(Football Coaching)
সকাল থেকেই নিমাই খুব টেনশনে ছিল। আজ এক শনিবার, আর ঠিক পরের রবিবার গোপীনাথ স্মৃতি সংঘের সঙ্গে লীগের ফাইনাল ম্যাচ। গত বছরের চ্যাম্পিয়ন গোপীনাথ স্মৃতি সংঘের টিমে তিন তিনটে কলকাতার সেকেন্ড ডিভিশনের প্লেয়ার। একজন আবার সামনের বছর ফার্স্ট ডিভিশন খেলবে। এই টিমের সঙ্গে খেলা যে কত বড় চাপের, সেটা একমাত্র বোঝে নিমাই দত্ত।
চাপের যথেষ্ট কারণও আছে। গত তিনটে মরশুমেই নিমাই দত্ত’র ইউনিটি ক্লাবের ফাইনালে এসে ভরাডুবি হয়েছে। দু’বার কুমিরজলা ক্লাবের কাছে, আর গতবার এই গোপীনাথ স্মৃতি সংঘের কাছেই হেরেছে। এই নিয়ে ক্লাবের মেম্বারদের মধ্যে চাপা গুঞ্জন চলছে। গত মাসে বাৎসরিক সাধারণ সভায় কোচ নিয়ে কথা ওঠে। ক্লাবের একটা বৃহৎ অংশ, নিমাই দত্তকে কোচ হিসেবে দেখতে নারাজ। দু’বার হারার পরে ক্লাব এবার কোনও স্পনসর পায়নি। অঞ্চলের নামকরা স্পোর্টস শপ ‘দাশগুপ্ত স্পোর্টস’ স্পনসরশিপ রিনিউ করেনি।
আরও পড়ুন: এক কবিহৃদয় পেশাদার– শোভনলাল সাহা
এ বছর ক্লাবের প্রেসিডেন্ট, নিমাইয়ের ওপর বেজায় চটে আছেন। প্লেয়ারদের জার্সি, জুতো, খাওয়া আর যাতায়াত খরচ ইত্যাদির পিছনে কম করে হলেও হাজার তিরিশেক মতো টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এই টাকা খরচ হওয়ার দরুন রবীন্দ্রজয়ন্তীর বাজেটও কেটে কমাতে হয়েছে।
বাজেট নিয়ে এসব ভুলভাল কথা অন্তত নিমাই দত্ত বিশ্বাস করে না। টাকা নেই বলে যে একটা কথা ভেসে বেড়াচ্ছে, সেটা একেবারে বাজে কথা। বাজেট নেই তো নতুন কোচ আনার কথা ক্লাব ভাবে কী করে? কিছু কিছু কথা নিমাইয়ের কানে এসেছে। মোটামুটি মিটিংয়ে নাকি ঠিক হয়ে গিয়েছে যে, পরের মরশুমের জন্য কোচ বদলাতে হবেই। নিমাই দত্তের ভাগ্য এক প্রকার লেখা হয়ে গিয়েছে— যদি না এবার লীগ জিততে পারে।

নিমাই দত্ত নিজেও খুব একটা আশাবাদী নয়। কী করে আশা করবে? টিমের তো যা হতদরিদ্র অবস্থা। ডিফেন্সের ভাল দুটো প্লেয়ার চাকরি পেয়ে দিল্লি চলে গিয়েছে। গোলকিপার তো এবছর ক্লাব বদলে গোপীনাথেই খেলছে। এত কিছুর পরেও টিম যে ফাইনালে উঠেছে সেটা কেউ দেখবে না— হারলেই যত দোষ। তাছাড়া ক্লাবের বিগত চল্লিশ বছরের ইতিহাসে ক্লাব তো কোনওদিন গ্রুপের খেলাও ডিঙিয়ে উঠতে পারেনি। বছর সাতেক আগের কথা— টুর্নামেন্টের প্রথম খেলায় গো-হারান হেরেছিল ইউনিটি ক্লাব। কই? সেবার তো কোচ বাবু পালিতকে নিয়ে ক্লাব কিছু ভাবেনি? সেই বাবু পালিত পরের বছর ক্লাবের নামে ঝুড়ি ঝুড়ি অভিযোগ করে, নিজেই ইস্তফা দিয়ে ড্যাং ড্যাং করতে করতে ক্লাব ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
‘এই আমি ছিলাম বলে, নইলে বাজি ধরে বলতে পারি, শালা অন্য কোনও কোচ হলে এই হোপলেস টিম ফার্স্ট রাউন্ড কোয়ালিফাই করতে পারত না। এই নিমাই দত্ত ছিল বলে আজ ফাইনাল খেলছে… হুঁহ!’
