(Gen Z Politics)
জেনারেশন জেড— যাদের জন্ম আনুমানিক নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০-এর দশকের শুরুর দিকে— তাদের রাজনৈতিক চেতনা সমসাময়িক রাজনৈতিক বিশ্লেষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয় বিষয় হয়ে উঠেছে। পূর্ববর্তী প্রজন্মের রাজনৈতিক সামাজিকীকরণ প্রধানত পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রচলিত গণমাধ্যমের মাধ্যমে গড়ে উঠত। জেন জি বেড়ে উঠেছে গভীরভাবে ডিজিটাল, আন্তঃসংযুক্ত এবং তথ্যবহুল এক পরিবেশে।
এই পরিবর্তিত বাস্তবতা কেবল রাজনৈতিক সচেতনতা অর্জনের পদ্ধতিকেই বদলে দেয়নি; বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের গঠন, তার প্রকাশ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ধরনকেও মৌলিকভাবে পুনর্নির্মাণ করেছে। প্রযুক্তি, সোশাল মিডিয়া এবং মতাদর্শগত অবস্থান— যা বামপন্থী ও দক্ষিণপন্থী উভয় ধারারই হতে পারে— এক জটিল, বহুস্তরীয় এবং অনেক ক্ষেত্রে পরস্পরবিরোধী রাজনৈতিক বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক সচেতনতার প্রশ্নে জেন জি এক দ্বৈত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। একদিকে, তারা অভূতপূর্বভাবে তথ্যসমৃদ্ধ এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল; অন্যদিকে, তাদের জ্ঞান অনেক সময় সীমিত, খণ্ডিত ও আবেগপ্রবণ। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তারের ফলে রাজনৈতিক তথ্য এখন আর অপ্রতুল বা নিয়ন্ত্রিত নয়। সংবাদ, বিশ্লেষণ, মতামত, প্রতিবাদ, যুদ্ধ কিংবা আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি— সবকিছুই তাৎক্ষণিকভাবে উপলব্ধ। এর ফলে এক ধরনের ‘পরিবেষ্টিত সচেতনতা’ (ambient awareness) তৈরি হয়েছে। সক্রিয়ভাবে অনুসন্ধান না করলেও রাজনৈতিক তথ্য সেখানে তরুণ প্রজন্মের চেতনার অংশ হয়ে ওঠে।
তবে, তথ্যের প্রাচুর্য এক নতুন সমস্যারও জন্ম দেয়। অনেক সময় তথ্যের আধিক্য জ্ঞানের গভীরতাকে প্রতিস্থাপন করে। দুর্নিবার গতি-নির্ভর অসীম তথ্য-সম্ভার তর্কাতীতভাবে বেশি আকর্ষণীয়, উত্তেজনাপূর্ণ বা আবেগময়। ফলে রাজনৈতিক উপলব্ধি অনেক সময় বিশ্লেষণাত্মক না হয়ে প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে ওঠে। ক্ষোভ, সহানুভূতি, ভয় বা নৈতিক অবস্থান— এসব আবেগ প্রায়শই যুক্তির থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এর ফলে রাজনৈতিক সচেতনতা এক ধরনের ‘তাৎক্ষণিকতা’-র মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে, যেখানে গভীর আলোচনা-নির্ভর বা বিশ্লেষণাত্মক বিচারের অনুপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।

এ যেন এক অভূতপূর্ব বিমূর্ত বা নৈর্ব্যক্তিক চিন্তার অপমৃত্যু! গতির অপ্রতিরোধ্য আধিপত্যের সামনে গভীর, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিফলনের আকর্ষণ ঠুনকো ও নিতান্তই দুর্বল ঠেকে। কোথাও একটা দ্রুত সমাধানের আকুলতা, সারসংক্ষেপের প্রতি অনিবার্য পক্ষপাত, ও বহুমাত্রিক জটিলতাকে অস্বীকার করে একটা ভাসা-ভাসা সরল ধারাভাষ্যকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রহণ করা ও তার অনায়াস পরিহার আজকের জীবনবোধের একটা সংক্ষিপ্ত চরিত্রায়ন। রাজনীতি, তত্ত্বগতভাবে, জটিল। এখানে সারল্যের স্থান নেই স্বভাবতই। নতুন প্রজন্মের এই জটিলতা বোঝার সময় নেই। তাই, রাজনীতির অর্থগত বিতর্কগুলো আজ ধীরে ধীরে অবলুপ্তির পথে।
তবে, এর পাশাপাশি, প্রেক্ষাপট ও পরিকাঠামোর রূপান্তরকেও অবহেলা করলে চলবে না। প্রযুক্তির ভূমিকা এখানে বহুমাত্রিক। প্রযুক্তি কেবল তথ্যের বাহক নয়, বরং রাজনৈতিক শিক্ষার কাঠামোকেও রূপান্তরিত করেছে। পূর্বে রাজনৈতিক শিক্ষা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক, নিয়ন্ত্রিত এবং কাঠামোবদ্ধ; এখন তা অনেক বেশি বিকেন্দ্রীভূত, অংশগ্রহণমূলক এবং অনানুষ্ঠানিক। জেন জি রাজনীতি শিখছে ইউটিউব ভিডিও, ইনস্টাগ্রাম পোস্ট, টুইটার থ্রেড, মিম এবং অনলাইন আলোচনার মাধ্যমে। এই নতুন শিক্ষার ধরন আপাতদৃষ্টিতে উত্তেজক এবং প্রায়শই আকর্ষণীয় হলেও, এর মধ্যে গাম্ভীর্যের অভাব, প্রেক্ষিতের ঘাটতি এবং তথ্য সরলীকরণের প্রবণতা লক্ষ্যণীয়।
অনলাইন আবেদনে সাক্ষর করা, সামাজিক মাধ্যমে আবেগপূর্ণ রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করা, হ্যাশট্যাগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক বিষয়বস্তু তৈরি ও তার প্রচার করা। এই ধরনের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের বাধাকে অনেকাংশে হ্রাস করেছে এবং অধিক সংখ্যক মানুষকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্ত করেছে।
ডিজিটাল পরিকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক এর গণতান্ত্রিক চরিত্র। পূর্বে যেসব কণ্ঠস্বর প্রান্তিক বা মূলধারার বাইরে অবস্থান করত, তারা এখন দৃশ্যমানতা পেয়েছে আন্তর্জালিক প্রযুক্তির সাহায্যে। বিশেষত বামপন্থী রাজনৈতিক আন্দোলনের নতুন দিকসমূহ, যেমন, সামাজিক ন্যায়বিচার, বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম, লিঙ্গসমতা, পরিবেশ রক্ষা এবং অর্থনৈতিক পুনর্বণ্টনের দাবি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন গুরুত্ব লাভ করেছে। হ্যাশট্যাগ আন্দোলন, অনলাইন ক্যাম্পেইন এবং ভাইরাল কনটেন্টের মাধ্যমে বৈশ্বিক সংহতির এক নতুন রূপ গড়ে উঠেছে।
দক্ষিণপন্থী মতাদর্শ বিস্তারেও এই প্রযুক্তি সমান ভূমিকা পালন করেছে। জাতীয়তাবাদ, সহিংস জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক সংকীর্ণতা ও রক্ষণশীলতা, ধর্মীয় পরিচয়-ভিত্তিক বিভাজনের রাজনীতির প্রচার, পড়শি দেশের প্রতি দ্বেষ ও ঘৃণার মনোভাব, অভিবাসনের নিরাপত্তাকরণ, এবং বিশ্বায়নবিরোধী বক্তব্য ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীগুলি দক্ষতার সঙ্গে মিম, রসিকতা এবং আবেগনির্ভর তর্জমা ব্যবহার করে কিশোর ও তরুণদের আকৃষ্ট করছে। অনেক ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্মগুলো প্রতিধ্বনি-কক্ষে (echo chamber) পরিণত হয়, যেখানে একই মতাদর্শ বারবার পুনরুৎপাদিত হয়ে আরও দৃঢ় এবং কিছু ক্ষেত্রে চরমপন্থী হয়ে ওঠে। ফলে ডিজিটাল মাধ্যম একদিকে মতের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি করলেও, রাজনৈতিক মেরুকরণও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক অংশগ্রহণে জেন জি একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। অংশগ্রহণ এখন আর কেবল ভোটদান বা দলীয় রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং, তা বিস্তৃত হয়েছে ডিজিটাল সক্রিয়তার বিভিন্ন রূপে, যেমন অনলাইন আবেদনে সাক্ষর করা, সামাজিক মাধ্যমে আবেগপূর্ণ রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করা, হ্যাশট্যাগ আন্দোলনে অংশগ্রহণ, এবং রাজনৈতিক বিষয়বস্তু তৈরি ও তার প্রচার করা। এই ধরনের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রবেশের বাধাকে অনেকাংশে হ্রাস করেছে এবং অধিক সংখ্যক মানুষকে সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যুক্ত করেছে।
নতুন ধরনের এই অংশগ্রহণ অবশ্য সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। অনেক সময় এই অংশগ্রহণ কেবল প্রতীকী এবং বাস্তব পরিবর্তনে সীমিত ভূমিকা পালন করে। সামাজিক মাধ্যমে কোনও বিষয়ে বা মতামতের প্রতি দ্রুত ভাল লাগা, শেয়ার বা মন্তব্য করা অনেক সময় প্রকৃত রাজনৈতিক পদক্ষেপের বিকল্প হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু, এই মত বিনিময়ের গুরুত্বকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর বলা যায় না। বাস্তবে, সমাজ মাধ্যম তথা আন্তর্জালিক সক্রিয়তা অনেক সময় বৃহত্তর আন্দোলনের সূচনা করে, জনমত গঠন এবং সংগঠনের ভিত্তি তৈরি করে। আরব বসন্তের প্রসার, বাংলাদেশ ও নেপালের গণঅভ্যুত্থান, জনপ্রিয়তাবাদী রাজনীতির ব্যাপক প্রসারের অন্যতম কারণ রূপে সামাজিক মাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জেন জি-কে সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত বা চরমপন্থী বলা ঠিক নয়। এই প্রজন্মের একটি বড় অংশ ইস্যুভিত্তিক এবং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মতাদর্শ থেকে উপাদান গ্রহণ করে এবং একটি মিশ্র রাজনৈতিক অবস্থান নির্মাণ করে, যার নামকরণ অসাধ্য।
জেন জি-র মতাদর্শগত অবস্থান বিশেষভাবে লক্ষ্যণীয় তার বৈচিত্র্য এবং জটিলতার জন্য। এই প্রজন্মকে সরলভাবে বামপন্থী বা দক্ষিণপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। বরং, তারা একাধিক মতাদর্শের উপাদান মিলিয়ে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে। জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক ন্যায় এবং লিঙ্গসমতার প্রশ্নে তারা অনেক প্রগতিশীল অবস্থান গ্রহণ করে। সমতা, অন্তর্ভুক্তি এবং মানবাধিকারের মতো মূল্যবোধ তাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, রক্ষণশীল রাজনীতিও তাদের হাতছানি দেয়। জনপ্রিয়তাবাদের বর্তমান আকর্ষণের অনেক কারণ আছে। তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হল এর মূল্যবোধগত অসঙ্গতি এবং প্রতীক বা সাঙ্কেতিক ভাষার চতুর ব্যবহার। এই বৈশিষ্ট্যগুলি বাম ও ডানপন্থী মতাদর্শী নবীন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের উদ্বেলিত করে।
সারা বিশ্বে, আজ তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশে দক্ষিণপন্থী প্রবণতা ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের অভাব এই উদ্বেগগুলি দক্ষিণপন্থী রাজনীতির প্রতি মানুষের দুর্বলতা প্রকট করে তুলছে, যেখানে শৃঙ্খলা, স্থিতিশীলতা এবং সার্বভৌমত্বের দাবি স্বাভাবিকভাবে বেশি প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ডিজিটাল মাধ্যম এই অনুভূতিগুলিকে আরও ক্ষুরধার করে এবং অনেক সময় সংগঠিত করতেও সমর্থ হয়। এই দ্বৈত প্রবণতা মূলত বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতা, সাংস্কৃতিক পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি অনাস্থার জটিল মিথস্ক্রিয়া এমন এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে প্রগতিশীল আকাঙ্খা এবং রক্ষণশীল উদ্বেগ একই সঙ্গে সহাবস্থান করে।

সোশাল মিডিয়া এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। এ এক অদ্ভুত দ্বৈততা। এক দিকে নানা মতের গণতন্ত্রিকরণ ও প্রতিনিধিত্বের অভূতপূর্ব দৃশ্যমানতা; অন্য দিকে, ভিন্নমত শোনা বা বোঝার সুযোগ কমে আসা এবং আদর্শগত-রাজনৈতিক মেরুকরণ। তার উপর, সোশাল মিডিয়ার দ্রুত এবং আবেগনির্ভর প্রতর্ক রাজনৈতিক আলোচনাকে অনেক সময় চরম এবং সরলীকৃত করে তুলছে। তবুও জেন জি-কে সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত বা চরমপন্থী বলা ঠিক নয়। এই প্রজন্মের একটি বড় অংশ ইস্যুভিত্তিক এবং বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করে। তারা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন মতাদর্শ থেকে উপাদান গ্রহণ করে এবং একটি মিশ্র রাজনৈতিক অবস্থান নির্মাণ করে, যার নামকরণ অসাধ্য। এই নমনীয়তা ভবিষ্যতের রাজনীতিতে একটি নতুন ধারা আনতে পারে, যেখানে কঠোর মতাদর্শগত বিভাজনের পরিবর্তে বাস্তব সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া বেশি প্রয়োজনীয় মনে হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে জেন জি-র রাজনৈতিক চেতনা একটি বৈশ্বিক মাত্রাও অর্জন করেছে। বিশ্বের এক প্রান্তের ঘটনা অন্য প্রান্তের তরুণদের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে পৌঁছে যায় এবং তাদের প্রভাবিত করে। তবে এই বৈশ্বিক সচেতনতার পাশাপাশি স্থানীয় বাস্তবতা, জাতীয় রাজনীতি এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটও সমান গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হয়। ফলে, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় একাধিক স্তরে গঠিত হয়।
প্রযুক্তি যেমন এক দিকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনই বিভ্রান্তি, মেরুকরণ এবং অগভীর সম্পৃক্ততার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। জনপ্রিয়তাবাদ, বাম ও দক্ষিণপন্থী প্রবণতার সহাবস্থান সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতাকেই প্রতিফলিত করে।
সামগ্রিক বিচারে, জেন জি-র রাজনৈতিক চেতনা একাধিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেছে। একদিকে যেমন তথ্যপ্রাচুর্য বনাম বিভ্রান্তি, গণতন্ত্রিকরণ বনাম মেরুকরণ, অন্যদিকে তেমন প্রতীকী অংশগ্রহণ বনাম বাস্তব গুরুত্ব এবং বাম ও দক্ষিণপন্থার সহাবস্থান। প্রযুক্তি এখানে কেবল একটি নিরপেক্ষ মাধ্যম নয়; এটি একটি সক্রিয় গঠনমূলক শক্তি, যা রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান এবং অংশগ্রহণের ধরনকে নতুনভাবে নির্ধারণ করছে।

উপসংহারে বলি, জেনারেশন জেড-এর রাজনৈতিক চেতনা সরল ও প্রথাগত ধারণার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব নয়। এটি একটি পরিবর্তনশীল, গতিশীল এবং বহুস্তরীয় প্রক্রিয়া, যেখানে রাজনৈতিক বিবর্তন, অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তি, সামাজিক বাস্তবতা এবং মতাদর্শগত দ্বন্দ্ব পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। প্রযুক্তি যেমন এক দিকে রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছে, তেমনই বিভ্রান্তি, মেরুকরণ এবং অগভীর সম্পৃক্ততার ঝুঁকিও বাড়িয়েছে। জনপ্রিয়তাবাদ, বাম ও দক্ষিণপন্থী প্রবণতার সহাবস্থান সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতার জটিলতাকেই প্রতিফলিত করে।
ভবিষ্যতে এই প্রজন্মের রাজনৈতিক ভূমিকা নির্ধারিত হবে, তারা কীভাবে প্রযুক্তির ব্যবহারকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মতাদর্শগত পার্থক্যের যথাযথ অর্থ নির্ধারণ করবে, তার উপর। আপাদমস্তক প্রযুক্তি-নির্ভরতা, যে কোনও সমস্যার দ্রুত সমাধানের প্রতি আকর্ষণ, সম্পর্কের গভীরতার বদলে সাময়িক উত্তেজনা ও সার্বিক নমনীয়তা, বিশ্লেষণ-বিমুখতা ও জ্ঞানের পরিবর্তে কার্যকরী হাতিয়ারবাদী মানসিকতা, এই প্রজন্মের সামনে নিঃসন্দেহে বড় চ্যালেঞ্জ। তারা কীভাবে এর মোকাবিলা করবে তা ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা, প্রযুক্তির বিবর্তন ও তাদের রাজনৈতিকবোধের পরিপক্কতার উপর নির্ভর করবে।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত