(Anouska Shankar)
দীর্ঘ বেশ কিছু বছর পর কিংবদন্তী সেতার-শিল্পী অনুষ্কাশঙ্কর কলকাতার মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করলেন। অনুষ্ঠানটি হয় ৮ই ফেব্রুয়ারি, এবং ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার বিভিন্ন অংশ। একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান, এবং এটির নানা দিক একটি দাবি রাখে বিশেষ আলোচনার।
অনুষ্ঠান ঘোষণা হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রবেশপত্র নিঃশেষিত, এবং অনুষ্ঠানের দিন প্রেক্ষাগৃহে মানুষের উপচে পড়া ভিড়– কলকাতা শহরে এমন ঘটনা হয়তো প্রায়ই ঘটে, কিন্তু এক্ষেত্রে যা এই অনুষ্ঠানটিকে অন্যান্য সঙ্গীতানুষ্ঠানের থেকে পৃথক করে রাখে, তা এর ইতিহাস। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের অনুষঙ্গে বলা যায়, এক পারম্পরিক ইতিহাস।
২০০৯ সালে অনুষ্কা যখন প্রথম কলকাতায় সেতার বাজান, তাঁর সঙ্গে সেদিন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তাঁর পিতা, প্রবাদপ্রতিম শিল্পী ও বিশ্বসঙ্গীতের এক যুগপুরুষ, পণ্ডিত রবিশঙ্কর। সেই অনুষ্ঠানটি হয় নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে। অনুষ্কা শহরে তাঁর সাম্প্রতিকতম অনুষ্ঠানটির জন্যও বেছে নেন ওই একই মঞ্চ। শুধু নিজেই নন, অনুষ্কা তাঁর শ্রোতাদেরও জড়িয়ে নেন তাঁর সেই পরম্পরায়।
কিন্তু, সেই পরম্পরার কথা আমাদের জানা। যা জানা নয়, তার খোঁজে যেতে গেলে আমাদের ফিরে তাকানো প্রয়োজন, অনুষ্ঠানটির কিছু তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্তের দিকে। অনুষ্ঠানটির একটি অন্যতম উপস্থাপনা হিসেবে আমরা পাই অনুষ্কাশঙ্কর, অরিজিৎ সিং এবং পণ্ডিত বিক্রম ঘোষের ত্রিত্ব। অনুষ্কা মঞ্চে ডেকে নেন অরিজিৎকে। অরিজিৎ মঞ্চে এসে অগ্রজ বিক্রম ঘোষকে প্রণাম জানিয়ে শোনান বেশ কিছু গান। সেগুলির মধ্যেই যা রাতারাতি সমগ্র অনুষ্ঠানটিকে সমাজমাধ্যমের দ্বারা সারা বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে দেয়, তা হল মাজ-খাম্বাজ রাগের ‘মায়া ভরা রাতি’ গানটি। অরিজিৎ গেয়ে চলেন গিটার হাতে। অনুষ্কা সেতারে তোলেন মৃদু, সুললিত ঝঙ্কার। বিক্রম ঘোষের ঠেকা সুনির্মিত ছন্দে বাঁধে গোটা গানটিকে।
রবীন্দ্রনাথ যখন এই রাগে তাঁর দুটি গান– ‘বাল্মীকিপ্রতিভা’র ‘ব্যাকুল হয়ে বনে বনে’ (১৮৮১) এবং পূজা পর্যায়ের ‘আজি যত তারা তব আকাশে’ (১৯০৪) রচনা করেন, তখনও আলাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা হতে অনেক বছর বাকি।
স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই গানটি নিয়ে এত চর্চা কেন? শুধু অরিজিৎ গেয়েছেন বলেই কি? কেনই বা এই গানটিকেই বাছলেন অনুষ্কা-অরিজিৎ-বিক্রম? এর উত্তরই আমাদের নিয়ে যাবে সেই অজানার সন্ধানে, যা আজ প্রায় এক শতাব্দীর অন্তরালে।
‘মায়া ভরা রাতি’ গানটি রাগ মাজ-খাম্বাজে। সঙ্গীতের সঙ্গে যাঁরা সরাসরি সম্পর্কিত, তাঁরা সকলেই জানেন, এই রাগের আবিষ্কারক বাবা আলাউদ্দিন খাঁ, রবিশঙ্করের গুরু। ‘রাগ-অনুরাগ’ গ্রন্থে রবিশঙ্কর জানান, আলাউদ্দিন এই রাগ শিখেছিলেন রামপুরে, যখন তিনি খলিফা ওয়াজির খাঁর কাছে তালিম নিতে যান। মতান্তরে এই রাগ আলাউদ্দিনেরই সৃষ্টি। যন্ত্রসঙ্গীতের পরিসরে এই রাগ সামাজিক মান্যতা পায় রবিশঙ্কর এবং আলাউদ্দিনের পুত্র ও শিষ্য, ওস্তাদ আলি আকবর খাঁর হাত ধরে।

সারা উত্তর ভারতে মাজ-খাম্বাজে প্রায় শতাধিক ঠুমরি ও দাদরা শুনে বিস্মিত হতে হয়। বিস্ময় জাগে এই ভেবেও, যে বিগত একশো বছরে এই রাগ বাংলার সঙ্গীতেও সমান স্থান করে নিয়েছে। ‘মায়া ভরা রাতি’ তারই উৎকৃষ্টতম উদাহরণগুলির একটি। রেকর্ডে গানটি গেয়েছিলেন লক্ষ্মীশঙ্কর।
বাংলার সঙ্গীতের সঙ্গে মাজ-খাম্বাজের প্রথম পরিচয় কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মাধ্যমে। আলাউদ্দিনের সঙ্গে তাঁর শ্রদ্ধাপূর্ণ বন্ধুত্ব তাঁকে আলাউদ্দিনের পরম্পরার অন্তর্গত করে নেয়। জানা যায়, ১৯৩৫ সালে উত্তরায়ণে এক নিভৃত সাক্ষাৎকারে সঙ্গীত নিয়ে দু’জনের আলোচনা হয়। আলাউদ্দিন রবীন্দ্রনাথকে কোনও এক অপ্রচলিত রাগ গেয়ে শোনান, এবং রবীন্দ্রনাথ সেই রাগ শুনে চিনতে পারেন। কী রাগ, তা নিয়ে কারোরই নিশ্চিত কোনও ধারণা না থাকলেও, অনুমান করা যায়, সেই রাগ মাজ-খাম্বাজ।

রবীন্দ্রনাথ যখন এই রাগে তাঁর দুটি গান– ‘বাল্মীকিপ্রতিভা’র ‘ব্যাকুল হয়ে বনে বনে’ (১৮৮১) এবং পূজা পর্যায়ের ‘আজি যত তারা তব আকাশে’ (১৯০৪) রচনা করেন, তখনও আলাউদ্দিনের সঙ্গে দেখা হতে অনেক বছর বাকি। রবিশঙ্কর এবং আলি আকবর খাঁর কল্পনার সঙ্গেও রবীন্দ্রনাথের দূরত্ব বিস্তর। আপাতভাবে এক্ষেত্রে আলাউদ্দিনের প্রাসঙ্গিকতা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেও, আলাউদ্দিন-কন্যা অন্নপূর্ণা দেবীর উপস্থাপনায় মাজ-খাম্বাজে যখন একটু একটু করে প্রস্ফুটিত হয় রবীন্দ্রনাথের প্রভাব, তখন আর আলাউদ্দিন-রবীন্দ্রনাথের মিলিত পরম্পরা অস্বীকার করার উপায় থাকে না।
রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু। তারপর মাজ-খাম্বাজ ক্রমশই হয়ে উঠেছে বাংলার আধুনিক সঙ্গীতের এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। রবীন্দ্র-পরবর্তী কিছু সুরকার, যথা গুরু জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, পণ্ডিত নিখিল ঘোষ, রবিশঙ্কর, অখিলবন্ধু ঘোষ প্রমুখ প্রত্যেকেই তাঁদের কোনও না কোনও গানে মাজ-খাম্বাজের ব্যবহার করেছেন, এবং সেই গানগুলি যারপরনাই জনপ্রিয়ও হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, গানগুলি এক যৌথ পরম্পরার অংশ হলেও, এই সুরকারেরা নিজেরা কিন্তু আলাউদ্দিনের পথেই চলেছেন। রবীন্দ্রনাথের প্রাসঙ্গিকতা এঁদের ক্ষেত্রে সততই প্রশ্নসাপেক্ষ।
বাংলা গানে মাজ-খাম্বাজের ব্যবহার ক্রমেই রাগটির একটি ভিন্ন রূপের জন্ম ঘটায়। জ্ঞানবাবুর সুরে গান দুটি শুনলেই বোঝা যাবে, মাজ-খাম্বাজের পরিসরে জ্ঞানবাবুর অবস্থান ছিল রবীন্দ্রনাথ ও আলাউদ্দিনের মাঝামাঝি কোথাও।
যাঁরা পুরোনো গান শুনতেন, তাঁদের নিশ্চয়ই মনে পড়বে জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষের সুরে বাণী কোনারের কণ্ঠে ‘কোয়েলিয়া গান থামা এবার’। গানের সুর একটি প্রচলিত ঠুমরি ‘কোয়েলিয়া মাত করো পুকার’থেকে প্রতিগৃহীত। এই গান যদিও বেগম আখতারের কণ্ঠেও শোনা যায়, কিন্তু বাণী কোনারের রেকর্ডটিতে গানের আগে যে প্রিলিউডের সুর আমরা শুনি, বেগম আখতারের রেকর্ডে তা নেই। জ্ঞানবাবুর কল্পনায় মাজ-খাম্বাজ কেমন, তার প্রমাণ পাওয়া যায় বাণী কোনারের রেকর্ডটিতে।

বেতারে রম্যগীতি শ্রোতাদেরও মনে পড়বে জ্ঞানবাবুর সুরে নির্মলা মিশ্রের গাওয়া ‘বসন্ত কি এমনি করেই জাগে’। যন্ত্রসঙ্গীতে ব্যবহৃত রাগ যখন গায়কির আঙ্গিকে প্রবেশ করে, তখন মাধ্যমের এই পার্থক্য রাগে প্রভাব ফেলতে বাধ্য। বাংলা গানে মাজ-খাম্বাজের ব্যবহার ক্রমেই রাগটির একটি ভিন্ন রূপের জন্ম ঘটায়। জ্ঞানবাবুর সুরে গান দুটি শুনলেই বোঝা যাবে, মাজ-খাম্বাজের পরিসরে জ্ঞানবাবুর অবস্থান ছিল রবীন্দ্রনাথ ও আলাউদ্দিনের মাঝামাঝি কোথাও।
পণ্ডিত নিখিল ঘোষ মূলত তবলা-শিল্পী ও গুরু বলেই খ্যাত। তাঁর সুরে যে কয়েকটি বাংলা গান শোনা যায়, তার মধ্যে বহুল প্রচলিত কৃষ্ণা গঙ্গোপাধ্যায়ের কণ্ঠে ‘কে ভুলালে বারে বারে’। গানটির ইন্টারলিউড জ্ঞানবাবুর উপরোক্ত প্রিলিউডের কথা মনে করাবে হয়তো, যদিও নিখিল ঘোষের স্বাতন্ত্র্য গানটির সঞ্চারীতে। গানটির সুর-সমন্বয় আবারও ইঙ্গিত করে আলাউদ্দিন-পরম্পরার থেকে একটু দূরে। আবার রবিশঙ্করের ও আলি আকবর খাঁর প্রচ্ছন্ন উপস্থিতিও অলক্ষিত থাকে না।

সুপ্রীতি ঘোষের কণ্ঠে ‘তোমাকে শোনাতে বাঁধিয়াছি বীণা, কোন গান বলো গাই?’ গানটি আজ আর শোনা যায় না বললেই চলে। গানটি লিখেছিলেন এবং সুর করেছিলেন নীহারবিন্দু সেন। প্রবাসী রবীন্দ্রসঙ্গীত-শিল্পী বন্ধুবর ডঃ শ্রেয়স সরকারের বৈঠকখানায় বসে গানটি শুনে মুহূর্তেই অনুভব করতে পারি একটি আপাত অপ্রচলিত গানে রবিশঙ্কর ও আলি আকবর খাঁ রেখে যাচ্ছেন এক জটিল ঐতিহ্যের সাক্ষ্য। গানটির শুরু সেতারের আওচারে। রবিশঙ্কর-প্রচলিত মতেই নির্মিত এই প্রিলিউড। গানের চলনে মাঝেমধ্যে কামোদ রাগের অনুপ্রবেশ বিচ্ছিন্নতার সৃষ্টি না করলেও, দূরত্ব স্পষ্টতর হয়ে ওঠে।
আলাউদ্দিনের আবিষ্কার ততদিনে পেয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্বীকৃতি, রবীন্দ্রনাথের রচনা স্থান পেয়েছে আলাউদ্দিনের শিক্ষায়, মাজ-খাম্বাজ পেয়েছে বাংলার মানুষের আদর, এবং বাংলার গান পেয়েছে মাজ-খাম্বাজকে।
রবিশঙ্করের কথায় আসার আগে প্রয়োজন অখিলবন্ধু ঘোষের উল্লেখ। ‘অভিমানী চেয়ে দেখো’ ও ‘তোমার ভুবনে ফুলের মালা’– তাঁর এই দুটি গানের মধ্যে দ্বিতীয়টাই সাধারণ শ্রোতার কাছে অধিক পরিচিত। বর্তমানে সমাজমাধ্যমে তরুণ প্রজন্মেরও অনেককেই দেখা যায় এই গানটি গাইতে। এই গানে, এবং অবশ্যই অন্য গানটিতেও, মাজ-খাম্বাজ রয়েছে প্রচলিত রাগরূপের আরও কিছু তফাতে।
রবিশঙ্কর ফিরে আসেন তাঁর ঐতিহ্যে। ‘অভিমানী চেয়ে দেখো’ গানটি এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, কারণ সেই দূরত্বকেই সঙ্গী করে রবিশঙ্কর যাত্রা করেন ঘরের অভিমুখে। ফলস্বরূপ আমরা পাই ‘মায়া ভরা রাতি’। গানটি তখন আর শুধুমাত্র একটি গান থাকে না। আলাউদ্দিনের আবিষ্কার ততদিনে পেয়েছে রবীন্দ্রনাথের স্বীকৃতি, রবীন্দ্রনাথের রচনা স্থান পেয়েছে আলাউদ্দিনের শিক্ষায়, মাজ-খাম্বাজ পেয়েছে বাংলার মানুষের আদর, এবং বাংলার গান পেয়েছে মাজ-খাম্বাজকে।
দুই প্রতিষ্ঠানের মেলবন্ধনে ততদিনে বাংলার মাটিতে সঞ্চারিত এক অপূর্ব সুর, যা ভেসে চলে এক প্রবহমান নদীর মতো অবিরাম। রবীন্দ্রনাথ, আলাউদ্দিন, রবিশঙ্কর, জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, নিখিল ঘোষ, অখিলবন্ধু ঘোষ, এঁরা প্রত্যেকে যেন সেই নদীর তীরে গড়ে ওঠা একেকটি ঘাট, যা একে অন্যের সঙ্গে ভিন্ন, আবার সকলে মিলে এক। সঙ্গীতের শ্রোতা যেন তখন বৈঠা হাতে সেই নদীতে এক আনমনা মাঝি, যে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য কখনও এ ঘাট, আবার কখনও ও ঘাট থেকে অঞ্জলি ভরে জল পান করেন। রবিশঙ্করের ‘মায়া ভরা রাতি’ তখন হয়ে ওঠে সেই নদীর প্রাণ, তার বয়ে চলার শক্তি।
মাজ-খাম্বাজ রাগে রবিশঙ্করের একটি হিন্দি গানও রয়েছে– অনুরাধা ছবিতে ‘কৈসে দিন বীতে’। গানটি গেয়েছিলেন লতা মঙ্গেশকার। ‘মায়া ভরা রাতি’র সঙ্গে তার পার্থক্য প্রায় নেই বললেই চলে। অনুষ্কা-অরিজিৎ-বিক্রমের ত্রয়ী তো এই গানটিও বাছতে পারতেন! এটিও তো অনুষ্কার বাবারই রচনা। কিন্তু, তিনি বেছে নেন ‘মায়া ভরা রাতি’। প্রশ্ন ছিল, কেন। অনুষ্ঠানটি বাংলায়, এবং গানটি বাংলা ভাষায় বলেই কি? না, কারণ এখানে ‘বাংলা’ দেশ, কাল, ভাষা সবকিছুর উর্ধে। এই গানের মাধ্যমে অনুষ্কা তাঁর শ্রোতাদের সামনে নিয়ে আসেন শতাব্দী-প্রাচীন এক ভুলে-যাওয়া সুর-পরম্পরা, প্রণত হন তাঁর পরমগুরুর সুরের দোসর রবীন্দ্রনাথের সামনে, এবং অবগাহন করেন সেই নদীতে, যার উৎস মাইহারে, এবং যা হঠাৎই গতিপথ পাল্টে বাংলায় প্রবেশ করে। উপস্থাপনাটি জনপ্রিয়ও হয় সেই একই কারণে। এই গান ঘরে ফেরার গান। শুধু রবিশঙ্করের নয়, অনুষ্কারও।
এই গানের মাধ্যমে অনুষ্কা তাঁর শ্রোতাদের সামনে নিয়ে আসেন শতাব্দী-প্রাচীন এক ভুলে-যাওয়া সুর-পরম্পরা, প্রণত হন তাঁর পরমগুরুর সুরের দোসর রবীন্দ্রনাথের সামনে, এবং অবগাহন করেন সেই নদীতে, যার উৎস মাইহারে, এবং যা হঠাৎই গতিপথ পাল্টে বাংলায় প্রবেশ করে।
অনুষ্কার শ্রোতা হিসেবে আমরাও তাঁর সঙ্গে চলি অজানা এই সুর-পরম্পরার অন্বেষণে, হয়ে যাই তারই এক বিপুল অংশ। আমরা বাঙালি, তাই এ কি আমাদের অনুষ্কার থেকে পাওয়া এক অমূল্য উপহার নয়?
চিত্রঋণ – ফেসবুক পেজ, ইউটিউব, উইকিমিডিয়া কমনস
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
সুভদ্রকল্যাণ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক ভারতীয় ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের স্নাতকোত্তর। বর্তমানে সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে ইংরেজি সাহিত্যে দ্বিতীয় স্নাতকোত্তর করছেন। স্তরের ছাত্র। বাংলা ও ইংরাজি উভয় ভাষাতেই তাঁর লেখা সংগীত ও সাহিত্য বিষয়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। বহু বিশিষ্টজনের সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করেছেন, সেগুলিও প্রকাশিত ও সমাদৃত। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর লেখা কবিতা প্রকাশ পেয়েছে। মূলত ইংরাজি ভাষায় কবিতা লেখেন সুভদ্রকল্যাণ। তাঁর আরেকটি পরিচয় রাগসঙ্গীতশিল্পী হিসেবে। সংগীতশিক্ষা করেছেন আচার্য শঙ্কর ঘোষ, পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ, পণ্ডিত উদয় ভাওয়ালকর, ডঃ রাজিব চক্রবর্তী প্রমুখ গুরুর কাছে। পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার ও সম্মাননা।
