(Kusumkumari Dash)
কুসুমকুমারী দাশের পরিচয় শুধুমাত্র বাংলা ভাষার অতি আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশের মা হিসেবে নয়। তিনি নিজে যে শুধু এক অনন্য প্রতিভার অধিকারিণী অসাধারণ কবি ছিলেন, তাই নয়; তিনি ছিলেন সে যুগের অর্থাৎ উনিশ শতকের এক সমাজসচেতক ও দেশাত্মবোধের জাগ্রত রূপ।
কুসুমকুমারীর জন্ম ১৮৭৫ সালে তৎকালীন পূর্ববঙ্গের বাখরগঞ্জ জেলার বরিশাল শহরে। পিতা চন্দ্রনাথ দাশ ছিলেন একজন বিখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ। তাঁর নিবাস ছিল গৈলা জেলায়। চন্দ্রনাথ ও কালীমোহন দুই ভাই ছিলেন ব্রাহ্ম ধর্মের প্রতি অনুরক্ত এবং এই ধর্মের একনিষ্ঠ প্রচারক। পরবর্তীকালে দুই ভাই হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে সপরিবারে ব্রাহ্ম সমাজভুক্ত হন। এই কারণে তাঁরা নিজ গ্রাম গৈলার পৈতৃক ভিটা থেকে বিতাড়িত হয়ে বরিশাল চলে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন। আর্থিক সচ্ছলতার অভাব থাকলেও দুই ভাই ছিলেন নির্লোভ ও সৎ প্রকৃতির। কুসুমকুমারী অতি শৈশবে মাতৃহারা হয়েছিলেন। কুসুমকুমারীরা ছিলেন তিন বোন ও এক ভাই। সন্তানদের লালন করেছেন পিতা চন্দ্রনাথ এবং পিতৃব্য কালীনাথ। জ্যেষ্ঠা কন্যা কুসুমকে শিশুকাল থেকে অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে কাটাতে হয়েছে, যা নিয়ে কোনও অভিযোগ তাঁকে করতে শোনা যায়নি।
পঞ্চম শ্রেণি থেকে কলকাতার বেথুনে তাঁর শিক্ষাগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে অবশ্য বরিশালের এক বালিকা বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষালাভের ব্যবস্থা করেছিলেন তাঁর পিতা চন্দ্রনাথ। বেথুন স্কুলে পড়াকালীন পিতৃবন্ধু ‘প্রবাসী’ পত্রিকার সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়ের গৃহে দুই বছর থেকে পড়াশুনো করার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। মাতৃহীন কুসুম এই গৃহে পেয়েছিলেন অন্তরঙ্গ স্নেহে পরিবৃত এমন এক আত্মীয়তার সম্পর্ক, যা তিনি আজীবন ভোলেননি। বেথুন বিদ্যালয়ে শিক্ষাগ্রহণের অবশিষ্ট সময় অবশ্য তিনি কাটিয়েছিলেন বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে। অসাধারণ মেধাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও কুসুম কোনও এক অজ্ঞাত কারণে আইএ পরীক্ষায় বসবার সুযোগ লাভে বঞ্চিত হয়েছিলেন।
প্রবেশিকা শ্রেণিতে পড়ার সময়েই বরিশালের ব্রজমোহন ইনস্টিটিউশনের সহকারী প্রধান শিক্ষক সত্যানন্দ দাশের সঙ্গে উনিশ বছর বয়সী কুসুমের বিবাহ সম্পন্ন হয়। এই বিবাহ কুসুমকুমারীর জীবনে ঈশ্বরের আশীর্বাদ স্বরূপ হয়ে এসেছিল। স্বামীর অনুপ্রেরণা এবং উৎসাহে তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়েছিল সাহিত্যচর্চা চালিয়ে যাওয়া। সত্যানন্দ নিজেও ছিলেন ব্রাহ্মধর্মালম্বী। তাঁরই সহায়তায় ব্রাহ্মসমাজের সভা-উৎসব-অনুষ্ঠানে কুসুম নিয়মিত যোগদান করবার সুযোগ পেয়েছিলেন। এমনকী বেশ কিছু বছর পর্যন্ত স্থানীয় ছাত্রসংঘের সপ্তাহব্যাপী মাঘোৎসব অনুষ্ঠানে মহিলা দিবসের উপাসনায় তাঁকে আচার্যের দায়িত্ব পালন করতে হয়েছিল। বয়সবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কুসুমকুমারী ব্রাহ্ম সমাজে এমন এক মর্যাদার অধিকারিণী হয়ে উঠেছিলেন যে, শুধু মহিলাদের উৎসবে নয়, সাধারণ সভাতেও তিনি আচার্যের কঠিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