‘কিন্তু নিমাইদা, গত তিন বছর ধরেই তো একই গল্প শুনে আসছি’, কেটলি থেকে গরম চা গেলাসে ঢালতে ঢালতে বলল কানাইদা। কানাইদার দোকানে বেশ ভিড়। রবিবার সকালে এমনিতেই ভিড় থাকে, তবে ইদানীং যেহেতু কলেজ মাঠে লীগের খেলা চলছে, সেই জন্য ভিড়টা একটু বেশি।
পলিটিকাল ইন্টারভেনশন তো আপনি অস্বীকার করতে পারেন না— পারেন কি? ক্লাবের সেক্রেটারি কে হবে, প্রেসিডেন্ট কে হবে, সেটা পার্টি ঠিক করে দিচ্ছে; ক্লাবের যে কোনও অনুষ্ঠানে এমএলএ আসছে— এসব আগে কখনও দেখেছেন?
‘গল্প?’, রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে উঠল নিমাই, ‘কী বলছ কানাইদা! নিজের বাড়ি, ফ্যামিলি, সব সাইডে রেখে এই টিমকে দাঁড় করাতে নিজের জান লড়িয়ে দিয়েছি। আর তুমি বলছ গল্প?’
গুপ্তদা বেঞ্চের এক কোণে বসে কাগজ পড়ছিলেন। এমনিতে মানুষটা বিশেষ কথা বলেন না, কিন্তু তেমন গুরুগম্ভীর কোনও আলোচনা হলে তিনি একটু আধটু যোগ দেন— দুয়েকটা কথা বলেন। তিনি বললেন, ‘দেখো নিমাই, বোঝার চেষ্টা কর। এ তো আর পাড়ার মাঠে বিকেলে বলে লাথি মারা নয়— এ হল বড় টুর্নামেন্ট। এলাকার সবচেয়ে নামকরা প্রতিযোগিতা। সেখানে তো ইমোশনাল হলে চলবে না। টিমকে ফাইনাল অবধি তুলেছ তো কী হয়েছে? কথা তো ছিল চ্যাম্পিয়ন করা— সেটা হল কই?’— এক নিঃশ্বাসে বলে গেলেন কথাটা। বলেই গুপ্তদা’র মনে হল একটু বেশিই বলা হয়ে গেল। কানাইয়ের চায়ের মতোই একটু কড়া হয়ে গেল বোধহয়।
চায়ে চুমুক দিয়ে, নিমাই গলার স্বর একটু নামিয়ে বলল, ‘শুনুন গুপ্তদা, আসল বিষয়টা কী আপনিও জানেন, আমিও জানি। বিগত দশ বছরে ক্লাবের অনেক কিছু বদলে গিয়েছে। পলিটিকাল ইন্টারভেনশন তো আপনি অস্বীকার করতে পারেন না— পারেন কি? ক্লাবের সেক্রেটারি কে হবে, প্রেসিডেন্ট কে হবে, সেটা পার্টি ঠিক করে দিচ্ছে; ক্লাবের যে কোনও অনুষ্ঠানে এমএলএ আসছে— এসব আগে কখনও দেখেছেন?’
আলোচনা অন্য দিকে ঘুরে যাচ্ছে দেখে কথা ঘুরিয়ে দিতে গুপ্তদা বললেন, ‘আমার একটা কথা শুনবে?’
‘কী, বলুন?’, গম্ভীর হয়ে নিমাই জিজ্ঞেস করল।
‘আমি বলি কি, তুমি একবার আমাদের ওই রূপসী জুয়েলার্সে যে বসে— প্রতি শনি আর রবিবার করে— ওই যে গো, ভৃগুশেখর জ্যোতিষী— ওর কাছে যাও না একবার।’
চুপ করে বসে কিছুক্ষণ ভাবল নিমাই দত্ত। মন্দ তো বলেনি গুপ্তদা। একবার জ্যোতিষী কনসাল্ট করে দেখলে হয়তো। কে জানে— কোনও ভাল খবর থাকলে থাকতেও পারে, যেটা হয়তো ওই ভৃগুশেখর বলে দিতে পারে।
‘মানে!’, নিমাই একটু ভুরু কোঁচকালো, ‘আমার কুষ্ঠি বিচার করতে বলছেন? ওসব আমি মানি না। তাছাড়া আমার কুষ্ঠি দেখিয়ে কী হবে? কথা তো হচ্ছে টিমের ভবিষ্যৎ নিয়ে!’
‘আহা, সেটাই তো বলতে চাইছি। তোমার কেন? ও গোটা টিমের ভাগ্য দেখে বলে দিক না একবার। কী বলো, একবার ট্রাই করে দেখলে হয় না?’
চুপ করে বসে কিছুক্ষণ ভাবল নিমাই দত্ত। মন্দ তো বলেনি গুপ্তদা। একবার জ্যোতিষী কনসাল্ট করে দেখলে হয়তো। কে জানে— কোনও ভাল খবর থাকলে থাকতেও পারে, যেটা হয়তো ওই ভৃগুশেখর বলে দিতে পারে। যদিও এটা নিয়ে গুপ্তদাকে বিশেষ কিছু সে বলল না।

শনিবার সকাল— পরের দিন নিমাই দত্ত’র ইউনিটি ক্লাব ফাইনাল খেলবে গোপীনাথ স্মৃতি সংঘের সঙ্গে। টেনশনে নিমাইয়ের ঘুম উড়ে গিয়েছে। রবিবারের খেলাটির ওপর নির্ভর করছে নিমাইয়ের কোচ হিসেবে থাকা হবে কি হবে না। শুনেছে— এবারে ওদের ক্লাব লীগ না জিতলে, পরের মরশুমের জন্য নতুন কোচও নাকি ঠিক করা হয়ে গিয়েছে। কানে এসেছে— কলকাতার বেঙ্গল ইউনিয়ানের অজিত ঘোষকে নাকি ক্লাব ভাড়া করবে আগামী মরশুমের জন্য।
লোকটা একসময় এরিয়ান্স ক্লাবে ফার্স্ট ডিভিশন খেলেছে। এখন নাকি ফুলটাইম প্রফেশনাল কোচ। ক্লাব যদি সেই অজিত ঘোষকে আনার কথা ভেবে থাকে তাহলে সামনে যে সমূহ বিপদ, সেটা বুঝতে সময় লাগে না। প্রেসিডেন্ট বলেছে, অজিত ঘোষকে আগামী বছর কোচ হিসেবে যত টাকা লাগে ক্লাব দিতে রাজি থাকবে। এক রাউন্ড কথাও নাকি হয়ে গিয়েছে— অজিত ঘোষ নাকি আপত্তি করেনি।
সকাল থেকে প্রায় চার-পাঁচ কাপ চা খেয়ে ফেলেছে নিমাই। ডাইনিং টেবিলে আবার এক কাপ চা নিয়ে নন্দিতা এসে নিমাইয়ের পাশে বসল।
