১
ধুলো ওড়ার বসন্তে কলকাতা,
ভিড়ের মাঝে অনন্ত হাতছানি
সে আমাকে নাও বা যদি চেনে
আমি তাহার পদ্য কিছু জানি।
পদ্য চেনা, স্পর্শ, হৃদয়, সেতু।
তার চে’ বেশি মুখ চেনা নেই। কথা?
কথার মাঝে কথার কথা বেশি,
ছড়ায় সেও বেভুল যথা তথা!
এক দশকের তফাতে তোর লেখা
নাম ধরেছিস সবুজ পদ্য দেখে?
দিদি বলতে কীসের এত দ্বিধা!
মন মজেছে শব্দবুটি চেখে।
আসলে ডাক পাল্টায় না কিছু,
সোজাসাপটা বিষয় হল – ছোঁয়া।
সন্ধে নামে – লিটল ম্যাগের টেবিল –
চায়ের কাপে ঘনায় কথার ধোঁয়া।
ধুলো ওড়ার বসন্তে বইমেলা,
ভিড়ের মাঝে অনন্ত হাতছানি
আমার তোকে অত্ত পড়া নেই
তুই আমার পদ্য কিছু জানিস।
২
মেয়েটি কথামালা, ছেলেটি হিসাবের অংকে খাতা খুলে নিমগ্ন,
নতুন ছাপা নিয়ে প্রেসের ছেলেটির বাঁধনে বাঁধনে কী যত্ন।
ওদিকে জটলারা ক্ষণেকে বদলায় – কে আসে কে বা যায় অজান্তে,
পলাশপরবে কি এবারে পুরুলিয়া? প্ল্যানেরা থেকে যায় জনান্তে।
তুমি কি একা পড়ে? বন্ধু নেই কেউ – একাকী ফিরিছ এ কন্দরে…
আমাকে চেনো তুমি, তোমাকে চেনে কেউ – শব্দ পারাপার মন করে।
মাইকে ক্ষণে ক্ষণে নিরুদ্দেশ বলে ভাসিছে নাম কার হাওয়ায় ভর,
সন্ধে হলে দেখা দেবে যে জনা চার – অন্যদের সাথে অতঃপর।
আজকে পাটভাঙা বইয়ের কাঁচা রঙ, লেখাও কালি ওঠা সামান্য –
মেয়েটি কথামালা, সঙ্গে হিসাবীয়া, ওদের আজ বুঝি নবান্ন।
ছবি সৌজন্য: Wikimedia Commons