(Sarat Chandra Popularity)
‘আচ্ছা, শরৎবাবুর বই কি বাংলা ভাষায় তর্জমা হয়েছে!’ একজন নাকি প্রশ্ন করেছিলেন একবার। গল্পটা শুনিয়েছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়।
বানানো গল্পই হয়তো, মজা করে বলা। কিন্তু এর মধ্যে লুকিয়ে আছে একটা সত্য। এলিট সমালোচকেরা যা-ই বলুন, বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁকে যেমন করেই দেখানো হোক; জনপ্রিয়তায় তিনি দিগ্বিজয় করেছিলেন ভারতীয় সাহিত্যে। ভাষা-সংস্কৃতির সঙ্গে অপরিচয়ের দূরত্ব কোথাও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।
আরও পড়ুন: উৎকৃষ্ট বাঙালি প্র না বি
শরৎচন্দ্রের জন্মের দেড়শো বছরে বাংলার সাহিত্য-ভুবনের সেই চিরপরিচিত দ্বন্দ্বই নতুন করে ফিরে আসে। জনপ্রিয় সাহিত্য আর শিল্পোত্তীর্ণ সাহিত্যের দ্বন্দ্ব। ‘শিল্পোত্তীর্ণ সাহিত্য’ কথাটা শুনতে খানিক ‘ক্লিশে’ হলেও যে মনোভাব নিয়ে শরৎ-সাহিত্যকে মোটের উপর দেখেছে আমাদের অ্যাকাডেমিক সাহিত্যমহল, তার মূল অভিযোগটি ওই শব্দবন্ধেই ভাল বোঝানো যায়।
তার উল্টোদিকের ধারাও একটা ছিল। সে ধারায় মূলত ছিলেন লেখক এবং অন্য ধারার পত্রিকা সম্পাদকেরা। সাহিত্যের উচ্চমানের সঙ্গে জনপ্রিয়তার যে কোনও স্বতোবিরোধ নেই, সে কথা খুব জোরের সঙ্গে বলেছেন তাঁরা, যেমন ‘অচলপত্র’-এর সম্পাদক দীপ্তেন্দ্রকুমার সান্যাল।

‘সাহিত্য দুঃসংবাদ’ নামে সেই পত্রিকার এক আশ্চর্য মজার বিভাগে সত্তর বছর আগেই তীব্র ভাষায় লেখা হচ্ছে ‘নতুন সাহিত্য’ নিয়ে— ‘আসল কথা হচ্ছে কোনও এক সময়ে এরা সাহিত্যিক হবেন ভেবেছিলেন। না হতে পেরে এরা কেউ বিজ্ঞাপনওলা cum পাব্লিশার; কেউ ছাপাওলা cum পাব্লিশার হয়েছেন। ফলে কামাই নেই সাহিত্য সম্বন্ধে আলটু বালটু বকার।…এরাই, এই সব মালেদের ধারণা বই বা কাগজ বিক্রী না হলেই সাহিত্য হল।’
দীপ্তেন্দ্রকুমার আরও লিখছেন, ‘যা লোকে বোঝে না তাই সত্যকারের মহৎ সৃষ্টি। উদাহরণ দেয়, বই বিক্রী ত’ শশধর দত্তরও হয়; বিক্রী হয় বলেই কি তা সাহিত্য? না। নয়। কিন্তু সেই সঙ্গে শরৎচন্দ্রও বিক্রী হয় যে! সেক্সপীয়রের বিক্রী যে এখনও অটুট। বিক্রী হয় বলে কি শরৎচন্দ্র সাহিত্য ভ্রষ্ট?’