এতগুলো বছর নিমাই ক্লাবের পিছনে বোধহয় সময়টাই নষ্ট করেছে। কিন্তু ও শেষ না দেখে তো ছাড়বে না। মনটা খুব অস্থির লাগছিল। গুপ্তদার কথাটা বার বার কানে বাজছিল। গেলেই তো হয় একবার এই ভৃগুশেখরের চেম্বারে।
‘তুমি কেন যে এখনও ক্লাব কামড়ে পড়ে আছ বুঝি না বাপু। এই সময়টা একটু বাড়িতে দিলে উপকার হয় না কি? সন্তুটার এবার ক্লাস টেন। ওকে একটু পড়ালে পারো তো। এদের পিছনে তুমি বেকার সময় নষ্ট করছ।’
চুপ করে কথাগুলো শুনলো নিমাই। সত্যিই তো, নন্দিতা ভুল তো কিছু বলেনি। এতগুলো বছর নিমাই ক্লাবের পিছনে বোধহয় সময়টাই নষ্ট করেছে। কিন্তু ও শেষ না দেখে তো ছাড়বে না। মনটা খুব অস্থির লাগছিল। গুপ্তদার কথাটা বার বার কানে বাজছিল। গেলেই তো হয় একবার এই ভৃগুশেখরের চেম্বারে।
যদিও সে এসবে বিশ্বাস করে না। জ্যোতিষী, হাত দেখানো, কুষ্ঠি বিচার— এসবে তার কোনওদিনই বিশ্বাস ছিল না। ওর বিয়ের সময় যখন বাড়িতে ঠাকুরমশাইকে ডেকে ভাল একটা তিথি দেখা হচ্ছিল, তখন নিমাই দুম করে বলে বসেছিল সে বিয়ে ২৩শে অক্টোবর করবে। সবাই জিজ্ঞেস করেছিল ওই দিন কি হাতি ঘোড়া আছে? সে বলেছিল, ওটা পেলের জন্মদিন!’
কপাল ভাল— আজ আবার শনিবার। দুপুরের দিকে লোকটা রূপসী জুয়েলার্সে বসবে আজ। মনে মনে ঠিক করে ফেলল, সে দুপুরে খাওয়াদাওয়া সেরে, মনসাতলা বাজারে রূপসী জুয়েলার্সের দোকানে একবার যাবে— দেখাই যাক না কী হয়।
বাজারের মুখে কানু’র সঙ্গে দেখা হয়ে গেল। কানু হল ইউনিটি ক্লাবের নতুন গোলকিপার মানস— মানে মানু’র দাদা। নিমাই দত্ত’কে দেখে একগাল হেসে সামনের কেমিস্টের দোকান থেকে এল— ‘এই তো দেখুন না, ওষুধ কিনতে এলাম। মানুটার শরীর ভাল নেই। ডাক্তার দেখিয়ে এই এলাম ওষুধ কিনতে।’
রূপসী জুয়েলার্সে যেতে যেতে প্রায় চারটে বেজে গেল। কপাল ভাল ছিল— সাধারণত শনি আর রবিবার এই সময় খুব ভিড় থাকে ভৃগুশেখরের চেম্বারে। খদ্দেরের ভিড় থাকে। কোনও অজানা কারণে চেম্বার খালিই ছিল। নিমাই দত্ত সোজা ভিতরে ঢুকে গেল।
‘কেন? কী হয়েছে মানুর!’, চমকে উঠল নিমাই, ‘কাল তো খেলা আছে— আজ আবার কী বাধিয়ে বসল?’
‘ও কি কাল খেলতে পারবে? গত রাত থেকে সাতবার’, কানু ঠোঁট উল্টে বলল, ‘গামছা পরেই শুয়ে আছে। ডাক্তারবাবু তো তিনদিন রেস্ট নিতে বলেছে।’
মাথায় বাজে পড়ল নিমাইয়ের। এ কী খবর পাচ্ছি! আস্তে আস্তে তো গোটা ব্যাপারটাই ভেস্তে যাওয়ার মুখে। কাল টিমটা অবশেষে মাঠে নামবে তো? নাকি নিমাই দত্ত আজই গা-ঢাকা দেবে?- কিছুই বুঝতে পারছিল না।
‘তুমি বাড়ি যাও’, নিমাই দত্ত কানুকে বলল, ‘আমি একটা কাজ সেরে আসছি। মানুকে দেখতে যাব।’

রূপসী জুয়েলার্সে যেতে যেতে প্রায় চারটে বেজে গেল। কপাল ভাল ছিল— সাধারণত শনি আর রবিবার এই সময় খুব ভিড় থাকে ভৃগুশেখরের চেম্বারে। খদ্দেরের ভিড় থাকে। কোনও অজানা কারণে চেম্বার খালিই ছিল। নিমাই দত্ত সোজা ভিতরে ঢুকে গেল।
ছোট্ট একটা ঘরদোর দিয়ে ঢুকেই সামনে একটা মস্ত টেবিল আর তার পিছনে এক বিশাল গদি মোড়া রিভলভিং চেয়ারে বসে জ্যোতিষী ভৃগুশেখর। এমন একজন সুন্দর দেখতে মানুষের নাম ‘ভৃগু’ কী করে হয়, নিমাই দত্ত বুঝতে পারছিল না। আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে তার একবারও মনে হল না যে সামনের লোকটি জ্যোতিষী হতে পারে— বরঞ্চ তাকে দেখে কোনও ডাক্তার মনে হলেও ভুল হবে না। গলায় একটা স্টেথোস্কোপ ঝুলিয়ে দিলেই হল।
‘কুষ্ঠি এনেছেন?’, একটা খাতা ওলটাতে ওলটাতে, মাথা না তুলেই ভৃগুশেখর নামের সেই জ্যোতিষী নিমাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল।
‘না, মানে ইয়ে… আমার নয়। আমি আমাদের ক্লাবের ফুটবল টিমের বিষয় কিছু জানতে এসেছি।’
‘কিন্তু জুন হলে তো হবে না’, ব্যস্ত হয়ে উঠল নিমাই দত্ত, ‘আগামীকাল ফাইনাল ম্যাচ— মরণ বাঁচন প্রশ্ন’,— বলে সে ভাল করে বোঝাল সমস্যাটা।
কথাটা শুনে প্রথমে একটু চমকালেও ভৃগুশেখর কিন্তু সেটা প্রকাশ করল না।
‘সে ঠিক আছে’, গম্ভীর হয়ে বলল, ‘কিন্তু সেই ক্লাবের সম্পর্কে জানতে হবে তো।’

একটা নোটবুক বার করে লিখতে শুরু করল। নিমাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল, ‘ক্লাবের জন্ম তারিখ জানা আছে? ক্লাব কবে এস্টাব্লিশ হয়েছে…’
নিমাই দত্ত একটু মাথা চুলকে বলল, ‘আজ্ঞে, ক্লাব তো অনেক দিনের— ১৯৩৬ সালের। কিন্তু ফুটবল ক্লাবটা নতুন। ১৯৭২ সালে ক্লাবের জন্ম। ‘আমরা কজন’ ক্লাব যদি বাবা হয়ে থাকে, তাহলে ‘ইউ.এফ.সি’— মানে ‘ইউনিটি ফুটবল ক্লাব’ হল সন্তান।’
ক্লাবের প্রেসিডেন্টের নাম, টিমের ক্যাপ্টেনের নাম, তার বয়স এবং আরও অনেক প্রশ্ন করল জ্যোতিষী ভৃগুশেখর। সামনে রাখা খাতায় কিছু আঁকিবুকি আর কিছু ক্যালকুলেশন করল। একবার তারই ফাঁকে নিমাইয়ের হাতটাও ভাল করে নেড়েচেড়ে দেখল। প্রায় আধঘণ্টা নানা কসরৎ করল। তারপর চোখ থেকে চশমা নামিয়ে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে গম্ভীর হয়ে বলল, ‘হুমম… বুঝলেন, আপনার ক্লাবের ওপর চার-চারটে গ্রহের প্রভাব একসঙ্গে আছে, ফলে সাফল্য এসেও আসে না। এই অবস্থার পরিবর্তন হবে, কিন্তু একটু সময় লাগবে। আগামী বছর জুনের শেষের থেকে ভাগ্যের চাকা ঘুরবে।’
‘কিন্তু জুন হলে তো হবে না’, ব্যস্ত হয়ে উঠল নিমাই দত্ত, ‘আগামীকাল ফাইনাল ম্যাচ— মরণ বাঁচন প্রশ্ন’,— বলে সে ভাল করে বোঝাল সমস্যাটা।
(আগামী পর্বে সমাপ্য)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত