(Jolke Chol 21)
স্নেহলতা ঘরে ঢুকে দেখল, রাই ল্যাপটপ নিয়ে বসে। সামনে গিয়ে আলতো স্বরে বলল-
-রাই কী করছ?
-এই যে পড়তে বসব আম্মা।
-বেশ তাহলে পড়ো। আমি যাই।
-না না যাবে কেন? কী বলতে এসেছিলে বলো?
-তেমন কিছু নয়। অনেকক্ষণ তোমাকে দেখিনি। এত বড় বাড়িটায় তো দোতলায় মাত্র দু’জন মানুষ। মনটা খিচমিচ করছিল…
আরও পড়ুন: জলকে চল: পর্ব – (১) (২) (৩) (৪) (৫) (৬) (৭) (৮) (৯) (১০) (১১), (১২) (১৩), (১৪) ,(১৫), (১৬), (১৭), (১৮), (১৯), (২০)
-কিছু ভাবছিলে নিশ্চয়ই। বলে ল্যাপটপটা কোল থেকে নামিয়ে পাশে রেখে আম্মার গা ঘেঁষে বসল রাই। বাবার জন্য নাকি বরের জন্য মন খারাপ?
-বরের জন্য করলেও কী আর তাকে কোনও দিন দেখতে পাব?
-তাহলে ছেলের জন্যই হবে।

-খোকার জন্য মন ঠিক খারাপ হয় না। সেই আঠেরো বছর থেকেই তো বাইরে বাইরে। অভ্যাস হয়ে গেছে। তবে এখন বয়স হচ্ছে। খালি মনে হয় মরে যাওয়ার আগে তাকে আরেকবার দেখতে পাব কি না কে জানে!
-এসব আবার কী অলক্ষুণে কথা! তুমি এখন মরার কথা ভুলেও ভেব না। আমি ভগবানের সঙ্গে হট লাইনে কথা বলে তোমার সিট রিজার্ভেশন করে দেব ঠিক।
-তোমার সঙ্গে বুঝি এখন হট লাইনে তাঁর কথা হয়? তা কী কথা হয় শুনি?
-এই পৃথিবীর কথা, মানুষের কথা, বিনা নোটিশে কেন তিনি দুম করে যমকে পাঠিয়ে দেন, তার কৈফয়ৎ চাইলাম।
-তার উত্তর শুনে তুমি সন্তুষ্ট? স্নেহলতা নাতনির গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে জানতে চাইল।
আমি ফেসবুকে এমন পোস্ট দেব, আপনাকেও ট্যাগ করে দেব, তখন দেখবেন মিডিয়া আপনার কী হাল করে! জানেন না তো এখনকার সাংবাদিকদের! আপনি যেখানেই লুকিয়ে থাকুন ঠিক ক্যামেরা দিয়ে আপনাকে খুঁজে নিয়ে এমন খবর বানিয়ে দেবে না, যে আপনি সটাং সিংহাসনচ্যুত।
-না। সে বেটা আমার কথা শুনে ঘাবড়ে গিয়ে বলল, কালই সব নথি দেখে জানাবে এ বিষয়ে। হতে পারে তাকে মানুষ একটা উচ্চাসনে বসিয়েছে, তা বলে তুমি যা খুশি তাই করতে পারো না। আইন শৃঙ্খলা নেই নাকি! জানো, প্রথমে আমাকে বলে কি না, আপনি আইন নিয়ে পড়েন নাকি? আমি বিচারককে উত্তর দেব। আপনাকে নয়। আমি তখন বললাম, বেশ আপনি এই কথাটা লিখিত দিন। আমি ফেসবুকে এমন পোস্ট দেব, আপনাকেও ট্যাগ করে দেব, তখন দেখবেন মিডিয়া আপনার কী হাল করে! জানেন না তো এখনকার সাংবাদিকদের! আপনি যেখানেই লুকিয়ে থাকুন ঠিক ক্যামেরা দিয়ে আপনাকে খুঁজে নিয়ে এমন খবর বানিয়ে দেবে না, যে আপনি সটাং সিংহাসনচ্যুত। সমস্ত পৃথিবী আপনাকে ব্যান করে দেবে। বুঝবেন ঠেলা! ব্যস, শুনে ঘাবড়ে গিয়ে বলল, জানাবে।
রাইয়ের কথা ও বলার ধরন শুনে হেসে উঠলেন স্নেহলতা। বেশ তাহলে আমার সিটটার বিষয়ে কথা বলে নিও। জানিও কবে কনফার্ম হচ্ছে। গোচগাচ করতে হবে।

-এখনও অনেক দেরি। এই ধরো বছর কুড়ি।
-ওরে বাবা তাহলে তো আমার নব্বই-এর কাছাকাছি বয়স হয়ে যাবে।
-ওটা আবার কোনও বয়স হল? আমি ভাবছি আরও এক বছর পিছিয়ে দিয়ে একেবারে একশো বছরের জন্মদিন সেলিব্রেশন করব।
-ওরে আমার রাই, তুমি আমার শত্রু নাকি বন্ধু? স্নেহলতা মজা করে বলল।
তিরিশ বছর পর আয়া বা নার্স আর থাকবে না। তখন রোবট রেখে দিলেই হবে। তারা সব কাজ সামলে দেবে। তোমাদের দেখভাল করবে। আমি কাজ করতে করতে যে প্রান্তেই থাকি না কেন মনিটরিং করে নেব।
-শত্রু কেন হব?
-নইলে কেউ একশো বছরের আয়ু চায়? তোমার মায়ের বয়স তখন কত হবে বলো তো? তুমি আমাকে সামলাবে নাকি মাকে?
-এটা কোনও সমস্যা নাকি!
-সমস্যা নয়?
-একেবারেই নয়। তিরিশ বছর পর আয়া বা নার্স আর থাকবে না। তখন রোবট রেখে দিলেই হবে। তারা সব কাজ সামলে দেবে। তোমাদের দেখভাল করবে। আমি কাজ করতে করতে যে প্রান্তেই থাকি না কেন মনিটরিং করে নেব।
-রোবটের ওপর মনিটরিং করারও ব্যবস্থা? এ দেখছি মহা ঝামেলা।

-আরে তুমি এতে ঝামেলা কোথায় পেলে! ওটা তো এখন যেমন সিসিটিভি লাগানো হয়, তুমি যেখানেই থাকো না কেন দেখতে পাও তোমার ঘরে কী হচ্ছে, এটাও তেমনই।
-বুঝলাম।
-কিছুই বুঝলে না। তোমাকে চুপি চুপি একটা কথা বলি। মা কিন্তু এভাবেই আমাকে মনিটরিং করে।
-তোমার মা আবার বাড়িতে সিসিটিভি কখন লাগাল? আর কোথায় লাগাল? আমাকে কিছু জানায়নি তো!
-সে তো আমাকেও জানায়নি! কিন্তু লাগিয়েছে আমি শিওর। নইলে জানবে কী করে কখন আমি স্নান করলাম, কখন খেলাম! বাড়ি এসে সব বলে দেয়, কিংবা যখনই আমি খেলতে বসি টুক করে মেসেজ– রাই ফাঁকি না দিয়ে পড়ো। মা কি হাত গুনতে জানে যে অফিসে বসেই বলে দেবে! ঠিই লাগিয়েছে, আমরা দেখতে পাচ্ছি না।
সব মানুষের ত্রিনয়ন আছে। কিন্তু মায়েরাই একমাত্র সেটা ব্যবহার করে। ভগবান তাকেই এটা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। বুঝলে?
স্নেহলতা হাসল। আমার তা মনে হয় না। মা মাত্রই তৃতীয় চোখ থাকে।
-তোমার মায়েরও ছিল?
