(World Cup Own Goal)
যা হয় আর কী, লেখাটা বেশ কিছুদিন আগে শুরু, কিন্তু শেষ অবধি গড়ানোর আগেই বত্রিশ থেকে প্রায় ষোলোতে নেমে এসেছে দলের সংখ্যা। ইতোমধ্যে অন্যতম ‘হট ফেভারিট’ নেদারল্যান্ডসও বিদায় নিল মরক্কোর কাছে, টাইব্রেকারে। এই পেনাল্টি শুটআউট আমার পছন্দ নয় মোটেই। ‘সবে মিলে খেলি আজ, হারি জিতি নাহি লাজ’ ফুটবলের সব থেকে বড় মন্ত্র। কিন্তু এই পেনাল্টি শুটআউটে কেউ হারলে বা জিতলে যেন টেনিসের সিঙ্গলস টুর্নামেন্ট এর মতো মনে হয়। একদম মন মানে না। তবে এ লেখা টাইব্রেকার নিয়ে নয়, এটা আত্মঘাতী গোলের গল্প। যা আরও ভয়ঙ্কর।
আমি এখন কলকাতায়, আর খেলা হচ্ছে উত্তর আমেরিকায়। সময়ের ব্যবধান প্রায় সাড়ে এগারো ঘণ্টার, তবু রাত জেগে স্ক্রিনে চোখ রাখার চেষ্টা করছি।
আরও পড়ুন: ডিজিটাল যুগে কপিরাইট
বিশ্বকাপ ২০২৬
১৯ জুন, ২০২৬। সিয়াটল স্টেডিয়াম। বিশ্বকাপের গ্রুপ ডি-তে যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি অস্ট্রেলিয়ার। ম্যাচ হিসেবে এটা মনে রাখার মতো কিছু ছিল না। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ (Christian Pulisic) চোটের কারণে মাঠের বাইরে, যুক্তরাষ্ট্র বল দখলে রাখল সত্তর শতাংশের বেশি সময় জুড়ে, কিন্তু আক্রমণে তেমন ধার ছিল না। সাতটা হলুদ কার্ড, জমাট রক্ষণাত্মক অস্ট্রেলিয়া, গোল করার মতো তেমন কোনও জ্বলজ্বলে মুহূর্ত নেই। অথচ স্কোরবোর্ডে শেষ পর্যন্ত লেখা হল ২-০। আর এই দুটো গোলের গল্পই বলে দেয়, ফুটবল মাঠে কখনও কখনও সবচেয়ে বেশি নাটক জমে থাকে রক্ষণে, আক্রমণে নয়।
এগারো মিনিটে ফলারিন বালোগুনের (Folarin Balogun) একটা নিচু ক্রস অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেসের (Cameron Burgess) পায়ে লেগে নিজেদের জালেই ঢুকে যায়। বার্জেস বলটা ক্লিয়ার করতে গিয়েছিলেন, পায়ের কোণটা একটু এদিক-ওদিক হতেই বল জড়িয়ে গেল নিজের গোলরক্ষকের পিছনে। তেতাল্লিশ মিনিটে দ্বিতীয় গোল— সের্হিনিও দেস্তের (Sergiño Dest) একটা শট ডিফ্লেক্ট হয়ে যায়, আর সেই বল মাথা ছুঁয়ে জালে পৌঁছে যায় অ্যালেক্স ফ্রিম্যান-এর (Alex Freeman) ভুলে। প্রথমে অফসাইডের পতাকা ওঠে রেফারির সহকারীর হাতে, কিন্তু লম্বা ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটা বহাল থাকে।

প্রতিটা বিশ্বকাপই নতুন রেকর্ড গড়ে, আর পুরনো রেকর্ড ভাঙে। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় রেকর্ড বারোটা আত্মঘাতী গোল হয়েছিল, আগের সব আসরের রেকর্ড প্রায় দ্বিগুণ করে দিয়ে। ২০২৬-এর এই বিশ্বকাপও সেই ধারা বজায় রাখছে, হয়তো ছাড়িয়েও যাবে। আর এবারেও একটা ইন্টারেস্টিং ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ম্যাচেই প্যারাগুয়ের দামিয়ান বোবাদিয়া (Damián Bobadilla) নিজের জালে বল পাঠিয়ে ফেলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিতেছিল ৪-১ ব্যবধানে। আর ঠিক পরের ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার ক্যামেরন বার্জেস (Cameron Burgess) একই কাজ করে বসলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার কোনও দল পরপর দু’টো ম্যাচে প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোল থেকে সুবিধা পেল। ফুটবলে এমন কাকতালীয় ঘটনা বিরল, যেন ভাগ্য নিজেই একটা ছন্দ খুঁজে নিয়েছে এক দলের পক্ষে। আর বিশ্বকাপ যত এগোচ্ছে, এমন আরও কত রেকর্ড লেখা হচ্ছে, তার কোনও হিসাব নেই।
একটা সাধারণ গ্রুপ পর্বের ম্যাচে এই আত্মঘাতী গোলটা হয়তো শুধুই পরিসংখ্যান হয়ে থেকে যাবে। বার্জেসের জন্য এক রাতের লজ্জা, একটা ভুলে যাওয়ার মতো দুঃস্বপ্ন, যা সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যাবে।
আত্মঘাতী গোল যেন সেই দর্শনেরই চূড়ান্ত রূপ। এখানে প্রতিপক্ষ লাগে না দোষ দেওয়ার জন্য। মানুষ নিজেই নিজের গোলরক্ষক, নিজেই নিজের আসামি। আরেক জায়গায় ঠিক এই কথাগুলোই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল আরও নিষ্ঠুরভাবে। ভুলের পেছনে জুড়ে গিয়েছিল মৃত্যু।
বিশ্বকাপ ১৯৯৪
বিশ্বকাপের ইতিহাসে সব আত্মঘাতী গোল এত সহজে ভুলে যাওয়া যায় না। কোনও কোনও ভুল সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে যায় না, বরং সময়কেই নিজের ছায়ায় ঢেকে দেয়।
কারণ একটা গোল থেকে আর একটা গোলের মধ্যে অনেক তফাত। একটা গোল উৎসব, আরেকটা গোল শাস্তি। আর কোনও এক গোল না হওয়াটাও পাপ।
কিন্তু সবচেয়ে নিষ্ঠুর গোল কোনটা জানেন? নিজের জালে নিজের করা গোল।

যে মুহূর্তে বলটা নিজের জালে জড়িয়ে যায়, সেই মুহূর্তে স্টেডিয়ামের শব্দ বদলে যায়। প্রতিপক্ষের দর্শক চিৎকার করে, নিজেদের দর্শক স্তব্ধ হয়ে যায়। আর মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে একটা মানুষ, যার শরীরই তাকে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কোনও প্রতিপক্ষ তাকে হারায়নি, সে নিজেই নিজেকে হারিয়েছে। এই লজ্জার কোনও ভাগীদার নেই। সতীর্থরা পিঠ চাপড়ে দেয় বটে, কিন্তু চোখে চোখ রাখে না। কোচ মাথা নাড়ে, কিন্তু কিছু বলে না। আর মানুষটা সারাজীবন বয়ে বেড়ায় একটা মুহূর্ত, যেটা তার নিজের পায়ের ভুল, অথচ পুরো জাতির স্মৃতি।
আত্মঘাতী গোল যেন সেই দর্শনেরই চূড়ান্ত রূপ। এখানে প্রতিপক্ষ লাগে না দোষ দেওয়ার জন্য। মানুষ নিজেই নিজের গোলরক্ষক, নিজেই নিজের আসামি। আরেক জায়গায় ঠিক এই কথাগুলোই বাস্তবে পরিণত হয়েছিল আরও নিষ্ঠুরভাবে। ভুলের পেছনে জুড়ে গিয়েছিল মৃত্যু।
জেন্টলম্যান অফ দ্য ফিল্ড ও বিশ্বকাপ ১৯৯৪
আন্দ্রেস এসকোবার (Andrés Escobar)। নামটির পাশে আজও যে শব্দটা সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে থাকে, সেটা ‘ভদ্রলোক’। কলম্বিয়ান ফুটবলে তাঁকে ডাকা হত ‘জেন্টলম্যান অফ দ্য ফিল্ড’ বলে। শান্ত, স্থির, অহংকারহীন। আতলেতিকো নাসিওনালের (Atlético Nacional) হয়ে খেলতেন, জাতীয় দলের রক্ষণের স্তম্ভ। তাঁর সময়ের কলম্বিয়া দল ছিল ফুটবল বিশ্বের এক বিস্ময়— কার্লোস ভালদেরামা (Carlos Valderrama), ফাউস্তিনো আসপ্রিয়া (Faustino Asprilla), ফ্রেদি রিনকনদের (Fredy Rincón) নিয়ে গড়া এক প্রজন্ম, যাঁরা বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনাকে তাদেরই মাটিতে পাঁচ গোল দিয়েছিল। সেই ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার দর্শকরাই দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়েছিল কলম্বিয়াকে। এমনই ছিল সেই দলের জাদু।
দেশে ফেরার পর তিনি একটি পত্রিকায় লিখেছিলেন, জীবন এখানেই থেমে যায় না, ভুল থেকে শেখার আছে অনেক কিছু, আর ফুটবল ছাড়াও বাঁচার মতো অনেক কারণ থেকে যায়। কথাগুলো শান্ত, পরিণত, এক ভদ্রলোকের মতোই।
