সীমান্ত পেরিয়ে (এলি কোহেন – এক গুপ্তচরের কাহিনি)

Eli Cohen 22
Eli Cohen 22

সীমান্ত পেরিয়ে (এলি কোহেন – এক গুপ্তচরের কাহিনি)

(Eli Cohen 22)

কয়েক বছরের পরিশ্রম আর একাগ্র সাধনার পর এলি কোহেন তাঁর জীবনের অন্তিম তথা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের দোরগোড়ায়। জেনোয়া থেকে দামাস্কাস পর্যন্ত সেই সফরে তাঁর দেখা মিলল এমন এক অসমসাহসী ভিন্ন মানুষের সঙ্গে যে নিজের প্রত্যুৎপন্নমতিত্বের জোরে নিমেষের মধ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে।

শুরু হল এলি কোহেন দ্বাবিংশ পর্ব।


পড়ুন এলি কোহেনের আগের পর্ব – (১), (২), (৩), (৪), (৫), (৬), (৭), (৮), (৯) (১০), (১১), (১২), (১৩), (১৪), (১৫), (১৬), (১৭), (১৮), (১৯), (২০), (২১)


মজিদের কেরামতি

এস্তোরিয়া বেইরুট বন্দরে ভিড়ল। যাত্রীদের সঙ্গে জেটিতে নেমে পড়লেন এলি কোহেন। সামনেই একটা বড় বিল্ডিং। বোঝাই যাচ্ছে কাস্টমসের অফিস। বিল্ডিং-এর সামনে এক বিশাল ব্যানার— তাতে বড় বড় করে ইংরেজিতে লেখা ‘ওয়েলকাম টু বেইরুট’।

লেবাননে এমনিতে ফরাসি বেশি চলে। তাই ইংরাজিতে ব্যানার দেখে এলির মজাই লাগল। তার মানে প্রচুর ইংরেজ ও মার্কিনিদের পা পড়ে এখানে। মনে রাখতে হবে, বিগত শতকের ষাটের দশকের বেইরুট আজকের মতো হিংসাদীর্ণ নয়। বরং ভূমধ্যসাগর তীরে প্রাচ্য আর পাশ্চাত্য সংস্কৃতির জীবনযাত্রার মেলবন্ধনের জীবন্ত উদাহরণ। পশ্চিম এশিয়ার প্রবেশদ্বার লেবাননে ইউরোপ, আমেরিকা থেকে প্রচুর পর্যটক আসেন।

Eli Cohen 22
জাহাজ এস্তোরিয়া

জেটি দিয়ে অভিবাসন দফতরের দিকে যেতে যেতে এলির চোখে পড়ছিল দূরের বেইরুটের হর্ম্যরাজি। লেবানন পর্বতমালার পাদদেশে চোখ জুড়ানো ‘প্রাচ্যের প্যারী’।

তবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মুগ্ধতা বেশিক্ষণ রইল না। কাস্টমস দফতরেই কঠোর বাস্তব নেমে এল। টাইয়ের নট ঠিক করে সুটকেশ নিয়ে এলি কাস্টমস অফিসে ঢুকে মজিদ শেখ অল-অর্দের দেখা পেলেন। জাহাজে সেই সান্ধ্য আড্ডার পর থেকে মজিদের পাত্তা ছিল না। অবশ্য বিদায় নেওয়ার সময় মজিদ বলেইছিল, আপাতত জাহাজে আর তাঁর দেখা পাবেন না এলি। বেইরুট বন্দরে তাঁকে ঠিক খুঁজে নেবে মজিদ।

একটু গৃহকর্তার ভালমন্দটাও তো দেখবে, ঠিক কি না? ওঁর হাতে ঝট করে একটা শ’ডলারের পাত্তি দাও তো। এসব কথা কেন যে বলতে হয়? কোথায় নিজে থেকে বার করে দেবে! তা না, আমাকে বলতে হয়!”

তবে মজিদের সঙ্গে এলি কোনও কথা বলার আগেই কাস্টমস অফিসার বলে উঠলেন, ‘কিছু ডিক্লেয়ার করার আছে?’

এলি মুখ খোলার আগেই মজিদের গলা শোনা গেল, ‘আরে বলছ না কেন সুটকেসে কী আছে?’ শুধু বলেই ক্ষান্ত হল না মজিদ। কাস্টমস অফিসারের কাছে গিয়ে নিচু গলায় কিছু বলল। শুনে অফিসার মুচকি হাসলও। এদিকে মজিদের কথা শুনে ভয়ের ঠাণ্ডা স্রোত বয়ে গেল এলির শরীরে। মজিদ বলছেটা কী! সুটকেসে তো ট্রান্সমিটারটা আছে। সেটার কথা জানতে পারলে কী হতে পারে, তা ভাবলেই ভয়ে হাত-পা ঠাণ্ডা হয়ে আসে। আর মজিদ কী না অম্লানবদনে সুটকেস খোলার কথা বলছে!

ঠিক তক্ষুনি ফের মুখ খুলল মজিদ।

Eli Cohen 22
মনে রাখতে হবে, বিগত শতকের ষাটের দশকের বেইরুট আজকের মতো হিংসাদীর্ণ নয়

“আরে হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছ কি? এই মাগ্গিগণ্ডার বাজারে সংসার চালানো যে কী কষ্ট, তা যে কোনও সৎ সরকারি অফিসারই জানে। তা, তুমি তো অতিথি এদেশে। একটু গৃহকর্তার ভালমন্দটাও তো দেখবে, ঠিক কি না? ওঁর হাতে ঝট করে একটা শ’ডলারের পাত্তি দাও তো। এসব কথা কেন যে বলতে হয়? কোথায় নিজে থেকে বার করে দেবে! তা না, আমাকে বলতে হয়!”

প্রশ্নটা শুনে একটু থমকেই গিয়েছিল মজিদ। তারপর মাথা চুলকে বলেছিল, “সত্যি বলছি, এসব কথা কস্মিনকালেও ভাবিনি। আসলে জানেন তো, রক্তে আমার অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে। আজ নিয়েই ভাবি। কাল কী হবে, ইনসাআল্লাহ।”

মনে মনে মজিদের এই চটজলদি অভিনয়ের তারিফ না করে পারলেন না এলি। কী সু্ন্দরভাবে কাস্টমস অফিসারকে ঘুষ দেওয়াকে মান্যতার মোড়কে সাজাল মজিদ। বিনা বাক্যব্যয়ে একশো ডলারের নোট কাস্টমস অফিসারের হাতে তুলে দিলেন এলি। অফিসারও ভাবলেসহীন মুখে নোটটা পকেটস্থ করে নিল। তারপরই এলির সুটকেসে কাস্টমসের চকের দাগ পড়ল। এলির দিকে চেয়ে ঠাণ্ডা গলায় অফিসার বলল, “ওয়েলকাম টু লেবানন।”

কাস্টমস অফিসের বাইরে এসে মজিদের এক গাল হাসি।

“শুনুন, এখানে সব কাজ করানো যায়। শুধু ঠিকঠাক সময়ে ঠিকঠাক লোককে ঠিকঠাক নৈবেদ্য দিতে হবে। এখানে বকশিশ হল সব কাজ করানোর জন্য চিঁচিং ফাঁক।”

তারপর একটু থেমে মজিদ বলল, “আমার গাড়ি নিয়েই সীমান্ত পার করব। দেখি আমার ড্রাইভারকে ফোন করি।”

বেইরুট বন্দরের মেন গেটের কাছে নীলরঙা টেলিফোন বুথ। সেখান থেকে ফোন করার জন্য পা বাড়াল মজিদ।

মজিদের যাওয়া দেখতে দেখতে আলির মনে পড়ল জাহাজে মজিদের কেবিনে সেই সান্ধ্য আড্ডার কথা। মজিদ বলছিল সে বহু এজেন্টকে সীমান্ত পার করিয়েছে।

“কিন্তু যদি কোনওদিন ধরা পড়েন? ভেবেছেন কখনও সে কথা?”

প্রশ্নটা শুনে একটু থমকেই গিয়েছিল মজিদ। তারপর মাথা চুলকে বলেছিল, “সত্যি বলছি, এসব কথা কস্মিনকালেও ভাবিনি। আসলে জানেন তো, রক্তে আমার অ্যাডভেঞ্চার রয়েছে। আজ নিয়েই ভাবি। কাল কী হবে, ইনসাআল্লাহ।”

গাড়ি বন্দর ছাড়িয়ে মূল শহরে ঢুকে পড়ল। রাস্তার দুপাশের স্থাপত্যে ফরাসি ছোঁয়া। ঠিক যেমন আলেকজান্দ্রিয়াতে। দেখতে দেখতে তন্ময় হয়ে গিয়েছিলেন এলি। তাঁর এই একাগ্রচিত্তে শহর দেখাটা নজর এড়ায়নি মজিদের।

ফোন সেরে একটু পরেই চলে এল মজিদ। ড্রাইভার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

গেটের উল্টোদিকেই এক ওপেন কাফে। বেশ সরগরম। কেউ কাগজে চোখ বোলাতে বোলাতে কফির কাপে চুমুক দিচ্ছে। কোনও টেবিলে আবার চার-পাঁচ জন কফির কাপ হাতে উত্তেজিত আলোচনা করছে। একটা টেবিলে একা বসে একজন। কোলের উপর ড্রইং বোর্ড। তাতে খসখস করে এই রাস্তার ব্যস্ততার পেন্সিল স্কেচ করছে। মাঝে মধ্যে টেবিলে কফির পেয়ালায় চুমুক দেওয়াও চলছে।

কেন জানি না, এই ওপেন কাফেটাকে এলির বেশ ভাল লেগে গেল। হয়তো ফেলে আসা আলেকজান্দ্রিয়া রাস্তার ধারের ওপেন ক্যাফের স্মৃতি ফের ফিরে এল। দু’জনে রাস্তা পেরিয়ে ওই কাফেতেই একটা ফাঁকা টেবিল দেখে বসে পড়লেন। বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না। মজিদের চালক সমেত লিমোজিন চলে এল।

Eli Cohen 22
“আমার গাড়ি নিয়েই সীমান্ত পার করব। দেখি আমার ড্রাইভারকে ফোন করি।”

“আরে আবু হেলদন। কত্তদিন বাদে দেখা। কেমন আছ দোস্ত?”

গাড়ি বন্দর ছাড়িয়ে মূল শহরে ঢুকে পড়ল। রাস্তার দুপাশের স্থাপত্যে ফরাসি ছোঁয়া। ঠিক যেমন আলেকজান্দ্রিয়াতে। দেখতে দেখতে তন্ময় হয়ে গিয়েছিলেন এলি। তাঁর এই একাগ্রচিত্তে শহর দেখাটা নজর এড়ায়নি মজিদের।

সিগারেটে সুখটান দিয়ে তাই মজিদ বলল, “মঁসিয়ে থাবেতের তো দেখছি বেইরুট বেজায় ভাল লেগে গিয়েছে।”

মজিদ এবার মজা করে বলল, “কেন আপনি হাশিস, ট্রান্সমিটার চোরাই পথে আনতে যাবেন মঁসিয়ে? তবে আমার বিশ্বাস আপনার মালপত্তর খুঁজলে কিছু না কিছু পাওয়া যাবে। ঠিক কী পাওয়া যাবে, তা অবশ্য খোদায় মালুম।”

মজিদের কথায় সম্বিৎ ফিরল এলির।

“ওই আর কি। সুন্দর তো বটেই শহরটা। আমি কেন, যে কারওর ভাল লাগবে। তবে আমি ভাবছিলাম অন্য কথা। কেমন সহজে ঘুষ দিয়ে বন্দরে কাজ হাসিল করা হল।”

শূন্যে ধোঁয়ার রিং ছেড়ে মজিদ জবাব দিল, “আদতে লেবানন খুব উদার দেশ। তাই এখানে কাজকর্ম করাও সোজা। সোজা কথায় পর্যটন নির্ভর দেশ তো। তাই পারতপক্ষে পর্যটকদের অসুবিধা করে না এঁরা।”

“কিন্তু অবাক লাগল আমার মালপত্র তো দেখলই না। আরে বাবা আমি তো ট্রান্সমিটার নিয়ে আসতে পারি। সুটকেসে হাশিস থাকতে পারে।”

মজিদ এবার মজা করে বলল, “কেন আপনি হাশিস, ট্রান্সমিটার চোরাই পথে আনতে যাবেন মঁসিয়ে? তবে আমার বিশ্বাস আপনার মালপত্তর খুঁজলে কিছু না কিছু পাওয়া যাবে। ঠিক কী পাওয়া যাবে, তা অবশ্য খোদায় মালুম।”

তারপর মুচকি হেসে মজিদ বলল, “আমি তো কাস্টমস অফিসার ব্যাটাকে বললাম, আপনার সুটকেসে যত রাজ্যের পণ্ডি আছে।”

কথাটা শুনে এলিও হেসে ফেললেন।

ভাবা যায়, শেষমেশ পর্নোগ্রাফি!

নাহ মজিদ লোকটা সত্যিই ধুরন্ধর। সব আঁটঘাট জানে। সাধে এই সীমান্ত পার করানোর মতো বিপদসঙ্কুল কাজটা মোসাদ একে দিয়েছে।

এলি দেখলেন, দু’জনে কথা বলতে বলতে গাড়ি থেকে একটু দূরে চলে গেল। সেখানেও দুজনের মধ্যে নিচু গলায় কথা হল। একটু পরে মজিদ গাড়ির কাছে ফিরে এল।

কয়েক ঘণ্টা পরে মজিদের লিমোজিন এসে দাঁড়াল লেবানন-সিরিয়া সীমান্তে। লিমো দেখে সিরীয় অফিসার নিজেই নড়েচড়ে বসল। শাঁসালো খদ্দের। হাত ঝাড়লেই পর্বত।

অফিসারকে নিজেই গাড়ির দিকে আসতে দেখে এলি যে বেশ টেনশনে পড়ে গিয়েছেন, তা নজর এড়ায়নি মজিদের। চাপা গলায় বলল, “আরে চাপ নেবেন না। আমি দেখছি ব্যাপারটা।”

সিরীয় অফিসার এসে গাড়ির আরোহীদের ভাল করে দেখল। এক গাল হেসে মজিদ ততক্ষণে পাসপোর্ট ভিসার কাগজপত্র ওর হাতে তুলে দিয়েছে। সেগুলো দেখে নিস্পৃহ মুখে অফিসার বলল, “কিছু ডিক্লেয়ার করার আছে?”

Eli Cohen 22
লিমোজিন ছুটে চলল দামাস্কাস পানে

এবার মজিদ এমন কিছু করল, যা এলি স্বপ্নেও কল্পনা করেননি।

গাড়ি থেকে নেমে চিৎকার করে মজিদ বলল, “আরে আবু হেলদন। কত্তদিন বাদে দেখা। কেমন আছ দোস্ত?”

এলি দেখলেন, দু’জনে কথা বলতে বলতে গাড়ি থেকে একটু দূরে চলে গেল। সেখানেও দুজনের মধ্যে নিচু গলায় কথা হল। একটু পরে মজিদ গাড়ির কাছে ফিরে এল।

“আসলে তক্ষুনি ওই নামটাই মাথায় এল। তবে নাম একটা আছে ছোঁড়ার। নাসিরউদ্দিন ওয়ালাদি। দোস্তি ফোস্তি কিছু না। তবে হ্যাঁ, চিনি ওকে। বেশ কয়েকবার সীমান্ত পারাপার করার সুবাদে।”

“দোস্ত আবু হেলদনের একটু টানটানি চলছে। শ’পাঁচেক ডলার হলে ওর একটু সুবিধা হয়।”

বিনা বাক্যব্যয়ে পাঁচটা শ’ডলারের কড়কড়ে নোট মজিদকে দিয়ে দিলেন এলি। সেটা অবিলম্বে চালান হল সিরীয় অফিসারের পকেটে।

সীমান্তের বাধা সরে গেল। মজিদের লিমোজিনে এলি এলেন সিরিয়াতে।

অনেকক্ষণ ধরে ভাবছিলেন মজিদকে জিজ্ঞাসা করবেন। গাড়ি সীমান্ত পেরোতেই এলি আর কৌতূহল চেপে রাখতে পারলেন না।

“আচ্ছা এই আবু হেলদন সত্যিই আপনার দোস্ত?”

“পাগল নাকি?” ফ্যাঁক করে খেঁকশিয়াল মার্কা হাসি হাসল মজিদ।

“আসলে তক্ষুনি ওই নামটাই মাথায় এল। তবে নাম একটা আছে ছোঁড়ার। নাসিরউদ্দিন ওয়ালাদি। দোস্তি ফোস্তি কিছু না। তবে হ্যাঁ, চিনি ওকে। বেশ কয়েকবার সীমান্ত পারাপার করার সুবাদে।”

এলি মজিদের দিকে চেয়ে রইলেন। দামাস্কাসে পৌঁছে আর দেখা হবে কি না কে জানে (তা অবশ্য হয়েছিল, মজিদের মাধ্যমেই দামাস্কাসে ভাল একটা আস্তানা জুটেছিল এলির)। আদতে যত দেখছেন মজিদকে, জাহাজেই নিজের বোহেমিয়ান জীবনের গল্প বলা অতীত মজিদের সঙ্গে বর্তমানে গাড়িতে পাশে বসা লোকটার সঙ্গে ততই মিল খুঁজে পাচ্ছেন এলি। সেই একই রকমের বিপদকে তুচ্ছ করে এগোনোর মনোভাব।

৫০-এর দশকের প্রথম দিকে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু হল। মজিদ বুয়েন্স এয়ার্সে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক অফিসারকে ধরল কোরিয়া যাওয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই অনুমতি মিলল না।

সে কাহিনি এক কথায় অত্যাশ্চর্য। যুদ্ধের আগে দামাস্কাসেই কৈশোর ও যৌবনের প্রথমভাগ কেটেছে মজিদের। ব্যবসা করে ভালই রেস্ত হচ্ছিল। কিন্তু হিটলারের নাৎসি বাহিনীর ইউরোপ আক্রমণের সুনামিতে মজিদ ভেসে গেল। তবে দুঃসাহসী মজিদ ভেঙে পড়ল না। উল্টে নাৎসিদের সঙ্গেই কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করে দিল। দেখতে দেখতে সেই ব্যবসাও দাঁড়িয়ে গেল।

কিন্তু ভাগ্যদেবী আবার মুচকি হাসলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে দু’দিক থেকে মার্কিন আর সোভিয়েত ইউনিয়নের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে জার্মানির নাৎসি সাম্রাজ্য শুধু ধ্বংসই হল না, দেশটাও দ্বিখণ্ডিত হল। মজিদের জীবনেও বিপদ ঘনিয়ে এল। নাৎসিদের সঙ্গে তার অমন ফুলে ফেঁপে ওঠা ব্যবসা কেবল লাটে উঠল তা নয়, নাৎসি-ঘনিষ্ঠ বলে মজিদেরও খোঁজ শুরু হল। উপয়ান্তর না দেখে জেনোয়া থেকে লাতিন আমেরিকাগামী জাহাজে চড়ে বসল সে। পৌঁছিয়ে গেল আর্জেন্টিনা। সেখানেও ব্যবসা শুরু করল এবং দেখতে দেখতে ব্যবসায়ী মজিদ বুয়েন্স এয়ার্সে রইস হিসাবে পরিচিত হয়ে গেল।

Eli Cohen 22
এলি কোহেন

কিন্তু এক জায়গায় বসে থাকা তো মজিদের রক্তে নেই। ৫০-এর দশকের প্রথম দিকে কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধ শুরু হল। মজিদ বুয়েন্স এয়ার্সে রাষ্ট্রসঙ্ঘের এক অফিসারকে ধরল কোরিয়া যাওয়ার জন্য। কিন্তু কিছুতেই অনুমতি মিলল না। এই সময়ই আর্জেন্টিনায় মোসাদের এক এজেন্ট বিপদে পড়ে মজিদের কাছে সাহায্য চাইল।

সেই থেকে মোসাদের সঙ্গে ওঠাবসা মজিদের।

এলি নিজের মনেই মুচকি হাসলেন, আর্জেন্টিনার ওই এজেন্টের মতো এক অর্থে তাঁকেও তো বিপদ থেকে রক্ষা করেছে মজিদ। 

লিমোজিন ছুটে চলল দামাস্কাস পানে।

তথ্যসূত্র
(১) ড্যানিয়েল গর্ডিস-ইজরায়েল- আ কনসাইজ হিস্টরি অফ আ নেশন রিবর্ন
(২) জ্যাক্সন হ্যালে-এলি কোহেন- দ্য স্পাই হু নিয়ারলি বিকেম আ সিরিয়ান মিনিস্টার-
(৩) এলি কোহেন- আ লাইফ অফ এসপিওনাজ অ্যান্ড স্যাক্রিফাইস
(৪) এলি বেন-হানান- আওয়ার ম্যান ইন দামাস্কাস-এলি কোহেন
(৫) পিটার ম্যান্সফিল্ড, নিকোলাস পেলহাম- আ হিস্টরি অফ দ্য মিডল ইস্ট
(৬) মাইকেল বার- যোহার, নিসিম মিশাল-মোসাদ

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Please login to bookmark Close
Picture of কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়

কিংশুক বন্দ্যোপাধ্যায়

মূলত শিল্প বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সাংবাদিকতায় ব্যপ্ত বিগত তিন দশক। তবে সুযোগ পেলে ক্যামেরা নিয়ে বেড়িয়ে পড়া বা অন্য ধরনের লেখাতে প্রাণের আরাম খোঁজার চেষ্টাও চলে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

The Banglalive's Picks

Weekly Newsletter

Enjoy our flagship newsletter as a digest delivered once a week.

By signing up, you agree to our User Agreement and Privacy Policy & Cookie Statement.

Please login to bookmark Close
বাংলা সংগীতজগতের একটি অতি পরিচিত নাম বনশ্রী সেনগুপ্ত। শুধু পরিচিত বললে ভুল হবে, জনপ্রিয়ও বটে। বহু বিখ্যাত গীতিকার এবং সুরকারের কথা ও সুরে গান গেয়েছেন এই শিল্পী। জীবনে প্রথম তাঁর গান শুনেছিলাম কেশব চন্দ্র সেন স্ট্রিটে আমার মামাবাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে। ফাটাকেষ্টর কালীপুজোয় এসেছিলেন গান গাইতে। লিখছেন অরিজিৎ মৈত্র...
Please login to bookmark Close
ছবির শুটিং শুরুর প্রথম দিকে ইউনিটের অনেকেই আমজাদ খানকে নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। বিশেষ করে তাঁর গলার স্বর নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেলিম-জাভেদের মনে হয়েছিল আমজাদের গলার আওয়াজ গব্বর সিংয়ের মতো খলনায়ক হিসেবে বড্ড বেশি ‘পাতলা’ বা ‘খসখসে’। লিখছেন প্রেমেন্দু বিকাশ চাকী...
Please login to bookmark Close
পঞ্চম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়সীমা ছিল ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৯। পরিকল্পনার প্রধান লক্ষ্য ছিল— দারিদ্র্য দূরীকরণ। চলতি কথায় যা ‘গরিবি হঠাও’ নামে প্রচারিত হত। আত্মনির্ভরশীলতা অর্থাৎ বিদেশি সহায়তার উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎপাদন ও সম্পদের উন্নয়নও লক্ষ্য ছিল। পড়ুন প্ল্যানিং কমিশন প্রবর্তন থেকে বিসর্জন পর্ব ৬। লিখছেন অমিতাভ রায়...

Subscribe

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com