(Lava Kolakham)
উত্তরবঙ্গের নির্ভেজাল প্রাকৃতিক পরিবেশ শরীরে মনে প্রশান্তি এনে দেয়। তাই কর্মব্যস্ত শহুরে জীবনে সময় পেলেই ছুটে যাই উত্তরবঙ্গের পাহাড়ের গায়ে বিস্তৃত জঙ্গলে। সবুজে ঘেরা পাহাড় আমার পছন্দের। সেখানে মেঘেরা মাফলারের মতো জড়িয়ে থাকে। তাই সপরিবার পাহাড়ে যাওয়ার কথা যখন উঠল, তখন অল্পক্ষণ ভেবেই আমি উত্তর দিয়েছিলাম কোলাখাম আর রিশপ যাব। পুজোর ছুটিতে যাওয়া হয়নি কোথাও, আর গরমের ছুটিরও দেরি আছে।

ঠিক করলাম, ফেব্রুয়ারি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে দুই রাত তিনদিনের ছোট্ট ছুটি কাটিয়ে আসব এই দুই পাহাড়ি গ্রামে। সেখানে মেঘপিয়নেরা চিঠি বিলি করে মেঘের ভেলায় চেপে। সেখানে ঘুম ভাঙে পাহাড়ের পাখিদের ডাকে। আরেকটা বাড়তি পাওয়া হল ঝকঝকে দিনে এই দুই জায়গা থেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায় বেশ ভাল। তাই সেই লোভেই খানিকটা ভিউ রুম বুক করেছিলাম আগেভাগে। কালিম্পং জেলায় অবস্থিত কোলাখাম, নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের পাশেই, তাই এখানে নানা পাখির দেখা মেলে। অবশ্য রিশপও পাখি দেখার জন্য বেশ বিখ্যাত। ফলে, আমার যে রথ দেখার সঙ্গে সঙ্গে কলা বেচাও ভালই হতে চলেছে, সেটা বুঝেছিলাম বেশ।
আরও পড়ুন: বন্যপ্রাণের খোঁজে পুরুলিয়া
এবারের ট্রিপেও আমাদের সঙ্গী চিরিঞ্জিৎ, মন্দিরা আর ওদের মেয়ে আরোহী। আমার কন্যা ঐশীর এটাই প্রথম পাহাড় দেখা, তাই মনে উত্তেজনার থেকে সংশয় বেশি ছিল। শৈশব থেকেই তো ভালবাসতে শেখাতে হবে পাহাড়, অরণ্য আর আরণ্যকদের। এর মাঝে উত্তরবঙ্গ আর দক্ষিণবঙ্গে হঠাৎ ঘনীভূত হওয়া নিম্নচাপের জেরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল যাওয়ার দিন সকাল থেকেই। কিছুটা মুষড়ে পড়লাম আবহাওয়ার এই রং বদলে। তবে শুধু পাহাড় ভালবাসি বলেই বেরিয়ে পড়লাম ঈশ্বরকে স্মরণ করে।

২০শে ফেব্রুয়ারি বর্ধমান জংশন থেকে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস ধরে পরের দিন সকালে পৌঁছে গেলাম নিউ মাল জংশনে। এই পথে আসার আরেকটা বাড়তি পাওনা আছে। মহানন্দা অভয়ারণ্যের মধ্যে দিয়ে চলে গেছে এই রেলপথ। ট্রেন শিলিগুড়ি জংশন ছাড়ার পর থেকে দু’পাশে চা বাগান আর ভূপ্রকৃতির আমূল বদলে মন ভরে উঠেছিল। ট্রেন যত বনবিথির পথে এগোচ্ছে, ততই আশ্চর্য সুন্দর হয়ে উঠছে যাত্রাপথ।

মাঝে মাঝেই সর্পিল বাঁকা পথে ট্রেনটা চলছে একটা বড় ময়াল সাপের মতো। পুরনো জীর্ণ পাতা ঝরে গিয়ে চারাপাশ কিশলয়ের সাজে সেজে উঠেছে নবরূপে। পথে দু’একটা নদী চোখে পড়ল, যার পাথুরে সাদা বুকে স্বচ্ছ জলের ধারা বয়ে চলেছে তিরতির করে। নিউ মাল জংশন থেকে আগে থেকে বুক করা আমাদের গাড়িতে চেপে এগিয়ে চললাম পাহাড়ের পথে। আমাদের গাড়ি চলল গরুবাথান, পাপরখেতি হয়ে। কিছুটা পথ যেতেই চারপাশের দৃশ্যপট বদলে গেল।

অ্যাম্বোয়িক চা বাগানে দাঁড়াতেই হল। অপূর্ব চা বাগান। দূরে পাহাড়ের গায়ে মেঘেদের আনাগোনা। এখানে কিছুটা সময় কাটিয়ে এগিয়ে চললাম লাভার দিকে। লাভা শহরটা দূর থেকে দেখলাম মেঘ আর কুয়াশায় মাখামাখি। লাভা চেকপয়েন্টে থামতে হল। এখানে এন্ট্রি করিয়ে নেওড়াভ্যালি জাতীয় উদ্যানের ভেতর দিয়ে এগিয়ে চললাম। পথ এখানে ভীষণ খারাপ। তবে দু’পাশের বড় বড় পাইনের ভিড় আর সবুজের বাহার দেখে সব ক্লান্তি দূরে সরে যাচ্ছিল।
আমার ক্যামেরায় প্রথমেই ধরা দিল রুফাস-গরজেটেড ফ্লাইক্যচার পাখিটা। এছাড়াও চারপাশ থেকে ডাক আসছে রুফাস সিবিয়া, ব্ল্যাক বুলবুল, হিমালয়ান বুলবুল আর ব্লু-হুইশ্লিং থ্রাশের। আমি ছবি তুলেই চলেছি নাওয়া-খাওয়া ভুলে।
কোলাখাম পৌঁছানোর আগে থেকেই এখানকার পাখিরা আমাদের স্বাগত জানানো শুরু করে দিয়েছে। আমাদের আস্তানায় পৌঁছালাম যখন, তখন বেলা দু’টো। পেট খিদেতে চুঁই চুঁই, কিন্তু পাখিদের ডাককে উপেক্ষা করি কীভাবে। লাঞ্চ রেডি করতে বলে এক কাপ লিকার চা খেয়েই পাখি দেখতে বেরোলাম হোমস্টের কাছে। নানান পাখির ডাক কানে আসছে। যে জায়গায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা পাওয়ার কথা, সেটা ধূসর মেঘের আস্তরণে ঢাকা। তবে অনেকগুলো পাহাড়ের সারি পরপর দাঁড়িয়ে একটা দারুণ দৃশ্যপট রচনা করেছে যার নিচে বহুদুর বিস্তৃত সবুজ উপত্যকা। এই সবুজ পাহাড়ের ঢালে নানান রঙের ঘরগুলি যেন প্রকৃতির ক্যানভাসে সৃষ্টিকর্তার হাতে আঁকা জলরঙা ছবি।

আমার ক্যামেরায় প্রথমেই ধরা দিল রুফাস-গরজেটেড ফ্লাইক্যচার পাখিটা। এছাড়াও চারপাশ থেকে ডাক আসছে রুফাস সিবিয়া, ব্ল্যাক বুলবুল, হিমালয়ান বুলবুল আর ব্লু-হুইশ্লিং থ্রাশের। আমি ছবি তুলেই চলেছি নাওয়া-খাওয়া ভুলে। এদিকে হোমস্টের দিদিদের ডাকাডাকিতে সম্বিৎ ফিরল। দুপুরের লাঞ্চ সেরে আমাদের রুম লাগোয়া ব্যালকনিটায় দাঁড়ালাম। নিচে একটা বড় খেলার মাঠ। এক মনে দূর পাহাড়ের দিকে তাকিয়ে আছি এমন সময় একটা মাউন্টেন হক ঈগল উড়ে গেল মাথার উপর দিয়েই।
সামান্য বিশ্রাম নিয়েই আমি আর চিরিঞ্জিৎ বেরিয়ে পড়লাম ছাঙ্গে ফলস দেখতে। পথে যেতে যেতে দেখা পেলাম চেস্ট নাট-ক্রাউন্ড ওয়ের্বলার, বাফ-বারড ওয়ের্বলার, হুইসলার্স ওয়ের্বলার, নেপাল ফুলভেট্টা আর স্কারলেট ফিঞ্চ পাখিদের। হাঁটতে হাঁটতে আলো আধাঁরি মাখা একটা জায়গায় থামতেই হল। গাছের ডালে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে হোয়ারি-বেলিড স্কুইর্যাল। নিচে নামার সময় দু’টো কুকুর আমাদের সঙ্গী হল অনেকটা পথ। ছাঙ্গে ফলসের কাছে গিয়ে কিছুটা নেমে ফিরে এলাম, কারণ ততক্ষণে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে।

পাশের ছোট্ট দোকানটিতে কফি খেয়ে ফের উঠে আসতে লাগলাম। মাঝে ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এল। একটা পরিত্যক্ত ঘরের কোনে কোনও মতে বৃষ্টির ছাঁট থেকে বাঁচলাম। ফিরে এলাম হোমস্টেতে। কারেন্ট নেই, তাই দিদিরা মোমবাতির আলো জ্বালিয়ে দিলেন। বাইরে বৃষ্টি আর ঘরের মধ্যে মোমবাতির মৃদু আলো, পাহাড়ে এই পরিবেশ, এক অদ্ভুত অনুভূতির সঞ্চার করল মনে। সন্ধ্যাবেলা চা আর পোকোড়া যোগে আড্ডা চলল। সারারাত পাহাড়ি পাপিয়া ডেকে গেছে। বেশ ভোরবেলা উঠে পড়লাম পাখি দেখতে, তখনও সবাই ঘুমের দেশে।
আরেকটু নিচে একটা বড় গাছের ডালে এসে বসল গোল্ডেন থ্রোটেড বারবেট পাখি দুটো। সেগুলোর ছবি তুলে ফিরে আসছি এমন সময় কোথা থেকে এক ঝাঁক হুইস্কার্ড ইউহিনা এসে হাজির।
আমাদের হোমস্টের বাইরের গাছে বসে আছে পাহাড়ি পাপিয়া। আশেপাশের গাছগুলোতে নানান পাখি। এদের মধ্যে অরেঞ্জ–বেলিড লিফ বার্ড, র্যাসেট স্পারো, গ্রে ট্রিপাই, চেস্টনাট-বেলিড রক থ্রাশ আর গ্রিন-ব্যাকড টিটের দেখা পেলাম। সকালের চা খেয়ে চিরঞ্জিৎকে সঙ্গে নিয়ে আরেক প্রস্থ পাখি দেখতে বেরোলাম আরেকটু নিচের দিকে। এখানে ব্ল্যাক-থ্রোটেড টিটের ছবি হল একটা ঝাঁকড়া গাছের মধ্যে।
আরেকটু নিচে একটা বড় গাছের ডালে এসে বসল গোল্ডেন থ্রোটেড বারবেট পাখি দুটো। সেগুলোর ছবি তুলে ফিরে আসছি এমন সময় কোথা থেকে এক ঝাঁক হুইস্কার্ড ইউহিনা এসে হাজির। তাদের ছবি না তুলে দিলে আবার রাগ হবে, তাই ছবি তুলে আমাদের হোমস্টে পার করে উপরের দিকে গেলাম। এখানে একটা ছায়াচ্ছন্ন জায়গায় বসে আছে রুফাস-বেলিড নীলটাভা পাখিটা। দারুণ সুন্দর দেখতে। ফেরার পথে একটা ঝোপে দেখি হোয়াইট-র্যাম্পড মুনিয়া বসে আছে। এসব পাখিদের সঙ্গে সকালটা কাটিয়ে ব্রেকফাস্ট করে বেরিয়ে পড়লাম রিশপের উদ্দেশ্যে।

রিশপ যাওয়ার পথে আমরা লাভায় গিয়ে থামলাম। থামতেই হত। সুন্দর সাজানো শহর। প্রথমেই গেলাম লাভা মনাস্ট্রি। যেকোনও মনাস্ট্রিতে গেলেই মন শান্ত হয়ে যায়। মুখোমুখি দেবালয় আর উপাসনাগৃহ। অপূর্ব কারুকার্যে ভরা এই মনাস্ট্রিটি। সিনেমার শুটিং চলায় কিছুটা ভিড়। মনাস্ট্রির অন্দরমহলের কাজ দেখে দারুণ লাগল। এখান থেকে বেরিয়ে লাভা বাজার ঘুরে দেখলাম।
বেশ পরিচ্ছন্ন সাজানো বাজার। মোমো আর কফি খেয়ে চাঙ্গা হয়ে গাড়িতে উঠে বসলাম রিশপের উদ্দেশ্যে। লাভায় ঠান্ডা বেশি কোলাখামের থেকে। এখানে দেখা পেলাম একঝাঁক ইউরেশিয়ান ট্রি স্প্যারোর, এরা একটা বাড়ির ব্যালকনিতে বসে ছিল। মনাস্ট্রির উল্টোদিকে যে জলাধার, সেটার উপর দিয়ে উড়ে গেল ক্রেস্টেড সার্পেন্ট ঈগল। পাইন বনের মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে আমরা রিশপে পৌঁছালাম। হোমস্টেতে আমাদের থাকার ব্যবস্থা ছিল।
রুমে এসে জানালা খুলে দেখি পেছনের ঝোপে একঝাঁক রেড-বিলড লিওথ্রিক্স আর চেস্টনাট-ক্রাউন্ড লাফিংথ্রাশ। বিকেলটা পাহাড়ের আকাশে রং বদল দেখে কাটালাম। সকালে পাখিদের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল।
জায়গাটা বেশ সাজানো গোছানো। এখানে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ছ’টা গ্রিফন ভালচারের সঙ্গে দেখা হয়ে গেল সামনে থেকে। হোমস্টে পৌঁছেই লাঞ্চ করতে গেলাম। লাঞ্চ সেরে হোমস্টে লাগোয়া বাগানে বসলাম। এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার স্পষ্ট দৃশ্য দেখা যায়, কিন্তু আমাদের কপাল মন্দ। এখানেও দেখা পেলাম গ্রিন-টেইলড সানবার্ড, ব্লু-ফ্রন্টেড রেডস্টার্ট প্রভৃতি পাখিদের।

রুমে এসে জানালা খুলে দেখি পেছনের ঝোপে একঝাঁক রেড-বিলড লিওথ্রিক্স আর চেস্টনাট-ক্রাউন্ড লাফিংথ্রাশ। বিকেলটা পাহাড়ের আকাশে রং বদল দেখে কাটালাম। সকালে পাখিদের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল। রিশপে ঠাণ্ডা বেশ বেশি। নিচে নামার আগে দেখি, সামনের তারে বসে আছে রুফাস-ব্রেস্টেড অ্যাসেন্টর। নিচে নেমে ঐ বসার জায়গাটায় দাঁড়াতেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা দিল সামান্য। অনেকগুলো পাখি হুটোপুটি করছে। তাদের মাঝে নতুন পাখি হিমালয়ান ব্লু-টেল দেখলাম। মিষ্টি দেখতে একটা পাখি। ব্রেকফাস্ট সেরে তৈরি হয়ে নিলাম।
বেরিয়ে পড়লাম ফেরার জন্য। তবে কালিম্পঙ দেখে ফেরা। প্রথমেই আমাদের গাড়ি থামল রিশপের ভিউ পয়েন্টে। যদিও আমরা আগের দিন হেঁটে এসেছিলাম কিছুটা। তবু ঝকঝকে আলোয় নিচের সবুজে ঘেরা পাহাড়ি উপত্যকা দেখতে বেশ লাগছিল। রিসি রোড ধরে আমাদের গাড়ি ছুটে চলল। পথে কয়েক জায়গা থামতে হয়েছিল পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখে। কালিম্পং বাজার ও শহরটা বেশ ঘিঞ্জি।

হনুমানটপে বিশাল আকারের হনুমানজির মূর্তির নিচে দাঁড়ালাম। এখান থেকে শহরের একটা দারুণ ভিউ পাওয়া যায়। এখানে দেখলাম প্যারাগ্লাইডিং হচ্ছে সামনে কোথাও। অল্প কিছুটা গিয়েই দলাপচাঁদ মনাস্ট্রি। এটিও বেশ সুন্দর দেখতে। এখানেও একটি ভিউ পয়েন্ট আছে। কিছুটা সময় কাটিয়ে পৌঁছে গেলাম কালিম্পং সায়েন্স সেন্টারে। দারুণ জায়গাটা। নানা বিজ্ঞানভিত্তিক নির্মাণের সঙ্গে সবার সঙ্গে সময় কাটালাম। দারুণ একটা সময় উপভোগ করলাম। তবে ঝিরঝিরে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। তাই ভিতরে গিয়ে নানান বৈজ্ঞানিক কার্যকলাপ দেখে নিলাম। এই জায়গাটা শুধু বাচ্চাদের জন্য নয়, বড়দেরও ভাল লাগার মতো জায়গা। বৃষ্টি ধরলে আমরা ডেলো পার্কে পৌঁছালাম। এখানে ঢুকতে পারিনি বৃষ্টির জন্য।
আমাদের সঙ্গী হল তিস্তা। তবে সবুজাভ জলের স্বচ্ছ তরঙ্গিণী রূপে নয় বরং ঘোলাটে রঙের রূপে। এই রূপ দেখলে মনে পড়ে যায় সিকিমের বিপর্যয়ের কথা। জলপাইগুড়ি স্টেশন পৌঁছালাম যখন তখন সন্ধ্যা ছটা।
বেশ কিছুক্ষণ গাড়িতে বসে শেষ অবধি পার্কের লাগোয়া একটি দোকানে লাঞ্চ করে সোজা চলে এসেছিলাম পাইনভিউ নার্সারি। এখানে নানান ধরনের ক্যাকটাসের সম্ভার দেখে অবাক হতে হয়েছিল। বিভিন্ন গাছ আছে এখানে, দেখা পেয়েছিলাম ভেলভেট-ফ্রন্টেড নাটহাচ, গ্রেট বারবেট পাখিদের। এখান থেকে কালিম্পং শহরের একটা অপূর্ব সুন্দর দৃশ্য দেখা যায়। বেশ কিছুটা সময় এখানে কাটিয়ে আবার গাড়িতে ওঠা। এবারে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে নেমে আসতে থাকলাম সমতলে।

আমাদের সঙ্গী হল তিস্তা। তবে সবুজাভ জলের স্বচ্ছ তরঙ্গিণী রূপে নয় বরং ঘোলাটে রঙের রূপে। এই রূপ দেখলে মনে পড়ে যায় সিকিমের বিপর্যয়ের কথা। জলপাইগুড়ি স্টেশন পৌঁছালাম যখন তখন সন্ধ্যা ছটা। সাতটা পঞ্চান্নর সরাইঘাট এক্সপ্রেস ধরে ফিরে এলাম বাড়ি। সঙ্গে নিয়ে এলাম পাহাড়ি হিমেল বাতাসে মাখা সুমধুর স্মৃতি। সপরিবার প্রথমবার পাহাড়ে যাওয়ার এই অভিজ্ঞতা আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কীভাবে যাবেন– হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে বহু ট্রেন নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়ি যায়। সেখান থেকে শেয়ারে বা রিজার্ভ গাড়িতে যাওয়া যায়। অথবা কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে নিউ মাল জংশন এসে সেখান থেকে গাড়িতে যাওয়া যাওয়া যায়।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত