(Kolkata River History)
অঘ্রাণের আস্বাদ লেগে রয়েছে নিষ্কলুষ আকাশে-বাতাসে। হেমন্ত এমনিতেই ভারি মুখচোরা। হেমন্তের পাতা ঝরা বিষণ্ণতা থাকলেও, তেমন অন্য কিছু নেই। নিরবিচ্ছিন্ন অবকাশে আজ নিপাট সকাল, উদাসী দুপুর ও নিরালা বিকেল স্রেফ গঙ্গার বুকে সঁপে দেওয়া যায় অনায়াসেই। অঘ্রাণের গান গাইতে, এমন একটা গঙ্গাবক্ষে সফর নিয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের চড়ুইভাতি করার প্রস্তাবটি পেয়েই আর দোনামনা করিনি। প্রাক্তনী হওয়ার সুবাদে এই ভ্রমণ কাঙ্খিতই ছিল। যদিও গঙ্গার কিনারেই আবার আমার আবাস। সারা দিনমান নদীর উপর উদয়াস্ত লঞ্চ-স্টিমার-বজরা-ফেরি নৌকার আসা-যাওয়া দেখি।
ভারতীয় সংস্কৃতিতে নদী দেবজ্ঞানে প্রণম্য। পতিতপাবনী গঙ্গা, কলকাতা-হাওড়া-হুগলির মাটি ছুঁয়ে ভেসে যাচ্ছে সাগরের দিকে। নদীর গান শুনতে হলে জানতে হবে ঘাটের সঙ্গে তার নিয়ত ঘরকন্নার কথাবার্তা। নদীর তীর ধরে গড়ে উঠেছিল সভ্যতা। এ নদীর কথকতা ছাড়া, প্রকৃতির ক্যানভাসটিই যেন অসম্পূর্ণ। মিলেনিয়াম পার্ক থেকে আমাদের এম.ভি.সারদা লঞ্চের যাত্রা শুরু।
আরও পড়ুন: ওড়িশার শিল্পগ্রাম পিপলি
গঙ্গার নদীতীর সৌন্দর্যায়ন প্রকল্পের প্রধান অংশ প্রায় ২.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিনোদন উদ্যান যাত্রাপথের ডান পাশ জুড়ে। এছাড়াও রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন বট-পিপুল বৃক্ষ, ঐতিহাসিক ভবন, আধুনিক স্থাপত্য, গঙ্গার ধারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা একের পর এক ঘাট। কলকাতার গঙ্গা আসলে হুগলি নদীরই প্রধান শাখা, ‘জীবনরেখা’ও বলা চলে। শহরের প্রাণ, ঐতিহ্য, পরম্পরা প্রসূত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। গঙ্গাবক্ষে পর্যটনের চাহিদা আগেও ছিল, এখনও রয়েছে। শহুরে রোজনামচা যাপন ছেড়ে একটু ভিন্ন স্বাদ নিতে চান পর্যটকরা।
হাওড়া-হুগলি জেলার অনেক অঞ্চলের নাম কালের বিবর্তনে হয়ে মুছে গিয়েছে কিম্বা পরিবর্তন হয়েছে। অতীত সময়ের বহু মন্দির, দুর্গ, পাথুরে সিঁড়ি, ঐতিহাসিক স্নানঘাটের কাঠামো আজও দেখা যায় গঙ্গার পাড়ে। বোঝাই যায় এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল এই ঘাটগুলির।

১৭১৩ সালে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি হুগলি নদীতটে ঘাটগুলি নির্মাণ করে। এই গঙ্গাপাড়ের ঘাটগুলি বিগত দিনের বনেদী ইতিহাস শোনায়। মধ্যযুগে এই অঞ্চলের সরস্বতী নদীর নাব্যতা কমে এলে, এই ঘাটগুলিই পরবর্তীতে একাধারে পরিবহণ ও বাণিজ্যের স্বার্থে ব্যাবহার করা হত। অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি থেকে ঊনবিংশ শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত এই ঘাটগুলি নির্মিত হয়েছিল। তবে শুধুই বাণিজ্য পরিবহণ নয়, ঘাটগুলির কয়েকটি ছিল শ্মশানঘাট, স্নানঘাট, মন্দিরঘাট, ফেরিঘাট ইত্যাদি।
কবি জীবনানন্দ দাস লিখেছিলেন, ‘আমাকে যে নিয়েছিল ডেকে/ বলেছিল ‘এ নদীর জল/ সব ক্লান্তি রক্তের থেকে/ স্নিগ্ধ রাখছে পটভূমি’/ এ নদী তুমি’
উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছে একাধিক ঘাটের পাড়, পাথরের সিঁড়ি। দূরে দেখা যাচ্ছে রুগ্ন বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানার ভগ্নস্তূপ। গঙ্গার পুব ঘেঁষে ধীর গতিতে বয়ে চলেছে আমাদের লঞ্চ।
নদী ও ঘাটের চিত্রমালায় একান্ত নীরবতার সঙ্গে সময় কেটে যায় জলযানে চলতে চলতে, দুলতে দুলতে। শীতের ভূমিকাপত্রের একটা আলাদা মাধুর্য আছে। জলস্থলির ভেজা বাতাস উড়ছে। ডেকের ভিতর আমরা যেন তখন স্কুল পালানো ছেলেমেয়ের দল। বয়স ভুলে হালকা দস্যিপনা শুরু করে দিয়েছি। একবার লোহার সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠছি, নামছি। লঞ্চের কাঠের পাটাতনে গা এলিয়ে বসছি। বাতাসে জলজ নদীগন্ধ। গঙ্গার জল ও ঘাটগুলির সঙ্গে অনবরত আপনমনে কথাবার্তা সারতে থাকি। গোটা সময়টা কেড়ে নিচ্ছিল ঘাটের দৃশ্যাবলী। পাথরের সিঁড়িগুলি শোনায় অতীতগাথা। শোনায় বানিজ্যের গল্প, উজাড় করা অতীত দিনের ঘাটের কথকতা।
কলকাতা বললেই আমরা জানি, সুতানটি-গোবিন্দপুর-কালীঘাট। যদিও কলকাতার প্রাচীন তিনটি ঘাটের দাবিদার চাঁদপাল ঘাট, সুতানটি ঘাট, ওল্ড ফোর্ট ঘাট। ঘাটগুলি শহরের প্রাণকেন্দ্রই শুধু তো নয়, ইতিহাসের আকর দলিল। স্থাপত্য, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরম্পরার প্রতিভূ। ঘাটের লাগোয়া কত যে ব্রিটিশ যুগের নিদর্শন আজও রয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে উত্তরমুখী জলযান যাত্রায় পেরিয়ে এসেছি রবীন্দ্র সেতু তথা হাওড়া ব্রিজের নিচ দিয়ে গন্তব্যপথ। উপযুক্ত সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়েছে একাধিক ঘাটের পাড়, পাথরের সিঁড়ি। দূরে দেখা যাচ্ছে রুগ্ন বা একেবারে বন্ধ হয়ে যাওয়া কিছু কারখানার ভগ্নস্তূপ। গঙ্গার পুব ঘেঁষে ধীর গতিতে বয়ে চলেছে আমাদের লঞ্চ।

সব ঘাটেরই নিজস্ব গল্প থাকে। ১৮৫৫ সালে পিতা নিমাইচরণ মল্লিকের স্মরণে রামমোহন মল্লিক মল্লিক ঘাট নির্মাণ করেন। এশিয়ার সবচেয়ে বড় ফুলের বাজারের তকমায় ভূষিত এই ঘাট। ১৭৬০ সালে তৎকালীন ব্যবসায়ী শোভারাম বসাক নির্মিত জগন্নাথ ঘাট। তিনি এখানে জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রার বিগ্রহসহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। বহু মানুষ পবিত্র গঙ্গায়, স্নান আহ্নিক করে গৃহে ফেরেন। নিমতলা মহাশ্মশান ঘাট, যেখানে রয়েছে মা আনন্দময়ী কালীমাতা মন্দির। খুবই জাগ্রত, যা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক তাৎপর্য বহন করে। শোনা যায়, সে যুগে রাণী রাসমণির স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাস, এই শ্মশানের দক্ষিণে মুমুর্ষু রোগীদের আস্তানা গঠন করে দিয়েছিলেন, তাঁদের ‘অন্তর্জলী যাত্রা’র জন্য। লোকবিশ্বাস ছিল, তাতে নাকি সদ্য মৃতের স্বর্গবাস সুনিশ্চিত হয়।
কলকাতার জানবাজারের রাণী রাসমণির প্রয়াত স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাস, চৌরঙ্গী থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত একটি পাকা সড়কপথ নির্মাণ করেন, ইদানিংকালে এই সড়কটি রাণী রাসমণি এভিনিউ নামে পরিচিত। তিনি গঙ্গার ধারে হাটখোলা ঘাট নামে একটি স্নানঘাট তৈরি করে দেন।
আহিরীটোলা ঘাটের আবার অন্য গল্প। ‘আহির’ মানে দুধ বিক্রেতা। ‘টোলা’ মানে অস্থায়ী আস্তানা। একদা এই ঘাটটিতে গোয়ালাদের গৃহপালিত গরু-মহিষদের স্নানের জন্য ব্যবহৃত হত। কলকাতার প্রাচীন ঘাটগুলির অন্যতম। বর্তমানে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ঘাটটির খ্যাতি। বাগবাজার ঘাটের ‘বাগ’ মানে ফুলের বাগান। এটি রাজা নবকৃষ্ণের ঘাট নামেও পরিচিত। আবার অন্য মতে, জমিদার গোবিন্দরাম মিত্রের পুত্র রঘু মিত্র, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি প্রদত্ত জমিদার পদ গ্রহণের পর এটি নির্মাণ করেন। উত্তর কলকাতার সাংস্কৃতিক নবজাগরণের বিকাশ ঘটেছিল এইসব এলাকায়।
কলকাতার জানবাজারের রাণী রাসমণির প্রয়াত স্বামী বাবু রাজচন্দ্র দাস, চৌরঙ্গী থেকে বাবুঘাট পর্যন্ত একটি পাকা সড়কপথ নির্মাণ করেন, ইদানিংকালে এই সড়কটি রাণী রাসমণি এভিনিউ নামে পরিচিত। তিনি গঙ্গার ধারে হাটখোলা ঘাট নামে একটি স্নানঘাট তৈরি করে দেন। জনাকীর্ণ বাবুঘাট ব্যবসায়িক ও ধর্মীয় কাজে নিয়ন্ত্রিত হয়। এখান থেকে হাওড়া স্টেশন পর্যন্ত নিয়মিত লঞ্চ যাতায়াত করে। বাবুঘাটের দক্ষিণে আউটরাম ঘাট, ব্রিটিশ সৈনিক জেমস আউটরাম, যিনি সিপাহি বিদ্রোহে বঙ্গ-সৈনিকদের পরিচালন করেছিলেন, তাঁর স্মৃতিতে নামকরণ করা হয়।

গঙ্গার জলে সূর্যের আলোর বিচ্ছুরণের সঙ্গে সুরেলা জলজ বাতাসের আনাগোনা। কোথাও কোথাও তটের গায়ে বটের ঝুরি নেমেছে অনেকটা। জলের দিকে ঝুঁকে রয়েছে শতাব্দীপ্রাচীন বট বা অশ্বত্থ বৃক্ষ। ধীরে ধীরে এগিয়ে আসে মায়ের ঘাট। কাছেই বাগবাজারে মায়ের বাড়ি, যেটি বর্তমানে উদ্ধোধন কার্যালয়, মা সারদা জীবনের শেষ কয়েক বছর এখানেই কাটিয়েছিলেন। কাছেই গোকুল মিত্র ঘাট। চিৎপুর ঘাট এর পরেই। তারপরই ব্যস্ত একটি সৎকার ঘাট কাশী মিত্র ঘাট। গঙ্গার তীরে কাশীপুর রাজবাটির স্নান ঘাট। দুটি আরও ছোট ছোট ঘাট রয়েছে, শিলাঘাট ও সতীদাহ ঘাট। সেখানে সতীদাহ প্রথা রদ করার জনক রাজা রামমোহন রায়ের মূর্তি।
এই গঙ্গায় একসময় পাড়ি দিত ওলন্দাজদের বাণিজ্য তরী, চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা, দেবী চৌধুরানির বজরা, ঠাকুরবাড়ির বিলাসবহুল তরণী। সেই সব ঐতিহ্যের মূর্ত রূপ কালের করালস্রোতে হারিয়ে গিয়েছে। ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে বাস্তবে ঘাটের গল্পে ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের গাথা।
আরও একটি শ্মশানঘাট, নড়াইলের জমিদার কালিশঙ্কর দত্ত রায়ের পৌত্র জমিদার রামরতন দত্ত রায় নির্মিত রতনবাবুর ঘাট। শোনা যায়, তাঁদের পারিবারিক ব্যবসা ছিল নীল চাষ। প্রজাদের পরিজনদের দাহ, সংস্কারের জন্য তিনি এই শ্মশানঘাট নির্মাণ করেছিলেন। এখানে রামকৃষ্ণ পরমহংসের নশ্বর দেহ চিতার আগুনে বিলীন হয়েছিল। সৎকারের পাশাপাশি এখানে প্রতিবছর বিভিন্ন পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা আছে। তারপরই ১৬৫৯ সালে নির্মিত পর্তুগিজদের কুঠিবাড়ি, যেটি এখন কুঠিঘাট। এখান থেকে বেলুড় মঠ যাওয়ার লঞ্চ ছাড়ছে নিয়মিত। এরপর আরও একটি ঘাট রয়েছে, জয় মিত্তির ঘাট।
মধ্যাহ্ন আহারের উষ্ণ খাবারের জন্য এবার মন আনচান শুরু হল। খাওয়াদাওয়ার পরই আমরা মজে গেলাম, গল্পগুজব, আড্ডা, গান, আবৃত্তি, অন্তাক্ষরী খেলায়। এই মুহূর্তে অত্যন্ত ধীরগতিতে জলযান চলছে। আদপে ভাটার টান শুরু হয়েছে নদীতে। এই গঙ্গায় একসময় পাড়ি দিত ওলন্দাজদের বাণিজ্য তরী, চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙা, দেবী চৌধুরানির বজরা, ঠাকুরবাড়ির বিলাসবহুল তরণী। সেই সব ঐতিহ্যের মূর্ত রূপ কালের করালস্রোতে হারিয়ে গিয়েছে। ইতিহাসের পাঠ্যবই থেকে বাস্তবে ঘাটের গল্পে ভারতের প্রাচীন সংস্কৃতি ও ধর্মবিশ্বাসের গাথা। হাতছানি দেওয়া অতীতের গঙ্গা ও ঘাটের প্রাচীনতার পরিমণ্ডলে বুঁদ হয়ে থাকি।

কথিত আছে, আলমবাজার ঘাটে নাকি বেহুলার ভেলা এসে ভিড়েছিল। আবার এই ঘাটেই জোব চার্নক এক সদ্য বিধবাকে সতী হওয়া থেকে রক্ষা করে, নিজের স্ত্রীর মর্যাদা দেন। বিবেকানন্দ সেতু, যেটির পূর্ববর্তী নাম উইলিংডন ব্রিজ বা বালি ব্রিজ। ১৯৩২ সালের রেল ও সড়ক যোগাযোগের নিমিত্ত সেতুটি নির্মিত হয়। সেতুর নিচে এক প্রান্তে দক্ষিণেশ্বর মন্দির প্রাঙ্গণ। মন্দিরঘাটে পুণ্যার্থীরা স্নান করছেন, পবিত্র গঙ্গাজল নিজস্ব পাত্রে সংগ্রহ করছেন। পাশেই মা ভবতারিণী ফেরিঘাট থেকে বেলুড়মঠ নৌ চলাচল ব্যবস্থা রয়েছে। আরও কিছুটা জল সফর পেরিয়ে বেলুড়মঠের স্নিগ্ধ শোভা। হৃদয় নত হয়ে যায় বিবেকানন্দ প্রতিষ্ঠিত মঠের স্থাপত্যকৃতির সমীপে। মঠের সীমানা প্রাচীরে গঙ্গার ঢেউয়ের আছড়ে পড়া। সবাই ছবি তুলছেন নিজস্ব মোবাইলে। বেলুড়মঠ প্রাঙ্গণে একাধিকবার এলেও, গঙ্গাবক্ষ থেকে মঠটি অবলোকন করা অতীব শোভন অনুভূতি।
নদীর উজান খরচ করিয়ে দিচ্ছে সময়ের দিনলিপি। জলবাসরের আবেগে মাতোয়ারা রাশ আলতো ছেড়ে রেখে দিই। দু’পারে বড় মায়া ছড়িয়ে রয়েছে। বড্ড মায়া। প্রত্যাগমন পথে ক্রমশ দু’চোখের আড়ালে ফিকে হয়ে পরে থাকে রবীন্দ্র সেতু-বিবেকানন্দ সেতু-বিদ্যাসাগর সেতু ত্রয়ী।
গঙ্গায় এখন অপরাহ্ন শেষের নরম আলোর বিচ্ছুরণ। আবার সে আলো যেন জলে পিছলেই হারিয়ে যায়। সে তার নিভৃতচারিতায়, একাকী থাকতে চায়। চৈতন্য মহাপ্রভুর পদধূলি ধন্য পানিহাটি ইস্কন মন্দির ঘাট ছুঁয়ে ফিরতি পথে লঞ্চ ঘুরল। জলের মজলিশে কেটে যাচ্ছে অশেষ সময়। জোয়ার-ভাটার টানের নিরিখে লঞ্চের সাঁতরে চলা। ঘাটের একদম কাছে যাওয়া বা নামা সম্ভবপরও নয়। নদীর উজান খরচ করিয়ে দিচ্ছে সময়ের দিনলিপি। জলবাসরের আবেগে মাতোয়ারা রাশ আলতো ছেড়ে রেখে দিই। দু’পারে বড় মায়া ছড়িয়ে রয়েছে। বড্ড মায়া। প্রত্যাগমন পথে ক্রমশ দু’চোখের আড়ালে ফিকে হয়ে পরে থাকে রবীন্দ্র সেতু-বিবেকানন্দ সেতু-বিদ্যাসাগর সেতু ত্রয়ী। রাত গহন হলে, অপার নৈঃশব্দের মাঝে গঙ্গার জল ও পাড় কথা কয়। তাদের গোপন সহচর থাকে দূর আকাশের তারারা।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত