Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

নিরালা নংরিয়াত

শম্পা নন্দী

এপ্রিল ২৮, ২০২৬

Double Decker Bridge
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Double Decker Bridge)

আসন বসন যাপন মিলে রংবেরং-এর পাখনা মেলা আমাদের দেশ। এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে চললেও যার স্পর্শময় অনুভব অধরাই থেকে যায়। তেমনই এক অধরা সৌন্দর্যের স্মৃতিরোমন্থন আজ। উত্তর-পূর্বের এক অসাধারণ মেঘ-রোদ্দুর-বৃষ্টির রাজ্য— রবি ঠাকুর তার সার্থক নাম রেখেছেন মেঘালয়। বর্ষা ও শরতের সময় এই রাজ্য তার পূর্ণ যৌবন মেলে ধরে। সেই অপরূপাকেই দেখতে ছুটেছিলাম সেবারে— অন্যভাবে, অন্য চোখে। শিলংকে বাদ রেখে নির্বাচিত স্থানে ছিল অল্প পরিচিত কিছু জায়গা। সেই তালিকায় অন্যতম আকর্ষণ ছিল মেঘালয়ের বিখ্যাত দু-একটা লিভিং রুট ব্রিজ। তার মধ্যে ইউনেস্কো হেরিটেজের তকমা পাওয়া নংরিয়াতের ডবল ডেকার রুট ব্রিজ দেখার আকর্ষণ ছিল প্রবল।


আরও পড়ুন: একালের ইন্দ্রনাথ


প্রথম দিন বৃষ্টি মাথায় নিয়ে শিলং পৌঁছলাম। তারপর দু’দিনের টানা বৃষ্টিতে পুলিশ বাজারের হোটেলে বন্দী। শহরের নামীদামী রেস্তোরাঁয় খেয়েদেয়ে সময় কাটল। এরপর সোহরা পৌঁছে, একটা ছোট গাড়িতে দুই বন্ধু রওনা দিলাম প্রায় ২০ কিমি দূরের পূর্ব খাসি পাহাড়ের টায়রনা গ্রামের উদ্দেশে। শরতের ঝকঝকে সকাল, মন ভাল করা রোদ্দুর, সতেজ সবুজ পাহাড়, পথের পাশে বৃষ্টিস্নাত ছোট-বড় ঝর্না আর ছোট ছোট গ্রাম দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম নংরিয়াতে। এখান থেকেই মেঘালয়ের সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘ ডবল ডেকার ব্রিজে যাওয়ার পথ শুরু। শেষও হয় এই গ্রামে এসেই।

Double Decker Bridge
লোকাল লোক নিলে পথে যে আরও দু-তিনটে ছোট ভাঙা লিভিং ব্রিজ আছে, সেগুলো দেখা হয়

প্রায় ৩৬০০ সিঁড়ি বেয়ে নিচের নদীখাতে পৌঁছানোর জন্য হাঁটার শুরুতেই চেকপোস্ট থেকে পারমিট করিয়ে নিতে হবে। পথ নির্দেশ সুনির্দিষ্ট করা আছে। কিন্তু, যাত্রাপথ খুবই কষ্টকর। গ্রামের ছেলেরা গাইড ও প্রয়োজনে মালবাহকের কাজও করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের রোজগারের খানিক সুরাহা হয়। গাইড ছাড়াও যাওয়া যায়। তবে, লোকাল লোক নিলে পথে যে আরও দু-তিনটে ছোট ভাঙা লিভিং ব্রিজ আছে, সেগুলো দেখা হয়। এছাড়াও, স্থানীয় গাছপালা, ফলটা, ফুলটা চেনা, লোকজনের সঙ্গে আলাপচারিতা— পথযাত্রী হিসাবে কিছু উপরি পাওনা হয় আর কি। 

দরদাম করে একজন গাইড আমরা নিয়েই নিলাম। আমাদের সঙ্গে ক্যামেরার ব্যাগ দেখে, সে দ্বিগুণ উৎসাহে গাছপালা, মাকড়সা, পাখি, প্রজাপতি দেখাতে দেখাতে নিয়ে চলল গন্তব্যের দিকে।

Double Decker Bridge
পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলের আড়ালে

উপার্জনের ন্যূনতম পরিসরে উমসিয়াং নদীর খাতে অবস্থিত খুবই ছোট দুটি গ্রাম Laitkynsew (খাসি উচ্চারণে সঠিক নামটা বাংলায় লেখা মুশকিল) আর নংরিয়াত। গ্রামবাসীদের নিত্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই ওই ছাতিফাটা সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামা করে নিকটবর্তী শহর চেরাপুঞ্জি বা শিলং থেকে আনতে হয়। স্থানীয় জীবিকা বলতে রাস্তার ধারে বাড়ির লাগোয়া ছোট দোকান, নার্সারি-বাগান, কিছু সব্জি ফলানো আর হাতে গোনা কয়েকটা হোমস্টে। একটা প্রাথমিক স্কুল ছাড়া পড়াশোনাও সবই শহরে। এমনকি কেউ অসুস্থ হলেও চারজনের কাঁধে চেপে ডোলিতে করে টায়রনা গ্রাম অবধি পৌঁছে, গাড়ির ব্যবস্থা করে তারপর চিকিৎসাকেন্দ্রে যেতে হয়।

উমসিয়াং নদী প্রবাহকে ঘিরে পাহাড় ঘেরা ঘন জঙ্গলের আড়ালে তৈরি হয়েছে এই উমসিয়াং ডবল ডেকার লিভিং রুটব্রিজ। এক বিশেষ প্রজাতির ভারতীয় রবার গাছের শিকড় দিয়ে তৈরি প্রায় ২০ মিটার লম্বা ২৪০০ ফুট উচ্চতার এই দোতলা ব্রিজ প্রকৃতি আর মানুষের ব্যবহারিক প্রযুক্তির এক অভূতপূর্ব নিদর্শন। এইরকম মোটা শিকড়ের রবার গাছ (Ficus elastica) শুধুমাত্র পূর্ব খাসি আর জয়ন্তিয়া পাহাড়েই জন্মাতে দেখা যায়। তাই মেঘালয়ের মূলত এই অঞ্চলেই এই ধরনের ব্রিজ দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে এই নংরিয়াত গ্রামের লিভিং রুট ব্রিজটি সব থেকে বড় আর প্রায় ২০০ বছর পুরনো।

Double Decker Bridge
গ্রামীণ চার্চ

প্রাচীন এই রবার গাছের মোটা শিকড়গুলিকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা এক নির্দিষ্ট দিকনির্দেশে বেঁধে দেয়। সেই অনুসারে শিকড়গুলি একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে এই ব্রিজ তৈরি হয়। এই ব্রিজ একসঙ্গে ৫০ জন যাতায়াতের উপযোগী হয়ে উঠতে প্রায় ১৫-২০ বছর সময় নেয়।

টায়রনা গ্রাম থেকে প্রায় ৩ কিমি টানা উতরাই-এর রাস্তা। সকালের মিষ্টি রোদে হাঁটা শুরু করতেই দু’পাশের ঘন সবুজ পাহাড় ঝুঁকে এসে স্বাগত জানাচ্ছে। চিরহরিৎ গাছপালা, বিভিন্ন পাখির কলকাকলি, আর প্রজাপতিরা নেচে নেচে সঙ্গ নিয়েছে। সিঁড়িগুলি কোথাও খুবই সরু, ঠিক করে পা ফেলা যাচ্ছে না। সদ্য বৃষ্টির পর আরও শ্যাওলাময় পিচ্ছিল হয়ে আছে। ভরা বর্ষায় অনেক সময়ই পর্যটকদের জন্য রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেকারণেই শুরুর দু’দিন আমরা অপেক্ষায় ছিলাম রাস্তা যাতায়াতের উপযোগী হওয়ার। স্থানীয় ড্রাইভারদের কাছে পথ খোলার খবর পেয়ে, তবেই রওনা হয়েছিলাম।

Double Decker Bridge
ছোট দোকানে ম্যাগি আর চা খেয়ে উদরপূর্তি করলাম

শুরুর দিকে যখন সিঁড়ি বেয়ে নামা শুরু করলাম, তখন বেশ মজা লাগছিল। সুন্দর পথে রঙিন প্রজাপতিরা সবসময়ের সঙ্গী। এই রাস্তায় হাঁটতে শুরু করে মোট চারটি রুট ব্রিজ দেখলাম। তার মধ্যে ১৪০০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত উমনোই ব্রিজটি ৭৪ মিটার লম্বা, সবচেয়ে পুরনো ও জনপ্রিয়, কিন্তু ভগ্নপ্রায় সিঙ্গল রুট ব্রিজ। মূল রাস্তা থেকে একটু ভিতরে। বর্তমানে সংরক্ষণের কারণে এক সঙ্গে তিনজনের বেশি পর্যটককে উঠতে দেওয়া হয় না।

এ রাস্তায় অনেকগুলো ব্রিজ পার হতে হয় যাত্রীদের। আসলে নদী গিরিপথ ধরেই পুরো পথটা আমাদের চলতে হবে। রিতম্মেন, উমকার ও মাওইয়াসাও নামের ছোট ছোট ব্রিজগুলো, এই ডবল ডেকার ব্রিজের রাস্তায় যেতে গেলে, দেখতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে কোনওটি শুধুই তিনটি পাশাপাশি বাঁশের পাটাতন দিয়ে ঝুলন্ত সেতু তৈরি করা আছে, খরস্রোতা নদীর উপর। আরেকটিতে, সিমেন্ট বাঁধানো ব্রিজের নিচ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝোরায় প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হয়েছে সুইমিংপুল। ইচ্ছে হলে নেমে স্নানও করা যায়। কিন্তু ভিজে জামা পড়ে হাঁটার অসুবিধা, তাই এ যাত্রায় বিরত থাকতে হল। এছাড়াও দুটি তারের সাসপেনশন ব্রিজ পার হতে হল দুলতে দুলতে। এক কথায়, যথেষ্ট কষ্টকর আর রোমাঞ্চকর জার্নি এই ট্রেকপথটি।

Double Decker Bridge
মেঘালয়ের সর্ববৃহৎ ও দীর্ঘ ডবল ডেকার ব্রিজে

তিনটি ঘণ্টার চরাই-উতরাইয়ের পর আমাদের জন্য অপেক্ষা করে ছিল এক অসাধারণ সুন্দর জলপ্রপাত। সেই প্রপাতের পায়ের তলায় তৈরি প্রাকৃতিক এক জলাধার। আর সেই জলাধারের উপর আড়াআড়িভাবে বিস্তৃত আমাদের বহু আকাঙ্খিত দোতলা প্রাকৃতিক রুটব্রিজ। দেখেই আমাদের ক্লান্ত পরিশ্রান্ত শরীর জলে ঝাঁপ দেওয়ার জন্য ছটফট করে উঠল। প্রচুর পর্যটক সমাগম হয়েছে।

তাতে কী! যে যার নিজের মতো সেই জলে, খোলা আকাশের নিচে শুয়ে বসে মাছেদের সঙ্গে প্রাকৃতিক জাকুজির আদর উপভোগ করছে। আমরাও জলের মধ্যে পড়ে থাকলাম খানিকক্ষণ। জলের ধারে একটা ছোট বাঁশের তৈরি চেঞ্জিং রুম আছে। জল থেকে উঠে শুকনো জামা পরে নিয়ে, একটি মাত্র ছোট দোকানে ম্যাগি আর চা খেয়ে উদরপূর্তি করলাম। ফেরার জন্য তারপর আবার সেই কঠিন রাস্তা।

Double Decker Bridge
পথের পাশে বৃষ্টিস্নাত ছোট-বড় ঝর্না

ইচ্ছে ছিল একটা রাত ওই ব্রিজের পাশেই সাধারণ কোনও হোমস্টেতে অবিরাম নদীর শব্দ, রাতচরা পাখি, ঝিঁঝিঁ, ঘণ্টাপোকার ডাক শুনতে শুনতে, এক মায়াময় রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা জীবনের ঝুলিতে পুরে নেওয়ার। কথা ছিল, পরের দিন স্বপ্ন থেকে জেগে কাদামাখা এবড়ো খেবড়ো জঙ্গলের পথ ধরে আরও ঘণ্টাখানেক হেঁটে রেনবো ফলস (জলপ্রপাত) দেখতে যাব। যদিও আহামরি কিছু নয়, তবে খোঁজ খবর নিয়ে মনে হয়েছিল অ্যাডভেঞ্চারপ্রিয় মানুষদের কাছে এই পথ এক দারুণ পাওনা। কিন্ত ওই যে বলে, ‘Man proposes, but God disposes’।

দু’দিনের সাইক্লোনে সময় নষ্ট আর রেনবো ফলস যাওয়ার রাস্তাও নষ্ট। তাই সেই পরিকল্পনা বাতিল করে, যা পেয়েছি তার ষোলআনা খুশিতেই, টায়রনা ফেরার রাস্তা ধরলাম— আবার ফিরব এই রাস্তায়, সেই আশায়। ফেরার রাস্তা আরও কঠিন। কারণ এবার অধিকাংশটাই চড়াই পথে সিঁড়িভাঙা। পাক্কা তিন ঘণ্টা উঠে নেমে, আবার প্রজাপতির পিছনে ছুটতে ছুটতে শেষ বিকেলে টায়রনা গ্রামের পার্কিং-এ রেখে যাওয়া গাড়িটার কাছে পৌঁছে সেবারের মতো যাত্রায় ইতি টানলাম।

Double Decker Bridge
সে দ্বিগুণ উৎসাহে গাছপালা, মাকড়সা, পাখি, প্রজাপতি দেখাতে দেখাতে নিয়ে চলল গন্তব্যের দিকে

উইকেন্ডে মেঘালয়ের অন্যতম জনপ্রিয় পিকনিকের জায়গা হল এই ডবল ডেকার রুটব্রিজ। মেঘালয়ের ‘তাজমহল’ নামে খ্যাত এই ব্রিজে অতিরিক্ত ব্যবহৃত হয় বলে নানা সমস্যার আশঙ্কাও বাড়ছে। তবে আশার কথা এই যে, সর্বদা সজাগ দৃষ্টি থাকে ওখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁরাই নিয়ম করে যত্ন নেন তাঁদের সম্পদের। এই ‘তাজমহল’ যেন প্রকৃতি-মানুষের নিবিড় প্রেমের সাক্ষী।

ছবি সৌজন্য: লেখক

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of শম্পা নন্দী

শম্পা নন্দী

গ্রন্থাগারিকের পেশায় যুক্ত। ভালবাসি পাগলের মতো নিজের দেশ দেখতে আর সেইসব জায়গার ছবি তুলতে। বই পড়তে। বর্তমানে ভ্রমণমূলক বই পড়তেই বেশি ভাল লাগে। 'অপরাজিত' সাহিত্যপত্র নামে একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় সদস্য প্রায় ২৪ বছর। সেই সূত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
Picture of শম্পা নন্দী

শম্পা নন্দী

গ্রন্থাগারিকের পেশায় যুক্ত। ভালবাসি পাগলের মতো নিজের দেশ দেখতে আর সেইসব জায়গার ছবি তুলতে। বই পড়তে। বর্তমানে ভ্রমণমূলক বই পড়তেই বেশি ভাল লাগে। 'অপরাজিত' সাহিত্যপত্র নামে একটি লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদকীয় সদস্য প্রায় ২৪ বছর। সেই সূত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
অমর মিত্র
বিতস্তা ঘোষাল

সংস্কৃতি

আহার

শমিতা হালদার
অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com