(Aloukik)
১
অর্ধেক শাটার ফেলে বসে আছে রাত্রির কোমর
তাকে যে দোলাতে পারে প্রতীক্ষিত সেই অনাচার
এখনও ফোটেনি। মন, ঢাকা আছে অর্ধেক শাটারে।
বহু-বর্ষা বাদে আজ রাত্রি যেন যথার্থ একাকী
তাকে যে বিঘ্নিত করা আবশ্যক, মনে নেই সে কথা এখন
যে হাসি অযথা আমি তার খোঁজে ঘুরে ঘুরে সকারণ হাসি
থেকে সরে গেছি দূরে। অথচ এখন, সকলেই
নিয়মমাফিক হাসে। কথা বলে। ডাকে। গান গায়।
আষাঢ়ের পেটে ব্যাঙ বসে আছে বোবা
অর্ধেক শাটার ফেলে কী চঞ্চল পায়ের আঙুল
কৌতুকের স্বর ছাড়ে, জলে ও জঙ্গলে তুমি এলে
সাড়া আসে শিসে, ফণা, সদ্যস্নাত, আকণ্ঠ বিষের
ভারে সেই ভারী শিস আছড়ে এল শিরায় শিরায়
শাটারের বাইরে এসে, মন, গেল শেষ নিরুদ্দেশে
পুরো স্ক্রিনে বসে আছে ফূর্তিবাজ যান্ত্রিক কোমর


২
ডেকে সাড়া না পেয়ে চিবুক নেড়ে দিলে সে হঠাৎ
সজোরে দু’ডানা ঝাপটে জল ঝাড়ে কোন সে বর্ষার
কোন গ্রাম পাক খেতে খেতে তার চোখের গহ্বরে
হাওয়াই লাড্ডুর মতো ফুলে উঠল রাণী রঙে এত
যে তার সমস্ত কথা পড়ে রইল ভিক্ষার থালায়
পুরনো গল্পের গ্রামে দুটি একটি অলৌকিক মোড়ে
রাত্রে সাদা ছায়া দোলে, দুলতে দুলতে মানুষ সমেত
হাওয়ায় হারিয়ে যায়, দশকে দশকে লোকমুখে
ভয়ের প্রবাদ ওড়ে, সম্বিৎ ফিরলে শূন্যে চায়
মায়া তবু ফুটে ওঠে বিন্দুবৎ অলৌকিকতায়
৩
বন্ধুর কলার ধরো, বলো, তুমি ক্রুদ্ধ হয়ে আজ
ভুল করে ফেলেছ বিশেষ।
আমার গ্রামের কাছে
নদী এসে নিয়েছিল শ্মশানে মোচড়।
তবে কি শেষের পথ এই
নাকি এখনও অনেক
বাঁকের সন্ধান দেবে অতর্কিতে, শোকে
আরও কিছু ভুল বাকি রয়েছে করার
ডোমের মশাল জ্বলে,
পোড়ে
অপেক্ষার চরাচর


৪
মন ভাল নয়, ভালমন তুমি অন্যদিন এসো
নচেৎ তোমাকে করে ফেলতে পারি অযথা আহত
ফিরে যেতে কানে কি তোমার সেই পূর্বরাগ বাজে
দেশলাই কাঠি এত নিভু নিভু হবার পরেও
নিবিষ্ট আড়ালে ফের এই জ্বলে ওঠা যে ঔজ্জ্বল্য
দিয়েছে আমায়, হাতের অমন শৈলী খুঁজে পায়
মানুষের মন? তোমাকে দেখি না বহুদিন, তাই
মানুষের মন বড় একমুখী ঠেকে ইদানীং
কালো বেল্ট সারি সারি ফুটপাথে ঝোলে, বেচা-কেনা
টাকা যায় সুদূর বিহারে, পট্টির কোটরে শিশু হাসে
ওই অমলিন পাব নাকি চোখে, ভাল নেই মন
ভালমন তুমি এসো অন্যদিন শাসাব তোমাকে
৫
লজেন্স-জ্যামিতি জিভে বেশিক্ষণ থাকে না অক্ষত
এমন সন্ত্রাস বুঝি দাঁতের সাদার ভাগ খেয়ে
এনেছে কালোর রাত, জিভে সেই অন্ধকার লেগে
এখন আস্বাদহীন বসে আছি, একা।
যে কোনও রোদ্দুর দিনে চুল খুলে ভাগ নিয়েছিল
সতীনেরা, ফিরে গেছে, ম্লান
বিকেলের হাতে পড়ে আছি ঈর্ষাহীনতায়, ধ্রুব
কিছুই কি নয় তবে, আকাশের উর্ধ্বমুখী স্তনে
পাখির ডানার দাপাদাপি তাই স্তিমিত এখন
নাম প্রিয় ছিল বলে মৃদু স্বরে অবচেতনায়
আওড়ে গেছি বারবার, বারবার যে কোনও শব্দেই
দারুণ কম্পন ওঠে, বিষুবরেখার গায়ে এক
সুরার ঝিনুক শুধু উথলে ওঠে ঝাঁ ঝাঁ ঘূর্ণি মেখে
যাদের লিখেছি তারা দ্বিধায় বিভক্ত হয়ে বেঁকে গেছে দূরে
সকলে ফেরার কথা ভাবে, আর ফেরে না কখনও

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়