ছোটবেলা থেকেই কুসুমকুমারী কবিতা ও বিভিন্ন বিষয়ে প্রবন্ধ লেখার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। এ ব্যাপারে তাঁকে উৎসাহিত করতেন পিতা চন্দ্রনাথ দাশ। রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় শিশুদের জন্য চিত্রশোভিত যে বর্ণশিক্ষার বই লিখেছিলেন, তার প্রথম ভাগে কুসুমকুমারী রচিত যুক্তাক্ষরবিহীন ছোট ছোট পদ্যাংশ তিনি সংযোজিত করেছিলেন। ‘ব্রহ্মবাদী’ পত্রিকার সম্পাদক মনমোহন চক্রবর্তীর অনুরোধে তাঁর পত্রিকায় প্রায় নিয়মিত প্রবন্ধ লিখতেন কুসুমকুমারী।
প্রধানত কবি হিসেবে কুসুমকুমারীর খ্যাতি এবং পরিচিতি থাকলেও, তাঁর গদ্য কিন্তু কম মূল্যবান ছিল না। পুরাণ ও পৌরাণিক কাহিনি অবলম্বনে শিশুদের জন্য রচিত গদ্য সংকলন ‘পৌরাণিক আখ্যায়িকা’ তারই এক উজ্জ্বল নিদর্শন। এছাড়া, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে লেখা ‘দিনলিপি’/ রোজনামচা এবং তাঁর অসম্পূর্ণ আত্মজীবনী ‘স্মৃতিসুধা’ গদ্য রচনা হিসেবে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। ‘দিনলিপি’ গ্রন্থে কবি ও সুগৃহিণী হিসেবে তাঁর দৈনন্দিন কর্মজীবনের এক অসাধারণ রোজনামচা তিনি লিখে গেছেন।
তিনি লিখেছিলেন, ‘একদিন লিখেছিনু আদর্শ যে হবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’। মানুষের কর্মহীনতা এবং কর্মবিমুখতা দেখে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘আজ লিখিতেছি বড় দুঃখ লয়ে প্রাণে/ তোমরা মানুষ হবে কাহার কল্যাণে?’
কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। তিনি বারবার মাকে স্মরণ করে তাঁর জীবনযুদ্ধের কথা লিখে গেছেন। লিখেছেন কীভাবে সাহিত্যচর্চা ও সমাজসেবার পাশাপাশি কুসুমকুমারী সুনিপুণভাবে সংসার সেবা করেছেন। বিশেষ করে বিবাহের পর যৌথ পরিবারের বিশাল দায়িত্ব তিনি সুচারুভাবে পালন করেছেন। মা কুসুমকুমারীর তত্ত্বাবধানে জীবনানন্দের বাল্যকালের পড়াশুনো ও কৈশোরের নীতিনিষ্ঠ জীবনপ্রণালী গড়ে ওঠে। ভোরে উঠে তিনি শিশু পুত্রকন্যাদের শোনাতেন ব্রহ্মসঙ্গীত— “মোরে ডাকি লয়ে যাও মুক্তদ্বারে/ তোমার বিশ্বের সভাতে,/ আজি এ মঙ্গল প্রভাতে”। এই সব কথা জীবনানন্দ বারবার তাঁর স্মৃতিচারণে উল্লেখ করেছেন।
কুসুমকুমারী রচিত ‘মনুষ্যত্ব’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে মানুষের আদর্শ, চারিত্রিক দৃঢ়তা এবং কর্মনিষ্ঠার কথা। এই কবিতায় তিনি কথার চেয়ে কাজে বড় হওয়ার এবং মনুষ্যত্ব জাগিয়ে তোলার ডাক দিয়েছেন, যা মানুষকে অপমান ও লাঞ্ছনা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তিনি লিখেছিলেন, ‘একদিন লিখেছিনু আদর্শ যে হবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’। মানুষের কর্মহীনতা এবং কর্মবিমুখতা দেখে তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন। প্রশ্ন তুলেছিলেন, ‘আজ লিখিতেছি বড় দুঃখ লয়ে প্রাণে/ তোমরা মানুষ হবে কাহার কল্যাণে?’

একান্নবর্তী পরিবারের প্রায় সিংহভাগ কাজ কুসুমকুমারী নিজেই করতেন, সে কথাও জীবনানন্দ লিখেছেন তাঁর স্মৃতিচারণায়। রাত্রে শেষ মানুষটির খাওয়া হওয়া পর্যন্ত জেগে বসে থাকতেন তিনি। আর বিছানাতে না ঘুমিয়ে অপেক্ষারত থাকতেন কিশোর জীবনানন্দ। অতঃপর মা এসে পুত্রের সারাদিনের লেখাপড়া ইত্যাদির খোঁজ নিতেন, এবং সাহায্য করতেন দৈনন্দিন পাঠ শিক্ষাতে। জীবনানন্দের ভাষায় মায়ের সেই শিক্ষাদান— ‘সেটা স্কুল কলেজের কারিকুলমের সঙ্গে খাপ খেয়ে চলে না। শুধু সদর্থ আবিষ্কার করে চলতে থাকে সংসারের, সমাজের, দেশের, জীবনের’ (আমার মা-বাবা – জীবনানন্দ দাশ)।
শুধু শৈশবে নয়, মায়ের প্রতি জীবনানন্দের এই নির্ভরতা ছিল আমৃত্যু।
জীবনানন্দ দাশ তাঁর মা কুসুমকুমারীকে গত শতকের এমন একজন মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাঁর সান্নিধ্যে গেলে তাঁর মনে একটি শান্ত ও উন্নত পরিবেশের অনুভূতি হত। তিনি লিখেছেন, তখনকার মানুষের বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছিল না। তাঁর মা ছিলেন তেমনই একজন বিরল প্রকৃতির মানুষ। কুসুমকুমারী শুধুই কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সাহসী ও প্রগতিশীল নারী, যিনি বরিশালের নারীশিক্ষা ও সমাজ সংস্কারে অন্যতম প্রধান ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।
কবি হিসেবে কিন্তু কুসুমকুমারীর কোনও প্রতিষ্ঠা বা খ্যাতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল না। তিনি কলম ধরতেন প্রায় তাৎক্ষণিক তাগিদে। তবে যেটুকু সময় তিনি কলম ধরেছেন এবং সৃষ্টি করে গিয়েছেন, তা আজও অমূল্য হয়ে রয়ে গিয়েছে।
কুসুমকুমারীর লেখা ‘আদর্শ ছেলে’ কবিতাটি বিভিন্ন পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কারণে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেছিল। আমাদের সময়েও এই কবিতাটি আমাদের পড়তে হয়েছে, আর আজও তাই এই কবিতা আমাদের অত্যন্ত প্রিয়। ‘আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে’।
জীবনানন্দ তাঁর মায়ের কবিতা লেখা প্রসঙ্গে লিখেছেন, ‘মায়ের কবিতার আশ্চর্য প্রসাদ গুণ। সবসময়ে নয়, কোন কোন সময়ে বেশ ভাল কবিতা বা গদ্য খুব একান্ত মনে তাড়াতাড়ি রচনা করে দিচ্ছেন, দেখতে পেতাম। সংসারের নানা কাজকর্মে খুবই ব্যস্ত আছেন— এমন সময়ে ‘ব্রহ্মবাদী’-র সম্পাদক আচার্য মনোমোহন চক্রবর্তী এসে বললেন, এখুনি ‘ব্রহ্মবাদী’র জন্যে তোমার কবিতা চাই, প্রেসে পাঠিয়ে দিতে হবে, লোক দাঁড়িয়ে আছে। এই কথা শুনে মা খাতাকলম নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে এক হাতে খুন্তি আর এক হাতে কলম নাড়ছেন দেখা যেত; যেন তিনি চিঠি লিখছেন, বড় একটা ঠেকছে না কোথাও; আচার্য চক্রবর্তীকে প্রায় তখুনি তখুনি কবিতা দিয়ে দিলেন। স্বভাব কবিদের কথা মনে পড়ত আমার, আমাদের দেশের লোক-কবিদের সহজতাকে’।

কবি হিসেবে কিন্তু কুসুমকুমারীর কোনও প্রতিষ্ঠা বা খ্যাতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল না। তিনি কলম ধরতেন প্রায় তাৎক্ষণিক তাগিদে। তবে যেটুকু সময় তিনি কলম ধরেছেন এবং সৃষ্টি করে গিয়েছেন, তা আজও অমূল্য হয়ে রয়ে গিয়েছে।
দেশমাতৃকার প্রতি কুসুমকুমারীর ছিল গভীর ভক্তি। তিনি ছিলেন আন্তরিকভাবে একজন স্বদেশি। সেই বিদেশি শাসকের রাজত্বে, সেই পরাধীনতার যুগে লেখা তাঁর কবিতায় দেশভাগের ফলে মানুষের দুঃখকষ্ট, উদ্বাস্তু পরিচয়ে স্বভূমিতে বেঁচে থাকার নিদারুণ মনোবেদনা প্রকাশ পেয়েছে ছত্রে ছত্রে। আবার সেই দুর্দিনেও মাতৃভূমির প্রতি কবির নিরবিচ্ছিন্ন ভালবাসা প্রকাশ পেয়েছে তাঁর ‘মায়ের প্রতি’ কবিতায়। ‘মুক্তকণ্ঠে যুক্তকরে ডাকিছে তোমায়, /হে লজ্জাবারিণী-/ সাধনার ধন তুমি ভারতবাসীর,/ সহস্র পীড়নে, উপবাসে, অনশনে ভোলে নাই তোমা’।
সামগ্রিকভাবে কুসুমকুমারীকে শুধু জীবনানন্দের মা হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল একজন স্বতন্ত্র ও প্রতিভাবান কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।
উনিশ শতকের বাংলা কবিতার যে বৈশিষ্ট্য, কুসুমকুমারীর কবিতায় তা পূর্ণ মাত্রায় উপস্থিত। শান্ত গার্হস্থ্য জীবন, দেশাত্মবোধ, শিক্ষা, নারী স্বাধীনতা, প্রকৃতিপ্রেম এবং সমাজের সার্বিক উন্নয়ন এই সবকিছু জড়িয়ে বিছিয়ে কুসুমকুমারী রয়ে গিয়েছেন তাঁর সৃষ্টির মাঝখানে।
কুসুমকুমারী দাশের রচনা ও কাব্যপ্রতিভা সম্বন্ধে কবি, সমালোচক ভূমেন্দ্র গুহ উচ্চ প্রশংসা করেছিলেন। তিনি মনে করতেন, কুসুমকুমারীর কবিতায় একটি সহজাত কাব্যিক গুণ ছিল, যা তৎকালীন মহিলা কবিদের মধ্যে বিরল ছিল। তাঁর রচনাতে যে গভীর অনুভূতি ও শিল্পবোধ ফুটে উঠত, তাকে ভূমেন্দ্র অত্যন্ত উচ্চমানের বলে গণ্য করতেন। সামগ্রিকভাবে কুসুমকুমারীকে শুধু জীবনানন্দের মা হিসেবে নয়, বরং নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল একজন স্বতন্ত্র ও প্রতিভাবান কবি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিলেন।

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে কুসুমকুমারী দাশের অবদান যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হলেও অদৃষ্টের পরিহাসে তাঁর বেশিরভাগ রচনাই কালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। মায়ের কবিতা সংকলন প্রসঙ্গে জীবনানন্দ লিখেছেন, ‘মা’র কয়েকটি কবিতা গ্রথিত করে রামানন্দবাবু ‘কাব্য মুকুল’ নামে কবিতার বই বের করেছিলেন। সেই বইটি আজকাল কোথাও পাওয়া যায় না। আমাদের কাছেও নেই।’ তাঁর অধিকাংশ গ্রন্থ সংরক্ষিত না হওয়ার পিছনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক, সামাজিক এবং ব্যক্তিগত কারণ রয়েছে বলে গবেষকদের ধারণা। তৎকালীন রক্ষণশীল সমাজে নারীদের সাহিত্যচর্চা খুব একটা গুরুত্ব পেত না। এই কারণে হয়তো কুসুমকুমারীর সাহিত্য রচনার যথাযথ মূল্যায়ন বা সংরক্ষণ সম্বন্ধে কোনও উদ্যোগ সে সময়ে নিয়ে ওঠা হয়নি।
ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং তাঁর জীবনমুখী চিন্তাভাবনা যেমন তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের ধারাকে চলমান রেখেছে, রচনার ক্ষেত্রেও তার প্রকাশ আমাদের ঋদ্ধ করেছে।
তা সত্ত্বেও কুসুমকুমারী দাশের যে সমস্ত রচনা পরবর্তীকালে গবেষকদের আগ্রহ ও চেষ্টায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে তার মূল্য কিছু কম নয়। ঈশ্বরে বিশ্বাস এবং তাঁর জীবনমুখী চিন্তাভাবনা যেমন তাঁর প্রাত্যহিক জীবনের ধারাকে চলমান রেখেছে, রচনার ক্ষেত্রেও তার প্রকাশ আমাদের ঋদ্ধ করেছে। কুসুমকুমারী দাশ আজও তাই পাঠকের কাছে উনিশ শতকের এক স্বতন্ত্র কবি হিসেবে স্বমহিমায় উজ্জ্বল।
তথ্যসূত্র: আমার বাবা মা: জীবনানন্দ দাশ
জীবনলিপি: কুসুমকুমারী দাশ, ভূমিকা- ভূমেন্দ্র গুহ
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত