(Libido Theke Irsha)
লিবিডো
অতৃপ্ত ঢেঁকুর নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হল তবে
তারপর সমগ্র দুপুর একা একা ঘোরাঘুরি
যেহেতু বৈশাখ মাস, শরীর গরম হবে খুব
অভুক্ত বেড়াল জানি চলাচলে ভীষণ নিশ্চুপ—
চুপিচুপি ঢুকে এলে তার ছাপ রাখে গৃহকোণ
‘স্বভাবে শান্ত আমি’— তোমাকে বলেছিলাম
তোমার আমাকে বলা মিথ্যে যেমন!


পালাবদল
সুসময় এল বলে ভেবেছ থেকেই যাবে সব
সন্ধ্যায় বাড়িতে ফেরা পাখিদের কলরব কানে আসে, তাও
সন্দেহের জায়গায় পেয়ে যাচ্ছ শুভেচ্ছা নগদে…
ফলত এ ঘোর মায়াজনপদে
সূর্যালোক বেশি পেয়ে ফুলিয়ে তুলেছ পেশি, রগ,
উদ্ধত শরীর, শিরা— বদরক্ত ঘিরেছে যাহাকে
সুসময় চলে যাবে তোমার শূন্যতা রেখে কিছু
যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলে— অস্ত্র, যেইভাবে পড়ে থাকে
ঘর
প্রথমে বিদ্যুৎ আসে; শব্দ আসে পরে
নিয়তদিনের শেষে অকারণ, যেই মেঘ করে
আকাশ আচ্ছন্ন হয়; ধমনী নীলাভ হতে থাকে
বিষের উপরে বিষে বিষক্ষয় হলে
‘শিহরণ’ বলে আমি জেনেছি যাহাকে
সেসবই বৃষ্টিরূপে ক্রমশ নেমেছে এলোমেলো
আমার কাঙাল চোখ সেই থেকে তৃষ্ণার স্বাদ খুঁজে পেল…
বুঝল শুরুর ধাপ—
প্রথমে বিদ্যুৎ, পরে কোলভরা সবুজ খামার
প্রতিটি সঙ্গম শেষে
তোমাকে পেয়েছি আরও, আলুথালু, আশ্রয় আমার!


ঈর্ষা
আমার কবিতা জুড়ে তোমাকে লিখতে গিয়ে দেখি
অন্যের শিল্পের দিকে মুখ করে তাকিয়ে রয়েছ
কবিতা নীরব হাওয়া, পাছে যদি শব্দ হয় কোনও—
তোমাকে না ডেকে তাই কেবল অপেক্ষা করে থাকি
কখন এ পাশে ফেরো, কখন তোমার ঘাড় ধরে
গঙ্গা সাক্ষী রেখে আমি স্থির চোখে তোমাকে বোঝাবো—
তোমার উদাসীনতা থেকে খালি অন্যের দুর্গন্ধ
এভাবে উঠবে কেন? কারওর পাঞ্জাবি যদিও বা
অতীব সুন্দর লাগে, ওদিকে তাকাতে তবু নেই
আমার কবিতা জুড়ে তোমাকে লিখবো আমি
শ্রেষ্ঠ বেদনাটিও, জেনো, নেবে শুধু আমার কাছেই
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়