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ আমেরিকায়। কলম্বিয়াকে ধরা হচ্ছিল সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়নদের একজন হিসেবে। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই রোমানিয়ার কাছে ৩-১ হার, আর তার পরেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথমার্ধে একটা ক্রস ঠেকাতে গিয়ে এসকোবার বলটা নিজের জালেই পাঠিয়ে দেন। কলম্বিয়া হারে ২-১ এ। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়।
মাঠ থেকে ফেরার পথে এসকোবার জানতেনই না, এই একটা মুহূর্ত তার জীবনের শেষ অধ্যায় লিখে ফেলবে।
দেশে ফেরার পর তিনি একটি পত্রিকায় লিখেছিলেন, জীবন এখানেই থেমে যায় না, ভুল থেকে শেখার আছে অনেক কিছু, আর ফুটবল ছাড়াও বাঁচার মতো অনেক কারণ থেকে যায়। কথাগুলো শান্ত, পরিণত, এক ভদ্রলোকের মতোই।

২ জুলাই, ১৯৯৪। বিশ্বকাপ থেকে ফেরার দশ দিন পর। মেদেইনের একটা নাইটক্লাবে বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে গিয়েছিলেন এসকোবার— মন থেকে সেই আত্মঘাতী গোলের ভার একটু হালকা করতে। ক্লাবের বাইরে পার্কিং লটে একদল লোকের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি বাধে। তাদের মধ্যে ছিল মাদক ব্যবসায়ী দুই ভাই, যাদের সঙ্গে জুয়া আর বাজির জগতের যোগ ছিল। এসকোবারকে সেই গোল নিয়ে কটাক্ষ করা হয়। তিনি শুধু সম্মান চেয়েছিলেন। তার বদলে পেলেন ছয়টা গুলি। শোনা যায়, প্রতিটা গুলির সঙ্গে আততায়ীরা চেঁচিয়ে বলছিল— ‘গোল’।
হাসপাতালে নেওয়ার পরও বাঁচানো যায়নি তাঁকে। মাত্র সাতাশ বছর বয়সে শেষ হয়ে যায় এক ভদ্রলোকের জীবন।
তাঁর শেষযাত্রায় হেঁটেছিল প্রায় এক লক্ষ কুড়ি হাজার মানুষ। গোটা কলম্বিয়া সেদিন থমকে গিয়েছিল। তদন্তে যা উঠে এসেছিল, তা শুধু একটা আত্মঘাতী গোলের প্রতিশোধ ছিল না— তার পেছনে জড়িয়ে ছিল কলম্বিয়ার সেই সময়ের সহিংস বাস্তবতা, মাদক চক্র আর অবৈধ বাজির জগতের জটিল ছায়া। সরল করে বলা যায় না এই মৃত্যুকে, কিন্তু এটুকু সত্যি— একটা ফুটবল মাঠের ভুল আর একটা মানুষের প্রাণ, এমনভাবে জড়িয়ে গিয়েছিল, যা ফুটবলের ইতিহাসে আর কখনও হয়নি।
কলম্বিয়ার প্রখ্যাত খবরের কাগজ, El Tiempe-তে এসকোবার শেষবারের মতো লিখেছিলেন, ‘It’s been a most amazing and rare experience. We’ll see each other again soon because life does not end here’
আজ তিন দশকেরও বেশি পরে, আন্দ্রেস এসকোবারকে মানুষ মনে রাখে না সেই একটা ভুলের জন্য। মনে রাখে তার সততা, তার নম্রতার জন্য।
কলম্বিয়ার প্রখ্যাত খবরের কাগজ, El Tiempe-তে এসকোবার শেষবারের মতো লিখেছিলেন, ‘It’s been a most amazing and rare experience. We’ll see each other again soon because life does not end here’
—জীবন এখানেই শেষ হয় না।
কিন্তু তাঁরই জীবন থেমে গিয়েছিল।

সেই বয়সেই, ১৯৯৪ সালে, প্রথম শুনেছিলাম আন্দ্রেস এসকোবারের নাম। খবরটা এসেছিল খবরের কাগজে আর টেলিভিশনের পর্দায়, ছোট করে— একটা আত্মঘাতী গোল, আর তার দশ দিন পর একটা মৃত্যু। তখন বয়স কম, ফুটবলের রাজনীতি বা কলম্বিয়ার মাদক চক্রের জটিলতার কথা জানলেও, ইন্টারনেটের আগের যুগে এতটা ওয়াকিবহাল হওয়ার ক্ষমতা ছিল না, কিন্তু একটা জিনিস ঠিকই বুঝেছিলাম— একটা খেলার মাঠের ভুল কাউকে মেরে ফেলতে পারে, এই ভাবনাটাই গা শিরশির করিয়ে দিত।
সেই থেকে আজও, কোনও খেলোয়াড় আত্মঘাতী গোল করলে, প্রথমেই মনে পড়ে যায় একটা মুখ— শান্ত, ভদ্র, হাসিখুশি, যে মুখ আর কোনওদিন হাসেনি। মনে পড়লে অদ্ভুত একটা কষ্ট হয়। আর আজও এই সেম সাইড গোল দেখলে, কেমন যেন বুক ধড়ফড় করে।
বিশ্বকাপ ও আত্মঘাতী গোলের ইতিহাস
বিশ্বকাপের ইতিহাসে এমন অনেক গল্প আছে, যেখানে আত্মঘাতী গোল শুধু একটা পরিসংখ্যান হয়ে থাকেনি, হয়ে উঠেছে একটা মানুষের সারা জীবনের ছায়া।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের টম বয়েড (Tom Boyd) ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজের জালে বল পাঠিয়ে ফেলেন, ম্যাচ হেরে যায় স্কটল্যান্ড।
১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপে মেক্সিকোর মানুয়েল রোসাস (Manuel Rosas) চিলির বিরুদ্ধে নিজের জালে বল ঠেলে দিয়েছিলেন। বিশ্বকাপের ইতিহাসের প্রথম আত্মঘাতী গোলের মালিক হয়ে গেলেন তিনি, না চাইতেই।
১৯৯৮ সালে ফ্রান্সে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই স্কটল্যান্ডের টম বয়েড (Tom Boyd) ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজের জালে বল পাঠিয়ে ফেলেন, ম্যাচ হেরে যায় স্কটল্যান্ড।

২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া-জাপানে এক আশ্চর্য কাকতালীয় ম্যাচ দেখা যায়— পর্তুগালের জর্জ কোস্তা (Jorge Costa) আর যুক্তরাষ্ট্রের জেফ অ্যাগুস (Jeff Agoos), দু’জনেই একই ম্যাচে নিজেদের জালে বল পাঠান। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই একটিমাত্র ম্যাচেই দুটো আত্মঘাতী গোল হয়েছিল।
২০০৬ সালে জার্মানিতে প্যারাগুয়ের কার্লোস গামাররা (Carlos Gamarra) ম্যাচ শুরুর মাত্র তিন মিনিটের মাথায় ডেভিড বেকহ্যামের (David Beckham) ফ্রি-কিক নিজের মাথা ছুঁইয়ে নিজেদের জালে পাঠিয়ে ফেলেন— বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম আত্মঘাতী গোল।
২০১৮ সালের ফাইনালে, যেখানে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে, ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচ (Mario Mandžukić) ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এক করুণ মুহূর্তে নিজের জালে বল পাঠিয়ে দেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম আত্মঘাতী গোল।
২০১৪ সালে নিজের দেশের মাটিতে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই ব্রাজিলের মার্সেলো (Marcelo) ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে নিজের জালে বল ঠেলে ফেলেন। গোটা একটা দেশের যেদিন উৎসবে মেতে ওঠার কথা, সেদিনই নিজেদের ফুটবলারের পা থেকে প্রথম গোলটা যায় নিজেদের জালে। ব্রাজিল শেষমেশ ৩-১ ব্যবধানে জিতে যায়, কিন্তু সেই মুহূর্তে মার্সেলোর মুখের অপ্রস্তুত হাসিটা অনেকেরই মনে গেঁথে আছে।
আর ২০১৮ সালের ফাইনালে, যেখানে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে, ক্রোয়েশিয়ার মারিও মানজুকিচ (Mario Mandžukić) ফ্রান্সের বিরুদ্ধে এক করুণ মুহূর্তে নিজের জালে বল পাঠিয়ে দেন। বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথম আত্মঘাতী গোল। সেই রাতে মানজুকিচের মুখটা ক্যামেরায় ধরা পড়েছিল— জয়ের আনন্দের বদলে এক গভীর লজ্জা।
এই সব গল্পের একমাত্র মিল বোধহয় এটাই… ভুলটা এক মুহূর্তের, কিন্তু স্মৃতি আজীবনের…
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত