স্কুল পড়ুয়া চারজন ছেলে-মেয়ে কালু, মালু, বুলু, টুলুর একটি দল অ্যাডভেঞ্চারে বেরিয়ে যে ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তাকে কেন্দ্র করেই রচিত এই সিরিজের কাহিনিগুলি। প্রভাবতী দেবীর কৃষ্ণা ও কুমারিকা নারী গোয়েন্দা ছিলেন। তাঁরা অপরাধীদের ধরতেন এবং উন্মোচিত হত রহস্য। কিন্তু গোয়েন্দা গন্ডালু দলের কাহিনিগুলি অ্যাডভেঞ্চারমূলক। সেদিক থেকে নলিনী দাশের এই সিরিজ নারী গোয়েন্দাদের উত্তরণের পথ নির্দেশ করে। (Women Detective)
এই সিরিজটির রচনাকাল ১৯৬০ সাল থেকে ১৯৮০-র দশক। সন্দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হত গোয়েন্দা গন্ডালুর গল্প। কাহিনিগুলিতে অপরাধীদের ধরে এই চারজন গোয়েন্দা পুলিশের হাতে তুলে দিত। এই কাহিনিগুলিতে অনেক প্রযুক্তি ব্যবহার হয়েছে। কোডিং-ডিকোডিং-এর মতো বিষয়ের ব্যবহার হয়েছে রহস্যের উন্মোচনে। এনিড ব্লাইটনের ‘ফেমাস ফাইভ’-এর প্রভাবও দেখা গেছে গোয়েন্দা গন্ডালুর গল্পগুলিতে। (Women Detective)

এরপর নারী গোয়েন্দা সিরিজ খানিকটা সাবালক হয়। আবির্ভাব হয় দময়ন্তীর। লেখক মনোজ সেন। এক্ষেত্রে নারী জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের খোঁজ পাওয়া যায়। যে সময় এই গোয়েন্দা কাহিনি রচনা শুরু হয়েছিল, সেই সময় নারী স্বাধীনতার ভাষা ছিল ভিন্ন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যা পরিবর্তিত হয়েছে। মনোজ সেনের গোয়েন্দা দময়ন্তী নারী ক্ষমতায়ন এবং নারীবাদের গুরুত্বপূর্ণ ভাবনার বার্তা বহন করেছে। দময়ন্তী বিবাহিতা। সে ইতিহাসের অধ্যাপিকা। আবার শখের গোয়েন্দা। রহস্য-সন্ধানী দময়ন্তীকে এভাবেই নির্মাণ করেছেন লেখক মনোজ সেন। (Women Detective)
বিয়ে নামের প্রতিষ্ঠানটি নারী জাগরণের ক্ষেত্রে যে বাধা নয়, দময়ন্তীর গল্প এইদিকেই বার্তা দেয়। লেখক মনোজ সেন এই গোয়েন্দা কাহিনিগুলির মাধ্যমে প্রশ্ন করেছেন পুরুষতান্ত্রিকতাকে। সমালোচনা করেছেন সমাজের কুসংস্কার এবং নিয়মের বেড়াজালের। এইসব গল্পে দময়ন্তীকে অপরাধী থেকে তদন্তের ভারপ্রাপ্ত অফিসার সকলেই কখনও না কখনও বিদ্রুপ করেছেন। গোয়েন্দা দময়ন্তী সেন উত্তর দেননি। কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন। কলকাতা ও নগরকেন্দ্রিক জটিলতাকে ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে কাহিনিগুলি। সব মিলিয়ে মহিলা গোয়েন্দা সাহিত্যের এক উত্তরণ। (Women Detective)
সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন মাসি চরিত্রটি এক্ষেত্রে বাজিমাত করেছে বলা যেতে পারে। পাঠক মহলে জনপ্রিয় মিতিন মাসি কিন্তু পেশাদার গোয়েন্দা। তাঁর নাম প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায়। তিনি বিবাহিতা। পেশাদার গোয়েন্দা। পেশাদার, বিবাহিত নারীগোয়েন্দার আবির্ভাব গোয়েন্দা সাহিত্যকে আরেকটু পরিণত করেছে বলা যেতে পারে।
তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা গার্গী নারী গোয়েন্দাদের ইতিহাসে এক উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। আরও খানিকটা পরিণত। গোয়েন্দা গার্গীর হাত ধরে যেন আরও সাবালক হয় মেয়ে গোয়েন্দাদের গল্প। এই কাহিনিগুলিও বেশ জটিল। ‘কে খুন করল’ মূলত এই তথ্যের উপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হয়েছে গল্পগুলি। গোয়েন্দা গার্গীকে নিয়ে উপন্যাসগুলি যথেষ্ট গবেষণালব্ধ ও তথ্যভিত্তিক। তবে গোয়েন্দা গার্গীর জীবন নিয়েও আলোচনা করেছেন সাহিত্যিক। তাঁর ছাত্র-জীবন পেশাগত ও বৈবাহিক জীবনে প্রবেশের পরের সময়কাল স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। এমনকী গোয়েন্দা গার্গীর মাতৃত্ব-পরবর্তী জীবনের প্রত্যেকটি পর্যায়কে যথেষ্ট সংবেদনশীলতার সঙ্গে আলোচনা করেছেন লেখক তপন বন্দ্যোপাধ্যায়। গার্গীর ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে তাঁর তদন্তের ধরন। নারীবাদের আঙ্গিকে ভাবলে এও এক সাবালকত্ব। যে সাবালকত্ব দময়ন্তী সেনের হাত ধরে শুরু হয়েছিল, তার আরও খানিকটা উত্তরণ ঘটে গোয়েন্দা গার্গীর মাধ্যমে। (Women Detective)
বাংলা সাহিত্যে যখন মেয়ে-গোয়েন্দাদের আবির্ভাব ঘটে, পাঠকমহল তখন মশগুল পুরুষ গোয়েন্দাদের নিয়ে। সাহিত্যের পাতায় নিজেদের ঠাঁই করে নিতে পারলেও জনপ্রিয়তা অধরাই থেকেছে মেয়ে গোয়েন্দাদের জন্য। আবার সাহিত্যের ইতিহাসে নারী গোয়েন্দাদের জায়গা হলেও গোয়েন্দা হিসেবে নারীকে দর্শক কিন্তু গ্রহণ করেছে অনেক পরে। (Women Detective)

সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন মাসি চরিত্রটি এক্ষেত্রে বাজিমাত করেছে বলা যেতে পারে। পাঠক মহলে জনপ্রিয় মিতিন মাসি কিন্তু পেশাদার গোয়েন্দা। তাঁর নাম প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায়। তিনি বিবাহিতা। পেশাদার গোয়েন্দা। পেশাদার, বিবাহিত নারীগোয়েন্দার আবির্ভাব গোয়েন্দা সাহিত্যকে আরেকটু পরিণত করেছে বলা যেতে পারে। প্রজ্ঞাপারমিতার বোনঝি টুপুর এই গল্পগুলির কথক। (Women Detective)
অন্যান্য গোয়েন্দাদের থেকে পরিচয়গত কারণে মিতিন অর্থাৎ প্রজ্ঞাপারমিতা কিন্তু আলাদা। কারণ সে পেশাদার। এখানেই আবার পুরুষতান্ত্রিকতাকে প্রশ্ন করেছেন লেখিকা সুচিত্রা ভট্টাচার্য। মেয়েরাও যে পুরুষের মতো যেকোনও পেশা স্বচ্ছন্দে গ্রহণ করতে পারে, সুচিত্রা ভট্টাচার্যের কাহিনিগুলিতে সেই বার্তা স্পষ্ট। (Women Detective)
আশাব্যঞ্জক কথা এই যে, বহু পুরুষ কলমও কিন্তু নারী গোয়েন্দা সৃষ্টি করেছেন। যেমন হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্রের নাম হৈমন্তী ঘোষাল ও বৈশালী ব্যানার্জী। এতে সহকারীরা কিন্তু পুরুষ। নিরুপম ও সুজিত।
গোয়েন্দা মানে বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন সুপুরুষ, এই কনসেপ্টকেও চ্যালেঞ্জ করেছেন সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মিতিন। তাঁর নিজস্ব একটি সংস্থা রয়েছে ‘থার্ড আই’। মিতিনের গোয়েন্দাগিরির বেশিরভাগ কাহিনিই কিশোরপাঠ্য। পরিণত পাঠকের জন্য লেখা কাহিনিগুলি আলাদা এবং পরিণতমনস্ক। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে, মিতিন তাঁর এজেন্সি ছাড়াও রহস্যের সমাধান করছেন। স্বেচ্ছায়। সেই কাহিনিগুলির ধরন আলাদা। সিনেমার পর্দাতেও দর্শকরা গ্রহণ করেছে এই নারী গোয়েন্দাকে। সেদিক থেকে ভাবলে প্রজ্ঞাপারমিতা মুখার্জী নারী গোয়েন্দাদের উত্তরণের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত। (Women Detective)

তবে নারী গোয়েন্দাদের সাহিত্যের পাতায় আসা যেমন সহজ ছিল না, তেমনই স্থায়ী জায়গা পেতেও যথেষ্ট লড়তে হয়েছে তাঁদের। এক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক কথা এই যে, বহু পুরুষ কলমও কিন্তু নারী গোয়েন্দা সৃষ্টি করেছেন। যেমন হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সৃষ্ট গোয়েন্দা চরিত্রের নাম হৈমন্তী ঘোষাল ও বৈশালী ব্যানার্জী। এতে সহকারীরা কিন্তু পুরুষ। নিরুপম ও সুজিত। এখানেও হৈমন্তী শখের গোয়েন্দা। কিন্তু বৈশালী পেশাদার। (Women Detective)
গোয়েন্দা সাহিত্যের যে নির্দিষ্ট ছক, সেখানে নারী গোয়েন্দাদের প্রবেশাধিকার নিঃসন্দেহে নারী জাগরণের অংশ। তবে বর্তমান সময়ে এই ছবিটা অনেকখানি বদলেছে। এখনকার জনপ্রিয় লেখকরা নানা পরিসরে নারী গোয়েন্দা সৃষ্টি করছেন। যেমন ইন্দ্রনীল সান্যালের মেডিকেল থ্রিলারের কেন্দ্রীয় চরিত্ররা পেশাগতভাবে ডাক্তার হলেও পরিস্থিতির কারণে গোয়েন্দাগিরি করেছেন। যেমন ‘স্নেহজাল’ উপন্যাসের মোহর, ‘পণ্যভূমি’র বীথি চ্যাটার্জী। এঁরা কেউই গোয়েন্দা হতে চাননি। নিজেদের পেশা নিয়েই খুশি এবং ব্যস্ত থেকেছেন। কিন্তু জীবন, পরিস্থিতি এঁদের গোয়েন্দা হিসেবে গড়ে তুলেছে। (Women Detective)
বরাবর লিঙ্গের ভিত্তিতে এই পেশা বিভাজিত হয়েছে। গোয়েন্দার বুদ্ধিমত্তা, কৌতূহল, পৌরুষ পিতৃতন্ত্রের ইঙ্গিতবাহী ছিল একসময় পর্যন্ত। সেই ছক আজ অনেকখানি ভেঙেছে। কিন্তু এখনও পথ চলা বাকি।
লেখিকা নন্দিনী নাগের গোয়েন্দা ‘তিস্তা দত্ত’ চরিত্রটিও যথেষ্ট জনপ্রিয়। এছাড়াও অনেক পুরুষ কলম সৃষ্টি করেছেন সাহসী, দৃঢ়চেতা নারী গোয়েন্দাদের, যেমন সৌরেন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায়, সুকুমার সেন, গজেন্দ্র মিত্র, অজিত কৃষ্ণ বসু এবং হীরেন চট্টোপাধ্যায়। (Women Detective)
গোয়েন্দাগিরি শব্দটাও বিবর্তিত হয়েছে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে। শখ থেকে তা পরিবর্তিত হয়েছে পেশায়। কিন্তু বরাবর লিঙ্গের ভিত্তিতে এই পেশা বিভাজিত হয়েছে। গোয়েন্দার বুদ্ধিমত্তা, কৌতূহল, পৌরুষ পিতৃতন্ত্রের ইঙ্গিতবাহী ছিল একসময় পর্যন্ত। সেই ছক আজ অনেকখানি ভেঙেছে। কিন্তু এখনও পথ চলা বাকি। (Women Detective)
গোয়েন্দাদের কথা অবচেতনে মনে এলে পাঠকের কাছে আজও পুরুষ গোয়েন্দারা প্রথম শ্রেণির নাগরিক। গোয়েন্দা সাম্রাজ্যে মেয়েদের অবস্থান এখনও দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবেই। কিন্তু গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে একথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। অন্য দিক থেকে ভাবলে এ কথা বলা যেতে পারে, সাহিত্যে মেয়ে গোয়েন্দাদের অবস্থান, বিবর্তন, উত্তরণ মেয়েদের লিঙ্গগত অবস্থানকেও মজবুত করেছে। সাহিত্যের পাতায় আলো হয়ে থাকা এইসব চরিত্ররা দীপ্তিময় হয়ে ধরা দিয়েছে পাঠকের কাছে। পাঠক এবং দর্শকের সাহায্যে মেয়ে গোয়েন্দারাও লিঙ্গসাম্যের পথে হাতে হাত রেখে এগিয়ে চলেছে। (Women Detective)
তথ্যসূত্র: প্রভাবতী দেবী সরস্বতী: গোয়েন্দা কৃষ্ণা – সম্পাদনা রণিতা চট্টোপাধ্যায়, গোয়েন্দা গার্গী: তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, মিতিন মাসি সমগ্র: সুচিত্রা ভট্টাচার্য, রহস্য সন্ধানী দময়ন্তী সমগ্র: মনোজ সেন
চিত্রঋণ: ফেসবুক, উইকিমিডিয়া কমনস
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
আকাশবাণী কলকাতার ট্রান্সমিশন এক্সিকিউটিভ। পেশাগত সূত্রে দীর্ঘদিন লেখালেখির সঙ্গে জড়িত। পরিবার আর কাজের বাইরে অক্ষর আর প্রকৃতি অবসরের সঙ্গী।
