Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

ভোটবাক্সের ডানদিক, বাঁদিক…

শুভাশিস মৈত্র

এপ্রিল ১৩, ২০২৬

WB Assembly Election 26
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(WB Assembly Election 26)

এই বাংলার ভোট নিয়ে আলোচনা করতে হলে একটু পুরোনো কথা দিয়ে শুরু করাই ভাল। স্বাধীনতার ঠিক আগে, ১৯৪৬ সালে যে শেষ ভোট হয়েছিল অবিভক্ত বাংলায়, সেই নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল ঘোষ জিতেছিলেন ঢাকার একটি আসন থেকে। বিলেতফেরত ব্যারিস্টার জ্যোতি বসু সেই প্রথম, মাত্র নয় ভোটে নির্দল প্রার্থী অক্সফোর্ড-ফেরত হুমায়ুন কবীরকে হারিয়ে বিধানসভায় এসেছিলেন। সেই নির্বাচনে বিধান রায় ভোটেই দাঁড়াননি।


আরও পড়ুন: জেন জেডের রাজনীতি প্রযুক্তির লেন্সে


১৯৪৬-এর শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ভোটে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় আসন থেকে। স্বাধীনতার পর শ্যামাপ্রসাদকে জওহরলাল নিয়ে যান গণপরিষদে (কনস্টিটুয়েন্ট অ্যাসেম্বলি) এবং অন্তর্বর্তী কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায়। প্রফুল্ল ঘোষ মাস পাঁচেক মুখ্যমন্ত্রী থেকে, কংগ্রেসের দলাদলিতে বাধ্য হলেন পদত্যাগ করতে। ১৯৪৮-এর ২৩ জানুয়ারি বিধান রায় পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগেই, শ্যামাপ্রসাদ তাঁকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আসনটি থেকে তিনি পদত্যাগ করবেন, বিধান রায় যেন সেই আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হন। তা-ই হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার ছ’মাসের মধ্যেই ওই আসনের উপনির্বাচনে বিধান রায়ও বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় জিতে বিধায়ক হন। দু’জনের মধ্যে এই বন্ধুত্বের কারণ, দু’জনেই ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য।

ভোটবাক্স থেকে ইভিএম-এর যাত্রা

আজ থেকে ৪০-৫০ বছর আগে বামপন্থী ছাত্রছাত্রীদের অনেকের বইয়ের তাকেই দেখা যেত নিকোলাই অস্ত্রভস্কির লেখা ‘হাউ দ্য স্টিল ওয়াজ টেম্পার্ড’, বাংলা অনুবাদে যার নাম ছিল ‘ইস্পাত’। পরে অবশ্য নকশালপন্থীরা বলতে শুরু করলেন, ‘ইস্পাত’ তেমন বিপ্লবী উপন্যাস নয়। প্রকৃত বিপ্লবী উপন্যাস হল জিন জিং মাই-এর লেখা ‘দ্য সং‌ অফ ওয়াং হাই’। যে বইয়ের বাংলা অনুবাদ ছিল ‘বিপ্লবের গান’। সে যাই হোক, নিকোলাই অস্ত্রভস্কির বইয়ের নামে ‘ইস্পাত’ শব্দটি ব্যবহার হয়েছিল আলঙ্কারিক অর্থে। তবে সত্যিকারের ইস্পাতের সঙ্গে ভারতীয় গণতন্ত্রের, দূরের হলেও, একটি সম্পর্ক আছে।

WB Assembly Election 26
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ বিধানচন্দ্র রায়

আট হাজার দু’শো টন ইস্পাত। ১৯৫১-১৯৫২ সালে ভারতের প্রথম নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য যে কোম্পানি ২ লক্ষ ২৪ হাজার বুথের জন্য ২০ লক্ষ ইস্পাতের ব্যালট বাক্স (তখন শিক্ষার হার ১৩ শতাংশ বলে প্রতিটি দলের প্রতীক লাগানো আলাদা আলাদা বাক্স থাকত বুথে) তৈরি করেছিল, তাদের ওই পরিমাণ ইস্পাত লেগেছিল। ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ তাঁর ‘ইন্ডিয়া আফটার গান্ধী’ বইয়ে লিখেছেন সে কথা। তার পরে অবশ্য সাত দশকের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। আমরা ভোটবাক্স থেকে ইভিএম-এ প্রবেশ করেছি। এবং, ‘ইভিএম কারচুপি’, ‘ভোটচুরি’ ইত্যাদি শব্দবন্ধ আমাদের রাজনৈতিক আলোচনায় পাকা-পোক্ত জায়গা করে নিয়েছে।

সংবিধান তৈরির আগেই তৈরি হয়েছিল ভোটার তালিকা

আমাদের রাজ্যকে নিয়ে মোট চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিধানসভা ভোট হবে এই এপ্রিল মাসে, ফল বেরোবে ৪ মে। সব মিলিয়ে ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট। এর মধ্যে ১১৬টি লোকসভা। ভোট দেবেন প্রায় ১৭ কোটি ভোটার।

WB Assembly Election 26
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য

এই ১৭ কোটি সংখ্যার এক অন্য অর্থ রয়েছে ভারতীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে। স্বাধীনতার আগে ভারত শাসন আইনে যে শেষ সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল, সেখানে সবার ভোটাধিকার ছিল না। ভোট দিয়েছিল প্রায় ৩ কোটি ভোটার। স্বাধীনতার পর প্রথম ভোটে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৭ কোটি। এই ১৭ কোটি ভোটারের ভোটার তালিকা যখন তৈরি হল, তখনও আমাদের সংবিধান তৈরি হয়নি। অর্থাৎ বলা যায়, ভারতীয়রা সংবিধান সম্মত নাগরিক হওয়ার আগেই ভোটারের মর্যাদা পেয়েছিলেন। গণতন্ত্রের ইতিহাসে এও এক বিরল ঘটনা।

তারকা প্রার্থীরাও হেরেছেন বারবার

সব নির্বাচনেই কে জিতবে আর কে হারবে, সেটাই শেষমেশ সবচেয়ে বড় কথা হয়ে ওঠে। কিন্তু তার বাইরেও কিছু বিষয় থাকে। যেমন, এবারে পশ্চিমবঙ্গের ভোটে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রাজ্যের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর লড়াই। এরকম নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা পশ্চিমবঙ্গে বহুকাল হয়নি। এর সঙ্গে তুলনীয় হতে পারে ১৯৭১-এ বরানগর বিধানসভা কেন্দ্রে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (তখন) জ্যোতি বসুর বিরুদ্ধে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায়ের লড়াই। শুভেন্দু অধিকারীর মতোই অজয় মুখোপাধ্যায়ও সম্ভবত নিজের জয় নিয়ে সংশয় থাকায়, বরানগরের পাশাপাশি নিজের পুরনো কেন্দ্র আরামবাগ থেকেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। অজয়বাবুকে জেতাতে, ভোট যাতে ভাগ না হয়, সেবার বরানগরে তৃতীয় কোনও প্রার্থী ছিল না। ফল প্রকাশ হতে দেখা গেল, আরামবাগে জিতলেও প্রায় ১১ হাজার ভোটে বরানগরে জ্যোতি বসুর কাছে হেরে গিয়েছিলেন অজয় মুখোপাধ্যায়।

পশ্চিমবঙ্গের ১৯৭২-এর নির্বাচনকে বাদ দিলে, এই রাজ্যে সিটিং চিফ মিনিস্টার ভোটে হেরেছেন এমন নজির কার্যত একটিই আছে। জ্যোতি বসু ১৯৭২-এ তৎকালীন কংগ্রেসের সহযোগী দল সিপিআই প্রার্থী শিবপদ ভট্টাচার্যর কাছে প্রায় চল্লিশ হাজার ভোটে হেরে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ জালিয়াতি। সেই জালিয়াতি বাঙলিকে এতটাই বিচলিত করেছিল যে, তার পর প্রায় পাঁচ দশক কেটে গেলেও কংগ্রেস আর বাংলায় ক্ষমতায় ফিরতে পারেনি। তবে মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকে যাদবপুর কেন্দ্রে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হার ঐতিহাসিক ঘটনা। বিধান রায়ও অবশ্য ১৯৫৭ সালে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে হারতে হারতে কোনও মতে আসন বাঁচাতে পেরেছিলেন। বউবাজার কেন্দ্রে তিনি সিপিআইয়ের শ্রমিক নেতা মহম্মদ ইসমাইলের কাছে মাত্র ৫৪০ ভোটে কোনও মতে জিতেছিলেন।

WB Assembly Election 26
তখন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’বার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন। প্রথম বার ১৯৮৯ সালে যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে সিপিএমের মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে প্রায় ৩০ হাজার ভোটে, পরের বার ২০২১-এ নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে দু’হাজারেরও কম ভোটে। ৮৯-এ হারলেও মমতাকে বেশি দিন লোকসভার বাইরে থাকতে হয়নি। ১৯৯১-এ ফের লোকসভা ভোট হলে যাদবপুর থেকে সরে এসে, দক্ষিণ কলকাতা থেকে প্রায় এক লক্ষ ভোটে সিপিএমের বিপ্লব দাশগুপ্তকে হারিয়ে তিনি ফের সাংসদ হন। 

অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, মমতা এবার ভবানীপুরের সঙ্গে আরও একটি আসনে দাঁড়াবেন। সেটা না করে তিনি স্নায়ুর লড়াইয়ে এক কদম প্রথমেই এগিয়ে রইলেন শুভেন্দু অধিকারীর থেকে। তবে শুভেন্দু অধিকারী যদি দু’টি আসনেই জিততে পারেন, তিনি কিন্তু শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারদের মতো অন্য রাজ্যনেতাদের থেকে অনেকটা এগিয়ে যাবেন মোদী-অমিত শাহদের চোখে। আর যদি দু’টি আসনেই পরাজিত হন, রাজনৈতিক সংকটে পড়বেন। যদিও আরও কয়েকটি সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে তার পরিণতি নিয়ে আগাম মন্তব্য করা কঠিন।

হিন্দুত্ববাদী রাজনীতিতে হিন্দুরা কতটা আছেন?

পশ্চিমবঙ্গের অষ্টাদশ বিধানসভা নির্বাচন ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল। অত্যন্ত বিতর্কিত এবং সন্দেহজনক পদ্ধতিতে এসআইআর প্রক্রিয়া এখনও চলছে আমাদের রাজ্যে। ফলে অনিশ্চয়তা ও নানা ধরনের আশঙ্কা ঘিরে রয়েছে এই নির্বাচনকে। আমাদের রাজ্যের ক্ষেত্রে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। হিন্দুত্ববাদী শক্তি এই রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে সব ধরনের প্রশাসনিক শক্তি এবং বিপুল অর্থবল নিয়ে নেমেছে। সাভারকারেরও অনেক আগে হিন্দুত্ব শব্দটি জন্ম নিয়েছিল এই কলকাতায়। ১৮৯২ সালে চন্দ্রনাথ বসু সমাজ সংস্কারের লক্ষ্যে ‘হিন্দুত্ব’ নামে দেড় টাকা মূল্যের ৪০৫ পৃষ্ঠার একটি বই প্রকাশ করেছিলেন। যদিও তাঁর ভাবনায় আজকের এই হিংস্রতা ছিল না। ১৩৪ বছর পরে বাঙালি তাই আজ পরীক্ষার মুখে, সেই হিন্দুত্ব বঙ্গ-রাজনীতির চালিকা শক্তি হবে কি না?

বিজেপি মমতাকে মুসলিমদের নেত্রী হিসেবে প্রচার করে থাকে। এখন কথা হল, ভারতীয় মুসলিমদের যদি কোনও শাসকদল প্রার্থী না করে, মন্ত্রী না করে, ক্রমাগত তাদের দেশ বিরোধী বলে প্রচার করে, তবে তো যে কোনও ভারতীয় রাজনীতিকের উচিত, সেই সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়ানো। এই দাঁড়ানো কতটা আন্তরিক বা কতটা কৌশল, সে সব নিয়ে প্রশ্ন থাকতেই পারে। কিন্তু, এই রাজ্যের ৪৯টি আসনে হিন্দু ভোটারের সংখ্যা ৯০%-এরও বেশি। সেই সব আসন কি বিজেপি একতরফা পাচ্ছে? তা কিন্তু নয়। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-এ, গত লোকসভা ভোটের হিসেবে ৪৯টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস জয়ী হয়েছে ২৯ টি আসনে, বিজেপি ২০টিতে।

WB Assembly Election 26
নন্দীগ্রাম আন্দোলনের দিনগুলি

এতেই প্রমাণ হয়, পশ্চিমবঙ্গের হিন্দু বাঙালির একটি বড় অংশ এখনও বিজেপির ধর্ম-ভিত্তিক রাজনীতি সমর্থন করছে না। পুরসভা নেই এমন গ্রামীণ বিধানসভার সংখ্যা ১৬৩টি। ২০২১-এ টিএমসি এই সব আসনের মধ্যে ১২৬টিতে জয়ী হয়েছিল, বিজেপি ২৬। ২০২৪-এর হিসেবে টিএমসি এগিয়েছিল ১১১ আসনে, বিজেপি ৪৩, বাকিটা অন্যান্য। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের হিসেবে ২৯৪টির মধ্যে ৯২টি বিধানসভা ক্ষেত্রে বিজেপি তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বেশি ভোট পেয়েছিল।

ভোটের অঙ্ক বেজায় কঠিন

২০২১-এর প্রাপ্ত ভোটের হারের নিরিখে তৃণমূল কংগ্রেসের থেকে বিজেপি প্রায় দশ শতাংশ পিছিয়ে। ফলে ক্ষমতায় আসতে হলে বিজেপির প্রয়োজন, তাদের পক্ষে অন্তত ৫ শতাংশের বেশি ‘সুইং’। পশ্চিমবঙ্গে যতগুলো রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হয়েছে, সেখানে গ্রাম এবং গণ আন্দোলনের একটা ভূমিকা দেখা গিয়েছে। গত পাঁচ বছরে বিজেপি গ্রামে বা শহরে কোথাওই কোনও বড় মাপের গণ আন্দোলন করেনি। ফলে পাঁচ শতাংশ বাড়তি ভোট পাওয়া বিজেপির পক্ষে বেশ কঠিন কাজ বলেই মনে হয়। এটা ঠিক, বিজেপি ২০১৬-র ৩টি আসন থেকে ৭৭টি আসনে পৌঁছেছিল ২০২১-এ।

এই সাফল্যের পিছনে প্রধান ভূমিকা ছিল বাম সমর্থক ভোটারদের এক বিরাট অংশের ভোটদানে পরিবর্তন। তৃণমূল কংগ্রেস ২০০৬-এ ৩০ থেকে ২০১১-তে ১৮৪-এ পৌঁছেছিল গণ আন্দোলনের মধ্যে দিয়েই, সেই আন্দোলনকে ভালমন্দ যে তকমাই দেওয়া হোক না কেন! সেদিক থেকে দেখলেও বিজেপির জন্য ৭৭ থেকে ১৪৮-এর বেশি আসনে পৌঁছনো অসম্ভব না হলেও বেশ কঠিন। এই নির্বাচনে লড়াই তীব্রভাবে দ্বিপাক্ষিক হবে বলেই মনে হয়। ২০২৬ সালের ভোটে সিপিএম বা কংগ্রেস তাদের হারানো গুরুত্ব পুনরুদ্ধার করতে পারবে, এমন কোনও ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে না।

ভোট বৈতরণী পার করাচ্ছে আর্থিক অনুদানের জোয়ার?

একটি হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২০০০ সাল থেকে গত ২৫ বছরে ১৫৬টি বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে সরকারের পতন ঘটিয়ে বিরোধীরা ক্ষমতায় এসেছে ৭৮ বার, সরকার ক্ষমতা ধরে রেখেছে ৭৮ বার। তার আগের ২৫ বছরে, অর্থাৎ ১৯৭৫ থেকে ২০০০ সালের মধ্যে, ক্ষমতাসীন সরকারকে সরিয়ে বিরোধীরা ক্ষমতায় এসেছে অনেক বেশি বার, প্রায় ৬০ শতাংশ ক্ষেত্রেই। তাহলে কি আগের তুলনায় বেশ কিছুটা পরিবর্তন-বিমুখ হয়ে পড়েছে ভোটাররা? এর সরাসরি কোনও উত্তর নেই। তবে ভোটের আগে, এবং সারা বছর ধরে বিভিন্ন রাজ্য সরকার নাগরিকদের যে সব সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেয়, তা সম্ভবত কিছু ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার ধার কমিয়ে দিতে সফল হচ্ছে। এই প্রকল্পের সহায়তায় অতীতের একাধিক নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার যে উপকৃত হয়েছে, তা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

WB Assembly Election 26
বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী

ভোট থেকে শিশু-কিশোরদের প্রাপ্তি 

প্রায় সব ক’টি বড় দলের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টো প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবারের মতো এবারও ভোটে শিশু বা কিশোরদের জন্য কোনও প্রতিশ্রুতি নেই। কেউ বলছে না ক্ষমতায় এলে উন্নত মানের মিড-ডে মিল দেবে, স্কুলের জন্য খেলার মাঠ নিশ্চিত করবে, প্রতিটি স্কুলের লেখা-পড়ার মান উন্নত করার বিষয়কে অগ্রাধিকার দেবে। সম্ভবত ছোটদের ভোট নেই বলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে তাদের কথা কেউ বলে না। পৃথিবীর অনেক দেশে ১৬ বছরে সর্বজনীন ভোটাধিকারের ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যদি ভোটাধিকার আরও দু’বছর কমিয়ে ১৪ করা যেত, তাহলে কি শিশু-কিশোররা রাজনীতিকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠত? এই প্রশ্ন করলে অবশ্য প্রায় প্রত্যেকেই বলবেন, ওই বয়েসে বুঝে-শুনে ভোট দেওয়ার মতো মন তৈরি হয় না। কথাটা হয়তো ভুল নয়, তবে এখন যারা ঠিক বয়সে ভোট দিচ্ছেন, তাঁরা কি খুব বুঝে-শুনে ভোট দিচ্ছেন?

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of শুভাশিস মৈত্র

শুভাশিস মৈত্র

পেশায় সাংবাদিক। প্রায় চার দশক ধরে সাংবাদিকতা করছেন। আজকাল, আনন্দবাজার, বর্তমান পত্রিকায় কাজ করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কাজ করেছেন ইটিভি বাংলা, আকাশ বাংলা, মহুয়া বাংলা, এবং কলকাতা টিভি চ্যানেলে। উল্লেখযোগ্য বই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রচনার সংকলন 'রাজনীতি-টাজনীতি ১' ও 'রাজনীতি-টাজনীতি ২'। সম্পাদিত বই 'শিল্পায়ন-তর্ক ও তথ্য', 'লালগড়— মতামত ও তথ্যের পূর্ণাঙ্গ দলিল', 'সাংবাদিকের চোখে জ্যোতি বসু', 'আলোকচিত্রীর চোখে সাংবাদিকের কলমে মমতা'।
Picture of শুভাশিস মৈত্র

শুভাশিস মৈত্র

পেশায় সাংবাদিক। প্রায় চার দশক ধরে সাংবাদিকতা করছেন। আজকাল, আনন্দবাজার, বর্তমান পত্রিকায় কাজ করেছেন বিভিন্ন সময়ে। কাজ করেছেন ইটিভি বাংলা, আকাশ বাংলা, মহুয়া বাংলা, এবং কলকাতা টিভি চ্যানেলে। উল্লেখযোগ্য বই রাজনৈতিক ব্যঙ্গ রচনার সংকলন 'রাজনীতি-টাজনীতি ১' ও 'রাজনীতি-টাজনীতি ২'। সম্পাদিত বই 'শিল্পায়ন-তর্ক ও তথ্য', 'লালগড়— মতামত ও তথ্যের পূর্ণাঙ্গ দলিল', 'সাংবাদিকের চোখে জ্যোতি বসু', 'আলোকচিত্রীর চোখে সাংবাদিকের কলমে মমতা'।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়
বিতস্তা ঘোষাল
নীলাঞ্জন দরিপা

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com