-ছিল। আলবাত ছিল। নইলে আমি কার বাগানে গিয়ে কী করে এলাম, পুকুরে কতক্ষণ ডুব সাঁতার দিলাম মা কী করে জানতে পারত? সব মানুষের ত্রিনয়ন আছে। কিন্তু মায়েরাই একমাত্র সেটা ব্যবহার করে। ভগবান তাকেই এটা ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। বুঝলে?

-তুমি যখন মা হলে তুমিও বুঝতে পারতে বাবা কী দুষ্টুমি করত?
-তোমার বাবা দুষ্টু ছিল না। বরং ভীষণ শান্ত বাচ্চা। যেখানে বসিয়ে দিতাম, সেখানেই বসে থাকত। আমি তো ভাবতাম এ আবার কেমন বাচ্চা, এত শান্ত! ডাক্তার দেখিয়েছিলাম কোনও অসুবিধা আছে কি না জানার জন্য। সে ডাক্তারের আমাকে উলটে কী বকা! তোমরা মায়েরা কী যে চাও বুঝি না। কেউ বাচ্চা দুষ্টু চঞ্চল এসব অভিযোগ করে, আবার কেউ বেশি মাত্রায় শান্ত বলে। আজব দুনিয়ায় আজব সব মায়ের জাত। তখন আমার যে কী হচ্ছিল কি আর বলব! তবে খোকার পড়ার দিকে খুব মন ছিল। সেই ছোট্ট থেকে একটা বই দাও। সে যতক্ষণ না পড়া শেষ হচ্ছে পড়েই যাবে। এই পড়ার জন্যই তোমার ঠাকুরদা বইয়ের ব্যবসা থেকে আরও সরল না।
ওই যে ত্রিনয়নের জাদু। মা ওখানে বসেই টের পেয়েছিল এখানে কি ঘটবে। ব্যস সটাং এখানে। আচ্ছা এবার আমি একটু পড়ি। নইলে তোমার বউমা তো মোটেই সুবিধার নয়। এমন ঝাড় দেবে আমায় যে পালিয়ে কূল পাব না।
আমি বলেছিলাম, চাকরি করো। মাস গেলে একটা থোক টাকা আসবে। তিনি বলেন- দেখছ না খোকা পড়তে কত ভালবাসে! আমাদের এতদিনের ব্যবসা দেখো ও ঠিক ইন্টারন্যাশনাল করে তুলবে। তা সে পড়ল বটে, তবে এদিকে এল কই? তোমার মা না এলে তো ঝাঁপ ফেলে দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল স্নেহলতার গলা দিয়ে।
-ওই যে ত্রিনয়নের জাদু। মা ওখানে বসেই টের পেয়েছিল এখানে কি ঘটবে। ব্যস সটাং এখানে। আচ্ছা এবার আমি একটু পড়ি। নইলে তোমার বউমা তো মোটেই সুবিধার নয়। এমন ঝাড় দেবে আমায় যে পালিয়ে কূল পাব না।
-হ্যাঁ পড়ে নাও। তবে রাই আমি ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে, আবার মেয়ে হয়েই জন্মাই যেন মোহনাকে মেয়ে হিসেবে পাই। সে না থাকলে এই বয়সকালে কে আমাদের বুড়ো-বুড়িকে দেখত? তোমার ঠাকুরদা অন্তত তার বউমার হাতের সেবা যত্ন পেয়ে, তার পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া মানসিক সম্পত্তি তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে যেতে পেরেছেন। এটাই তো বিশাল পাওয়া।
-এত মাথায় তুলেছ বলেই মায়ের বাড় বেড়েছে। এই শরীর নিয়েও তার বাইরে না বেরলে শান্তি নেই!
প্রশ্রয়ের হাসি হেসে স্নেহলতা নাতনির পাশ থেকে উঠে পড়ল। এতক্ষণ বুকের কাছটা কেমন চাপ ধরেছিল, কী জন্য সেটা নিজেও জানে না। কিন্তু এখন অনেকটা হালকা লাগছে। মেয়েটা ভাল কমেডি করতে পারে। কিছু না পারলেও ক্ষতি নেই। শুধু কমেডি করেই পেট চালিয়ে নেবে।
অফিসের চাবিটা হাতে তুলে দিয়ে অরুণ বললেন, ম্যাডাম খুব শান্তি পেলাম, বাবার এত বড় একটা প্রকাশনা সংস্থা আপনার হাতে তুলে দিতে পেরে। আমরা ভাইবোনেরা কেউই তো এখানে থাকি না। তাছাড়া এই বইয়ের ব্যবসায় আমাদের কোনও উৎসাহও নেই। কিন্তু বাবার কাছে এটা ছিল শ্বাস-প্রশ্বাস। যখন চাকরি করতেন, তখনও অফিস শেষ হলেই এখানে চলে আসতেন। বাড়িতে এই নিয়ে কত অশান্তি করেছে মা। পরিবারকে এতটুকুও সময় দিতেন না। রাতে বাড়ি ফিরেও অল্প কিছু খেয়েই বসে পড়তেন প্রুফ দেখতে, ভোর রাতে ঘণ্টা দুয়েক শুয়েই আবার অফিস দৌড়াতেন। মায়ের মতো আমাদেরও ভীষণ রাগ হত তখন।
অরুণ কথা থামিয়ে মোহনার দিকে তাকালেন। আপনার কথাও প্রথম শুনি বাবার মুখেই। বলেছিলেন, তোরা কেউ আমার প্রকাশনার দায়িত্ব নিলি না। আর চৌধুরীবাবুর বউমা তোদের থেকেও বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে কেমন দায়িত্ব নিল।
সকলের বাবারা তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে কত ঘুরতে যায়, আর আমার বাবা! আজ এখানে অনুষ্ঠান, অমুক সাহিত্যিক আসবেন, তাঁকে নিয়ে পৌঁছতে হবে শিশির মঞ্চ, কিংবা বাংলা আকাদেমি, জীবনানন্দ সভাঘর, কোথায় না কোথায় সাহিত্যসভা, সেখানে চলে যেতেন। তাঁর সময়ই ছিল না আমাদের জন্য।
অরুণ কথা থামিয়ে মোহনার দিকে তাকালেন। আপনার কথাও প্রথম শুনি বাবার মুখেই। বলেছিলেন, তোরা কেউ আমার প্রকাশনার দায়িত্ব নিলি না। আর চৌধুরীবাবুর বউমা তোদের থেকেও বড় চাকরি ছেড়ে দিয়ে কেমন দায়িত্ব নিল।
মোহনা এসব কথার কিছুই শুনছিল না। কিন্তু ঠোঁটের মধ্যে স্মিত হাসি ধরে রেখেছিল। মাঝে মাঝে মাথাটা ঈষৎ নাড়ছিল।

অরুণ বলছিলেন- অবসর নেওয়ার পর বাবাকে অনেকবার বারণ করেছিলাম এইসব দায়িত্ব আর ঘাড়ে না টেনে এবার অবসর জীবন কাটাক। সংসারে এখন তো আর বাবাকে কিছু দিতে হত না। আমরা তিন ভাই বোনই উপার্জন করি। নিজেদের বাড়ি। মা নিজেও চাকরি করেছেন। ভালই পেনশন পান। বাবা তো পেতেনই। তবু এটাই বাবার সব। কোনও জমানো টাকা নেই মানুষটার ভাবতে পারেন! দু-দুবার বাইপাস, থ্রম্বোসিস পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল, তারপর হাই ব্লাড সুগার, প্রেশার, কত বার যমে মানুষে টানাটানি। তখন বলেছে, আর যাব না কোথাও। এবার যা করার বাড়িতে বসেই করব।
কিন্তু যেই সুস্থ হলেন সব ভুলে গেলেন। আবার এক রুটিন। এত বকতাম, মা চেঁচাত, কিন্তু শুনলে তো! কী হল শেষ অবধি? খালি বলতেন, আমি যখন মরব তখনও বই আর সিগারেট হাতে নিয়েই মরব। তাই হল। বইমেলার মধ্যেই স্টলে বসে চলে গেলেন। তার আগেই বাইরে গিয়ে সিগারেট খেয়েছিলেন। এক নবীন সাহিত্যিক দেখলাম, সেই মুহূর্তের ছবিও দিয়েছেন ফেসবুকে বাবার পেজে ট্যাগ করে।
যাঁর যখন সময় আসবে তখন যতই সাবধানে রাখুন না কেন, ঠিক চলে যাবেন। আটকাতে পারবেন না। লখিন্দরের ঘরে এত পাহারা, এত কিছু করেও সাপকে কি আটকানো গেছিল?
মোহনা বলল- যাঁরা একবার এ জগতের স্বাদ পেয়েছেন, তাঁরা এটা ছেড়ে বেরতে পারবেন না অরুণবাবু। আপনার বাবা তো নাম করা মানুষ ছিলেন। বই নিয়েই কত কাজ করেছেন। অনেক লেখক-লেখিকার বই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর মাধ্যমে।
-সেই। কিন্তু একটু নিজের খেয়াল রাখলে এভাবে চলে যেতে হত না।
-যাঁর যখন সময় আসবে তখন যতই সাবধানে রাখুন না কেন, ঠিক চলে যাবেন। আটকাতে পারবেন না। লখিন্দরের ঘরে এত পাহারা, এত কিছু করেও সাপকে কি আটকানো গেছিল? মানুষ চলে যাবে এটাই চিরসত্য। এই কাজটাই রয়ে গেল। এটাই আমাদের প্রাপ্তি।

-হ্যাঁ। তা ঠিক। অনেকেই এটা কিনতে চেয়েছিলেন। ভালই মূল্য দিচ্ছিলেন। কিন্তু আপনার সঙ্গে বাবার স্নেহের একটা সম্পর্ক ছিল, তাই আমরা ঠিক করলাম আপনিই এর উপযুক্ত।
মোহনা হাসলেন। এবার তাহলে আমি উঠি। চেকটা আশা করি ক্যাশ হয়ে এসেছে এতক্ষণে। মেসেজ এসে গেছে তো?
-হ্যাঁ ম্যাডাম। আপনি কবে থেকে এখানে বসবেন?
-আমি? দেখি। আগে সব গুছিয়ে নিই।
-বেশ বেশ। যদি কিছু মনে না করেন একটা কথা বলব?
-হ্যাঁ বলুন।
আড়চোখে দেখল, অরুণ পেছন পেছন এসেছেন। কাচটা সামান্য নামিয়ে হাত নেড়ে টা-টা করে কাচটা আবার তুলে দিয়ে বাবুকে বলল –চল।
-আমি বা আমরা কী মাঝে-মধ্যে এখানে আসতে পারি? যদিও সময় খুব একটা পাই না। তবু বুঝতেই পারছেন একটা ইমোশন জড়িয়ে আছে এখানে।
-আগে আসতেন? উনি যখন ছিলেন?
-না, মানে তখন তো বাবাই সব দেখতেন, টান অনুভব করিনি। এখন পরপর ক’দিন এসে মনে হচ্ছে এলে হয়।
মোহনা হাসল। এই আসার তাগিদ কেন সেটা বুঝতে তার অসুবিধা হচ্ছে না। সে বলল- আসতেই পারেন। আমার বলা থাকবে এখানে যাঁরা থাকবেন তাঁদের। ভাল থাকবেন। বলে হাত দু’টোকে বুকের কাছে এনে প্রণাম জানানোর ভঙ্গি করে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এসে বাইরে অপেক্ষমান গাড়িতে উঠে পড়ল সে। আড়চোখে দেখল, অরুণ পেছন পেছন এসেছেন। কাচটা সামান্য নামিয়ে হাত নেড়ে টা-টা করে কাচটা আবার তুলে দিয়ে বাবুকে বলল –চল।
(ক্রমশ)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত