Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতি কি বাম থেকে দক্ষিণমুখী?

প্রদীপ বসু

জুন ১, ২০২৬

Right Wing Politics
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Right Wing Politics)

পশ্চিমবঙ্গ দীর্ঘদিন ভারতীয় রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি ব্যতিক্রমী অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ঔপনিবেশিক যুগের নবজাগরণ, ভদ্রলোক জাতীয়তাবাদ, ঔপনিবেশিক ও উত্তর-ঔপনিবেশিক আধুনিকতা, মার্কসবাদী রাজনীতি, গণআন্দোলন এবং বামপন্থী সাংস্কৃতিক আধিপত্য (কালচারাল হেজিমনি) বাংলাকে ‘ভারতের বামপন্থী প্রগতিশীল সেকুলার বুদ্ধিবৃত্তির কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচিত করেছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশক থেকে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। দীর্ঘ বাম শাসনের পতনের পর এ রাজ্যে প্রথমে ডান-ঘেঁষা জনতুষ্টিবাদী (পপুলিস্ট) আঞ্চলিক রাজনীতি, এবং পরে দক্ষিণপন্থী ধর্মীয় জাতীয়তাবাদ শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 

এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র নির্বাচনী ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। আমি এই লেখায় সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বিশ্লেষণ করব না। এই নির্বাচন অনেকের কাছেই অন্যরকম লেগেছে। পণ্ডিতদের মধ্যে বিতর্কও আছে। ফলাফলের পিছনে অনেকে অনেক কারণ উল্লেখ করেছেন। যেমন, কেউ বলবেন হেজিমনির কথা, কেউ বলবেন সদ্যপ্রাক্তন সরকারি দলের দুর্নীতি নিয়ে মানুষের ক্ষোভের (আনটি-ইনকামবেনসি) কথা, কেউ নির্বাচন কমিশনের, কেউ মিডিয়ার, কেউ আবার SIR-এর ভুমিকায় সন্তুষ্ট নন। তবে আমি বোঝার চেষ্টা করব বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাম থেকে ডানদিকে পরিবর্তনের প্রবণতা কেন পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই বিশ্লেষণে মুসোলিনির ফাসিস্ত সরকারের জেলে দীর্ঘকাল বন্দী ইতালির কমিউনিস্ট পার্টির বিশিষ্ট দার্শনিক নেতা আন্তনিও গ্রামশি (১৮৯১-১৯৩৭)-র ‘হেজিমনি’র ধারণাকে ব্যবহার করা যায়।


আরও পড়ুন: এবার ভাল থেকো অনীকদা


গ্রামশির ‘আধিপত্য’ 

গ্রামশির তত্ত্বে, সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত-নৈতিক আধিপত্য বলতে মূলত সম্মতির ভিত্তিতে শাসনের নৈতিক বৈধতা এবং শাসকের নৈতিক নেতৃত্বকে বোঝায়। অনেকেই জানেন, লেনিনের (১৮৭০-১৯২৪) বক্তব্য ছিল, পুঁজিবাদী রাষ্ট্র হল বলপ্রয়োগের উপর ভিত্তি করে শ্রেণিগত প্রভুত্বের (ডমিনেশন) একটি হাতিয়ার; জনগণ শোষিত হয়েও পুলিশ, সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ, কারাগার ইত্যাদির কারণে রাষ্ট্রকে মান্য করে। তবে, লেনিনের এই সূত্রের সাথে গ্রামশি (১৮৯১-১৯৩৭) যোগ করেছেন, রাষ্ট্র হল এই দুটি বিষয়ের সমন্বয়। এক, বলপ্রয়োগের উপর ভিত্তি করে গঠিত রাজনৈতিক সমাজ (political society), এবং সম্মতির উপর ভিত্তি করে গঠিত নাগরিক সমাজ (civil society) (আলথুসারের RSA এবং ISA-এর সঙ্গে তুলনীয়)।

রাজনৈতিক সমাজ গঠিত হয় পুলিশ, সেনাবাহিনী, আমলাতন্ত্র, বিচার বিভাগ, কারাগার এবং অন্যান্য বলপ্রয়োগকারী সংস্থা দ্বারা; কিন্তু নাগরিক সমাজ গঠিত হয় পরিবার, গণমাধ্যম, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যক্তিগত, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দ্বারা। এইসব প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রের তাৎক্ষণিক ও প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ থেকে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন বলে মনে করা হয়, এবং এরা বুর্জোয়াদের সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত-নৈতিক আধিপত্য থেকে উদ্ভূত সাধারণ বোধবুদ্ধি (কমন সেন্স) পুনরুৎপাদনকারী সম্মতি (কন্সেন্ট) তৈরি করে, যা আমাদের চিন্তাভাবনাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে, এবং শাসনকে বৈধতা দেয়। ভারতে নাগরিক সমাজ পশ্চিমি বিশ্বের তুলনায় অনেক ছোট, এবং কম প্রভাবশালী হতে পারে। তবুও এটি বৃহত্তর সমাজের মূল্যবোধকে প্রভাবিত করে (এমনকি সমাজবিজ্ঞানী পার্থ চ্যাটার্জী বর্ণিত ‘পলিটিক্যাল সোসাইটি’-কেও)।

Right Wing Politics
নাগরিক সমাজ গঠিত হয় পরিবার, গণমাধ্যম, শিক্ষাগত, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মতো ব্যক্তিগত, স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দ্বারা

পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাম থেকে ডানে যে পরিবর্তনের প্রবণতার কথা বর্তমানে বলা হচ্ছে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক পুনর্গঠনের ফলাফল, যার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ঔপনিবেশিক আধুনিকতা, শ্রেণি রাজনীতি, দেশভাগ, উদ্বাস্তু স্মৃতি, অর্থনৈতিক পরিবর্তন, মিডিয়া সংস্কৃতি এবং নতুন ধরনের রাজনৈতিক আবেগ। 

ঔপনিবেশিক আধুনিকতা ও ভদ্রলোক রাজনৈতিক সংস্কৃতি

আধুনিক বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির শিকড় ঔপনিবেশিক আধুনিকতার ভিতরে নিহিত। আধুনিক পশ্চিমি শিক্ষা, মুদ্রণ, সংবাদপত্র, পাশ্চাত্য যুক্তিবাদ, মধ্যবিত্ত শ্রেণির উদ্ভব ও রাজনৈতিক চেতনার বিকাশ উনিশ শতকে বঙ্গীয় রেনেসাঁস ঘটায়। কিন্তু মূলত উচ্চবর্ণীয় শিক্ষিত ভদ্রলোক সমাজই আধুনিকতার প্রধান বাহক হয়ে ওঠে। ফলে ‘বাঙালি’ পরিচয়ও অনেকাংশে ভদ্রলোক সংস্কৃতির মাধ্যমে নির্মিত হয়। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ঔপনিবেশিক জাতীয়তাবাদ পশ্চিমি আধুনিকতাকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেনি; বরং ‘inner’ ও ‘outer’ domain-এ বিভাজন করে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতে চেয়েছিল। বাংলার বাম রাজনীতিও পরবর্তীকালে এই ভদ্রলোক আধুনিকতার সীমাবদ্ধতা বহন করে।

কারওর কারওর মতে গ্রামশির “national-popular” ধারণাটি এখানে প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ সংক্ষেপে, কোনও রাজনৈতিক শক্তি তখনই আধিপত্য-সম্পন্ন হয়ে ওঠে, যখন সে সাধারণ মানুষের ভাষা, আবেগ ও স্মৃতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক কল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। IPTA সেই কাজ করেছিল।

IPTA, গণসংস্কৃতি ও বাম ‘জাতীয়-জনপ্রিয়’

বাংলায় বাম রাজনীতির শক্তি শুধু নির্বাচনী সংগঠনে সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একটি সাংস্কৃতিক প্রকল্প। ১৯৪০-এর দশকে IPTA (Indian People’s Theatre Association) গণসংস্কৃতিকে উপনিবেশবিরোধী ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিল। দুর্ভিক্ষ, কৃষক সংগ্রাম এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অভিজ্ঞতা গণনাট্য, গণসংগীত ও কবিতার ভাষায় রূপ পায়। বিজন ভট্টাচার্যের ‘নবান্ন’, সলিল চৌধুরীর গান, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের লোকসঙ্গীতভিত্তিক রাজনৈতিক চর্চা— সব মিলিয়ে বামপন্থা জনসাধারণের মধ্যে দৃঢ়মূল এক বামপন্থী প্রগতিশীল সেকুলার সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত-নৈতিক কাউন্টার-হেজিমনি গড়ে তুলতে সমর্থ হয়।

কারওর কারওর মতে গ্রামশির “national-popular” ধারণাটি এখানে প্রাসঙ্গিক। অর্থাৎ সংক্ষেপে, কোনও রাজনৈতিক শক্তি তখনই আধিপত্য-সম্পন্ন হয়ে ওঠে, যখন সে সাধারণ মানুষের ভাষা, আবেগ ও স্মৃতিকে বৃহত্তর রাজনৈতিক কল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে পারে। IPTA সেই কাজ করেছিল। শ্রমিক-কৃষকের অভিজ্ঞতা একটি বৃহত্তর প্রগতিশীল সেকুলার বাঙালি আত্মপরিচিতির অংশ হয়ে ওঠে। 

Right Wing Politics
১৯৪০-এর দশকে IPTA (Indian People’s Theatre Association) গণসংস্কৃতিকে উপনিবেশবিরোধী ও সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত করেছিল

বাম হেজিমনি ও ‘পার্টি-সমাজ’

১৯৬৬-৬৭ সালে খাদ্য আন্দোলন হয়। ১৯৬৭-তে নকশালবাড়ির কৃষক সংগ্রাম ঘটে, ও একইসঙ্গে যুক্তফ্রন্ট সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার পরে বামফ্রন্ট সরকার ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী বামপন্থী রাজনৈতিক হেজিমনি গড়ে ওঠে। ভূমি সংস্কার, অপারেশন বর্গা, সাম্প্রদায়িকতা রোধ এবং পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গ্রামীণ সমাজে নতুন ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি করে। গ্রামশির ভাষায় বলা চলে, এটি কেবল বলপ্রয়োগের ওপর দাঁড়ানো শাসন ছিল না; বরং সম্মতিরও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। শিক্ষক সংগঠন, শ্রমিক ইউনিয়ন, কৃষক সমিতি, ছাত্র রাজনীতি, সাহিত্য, সিনেমা, নাটক এবং লিটল ম্যাগাজিন আন্দোলন মিলিয়ে বামপন্থা এক শক্তিশালী সাংস্কৃতিক ‘কমন সেন্স’ তৈরি করতে সক্ষম হয়।

কিন্তু ৩৪ বছরের দীর্ঘ শাসনে ক্রমশ দলীয় নিয়ন্ত্রণ সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছিল। অধ্যাপক দ্বৈপায়ন ভট্টাচার্য এই কাঠামোকে ‘party-society’ বলেছেন। তাঁর মতে, পশ্চিমবঙ্গে পার্টি ও সমাজের সম্পর্ক এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল, যেখানে নাগরিক জীবনের প্রায় প্রতিটি স্তর দলীয় mediation-এর দ্বারা পরিচালিত হত। প্রথম পর্যায়ে এই ব্যবস্থা নিম্নবর্গীয় (sub-altern) জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ালেও, পরে তা আমলাতান্ত্রিক প্রভুত্বে পরিণত হয়। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের জায়গায় আনুগত্যভিত্তিক নিযুক্তি (loyalty-based incorporation) গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে বামপন্থা র‍্যাডিকাল রাজনীতির বদলে প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতীক হয়ে ওঠে।

এখানে একটি ঐতিহাসিক irony কাজ করে— যে সরকার ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছিল, সেই সরকারই পরে উন্নয়নের জন্যে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করতে যায়। 

সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম ও বাম আধিপত্যের সংকট

বাংলার বাম রাজনীতির নৈতিক সংকট সবচেয়ে স্পষ্টভাবে সামনে আসে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের সময়। শিল্পায়নের জন্যে জমি অধিগ্রহণের প্রশ্নে বাম সরকার কৃষকসমাজের একটি অংশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। এখানে একটি ঐতিহাসিক irony কাজ করে— যে সরকার ভূমি সংস্কারের মাধ্যমে কৃষকদের রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী করেছিল, সেই সরকারই পরে উন্নয়নের জন্যে কৃষিজমি অধিগ্রহণ করতে যায়। 

এ নিয়ে বিভিন্ন ধারার বামপন্থীদের মধ্যেও বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি শিল্প হবে না? বেকারত্ব ঘুচবে কী করে? কেউ বলেন, তা বলে বহু ফসলি জমি কেন বেসরকারি শিল্পপতিদের হাতে তুলে দিতে হবে? অনেকের বক্তব্য, আধুনিকতামুখী উন্নয়নবাদ এখানে নিম্নবর্গীয় জীবনবিশ্ব (subaltern lifeworld)-এর উপর আধিপত্য বিস্তার করতে চেয়েছিল। কারণ কৃষকদের কাছে জমি শুধু অর্থনৈতিক সম্পদ নয়; এটি তাঁদের সামাজিক পরিচয় ও জীবনজগতের অংশ। ফলে সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম বামেদের নৈতিক বৈধতাকে গভীরভাবে আঘাত করে।

Right Wing Politics
এই পরিবর্তনকে শুধুমাত্র নির্বাচনী ফলাফল দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না

‘পরিবর্তনে’র যুগ: আবেগ, জনতুষ্টিবাদ ও সীমাবদ্ধতা

‘পরিবর্তনে’র যুগে বামেদের নৈতিক বৈধতার সংকটকে আবেগনির্ভর জনতুষ্টিবাদ (affective populism)-এর ভাষায় রূপান্তরিত করা হয়। নতুন শাসকের উত্থান বাংলার রাজনৈতিক ভাষাকে বদলে দেয়। দলনেত্রী নিজেকে নিপীড়িত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর ‘মা-মাটি-মানুষ’ স্লোগান মতাদর্শের চেয়ে আবেগসর্বস্ব একাত্মতার উপর বেশি নির্ভরশীল ছিল। কেউ কেউ সমকালীন গণতন্ত্রকে ‘দৃশ্যনির্ভর’ গণতন্ত্র (spectacle democracy) হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। অর্থাৎ, বর্তমান রাজনীতি আরও বেশি করে ‘সম্পাদন’ (performance) ও জনমোহিনী শক্তি (charisma)-এর ওপর দাঁড়িয়ে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের street-fighter ভাবমূর্তি এই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতিরই অংশ। বামেদের মতাদর্শ, সংগঠন, পার্টি ইত্যাদি সিরিয়াস রাজনীতির বিপরীতে নতুন শাসক আর এক ধরনের আবেগনির্ভর অন্তরঙ্গতার রাজনীতি গড়ে তোলে। ভাতা প্রকল্প, ক্লাব সংস্কৃতি, জনতুষ্টিমুখী প্রতীকবাদের মাধ্যমে নাগরিক ও রাষ্ট্রের নতুন সম্পর্ক নির্মিত হয়। 

আরনেস্টো লাক্লাউ-এর জনতুষ্টিবাদের তত্ত্ব অনুযায়ী, জনতুষ্টিবাদ বিচ্ছিন্ন সামাজিক ক্ষোভগুলিকে ‘জনগণ’ নামে একক রাজনৈতিক পরিচয়ের রূপ দেয়। বাংলায় তৃণমূল ‘জনগণ বনাম উদ্ধত বাম পার্টি’ এই দ্বৈততার মাধ্যমে মোবিলাইজেসন গড়ে তোলে। তবে এদের জনতুষ্টিবাদ স্থায়ী সুসংহত মতাদর্শভিত্তিক কোনও তত্ত্বকাঠামো তৈরি করতে পারেনি। এটি বহুলাংশে ব্যক্তির গণমোহিনী কর্তৃত্ব ও আনুকূল্যের তন্তুজাল (patronage network)-এর ওপর নির্ভরশীল ছিল। তাই সাংস্কৃতিক স্তরে একটি শূন্যতা থেকেই যায়। বামেদের মতো সাংস্কৃতিক হেজিমনি এরা গড়ে তুলতে পারেনি। এই শূন্যস্থানই হিন্দুত্বের উত্থানের জন্য সামাজিক-মতাদর্শভিত্তিক জমি তৈরি করে।

হিন্দুত্ববাদীরা এই সুপ্ত ধর্মীয় আবেগকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ভাষায় সুবিন্যস্তভাবে ব্যক্ত করে। মতুয়া রাজনীতি, দেশভাগ ও উদ্বাস্তু স্মৃতি, সিএএ-এনআরসি বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং ‘মুসলিমদের হাতে হিন্দুরা বিপন্ন’— এসবকে একত্রিত করে তারা নতুন ‘জাতীয়-জনপ্রিয়’ জোট (national-popular bloc) নির্মাণের চেষ্টা করে। 

হিন্দুত্বের উত্থান ও নতুন ‘জাতীয়-জনপ্রিয়’

দীর্ঘদিন বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ্যে প্রাধান্য পেত না। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ধর্মীয় আবেগ অনুপস্থিত ছিল। বরং সেগুলি সুপ্ত সাংস্কৃতিক স্তর হিসেবে উপস্থিত ছিল। বিশিষ্ট পণ্ডিত আশিস নন্দী দেখিয়েছেন, পশ্চিম থেকে আনা ভারতীয় ধর্মনিরপেক্ষ আধুনিকতা প্রায়ই ধর্মীয় আবেগের সামাজিক শক্তিকে অবমূল্যায়ন করেছে। বাংলার বাম সেকুলারিজমও একই ভুল করেছিল বলে কেউ কেউ মনে করেন, তবে তা খুবই বিতর্কিত মত।

হিন্দুত্ববাদীরা এই সুপ্ত ধর্মীয় আবেগকে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ভাষায় সুবিন্যস্তভাবে ব্যক্ত করে। মতুয়া রাজনীতি, দেশভাগ ও উদ্বাস্তু স্মৃতি, সিএএ-এনআরসি বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ এবং ‘মুসলিমদের হাতে হিন্দুরা বিপন্ন’— এসবকে একত্রিত করে তারা নতুন ‘জাতীয়-জনপ্রিয়’ জোট (national-popular bloc) নির্মাণের চেষ্টা করে। 

Right Wing Politics
আগে যেখানে ‘বাঙালি’ পরিচয় মূলত ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে ‘হিন্দু বাঙালি’ পরিচয় সামনে আসে

রামনবমী মিছিল, দুর্গাপূজার রাজনৈতিক ব্যবহার এবং ডিজিটাল মিডিয়াচালিত জাতীয়তাবাদ বাংলার রাজনৈতিক ‘কমন সেন্স’ পুনর্গঠন করতে শুরু করে। গ্রামশির ধারণা অনুযায়ী, আধিপত্য টিকিয়ে রাখতে ঐতিহাসিক স্মৃতির পুনর্গঠন করা জরুরি। তারা দেশভাগের স্মৃতি ও উদ্বাস্তু অভিজ্ঞতাকে নতুন রাজনৈতিক অর্থ দিয়েছে। আগে যেখানে ‘বাঙালি’ পরিচয় মূলত ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক ছিল, সেখানে ধীরে ধীরে ‘হিন্দু বাঙালি’ পরিচয় সামনে আসে। গায়ত্রী চক্রবর্তী স্পিভাকের নিম্নবর্গীয় সত্তার (subalternity) ধারণা এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি দেখিয়েছেন যে, নিম্নবর্গীয় কণ্ঠস্বর প্রায়ই প্রাধান্যকারী মতাদর্শের দ্বারা mediated হয়। বাংলায় উদ্বাস্তু, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবর্গীয় হিন্দুদের মধ্যে বৃহত্তর হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠের জাতীয়তাবাদের ভাষ্য ক্রমাগত ছড়িয়ে দিতে দিতেই হিন্দুত্ববাদী হেজিমনি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতি, নয়া-উদারনৈতিক ও রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির রূপান্তরের পিছনে অর্থনৈতিক পরিবর্তনের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯০-এর দশকের উদারিকরণের পর শিল্পহীনতা, শিক্ষিত বেকারত্ব, অভিবাসন, এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির নিরাপত্তাহীনতা নতুন সামাজিক উদ্বেগ তৈরি করে। বামপন্থা নয়া- উদারনৈতিক অর্থনীতির সমালোচনা করলেও বিকল্প উন্নয়ন মডেল স্পষ্টভাবে হাজির করতে পারেনি।

অনেকে যুক্তি দেন, নয়া-উদারনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার বোধ প্রায়ই দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের উত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করে। বাংলার ছোট শহর ও মফঃস্বলে হিন্দুত্বের রাজনীতির উত্থান এই অর্থনৈতিক হতাশা ও উচ্চাশার তাগিদ ও উদ্বেগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

কোনও কোনও ঐতিহাসিক দেখিয়েছেন, ভারতীয় মধ্যবিত্ত নয়া-উদারনৈতিক যুগে ক্রমশ পণ্যভোগমুখী জাতীয়তাবাদের দিকে ঝুঁকেছে। বাংলার নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষী মধ্যবিত্ত শ্রেণি ব্যবসায়িক উদ্যোগ, বিশ্বায়িত সচলতা এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়। হিন্দুত্বের রাজনীতি ‘New India’ ভাষ্যের মাধ্যমে এই উচ্চাশার তাগিদকে জাতীয়তাবাদী গর্ববোধের সঙ্গে যুক্ত করে। অনেকে যুক্তি দেন, নয়া-উদারনৈতিক নিরাপত্তাহীনতার বোধ প্রায়ই দক্ষিণপন্থী জনতুষ্টিবাদের উত্থানের ক্ষেত্র তৈরি করে। বাংলার ছোট শহর ও মফঃস্বলে হিন্দুত্বের রাজনীতির উত্থান এই অর্থনৈতিক হতাশা ও উচ্চাশার তাগিদ ও উদ্বেগের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

ডিজিটাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক আবেগ

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনে ডিজিটাল মিডিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাম আমলে রাজনৈতিক সংযোগসাধন ছিল অনেকটাই ধীর ও সংগঠননির্ভর। তখন রাজনৈতিক সংস্কৃতি মূলত সংগঠন, সভা, মিছিল, দেওয়াললিখন, লিটল ম্যাগাজিন এবং বুদ্ধিবৃত্তিগত বিতর্কের ওপর নির্ভরশীল ছিল। রাজনৈতিক মতাদর্শ ধীরে ধীরে সামাজিকীকরণের মাধ্যমে গড়ে উঠত।

Right Wing Politics
গ্রামশির তত্ত্বে, সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত-নৈতিক আধিপত্য বলতে মূলত সম্মতির ভিত্তিতে শাসনের নৈতিক বৈধতা

ক্রমশ ইন্টারনেট, ইন্সটাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইউটিউব এবং টেলিভিশন রাজনৈতিক আবেগ তৈরির প্রধান ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। হিন্দুত্বের রাজনীতি এই ডিজিটাল মিডিয়ার ইকোসিস্টেমকে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছে। মিম সংস্কৃতি, স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও, অতি-জাতীয়তাবাদী প্রতীকের ব্যবহার এবং অ্যালগোরিদমচালিত প্রচার নতুন ধরনের রাজনৈতিক বিষয়ী সত্তা তৈরি করেছে। মূলত মুদ্রণভিত্তিক বামপন্থী বৌদ্ধিক সংস্কৃতি এই পরিবর্তনের সঙ্গে অর্থাৎ digital affective politics-এর সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। অনেকে সমসাময়িক রাজনীতিকে performative politics হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের street populism এবং নরেন্দ্র মোদীর অতি-জাতীয় গনমোহিনী ভাবমূর্তি উভয়ই media spectacle-এর মাধ্যমে শক্তিশালী হয়েছে ও media performance-এর মাধ্যমে নির্মিত। ফলে যুক্তিনির্ভর রাজনৈতিক বিতর্কের জায়গা সংকুচিত হয়ে আবেগনির্ভর মেরুকরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

জাতীয়তাবাদী ভিডিও, ধর্মীয় প্রতীক, সেনাবাহিনীকেন্দ্রিক আবেগ, অতীতের ঐতিহাসিক অবিচারের কাহিনি এবং মুসলিম ‘অপর’-এর নির্মাণ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলায় আগে রাজনৈতিক বিতর্ক যুক্তি, সাহিত্য ও মতাদর্শভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে পরিচালিত হত। এখন মিম সংস্কৃতি এবং আবেগভিত্তিক মেসেজিং বেশি প্রভাবশালী। ফলে রাজনৈতিক কমনসেন্স গঠনের ধরন বদলে গেছে। 

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাম থেকে ডান দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি বিভিন্ন উপাদানের ফসল।

একই সঙ্গে এই পরিবর্তন প্রকাশ্য জনপরিসরের বৌদ্ধিক সংস্কৃতির সংকটও তৈরি করেছে। একসময় বিশ্ববিদ্যালয়, বইমেলা, আড্ডা, সেমিনার, বিতর্কসভা, নাট্যচর্চা এবং ছোট পত্রিকা বাঙালির রাজনৈতিক মতামত নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। এখন টেলিভিশনের লাইভ শো এবং সামাজিক মাধ্যমে ইনফ্লুয়েন্সার জনমত গঠনে বেশি প্রভাব ফেলছে। এর ফলে রাজনৈতিক প্রচারধর্মিতার কার্যকারিতা বেড়েছে, জটিল শ্রেণি বা অর্থনৈতিক বিশ্লেষণের বদলে পরিচিতিভিত্তিক মেরুকরণ শক্তিশালী হয়েছে।

উপসংহার

বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির বাম থেকে ডান দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি বিভিন্ন উপাদানের ফসল। ঔপনিবেশিক ভদ্রলোক আধুনিকতা, বামপন্থী শ্রেণি রাজনীতি, IPTA-নির্মিত সাংস্কৃতিক হেজিমনি, পার্টি-সমাজের সংকট, তৃণমূলের আবেগনির্ভর জনতুষ্টিবাদ এবং বিজেপির হিন্দু জাতীয়তাবাদী ‘জাতীয়-জনপ্রিয়’ জোট প্রকল্পর ধারাবাহিকতার মধ্য দিয়েই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। 

Right Wing Politics
আরনেস্টো লাক্লাউ-এর জনতুষ্টিবাদের তত্ত্ব…

বামপন্থীরা একসময় শ্রেণি ও সংস্কৃতির শক্তিশালী জোট গড়ে তুলেছিল। কিন্তু তারা নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষী সমাজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের সুযোগের তাগিদ, শিল্প ও কর্মসংস্থানের প্রয়োজন, ডিজিটাল মিডিয়া, ধর্মীয় আবেগ এবং নিম্নবর্গীয় পরিচিতিভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতাকে যথাযথভাবে ধরতে পারেনি। তৃণমূল সেই সংকটকে ব্যবহার করলেও দীর্ঘস্থায়ী মতাদর্শগত বিকল্প গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়। বিজেপি সেই শূন্যস্থান পূরণ করতে চাইছে হিন্দুত্ববাদী জাতীয়তাবাদ, কল্যাণমুখী প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি এবং ডিজিটাল মিডিয়াচালিত সংস্কৃতিভিত্তিক মোবিলাইজেশনের মাধ্যমে।

তবে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি সম্পূর্ণভাবে ডানপন্থী হয়ে গেছে— এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে। গ্রামশি-বর্ণিত বামপন্থী প্রগতিশীল সেকুলার সাংস্কৃতিক-মতাদর্শগত-নৈতিক কাউন্টার-হেজিমনির ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অন্ধকার বলা যায় না। সেটা অনিশ্চিত, কারণ পরিবেশ সংরক্ষণ, শ্রমিক-কৃষকের দাবিদাওয়া, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের বৈষম্যবিরোধী রাজনীতি, দলিত ও শূদ্রের জাতিভেদবিরোধিতা, আদিবাসী বঞ্চনা, ভাষা ও ধর্মভিত্তিক সংখ্যালঘুর অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং বাংলার উদার সমন্বয়মুখী বহুত্ববাদী ঐতিহ্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক শক্তি হিসেবে বিদ্যমান। 

প্রশ্নটি কেবল বাম বনাম ডান নয়। প্রশ্ন হল— বাংলার সমাজ কোন ধরনের আধুনিকতা, কোন ধরনের জাতীয়তাবাদ এবং কোন ধরনের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চায়।

ফলে শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল বাম বনাম ডান নয়। প্রশ্ন হল— বাংলার সমাজ কোন ধরনের আধুনিকতা, কোন ধরনের জাতীয়তাবাদ এবং কোন ধরনের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি নির্মাণ করতে চায়। গ্রামশিকে অনুসরণ করে বলা যায়, যে রাজনৈতিক শক্তি জনগণের অভাব-অনটনের সঙ্গে তাঁদের আবেগ, স্মৃতি, ভাষা এবং দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে যুক্ত করতে পারবে, ভবিষ্যতের বাংলায় তারাই হেজিমনিক শক্তি হয়ে উঠবে।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of প্রদীপ বসু

প্রদীপ বসু

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডীন অফ আর্টস, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর ও হেড। মার্কসবাদ, উত্তর আধুনিক তত্ত্ব, নকশালবাড়ি, রাজনৈতিক তত্ত্ব ইত্যাদি বহু বিষয়ে গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক। একদা CSSSC, ICSSR ও স্কটিশ চার্চ কলেজে যুক্ত।তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল 'নকশালবাড়ির পূর্বক্ষণ', 'Towards Naxalbari', 'উত্তর আধুনিক রাজনীতি ও মার্ক্সবাদ' এবং 'Gender and Naxalite Movement'।
Picture of প্রদীপ বসু

প্রদীপ বসু

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডীন অফ আর্টস, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের প্রফেসর ও হেড। মার্কসবাদ, উত্তর আধুনিক তত্ত্ব, নকশালবাড়ি, রাজনৈতিক তত্ত্ব ইত্যাদি বহু বিষয়ে গ্রন্থের লেখক ও সম্পাদক। একদা CSSSC, ICSSR ও স্কটিশ চার্চ কলেজে যুক্ত।তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থগুলি হল 'নকশালবাড়ির পূর্বক্ষণ', 'Towards Naxalbari', 'উত্তর আধুনিক রাজনীতি ও মার্ক্সবাদ' এবং 'Gender and Naxalite Movement'।

One Response

  1. বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে, এটা ঠিকই। কিন্তু এই পরিবর্তনের আলোচনা বাম আমল থেকে ধরতে হবে কেন ? বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা প্রাক স্বাধীনতা যুগে এক ধরনের ছিল। স্বাধীনতা পরবর্তী কালে তার পরিবর্তন শুরু হতে থাকে। যুক্তফ্রন্ট আর বামফ্রন্ট আমলে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারা অন্য খাতে বইতে শুরু করে। কংগ্রেসের সামন্ততান্ত্রিক চিন্তাধারা বদলে একটা বাম চিন্তাধারা রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটায়। সেই সময় বাংলায় বিকল্প হিসাবে বামফ্রন্ট কেই বেছে নিয়েছিল মানুষ। কিন্তু পরবর্তীকালে বামেদের ভুলত্রুটি কে পুঁজি করে তৃণমূল কংগ্রেস সংগঠিত হয়। ফলে বিকল্প হিসাবে তৃণমূলকে বেছে নেয়। এটা ঠিকই 1977 থেকে 2011 বাংলায় party society তৈরী হয়। 2011 থেকে 2026 এই 15 বছরে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হলো সেই সংস্কৃতির ব্যাখ্যা প্রদীপ বসুর লেখায় ঠিকমতো তুলে ধরা হয় নি। এই সময়কালে একটা সুবিধাবাদী শ্রেনীর জন্ম হলো যা বাংলার রাজনৈতিক সাংস্কৃতিক চেহারার বদল ঘটে। এই সময়কালটাকে কী বলা যায় ? তুষ্টিকরণের রাজনীতি? শাসকের ধর্মই হলো নাগরিকের তুষ্টি সাধন করা। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়নের এমন উদাহরণ আর আছে কি ? সমাজের সর্বস্তরে দুর্নীতির ছাপ। তার উপর ধর্মীয় মেরুকরণ বাংলার রাজনীতি কে কলুষিত করেছে তৃণমূল। প্রশাসনের এমন রাজনীতিকরণ এর আগে দেখেছেন বাংলার মানুষ ? বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি কে অন্যান্য রাজ্যের মানুষ সমীহের চোখে দেখেন। এই 15 বছরে সেটা উধাও। বিজেপির ঘোষিত হিন্দুত্ব বাদী রাজনীতি বাংলার রাজনীতি কে কোন খাতে নিয়ে যায় তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। গ্রামসির হেজিমনি তত্ত্ব বা আলথুসারের তত্ত্ব দিয়ে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতির ব্যাখ্যা কতটা যুক্তিযুক্ত ? সঠিক বলে মনে হয় নি আমার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়
বিতস্তা ঘোষাল
নীলাঞ্জন দরিপা

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com