(Jolke Chol 17)
– রাই শুতে আসবে কখন? একটা বেজে গেল তো! নেট অফ করে দিয়ে মোবাইল চার্জে বসিয়ে মেয়েকে ডাকল মোহনা।
রাইয়ের কানে সে ডাক পৌঁছাল না। সে এই সময় হয় পড়াশোনা করে অথবা নাচ প্র্যাকটিস করে। অবশ্য এর বাইরেও কিছুদিন যাবৎ মোহনা লক্ষ করেছে কারওর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলে।
সে জিজ্ঞেস না করলেও রাই নিজে থেকেই জানিয়েছে, তার সঙ্গে কলেজেরই এক সিনিয়ারের একটা রিলেশন তৈরি হচ্ছে।
আরও পড়ুন: জলকে চল: পর্ব – (১) (২) (৩) (৪) (৫) (৬) (৭) (৮) (৯) (১০) (১১), (১২) (১৩), (১৪) ,(১৫), (১৬)
– কী নিয়ে পড়ছে রে?
– কে? শিব?
– ওর নাম বুঝি শিব!
– হ্যাঁ। বলার সময় রাইয়ের মুখে লাজুক হাসি দেখে মোহনা বুঝতে পারে তাদের মধ্যে একটা সম্পর্ক ইতিমধ্যেই গড়ে উঠেছে।
– কিন্তু শিবের সঙ্গে কি রাইয়ের মিল হতে পারে? মোহনা হেসে বলেছে।
– মানে?
– মানে শিব হল নিজেই নিজের স্রষ্টা, পালনকারী, তিনি সর্বশক্তিমান। আর তাকে কি না ভরসা যোগাবে রাই?
– মা, শোনো আমার নামের অর্থ ওকে বলেছি। এতে শিব খুব উত্তেজিত। বলেছে সত্যিই ওর এমন কাউকেই দরকার, যে ওর পাশে থেকে সবকিছুতে ভরসা যোগাবে।
– কে কাকে ভরসা যোগাবে সেটাই তো এখনও বুঝতে পারছি না।

– মা…, লাজুক হেসে রাই বলল- ওর গ্রাজুয়েশন শেষ। এখন এমবিএ-র জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছে। বাইরেও চলে যেতে পারে যদি চান্স পায়।
– আচ্ছা। তাহলে পড়াশোনায় খারাপ নয় বোঝা গেল।
– শিব কলেজ টপার। সিবিএসসি-তে ও অল ইন্ডিয়া সেকেন্ড।
– ও। তাহলে নট ব্যাড। ছবি দেখা। দেখতে কেমন দেখি।
রাই লাজুক মুখ নিয়েই ছবি দেখাল। মোহনার দেখে মনে হল অবাঙালি। চেহারায় তার ছাপ স্পষ্ট। সে জিজ্ঞেস করল- বাঙালি নয়?
শিব তো বাংলাতেই আমার সঙ্গে কথা বলে। ওর বরং মা বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোন ভাষায় কথা বলবে, বুঝতে অসুবিধা হয়।
– না। কিন্তু এখানেই জন্ম, তবে স্কুলিং বাইরে।
– অরিজিন কোথাকার?
– ওর মা মারাঠি আর বাবা পাঞ্জাবী। ওঁদেরও লাভ ম্যারেজ। তবে দুজনেরই বাড়ি এখানে। তিন পুরুষের ভিটে ওদের।
– ভিটে?
– হ্যাঁ। শিব বলে, ওদের ঠাকুরদার বাবার বাবা ইংরেজ আমলে বাঙালিদের সঙ্গে একযোগ হয়ে ফাইট করার জন্য কলকাতা এসেছিলেন, আর তারপর ফেরত যাননি।
– আর মা?
– ওর বাবা আর মা এক কলেজে পড়ত। সেখানেই প্রেম অ্যান্ড দেন বিয়ে।
– সে তো বুঝতে পারলাম। কিন্তু সমস্যা হল এরা তো নিশ্চয়ই বাংলায় কথা বলবে না।
– না না মা, ওঁরা সকলেই কমবেশি বাংলা জানেন। শিব তো বাংলাতেই আমার সঙ্গে কথা বলে। ওর বরং মা বাবার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোন ভাষায় কথা বলবে, বুঝতে অসুবিধা হয়।
এখন ওরা আলাদা থাকে সার্দান এভিনিউতে। আসলে ওই বাড়িটার পাশে প্রচুর স্লাম আছে। আর, ওর মায়ের মনে হয়েছিল অমন জায়গায় থাকলে ছেলেরা মানুষ হবে না।
– বাড়ি কোথায় রে?
– ওদের পৈতৃক বাড়ি ভবানীপুরে। ওখানে যৌথ পরিবার। কিন্তু এখন ওরা আলাদা থাকে সার্দান এভিনিউতে। আসলে ওই বাড়িটার পাশে প্রচুর স্লাম আছে। আর, ওর মায়ের মনে হয়েছিল অমন জায়গায় থাকলে ছেলেরা মানুষ হবে না।
– কয় ভাইবোন?
– দুই ভাই। শিব বড়।
– কোন স্কুলে পড়েছে?
– দেরহাদুন বোর্ডিং স্কুলে। উফ্ মা তুমি এত জেরা করছ কেন?

– জেরা নয়। যার সঙ্গে তোমার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠছে সে কেমন জানব না?
– ও খুব কিউট, আর আমার থেকে অনেক ভাল। কিন্তু রেগে গেলে একটাই সমস্যা।
রাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় রইল মোহনা।
– রেগে গেলে ও কথা বন্ধ করে দেয়। আমার তখন ইচ্ছে করে ওকে মেরেই দিতে।
– বুঝলাম। কিন্তু একটা জিনিস বুঝতে পারছি না, শেষ দেড় বছর তুই কলেজ গেলি না, রাস্তাতেও সেভাবে যাসনি। সম্পর্কটা হল কখন?
– গুড কোয়েশ্চেন মা। আসলে কলেজ বন্ধ হওয়ার আগে আমরা মাত্র একদিনই দেখা করেছিলাম। তাও কোথায় জানো?
– কোথায়?
– আমাদের কলেজের পেছনের গেটে। হরিদার চায়ের ঠেকে। ওখানে আমরা ফোন নাম্বার নিলাম। তারপর ইনস্টা, হোয়াটসঅ্যাপ, ভিডিও কল চলছে।
মোহনা বলল- তুই বড় হয়ে গেলি তো!
– মা! আমি তো বড়ই। তুমি খালি নিজের মন অনুযায়ী আমাকে ছোট-বড় বানিয়ে নাও।
বাঙালিরা রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবার নিয়ে এত গর্ব করে, কিন্তু আসলে ঠাকুর পরিবারে বউদের তেমন স্বাধীনতা ছিল না। তুমি জানো, মৃণালিনী দেবীর আসল নামটাই বদলে গিয়েছিল বিয়ের পর?
– সেই তো দেখছি এখন।
– মা, তুমি জানো রবীন্দ্রনাথ যখন বিয়ে করেছিলেন, তখন মৃণালিনী দেবীর বয়স কত ছিল? মাত্র দশ।
– সেই সময় অমন বয়সেই বিয়ে হত। তুই কি এখন বিয়ে করতে চাস?
– আর ইউ ক্রেজি অর ম্যাড? আমি কেন এখন বিয়ে করতে যাব?
– তাহলে?
– আরে আমার অন্য একটা কথা মনে পড়ল, তাই বললাম।
– শুনি কী মনে পড়ল?
– শিব বলছিল, বাঙালিরা রবীন্দ্রনাথ ও ঠাকুর পরিবার নিয়ে এত গর্ব করে, কিন্তু আসলে ঠাকুর পরিবারে বউদের তেমন স্বাধীনতা ছিল না। তুমি জানো, মৃণালিনী দেবীর আসল নামটাই বদলে গিয়েছিল বিয়ের পর? ভবতারিণী থেকে মৃণালিনী হয়ে গেলেন। আর ২৯ বছর বয়সে মারাও গেলেন। তখন তাঁর দুই পুত্র এবং তিন কন্যা। মাধুরীলতা, রথীন্দ্রনাথ, রেণুকা, মীরা, শমীন্দ্রনাথ। এঁদের মধ্যে অবশ্য অতি অল্প বয়সেই রেণুকা ও শমীন্দ্রনাথের মৃত্যু ঘটে।
শিবই আমাকে ‘জোড়াসাঁকো’ আর ‘ঠাকুর বাড়ির মেয়েরা’ মানে ‘ডটারস অফ জোড়াসাঁকো’ বই দুটোর রেফারেন্স দিয়েছে। অবশ্য আমার খুব একটা কাজে লাগেনি। আম্মা ইজ মোর ইনফরমেটিভ দ্যান দিজ বুকস, তবুও আমার পড়া হল এই আর কি! আর একটা মজার বিষয় কী বলো তো?
– তোকে এসব শিব বলেছে? শিব কী করে জানল? ও কি এসব নিয়ে পড়াশোনা করে?
– না মা। এগুলো আমি রবীন্দ্রভাবনায় নারী নিয়ে পড়তে গিয়ে পড়ছি। আর অবাক হচ্ছি। যিনি মেয়েদের অধিকার, পড়াশোনা… নিয়ে এত আধুনিক লেখা লিখছেন, তিনিই আবার ব্যক্তিগত জীবনে মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দিয়ে দায় সারছেন এবং সারা জীবন সেই জ্বালায় জ্ব্লছেন। তবে শিব খুব ভাল রিডার মা। আমাদের প্রকাশনা সংস্থা আছে জেনে ভীষণ এক্সাইটেড। কিন্তু একটাই সমস্যা… রাইয়ের কথা শেষ করতে না দিয়েই মোহনা বলল- বুঝতে পেরেছি। বাংলা পড়তে পারে না।
– আসলে ওর তো বাইরে স্কুল ছিল। কিন্তু শিবই আমাকে ‘জোড়াসাঁকো’ আর ‘ঠাকুর বাড়ির মেয়েরা’ মানে ‘ডটারস অফ জোড়াসাঁকো’ বই দুটোর রেফারেন্স দিয়েছে। অবশ্য আমার খুব একটা কাজে লাগেনি। আম্মা ইজ মোর ইনফরমেটিভ দ্যান দিজ বুকস, তবুও আমার পড়া হল এই আর কি! আর একটা মজার বিষয় কী বলো তো?

– বলে ফেল। মোহনা এখন শ্রোতা।
– শিবের মায়ের নাম আনা। আর ওর বাবা স্ত্রীকে মৃণালিনী বলে ডাকেন। বলেই মুখে হাত দিয়ে হেসে উঠল রাই।
– বাহ! ইন্টারেস্টিং। মারাঠি মা, বাবা পাঞ্জাবী। তুই বাঙালি। সব মিলিয়ে মনে হচ্ছে চচ্চড়ি।
– উহু, বলো কালচারাল মিক্সড। তবে তুমি এখনই অতদূর ভেবে ফেলো না। এখন জাস্ট আমরা ফ্রেন্ড, যদিও স্টেটাসে ইন রিলেশন লিখছি। কিন্তু সেটা পাল্টেও যেতে পারে।
– বুঝলাম।
– থ্যাঙ্ক ইউ মা। বলে একটা হামি দিয়ে রাই নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে গেল।
রাই চলে যাওয়ার পর মোহনার মনে নানা প্রশ্ন উঁকি দিল। রাই ছোট থেকে কো-এডুকেশন স্কুলে পড়েছে। তার বন্ধুদের সে একেবারেই নার্সারি থেকে চেনে। এদের কারওর সঙ্গেই তার কখনও প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি, বরং বাইরের বা অন্য উঁচু ক্লাসের কোনও ছেলে রাইকে বিরক্ত বা প্রপোজ করলে, একজোট হয়ে সেই ছেলেটিকে শাসিয়ে এসেছে।
তার নিজের ভীষণ পছন্দ ছিল রাইয়ের বন্ধু মৈনাককে। এত মিষ্টি ছিল ছেলেটা। আদর খেতে বড়ই ভাল বাসত। পুলকারে যাওয়ার সময় রাই সবার শেষে উঠত গাড়িতে। মৈনাক তাকে দেখেই গাল বাড়িয়ে দিত। মোহনা একটু আদর করে গাল টিপে চুমু দিলে বলত, থ্যাংক ইউ অ্যান্ট। লাভ ইউ।
তাদের সঙ্গে তার নিজের সম্পর্কও একেবারে মায়ের মতোই। আজও তারা একসঙ্গে হলে নিজেদের আড্ডার মাঝে তাকেও চায়। নিজেদের মনের গোপন কথা, প্রথম প্রেম, ভাল লাগা সব তার সঙ্গে শেয়ার করে।
কত নতুন নতুন বিষয় জানতে পারে সে এদের থেকেই। স্কুল শেষ করে কলেজে ভর্তি হওয়ার পরেও, সেই বন্ধুত্বে এতটুকু ছেদ পড়েনি।
তার নিজের ভীষণ পছন্দ ছিল রাইয়ের বন্ধু মৈনাককে। এত মিষ্টি ছিল ছেলেটা। আদর খেতে বড়ই ভাল বাসত। পুলকারে যাওয়ার সময় রাই সবার শেষে উঠত গাড়িতে। মৈনাক তাকে দেখেই গাল বাড়িয়ে দিত। মোহনা একটু আদর করে গাল টিপে চুমু দিলে বলত, থ্যাংক ইউ অ্যান্ট। লাভ ইউ।
রাইয়ের সঙ্গে তার যত ভাব তত ঝগড়া হত। ক্লাস টু-তে পড়ার সময় একদিন সে গোলাপ ফুল দিয়ে রাইকে বলেছিল- আই লাভ ইউ। উড ইউ ম্যারি মি?
বাড়ি ফিরে রাইয়ের সে কী চিৎকার! এত সাহস কোথা থেকে পেল? আমি কেন ওকে বিয়ে করব?
মোহনা যত বোঝায়, আরে সেও তো তোর মতই ছোট। এখন কি বিয়ে হয়! নিশ্চয়ই কোথাও থেকে কথাটা শুনেছে, তাই এসে তোকে বলেছে। এতে রাগের কী হল?
রাই বলেছিল- বিয়ে করবে আমাকে? এমন মেরেছি ওকে আর ভুলেও বলবে না এ কথা।
মোহনা ভীষণ বকেছিল রাইকে। ‘তুমি বন্ধুর গায়ে হাত তুলেছ কোন সাহসে? ওর বাড়ির লোক যদি স্কুলে নালিশ করে জানো তোমাকে স্কুল থেকে তাড়িয়ে দিতে পারে? আর এ আবার কি ধরণের অসভ্যতা! বন্ধুর গায়ে হাত!’
মৈনাক বলে, ধর আমি বিয়ের মণ্ডপে বসে গিয়েছি, একটু বাদেই সিঁদুর পরাব, আর তুই সামনে দাঁড়িয়ে, আমি দেখবি উঠে গিয়ে তোকেই বিয়ে করে নেব।
মোহনা ভেবেছিল, এই নিয়ে মৈনাকের বাবা মা স্কুলে রিপোর্ট করবে। কিন্তু সে অবাক হয়ে গিয়েছিল পরদিন মৈনাককে দেখে। সেই হাসি মুখ।
মোহনা তাকে দেখে আদর করে বলেছিল, তুই এত ভাল কেন রে? তোকে রাই মারল, আর তুই সহ্য করে নিলি? উলটে মারতে পারলি না?
তাকে আশ্চর্য করে দিয়ে মৈনাক বলেছিল- ও তো ছোট। তাছাড়া আমি ওকে ভালবাসি। মা বলে যাকে ভালোবাসবে, তার সব সহ্য করতে হয়। তুমি চিন্তা করো না। আমার কিছুই লাগেনি। ওর গায়ে জোরই নেই।
– সে নয় জোর নেই। তবে আর মার খাবি না। মারলে সোজা আমাকে বলবি, কিংবা নিজেই মেরে দিবি। সোনা ছেলে আমার, বলে কপালে চুমু দিল মোহনা।

সেই মৈনাকও ধীরে ধীরে চোখের সামনে বড় হয়ে গেল। একসঙ্গে টিউশন যাওয়া, বাড়ি অবধি এগিয়ে দেওয়া, কিন্তু ওদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হল না।
রাই বলে- মা ওর দ্বারা কারওর সঙ্গে স্টেডি প্রেম হবে না।
– কেন?
– যতগুলো রিলেশনে যায়, সবার সঙ্গে যদি আমাকে খোঁজে, তাহলে কোন মেয়ে ওর সঙ্গে প্রেম করবে?
– তোকে এখনও ছাড়তে পারছে না কেন? তোর চেয়ে ঢের ভাল মেয়ে ও পাবে।
– সে পাক, আমিও তাই চাই। কিন্তু দুঃখের কথা মৈনাক বলে, ধর আমি বিয়ের মণ্ডপে বসে গিয়েছি, একটু বাদেই সিঁদুর পরাব, আর তুই সামনে দাঁড়িয়ে, আমি দেখবি উঠে গিয়ে তোকেই বিয়ে করে নেব।
– যা তা একেবারে! কী যে দেখেছে তোর মধ্যে! আমার তো মনে হয়, তুই যা মুডি কোনও সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে পারবি না।
রাইয়ের বন্ধুরা অবশ্য মনে করে, রাই ভীষণ প্রিসিয়াস। তার মতো মেয়ে নাকি হয় না। মোহনার মজা লাগে এই বয়সী ছেলেমেয়েদের কথা শুনতে। এদের চোখে কত স্বপ্ন। জীবনের ঘাত-প্রতিঘাত এদের এখনও স্পর্শ করেনি। চারপাশের অন্ধকার জগৎ, ঈর্ষা, হিংসা, লোভ, নীচতা থেকে এরা দূরে থাকুক- এই প্রার্থনাই সে করে সর্বশক্তিমানের মহাজাগতিক শক্তির কাছে।
শিবের সঙ্গে রাইয়ের বন্ধুত্ব সম্পর্কে এরা সকলেই অবগত।
তুই যার সঙ্গেই রিলেশনে থাকিস না কেন, আমার কিছুই যায় আসে না। কারণ, আমি জানি শেষ অবধি তুই আমারই হবি।
রাই বলে- মা মৈনাক কী বলেছে জানো?
– কী?
– বলে তুই যার সঙ্গেই রিলেশনে থাকিস না কেন, আমার কিছুই যায় আসে না। কারণ, আমি জানি শেষ অবধি তুই আমারই হবি।
– মানে?
– হ্যাঁ। শুনবে তার বক্তব্য? সে বলে আন্টি এবং আমার মা দু’জনেই জানে আমরা শুধু দুজনের। এ জন্মে কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।
– নাহ! এমন ভাবনা ঠিক নয়। এতে ভবিষ্যতে সমস্যা হতে পারে।
– ডোন্ট ওয়রি মা। ও একটা ভীতু। তাছাড়া আমি কখনওই ওর সঙ্গে রিলেশনে যাব না। তবে মৈনাক আমার খুব ভাল বন্ধু।
মোহনা আলতো করে হাসে। মনে মনে বলে, ভবিষ্যতের কথা কেউ জানে না। একটাই চাওয়া- দুটোই যেন তাদের মনের মতো সঙ্গী খুঁজে পায়।
(ক্রমশ)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত