Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

হলুদ জার্সি লাল কার্ড – ২য় পর্ব

সুতীর্থ দাশ

জুলাই ১৪, ২০২৬

Football Coaching 2
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Football Coaching 2)

প্রথম পর্বের পর

আবার খাতা-কলম নিয়ে লেগে পড়ল ভৃগুশেখর। মিনিট চল্লিশ আবার খাতায় আঁচড় কেটে, অনেক অঙ্ক কষে, হিসেব করে নতুন করে আবার বলা শুরু করল, ‘হরিদ্রা স্পর্শে গ্রহের ফের কাটতে পারে। পীতবস্ত্র ধারণ করতে হবে।’

শুনে নিমাই দত্ত একটু নড়েচড়ে বসল। চোখমুখে বেশ খুশি খুশি ভাব। সে প্রায় ভৃগুশেখরকে থামিয়ে দিয়ে বলল, ‘এ তো দারুণ যোগ, আমাদের টিমের জার্সির রঙটাই তো হলুদ!’


আরও পড়ুন: হলুদ জার্সি লাল কার্ড -১ম পর্ব


শুনে ভৃগুশেখরও খুশি হল, ‘বাহ, তাহলে তো সত্যিই ভাল হল— অনেকটাই সমাধান হল। তাহলে আর বেশি কিছু করার দরকার নেই। কয়েকটা জিনিস করলেই হবে।’

নিমাই দত্ত একটু গদগদ হয়ে বলল, ‘ইয়ে…বলছিলাম কি, আমরা কাল ম্যাচ জিতব তো?’

Football Coaching 2
‘স্যার, কী হবে? মানু তো কাল খেলতেই পারবে না। সকাল থেকে ঘর আর বাথরুম করছে— খুবই বাজে অবস্থা!’

‘জিতবেন না মানে? আলবৎ জিতবেন। শুধু খেয়াল রাখবেন, টিমের প্রত্যেকে যেন হলুদ পরিধান অঙ্গে ছুঁইয়ে রাখেন। আর হ্যাঁ, প্রত্যেকে যেন একটা হলুদ সুতো ডান হাতের কব্জিতে বেঁধে রাখে। কিছুই না, সাদা সুতো কিনে, সেটাকে হলুদ জলে আজ রাতে চুবিয়ে রাখতে হবে। তারপর, সকালে স্নান করে সেই সুতো কব্জিতে এগারোটা প্যাঁচ দিয়ে পরতে হবে। এছাড়া সবাইকে বলবেন কাল যেন সাদা ভাত কেউ না খায়— হলুদ বা বাসন্তী পোলাও খেলে সবচেয়ে ভাল।’

এক নিঃশ্বাসে বলে গেল ভৃগুশেখর। নিমাই দত্ত একটা আলো দেখতে পাচ্ছিল। সেই আশার আলো যেন ভৃগুশেখরের মাথার পিছনে আলোর চাকতি হয়ে জ্বলজ্বল করছিল। চেয়ার ছেড়ে উঠে, পকেট থেকে কড়কড়ে একটা পাঁচশো টাকার নোট বার করে ভৃগুশেখরের হাতে দিয়ে চেম্বার থেকে বেরিয়ে এল। একটা সিগারেট ধরিয়ে হাঁটা দিল মানুদের বাড়ির দিকে।

‘জানি’, নিমাই গম্ভীর স্বরে উত্তর দিল, একটু আগে কানুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওর মুখে সবটাই শুনেছি। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই— ম্যাচ আমরা জিতবই। কেউ আটকাতে পারবে না।’

মানুদের বাড়ির গেট দিয়ে ঢোকার সময় নিমাই বেশ কিছু বাইক আর সাইকেল দেখল গেটের বাইরে। বাহনগুলো চেনা— টিমের ছেলেদের ওগুলো। তার মানে, সবাই মানুকে দেখতে এসেছে।

নিমাই দত্ত ঘরে ঢুকতেই সবাই একসঙ্গে হা-হা করে উঠল, ‘স্যার, কী হবে? মানু তো কাল খেলতেই পারবে না। সকাল থেকে ঘর আর বাথরুম করছে— খুবই বাজে অবস্থা!’

‘জানি’, নিমাই গম্ভীর স্বরে উত্তর দিল, একটু আগে কানুর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। ওর মুখে সবটাই শুনেছি। তবে চিন্তার কোনও কারণ নেই— ম্যাচ আমরা জিতবই। কেউ আটকাতে পারবে না।’

‘কিন্তু স্যার, গোলকিপিং কে করবে?’, টিমের ক্যাপ্টেন পলাশ জিজ্ঞাসা করল। 

‘চাপ নেই, এক্সট্রা প্লেয়ার দাঁড়িয়ে যাবে। চিন্তার কী আছে? ভোলা গোলকিপিং করবে। একজন কেউ থাকলেই হল। বাকিটা তোরা দশজন সামলাবি তো— কী রে, পারবি না?’

‘না— মানে, আমি বলছিলাম…’, পলাশ মাথা চুলকে বলল।

কথাটা শুনে আর বিশেষ করে ভোলার নাম শুনে তো সকলের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার জোগাড়। ভোলা হল ড্যাফোডিল ড্রাই-ক্লিনার্সে কাপড় ইস্তিরি করে যে ছেলেটা।

‘কিচ্ছু বলতে হবে না’, কিছু বলার আগেই পলাশকে থামিয়ে দিল নিমাই, ‘মানু যদি কাল খেলতে পারে তাহলে ভাল, তা না হলে তিনকাঠির নিচে ভোলা থাকলেই হল। আমাদের ডিফেন্স ভাল। পেনাল্টি বক্সে গোপীনাথের কেউ ঢুকতে পারবে না। অ্যাট্যাক স্ট্রং রাখতে হবে আগাগোড়া।’

কথাটা শুনে আর বিশেষ করে ভোলার নাম শুনে তো সকলের আত্মারাম খাঁচাছাড়া হবার জোগাড়। ভোলা হল ড্যাফোডিল ড্রাই-ক্লিনার্সে কাপড় ইস্তিরি করে যে ছেলেটা। কস্মিনকালে কেউ কোনওদিন তাকে ফুটবল খেলা তো দূরের কথা— বল হাতে নিতেও দেখেনি। তবে এটা ঠিক যে, পাড়ার মাঠে প্রায়দিন বিকেলে এসে খেলা দেখে। গোলপোস্টের পিছনে দাঁড়িয়ে সে মন দিয়ে খেলা দেখে। তা বলে সে গোলকিপার হতে পারে সেটা ভাবাটা বেশ বাড়াবাড়ি। কিন্তু কে কী বলবে? নিমাইয়ের মুখের ওপর বলার সাহস তো কোনও প্লেয়ারের নেই। যুক্তি দিয়ে বোঝালেও সে বুঝবে না।

Football Coaching 2
মানু যদি কাল খেলতে পারে তাহলে ভাল, তা না হলে তিনকাঠির নিচে ভোলা থাকলেই হল

ওই অবস্থায় মানুও কঁকিয়ে উঠল, ‘না না স্যার, আমি খেলব।’— তাই না শুনে বাকিরা আবার রে রে করে উঠল। নিমাই একবার মানুর দিকে তাকিয়ে শান্ত ভাবেই বলল, ‘ঠিক আছে, যদি পারিস তাহলে খেলবি। যদিও মনে হচ্ছে না পারবি বলে। সেক্ষেত্রে ব্যবস্থা থাকল। আসলে গোলকিপারটা অত বেশি ইম্পর্ট্যান্ট না। দশটা প্লেয়ার যদি ঠিক করে খেলে, তাহলে গোলকিপিং নিয়ে ভাবতে লাগে না।’

রবিবার দুপুর দুটোর থেকেই একজন দুজন করে লোক জড়ো হচ্ছিল। কলেজ গ্রাউন্ডের উত্তর দিকে যে নতুন গ্যালারিটা হয়েছে, সেখানে জনাতিরিশেক লোক বসে আড্ডা দিচ্ছিল। খেলা শুরু হবে ঠিক চারটের সময়। প্লেয়াররা মোটামুটি তিনটের সময় এসে খানিকক্ষণ প্র্যাক্টিস করে তারপর মাঠে নামবে।

শেষবারের মতো প্লেয়ার লিস্টে চোখ বুলিয়ে নিয়ে সেটা নিমাই জমা দিয়ে এল। ভাল করে সব কিছু চেক করে নিল সে— জার্সি, মোজা, বুট— সব ভাল করে নিরীক্ষণ করে আরও একবার সবার কব্জিগুলো দেখে নিল তাগা বাঁধা আছে কি না।

নিমাই দত্ত সকাল থেকেই ছোটাছুটি করছিল। প্রচন্ড চাপ ছিল। সেই ভোর সকাল থেকেই প্রত্যেক প্লেয়ারের বাড়ি ছুটে ছুটে গিয়েছে সেই হলদে তাগা নিয়ে। আগের রাতে সবার নামে নামে একটা করে তাগা হলুদ জলে ভিজিয়ে রেখে ছিল। সকাল হতেই সেই এক ডজন তাগা নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল বাড়ি বাড়ি।

শুধু কি তাই? ভৃগুশেখর তো বলেছে, খেলার আগে কারও পেটে যেন সাদা ভাত না পড়ে। কাউকে ভরসা নেই, তাই নিজের বাড়িতেই হলদে পোলাও রান্না করিয়ে, বেলায় সবার বাড়ি বাড়ি গিয়ে দিয়ে এসেছে। এক প্যাকেট মানুর কপালেও জুটেছে। নিমাই দত্তর মাথায় আজ শুধু একটাই কথা ঘুরছে— সব প্লেয়ারকে আজ হলুদে মুড়ে রাখতে হবে। আর সেই ব্যবস্থায় সে সকাল থেকে নিচ্ছিল।

গোলকিপারকে নিয়ে সবাই একটু সন্দেহে ছিল, যদিও নিমাই দত্ত সে ব্যাপারে একটুও চিন্তিত ছিল না। কিন্তু সোয়া তিনটের সময় মাঠে হঠাৎ মানু এসে হাজির হল। ওকে দেখে ভোলা প্রায় লাফিয়ে উঠল, যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে পেল। ভোলা হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। ও তো প্রায় আধমরা হয়ে বসে ছিল। নিমাই দত্ত অবাক হলেও একটু নিশ্চিন্ত হল। ভেবে দেখল, ঠিকই আছে— টিম এমনভাবে খেলবে, বল তো গোলপোস্টের ধারেকাছেই আসবে না। যদি একাধিবার বল ফস্কে পেনাল্টি বক্সে ঢুকেও যায়, মানু ঠিক সামলে নেবে।

এখন শুধু অপেক্ষা মাঠে ডাক পড়ার। শেষবারের মতো প্লেয়ার লিস্টে চোখ বুলিয়ে নিয়ে সেটা নিমাই জমা দিয়ে এল। ভাল করে সব কিছু চেক করে নিল সে— জার্সি, মোজা, বুট— সব ভাল করে নিরীক্ষণ করে আরও একবার সবার কব্জিগুলো দেখে নিল তাগা বাঁধা আছে কি না। কোনও স্ট্র্যাটেজি না, প্ল্যান না বা খেলা নিয়ে কোনও টিপ না— শুধু দেখা যে সবার ‘গায়ে হলুদ’ হয়েছে কি না। অবশেষে এল সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। দুটো টিমের ডাক পড়ল মাঠে নামার জন্য।

দশ মিনিটের মাথায় দুটো গোল খেয়ে বসে আছে ইউনিটি। তার মধ্যে একটা আবার পেনাল্টিতে খাওয়া গোল। কিছুতেই এঁটে উঠতে পারছিল না। এই অবস্থায় যা হয়— ইউনিটির টিম মাথা গরম করে ফেলছিল।

প্রথম হাফে টানটান উত্তেজনা ছিল মাঠে। খেলা প্রায় সারাটা সময় ‘ইউনিটি ক্লাবের’ পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে হচ্ছিল— প্রচণ্ড চাপে ক্যাপ্টেন। দশ মিনিটের মাথায় দুটো গোল খেয়ে বসে আছে ইউনিটি। তার মধ্যে একটা আবার পেনাল্টিতে খাওয়া গোল। কিছুতেই এঁটে উঠতে পারছিল না। এই অবস্থায় যা হয়— ইউনিটির টিম মাথা গরম করে ফেলছিল।

হঠাৎ গোটা মাঠ হৈহৈ করে উঠল। আসলে গোল করার একবার সুযোগ পেয়েছিল ইউনিটি ক্লাব। রাইট স্ট্রাইকার বিকাশের পায়ে বল আর বক্সে প্রায় ঢুকে পড়েছিল আর ঠিক সেই সময় গোপীনাথের ডিফেন্সের একটি ছেলে খুব বাজেভাবে ট্যাকল করে, যার ফলে বিকাশ গোল পেতে পেতেও পেল না। বিকাশ উঠেই সেই ছেলেটিকে একটা লাথি মারে আর এই নিয়ে দু’দল মাঠে হাতাহাতি আরম্ভ করে দিয়েছে। রেফারির হস্তক্ষেপে ঝামেলা মেটে আর ইউনিটির বিকাশ হলুদ কার্ড দেখে। এমনিতেই ছেলেটার মাথাটা একটু গরম— টিমের অন্যান্যরাও ওকে বেশি ঘাঁটায় না। মাঠে দু’দুটো গোল আর গ্যালারি থেকে অনবরত প্যাঁক— এরপর কি আর মাথা ঠিক থাকে?

Football Coaching 2
খেলা প্রায় সারাটা সময় ‘ইউনিটি ক্লাবের’ পেনাল্টি বক্সের আশেপাশে হচ্ছিল— প্রচণ্ড চাপে ক্যাপ্টেন

হাফ টাইমে নিমাই দত্তকে খুব চিন্তিত মনে হল। টিমের সঙ্গে অল্প কিছু কথা সেরে নিল। কথা বলতে বলতেই আড়চোখে দেখে নিল সবার হাতে তাগাটা আছে কি না। হঠাৎ কী মনে হল, ছুট্টে গিয়ে নিজের বাইকের টুলবক্স থেকে একটা প্যাকেট বার করে আনল। টিম জিতলে সবাইকে নিয়ে আবির খেলবে বলে দু’প্যাকেট হলুদ আবির কিনে এনেছিল। সেটা নিয়ে এল। প্যাকেট খুলে সেই হলুদ আবির নিয়ে ছোট্ট টিপ সে সবার কপালে পরিয়ে দিল। শেষ চেষ্টা— যদি দল ঘুরে দাঁড়ায়।

সেকেন্ড হাফের খেলা শুরু হল। খেলার দু’মিনিট গড়াতেই একটা ভুল পাসের খেসারত দিয়ে বাজে একটা গোল খেতে হল ইউনিটিকে। গোপীনাথ তিন গোলে এগিয়ে গেল। দ্বিতীয় হাফে খেলা পুরো বদলে গেল। তেড়েফুঁড়ে উঠলেও প্রচন্ড রাফ খেলতে শুরু করল— ফল যার ভাল হল না। ইতোমধ্যে ইউনিটি আরও দুটো হলুদ কার্ড দেখল আর খেলা শেষ হবার দশ মিনিট আগে বিকাশ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ল। নব্বই মিনিটের খেলা শেষে রেফারির লম্বা বাঁশি যখন বাজল তখন ইউনিটি ফুটবল ক্লাব পাঁচ গোলের মালা পরে বসে আছে— যার মধ্যে একটা আবার সেমসাইড। বাকি গোলগুলো— একটা পেনাল্টিতে আর তিনটে চোখে লেগে থাকা গোল। এছাড়া উপরি পাওনা তিনটে হলুদকার্ড আর একটা লালকার্ড।

সব শেষ হয়ে গিয়েছিল— শুধু ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার অপেক্ষা। দূর থেকে নিমাইকে দেখে ক্লাব প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এলেন। নিমাই একমনে বসে কী যেন ভাবছিল।

খেলা শেষে মাঝমাঠে একা বসে ছিল নিমাই দত্ত। সূর্যের আলোটা ফিকে হয়ে এসেছিল। গোপীনাথের সাপোর্টাররা মাঠে নেমে নাচানাচি আরম্ভ করে দিয়েছে। দেদার বাজি পুড়ছিল। নিমাইয়ের কোনও দিকে হুঁশ ছিল না— এমনকি খেলা শেষ করে ছেলেগুলোর সঙ্গেও কোনও কথা বলেনি। সকাল থেকে যে টেনশনটা কাজ করছিল— সেটা এক লহমায় কোথায় জানি চলে গেল, বুক থেকে একটা মস্ত পাথর নেমে গেল। চোখের সামনে নন্দিতা আর সন্তুর চেহারাগুলো ভেসে উঠল। নাহ্, এবার বাড়ির পিছনে কিছুটা প্রোডাক্টিভ টাইম দিতে হবে।

মাইকের শব্দে নিমাই দত্তর ঘোর কাটল। ওদিকে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এমএলএ-র হাত দিয়ে শিল্ড, বিজয়ী টিমকে দেওয়া হবে। গোপীনাথের ছেলেরা সারি বেঁধে দাঁড়িয়েছে। রাঘব বোয়ালদের লেকচারবাজি শেষ হলে শিল্ড দেওয়া হবে। এমএলএ ইতিমধ্যে ঘোষণা করে দিয়েছেন, এই অঞ্চলের ফুটবলের উন্নয়নের জন্য একটা মোটা টাকার ব্যবস্থা সরকারের পক্ষ থেকে করে দেবেন। এছাড়া গোপীনাথ স্মৃতি সংঘের তিনজন প্লেয়ারের জন্য চাকরির ঘোষণাও করে দিলেন। তুমুল হর্ষধ্বনিতে স্টেডিয়াম যেন ফেটে পড়ল। নিমাইয়ের কাছে সমস্তটাই মনে হচ্ছিল, ওকে বিদ্রুপ করে বলা হচ্ছে। এমনিতেও ও ভাল করে জানে— আগামী বেশ কদিন পাড়ায় এ নিয়ে খুব কথা হবে। সমস্ত বন্দুক ওর দিকেই তাক করা হবে।

Football Coaching 2
নব্বই মিনিটের খেলা শেষে রেফারির লম্বা বাঁশি যখন বাজল তখন ইউনিটি ফুটবল ক্লাব পাঁচ গোলের মালা পরে বসে আছে

সব শেষ হয়ে গিয়েছিল— শুধু ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে চিঠি পাওয়ার অপেক্ষা। দূর থেকে নিমাইকে দেখে ক্লাব প্রেসিডেন্ট এগিয়ে এলেন। নিমাই একমনে বসে কী যেন ভাবছিল।

‘নিমাই’, প্রেসিডেন্টের ডাকে নিমাই ফিরে তাকাল, ‘এখানে বসে আর কী হবে? চলো ক্লাবে ফেরা যাক। অনেক কাজ আছে। শুনলাম তুমি টিমকে এমন হলুদে মুড়ে দিয়েছিলে যে তিন-তিনটে হলুদ কার্ড পাইয়ে দিলে!’

প্রেসিডেন্ট আবার বলা শুরু করলেন, ‘বিকাশ তো নিজে খেটে একটা রেড কার্ড পেল, চলো, তোমাকেও একটা রেড কার্ড দেওয়া যাক— না হয় আমরাই পাইয়ে দিই।

নিমাই চুপ করে বসে থাকল। কী আর বলবে?

প্রেসিডেন্ট আবার বলা শুরু করলেন, ‘বিকাশ তো নিজে খেটে একটা রেড কার্ড পেল, চলো, তোমাকেও একটা রেড কার্ড দেওয়া যাক— না হয় আমরাই পাইয়ে দিই।

নিমাই ভাবছিল— রেড কার্ড সত্যিই কি ওর প্রাপ্য— নাকি ভৃগুশেখরের?

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of সুতীর্থ দাশ

সুতীর্থ দাশ

সুতীর্থ দাশ জন্ম হরিয়ানার শিল্পনগরী ফরিদাবাদে। পিতার কর্মসূত্রে বাল্য-কৈশোর কেটেছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক শহরে। কলকাতায় এসে সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে শিল্পশিক্ষার পাঠ নেওয়ার পর বিজ্ঞাপন সংস্থায় চাকরি। দীর্ঘ ১২ বছর বিজ্ঞাপনের পেশায় থাকার পর, পেশা বদল করে আসেন বেসরকারি রেডিও প্রোগ্রামিং’য়ের চাকরিতে। সেখানে আরও ১৮ বছর কাটিয়ে বর্তমানে ভারতের এক স্বনামধন্য মিউজিক কম্পানিতে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের কাজে যুক্ত। পেশাগত কাজকর্মের পাশাপাশি ভালোবাসেন ছবি আঁকতে এবং লিখতেও। নিজের শিল্পীমন দিয়ে তিনি লেখেন গ্রাম-শহরের নানা কাহিনি। ছোট ছোট গল্পের জাল বুনে তিনি লিখে চলেন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা কাহিনি। অজস্র প্রবন্ধ-নিবন্ধের পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই তিনি লিখে ফেলেছেন বেশ কয়েকটি বইও। সেগুলোর মধ্যে শহর কলকাতার বিভিন্ন আখ্যান নিয়ে লেখা ‘তিলোত্তমার গর্ভজাত’ পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়াও জাগিয়েছে। রেডিয়ো নিয়ে তাঁর প্রথম বই ‘তরঙ্গে অন্তরঙ্গে – কলকাতা বেতারের উপকথা’ ইতিমধ্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
Picture of সুতীর্থ দাশ

সুতীর্থ দাশ

সুতীর্থ দাশ জন্ম হরিয়ানার শিল্পনগরী ফরিদাবাদে। পিতার কর্মসূত্রে বাল্য-কৈশোর কেটেছে উত্তর-পশ্চিম ভারতের একাধিক শহরে। কলকাতায় এসে সরকারি চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয় থেকে শিল্পশিক্ষার পাঠ নেওয়ার পর বিজ্ঞাপন সংস্থায় চাকরি। দীর্ঘ ১২ বছর বিজ্ঞাপনের পেশায় থাকার পর, পেশা বদল করে আসেন বেসরকারি রেডিও প্রোগ্রামিং’য়ের চাকরিতে। সেখানে আরও ১৮ বছর কাটিয়ে বর্তমানে ভারতের এক স্বনামধন্য মিউজিক কম্পানিতে কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের কাজে যুক্ত। পেশাগত কাজকর্মের পাশাপাশি ভালোবাসেন ছবি আঁকতে এবং লিখতেও। নিজের শিল্পীমন দিয়ে তিনি লেখেন গ্রাম-শহরের নানা কাহিনি। ছোট ছোট গল্পের জাল বুনে তিনি লিখে চলেন আমাদের চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা কাহিনি। অজস্র প্রবন্ধ-নিবন্ধের পাশাপাশি, ইতিমধ্যেই তিনি লিখে ফেলেছেন বেশ কয়েকটি বইও। সেগুলোর মধ্যে শহর কলকাতার বিভিন্ন আখ্যান নিয়ে লেখা ‘তিলোত্তমার গর্ভজাত’ পাঠকদের মধ্যে বেশ সাড়াও জাগিয়েছে। রেডিয়ো নিয়ে তাঁর প্রথম বই ‘তরঙ্গে অন্তরঙ্গে – কলকাতা বেতারের উপকথা’ ইতিমধ্যে খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
শমিতা হালদার

বিহার

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
প্রদীপ্ত চক্রবর্তী
প্রদীপ্ত চক্রবর্তী

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

দেবার্চন চ্যাটার্জি
নির্মাল্য চ্যাটার্জি

উপন্যাস

[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com