আসলে, বঙ্কিমচন্দ্র তৈরি করেছিলেন বাংলা উপন্যাসের রাজকীয় সৌধ। রবীন্দ্রনাথ তাকে বিশ্বমানবের আত্মিক ও দার্শনিক উপলব্ধির প্রেক্ষিতে এক প্রসারণ দিয়েছিলেন। এই দুই দিকপালের পরে শরৎচন্দ্র এলেন।
বিশ্বসাহিত্যের ইতিহাসের দিকে তাকালে কথাটা আরও বাড়িয়ে নেওয়া যায়। শেক্সপিয়র ছিলেন তাঁর এলিজাবেথীয় যুগের নাট্যমঞ্চের সবচেয়ে জনপ্রিয় ও বাণিজ্যসফল নাট্যকার। চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসের জন্য লন্ডনের বন্দরে সাধারণ মানুষের ভিড় লেগে যেত; টলস্টয় বা দস্তয়েভস্কি তাঁদের সময়ের তো বটেই, আজও লক্ষ লক্ষ পাঠকের মন জয় করছেন।
আসলে, বঙ্কিমচন্দ্র তৈরি করেছিলেন বাংলা উপন্যাসের রাজকীয় সৌধ। রবীন্দ্রনাথ তাকে বিশ্বমানবের আত্মিক ও দার্শনিক উপলব্ধির প্রেক্ষিতে এক প্রসারণ দিয়েছিলেন। এই দুই দিকপালের পরে শরৎচন্দ্র এলেন। ভবঘুরে, ঘর-ছাড়া, প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার আর স্বীকৃতি কপালে-না-জোটা এক ঔপন্যাসিক হিসেবে।

দুটো মনের কথা যাঁকে মনে মনে সরাসরি বলতে পারে সাধারণ পাঠক, আধুনিক গানে যাঁকে শরৎবাবু বলে খোলা চিঠি দেওয়া যায়। তিনি নিজের বিশ্বাস চাপিয়ে দিতে চান না পাঠকের উপরে। শুধু যা দেখেছেন, যে ভাবে দেখেছেন; সেইটে বলে যান। সেই দেখাটা এত বিপুল, এত মাটির কাছাকাছি যে, পাঠক নিজেরই নানা সত্তাকে যেন সহজে তার সঙ্গে আইডেন্টিফাই করে নিতে পারে।
উনিশ আর বিশ শতকের সন্ধিতে একজন বাঙালি ঘুরে বেড়াচ্ছে পথে পথে, হয়ে উঠছে পান্থজনের সখা, তারপরে মন ছুঁয়ে যাওয়া গদ্যে শোনাচ্ছে সেই আশ্চর্য সখ্যের গল্প— এই নতুন লেখায় বাংলা তথা ভারতীয় সাহিত্যেই উঠেছিল জনপ্রিয়তার জোয়ার। ভাগলপুরের দিনেরাতে, রেঙ্গুনের কুলি-মিস্ত্রি-যৌনকর্মীপল্লীতে ‘পাপ’বিদ্ধ জীবনের অপাপবিদ্ধ গল্পগুলি একটানা ছিছি শুনেছে অনেক। তবু তাকে উপেক্ষা করতে পারেনি।
যে নারী সমাজের চোখে অপাঙ্ক্তেয়— পতিতা, কুলত্যাগিনী, কিংবা নিগৃহীতা বালবিধবা— শরৎচন্দ্র দূর থেকে তাঁদের সমবেদনা জানাননি, আরোপিত কোনও মহিমাও দিতে চাননি— কেবল তাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং বলেছেন।
জনপ্রিয়তার এই রসায়ন ব্যাখ্যা করতে পারেনি অ্যাকাডেমিক সাহিত্যচর্চা। বাংলার যেহেতু কোনও নিজস্ব সাহিত্যতত্ত্ব গড়েই ওঠেনি কোনওকালে, অতি প্রাচীন পাশ্চাত্য আর প্রাচ্যতত্ত্বেই তার প্রধান নির্ভর; তাই কোনও খোপেই শরৎচন্দ্রকে আঁটানো যায়নি। তাঁর উপরে পড়ে গিয়েছে কিছু মার্কা— ‘মধ্যবিত্তের কান্নার খোরাক’ বা ‘চটুল রোমান্টিকতা’। লীলারানি গঙ্গোপাধ্যায়কে শরৎচন্দ্র লিখেছিলেন: “কবি-কল্পনা দিয়ে নয়, নিজের জীবনকে ফোঁটায় ফোঁটায় গলিয়ে নিঃশেষে নীরবে দগ্ধ ক’রে যে-অভিজ্ঞতা আহরণ করেচি… আমার সাহিত্যেও হয়তো সেইটাই ফুটে উঠেছে বারংবার…।”

যে নারী সমাজের চোখে অপাঙ্ক্তেয়— পতিতা, কুলত্যাগিনী, কিংবা নিগৃহীতা বালবিধবা— শরৎচন্দ্র দূর থেকে তাঁদের সমবেদনা জানাননি, আরোপিত কোনও মহিমাও দিতে চাননি— কেবল তাদের কথাগুলো শুনেছেন এবং বলেছেন।
উপন্যাসের মাধ্যমে সমাজ সংস্কারের কোনও অনুশীলনপর্ব শরৎচন্দ্রের ছিল না। প্রগতিশীল শিবিরের অন্যতম বড় অভিযোগ ছিল সেটাই। শরৎচন্দ্র সমস্যার মূলে হাত দিয়েছেন, অচলায়তনকে নাড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চিরকালীন সংস্কারের কাছে তাঁর চরিত্ররা মাথা নত করেছে।
কেন রমা ও রমেশের মিলন ঘটল না? কেন রোহিণীর মতো সাহস নিয়ে রমা সমাজ ভাঙার পথে পা বাড়াল না? কেন রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্তের এত কাছে এসেও কাশীবাসী তপস্বিনী হয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিল? এ সব অভিযোগ বারবার শরৎচন্দ্রের বিরুদ্ধে উঠেছে।
‘দরদী’ বিশেষণটা তাই খুব সহজেই বসে গিয়েছিল তাঁর নামের আগে। নিজেই তো লিখেছেন রমা-রমেশের কথাটা, রমার মত নারী এবং রমেশের মত পুরুষ কোন কালে কোন সমাজেই দলে দলে ঝাঁকে ঝাঁকে জন্মগ্রহণ করে না।
সাধারণ মানুষের গড় জীবন যেমন চাপিয়ে দেওয়া সমাজনীতি মেনে চলতে চায় না, আবার বিদ্রোহও করতে পারে না; শরৎচন্দ্রের চরিত্ররাও তা-ই। সঙ্কোচের কল্পনাতে ম্রিয়মান যে নিয়ত পুড়তে থাকা জনসমাজ, শরৎচন্দ্রে তারা পেয়েছিল বিপুল শ্যামল এক স্নেহ।
‘দরদী’ বিশেষণটা তাই খুব সহজেই বসে গিয়েছিল তাঁর নামের আগে। নিজেই তো লিখেছেন রমা-রমেশের কথাটা, “রমার মত নারী এবং রমেশের মত পুরুষ কোন কালে কোন সমাজেই দলে দলে ঝাঁকে ঝাঁকে জন্মগ্রহণ করে না। উভয়ের সম্মিলিত পবিত্র জীবনের মহিমা কল্পনা করা কঠিন নয়। কিন্তু হিন্দু সমাজে এ সমাধানের স্থান ছিল না। তার পরিণাম হ’ল এই যে, এতবড় দুটি মহাপ্রাণ নরনারী এ জীবনে বিফল, ব্যর্থ, পঙ্গু হয়ে গেল।”
একদিন এই দিক থেকেই খুব তীব্র সমালোচনা করেছিলেন তিনি, বঙ্কিমচন্দ্রের, ‘গোবিন্দলালকে রোহিণী অকপট এবং অকৃত্রিমভাবেই ভালবেসেছিল— সমস্ত হৃদয়-প্রাণ দিয়েই ভালবেসেছিল, এবং এ প্রেমের প্রতিদান যে সে পায়নি তাও নয়। কিন্তু হিন্দুধর্মের সুনীতির আদর্শে এ প্রেমের অধিকারী সে নয়, এ ভালবাসা তার প্রাপ্য নয়। সে পাপিষ্ঠা, তাই পাপিষ্ঠাদের জন্য নির্দিষ্ট নীতির আইনে বিশ্বাসঘাতিনী তার হওয়া চাই এবং হলোও সে।… মিনিট পাঁচেকের দেখায় নিশাকরের প্রতি আসক্ত এবং [গোবিন্দলালের] পিস্তলের গুলিতে মৃত্যু। মৃত্যুর জন্য আক্ষেপ করিনে, কিন্তু করি তার অকারণ, অহেতুক জবরদস্তির মৃত্যুতে। হতভাগিনীর অস্বাভাবিক মরণে পাঠকপাঠিকার সুশিক্ষা থেকে আরম্ভ ক’রে সমাজের বিধি ও নীতির Convention সমস্তই বেঁচে গেল সন্দেহ নেই, কিন্তু ম’ল সে, আর তার সঙ্গে সত্য, সুন্দর, art। উপন্যাসের চরিত্র শুধু উপন্যাসের আইনেই মরতে পারে, নীতির চোখরাঙানিতে তার মরা চলে না।” (‘সাহিত্য ও নীতি’)
নিজের জীবনেও তো তিনি সমাজ-বিপ্লবী হয়ে উঠতে চাননি। নিরুপমা দেবীর কথাই ধরা যাক। ভাগলপুরের ভট্টবাড়ির বাল্যবিধবা নিরুপমা। সেই সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আছে।
শরৎচন্দ্রের বিরুদ্ধে প্রগতিশীলদের যে অভিযোগ, তাকে আরও উসকে দিয়েছে শরৎচন্দ্রের এই বঙ্কিম-পাঠ। প্রশ্ন উঠেছে, ‘নীতিবাদী’ বলে শরৎচন্দ্র যাঁকে অভিযুক্ত করছেন সেই বঙ্কিমচন্দ্র তো বিধবাবিবাহ দিয়েছিলেন, শরৎচন্দ্র তো বেশ কয়েকটি যোগ্য বিধবার সৃষ্টি করেও সে সাহস দেখাতে পারেননি।
আসলে পাঠকের সংস্কারে আঘাত দিতে চাননি তিনি। পাঠকের নিজের সংকটের যে রুদ্ধ যন্ত্রণা, তার ক্যাথারসিস ঘটবে শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের পরাজিত নায়ক-নায়িকার মধ্যে নিজেকে দেখায়; এটাই কি চেয়েছিলেন শরৎচন্দ্র? উপন্যাসে কোনও ব্যতিক্রমী বাস্তবতা তৈরি করে সমাজ-বিপ্লবী হয়ে ওঠা নায়ক-নায়িকা তাঁর রোজ-হেরে-যেতে-থাকা পাঠকের কাছে দূরের মানুষ হয়ে উঠবে, এই আশঙ্কা কি তাঁর ছিল?

নিজের জীবনেও তো তিনি সমাজ-বিপ্লবী হয়ে উঠতে চাননি। নিরুপমা দেবীর কথাই ধরা যাক। ভাগলপুরের ভট্টবাড়ির বাল্যবিধবা নিরুপমা। সেই সম্পর্ক নিয়ে বিতর্ক আছে। পরে রাধারানী দেবী বলেছেন, শরৎচন্দ্র দুবার নিরুদ্দেশ হয়েছেন নিরুপমার চিঠির জন্য। একবার ভাগলপুর থেকে। চিরকুট পেয়েছিলেন ‘আপনি এদেশ ছাড়িয়া অনেক দূরে চলিয়া যান। আর এখানে আসিবেন না। আমাকে এভাবে নষ্ট করিবেন না।’
এই চিরকুট পাওয়ায়, শরৎচন্দ্র লিখছেন, “তিন ঘণ্টার মধ্যে দেশত্যাগ ক’রে সন্ন্যাসী হয়ে গেছলুম।” কলকাতায় যখন শরৎচন্দ্র, তখন চিঠি লিখেছিলেন নিরুপমাকে। রাধারানীকে বলছেন শরৎচন্দ্র, “নির্দোষ নির্মল সে চিঠি। কিন্তু সেটা অন্য লোকদের হাতে পড়েছিল। আর চিঠি লেখাটাই তো মৌলিক অপরাধ। ভালমন্দের প্রশ্নই ওঠে না। ফলে ডাকযোগে নির্বাসনদণ্ড এসে গেল।”
অনেকে মনে করেন, নিরুপমাই সেই মেয়ে। নিরুপমা খুব বড় লেখক হয়ে উঠবেন, আশা ছিল তাঁর। কিন্তু সে আশা ব্যর্থ হল কীসে? কারণটা লক্ষ করে দেখার মতো।
নিরুপমা লিখেছেন, ‘এখানে যোগাযোগ আর কখনো রাখবেন না। আপনি অনেক দূরে চলে যান। আমাকে নিশ্বাস নিয়ে বাঁচতে দিন।’ সে চিঠি পেয়ে, জল-ছলছল চোখে শরৎচন্দ্র বলেছেন, “এক লাফে সাগরপার।… দু-তিন দিনের মধ্যেই বিলিবন্দেজ ক’রে ফেললুম। দেরি করিনি।”
কাশীর কবিরাজ হরিদাস শাস্ত্রীকে একবার বলেছিলেন, ‘প্রথম যৌবনে আমি একটি মেয়েকে ভালবেসেছিলাম। ভালবাসা নিষ্ফল হল, কিন্তু সমস্ত উচ্ছৃঙ্খলার মধ্যে সে এসে দাঁড়িয়েছে আমার সামনে। সশরীরে যে নয়, সে তোমায় বোঝাতে হবে না বোধ হয়।…তার পরিচয় চাও ত? না, তা দেব না।’

অনেকে মনে করেন, নিরুপমাই সেই মেয়ে। নিরুপমা খুব বড় লেখক হয়ে উঠবেন, আশা ছিল তাঁর। কিন্তু সে আশা ব্যর্থ হল কীসে? কারণটা লক্ষ করে দেখার মতো।
শরৎচন্দ্র লিখছেন লীলারাণী গঙ্গোপাধ্যায়কে, “বুড়ির উপর আমার ভারি আশা ছিল, কিন্তু সে ঐ একটা ‘দিদি’ ছাড়া আর কিছুই লিখতে পারলো না। কেন জানো? বার-ব্রত, জপতপ ইত্যাদি জ্যাঠামির আগুনে ভিতরে তার যা-কিছু মধু ছিল, সব বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শুকিয়ে গেল। অবশ্য আতিশয্যের জন্যেই, না হলে আমাদের ঘরের কোন্ মেয়ে আর এ-সব ব্যাপার কিছু কিছু না করে?”
গত শতকের গড় বাঙালির প্রেমের ইতিহাস বলবে— ভয়ের কাঁটাতেই বারবার ঢাকা পড়ে গিয়েছে হৃদয়। শরৎচন্দ্রের উপন্যাস-জীবন কাঁটা সরানোর মায়ায় বিশ্বাস করেনি, কেবল ক্ষতবিক্ষত হৃদয়কে দেখিয়েছে।
তাই কি তাঁকে এমন করে বরণ করে নিয়েছিল দেশের হৃদয়!
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত