(Chunimoni Dasir Rath)








পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষ করে কলকাতায় রথযাত্রা উৎসব অত্যন্ত ধুমধাম ও জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। কলকাতায় এমন অনেক বনেদি ঠাকুরবাড়ি রয়েছে যেখানে আজও এই উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপিত হয়। এমনই একটি বাড়ি হল কলকাতার বউবাজার এলাকার চুনীমণি দাসী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত বাড়ি। এই বাড়িতে এই বছর ১২৬তম রথযাত্রা উৎসব পালিত হতে চলেছে। বর্তমানে এই ঠাকুরবাড়িটি কলকাতা পৌরসংস্থার তালিকাভুক্ত একটি ‘গ্রেড-১’ হেরিটেজ তকমা পেয়েছে।
আরও পড়ুন: ফটো স্টোরি: স্ট্রিট ফটোগ্রাফি
গোবিন্দ সেন লেন অঞ্চলের মানুষের কাছে এই বাড়ির রথ খুব জনপ্রিয়, ঢুকতেই বেশ খানিকটা উঠোন এবং চারদিক ঘিরে পুরনো জাফরিকাটা স্থাপত্য। মাঝখানে ঠাকুর দালান আর গর্ভগৃহে জগন্নাথ, রাধা ও গোবিন্দজীর দারুবিগ্রহ। জগন্নাথের মূর্তিটি খুবই আকর্ষণীয়। এই ধরনের জগন্নাথ সচরাচর দেখা যায় না। অন্যদিকে গোবিন্দজীর একেবারে ভিন্ন ধরনের মুখের আদল, কেমন যেন শিশুসুলভ। পাশে রাধিকাও অতিমনোরম। গোবিন্দজীর গাত্রবর্ণ আকাশি আর রাধিকা হলুদ।
ঠাকুরবাড়ি বাঁদিকের বারান্দার দেওয়ালে রয়েছে এই মন্দিরের প্রতিষ্ঠালিপি। সেখান থেকে জানা যায়, ১৩০৭ বঙ্গাব্দ এর ২১মাঘ, মাঘী পূর্ণিমার দিনে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। চুনীমণি দাসীর এই রথের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল শুধুমাত্র জগন্নাথের উপস্থিতি; এখানে বলরাম বা সুভদ্রা নেই— জগন্নাথ একাই রথে আরোহণ করেন। ঠাকুরবাড়ির প্রধান দেবতা হলেন জগন্নাথ ও রাধা-গোবিন্দ। তাই রথযাত্রা ছাড়াও এখানে ঝুলনযাত্রা, জন্মাষ্টমী, রাসযাত্রা, কাচার ও দোলযাত্রা (পঞ্চম দোল) উদযাপিত হয়।
পরিবারের সদস্য শ্রী তপন কুমার দে জানালেন, আগে রথটি ঠাকুরবাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হত। শেষবার এটি বাইরে গিয়েছিল প্রায় চার দশক আগে; বর্তমানে রথটি কেবল বাড়ির আঙিনার মধ্যেই ঘোরানো হয়।
কথিত আছে, মন্দিরের জগন্নাথের মূর্তি তৈরির জন্য ব্যবহৃত নিম কাঠ পুরী থেকে আনা হয়েছিল। জগন্নাথকে বিভিন্ন ধরনের ভোগ নিবেদন করা হয়, যেমন—খিচুড়ি, লাবড়া, পোলাও, পায়েস এবং পাঁচ রকমের ভাজা। দুপুর একটার সময় প্রভু জগন্নাথ রথে আরোহণ করেন এবং সারাদিন সেখানেই অবস্থান করেন।
পরিবারের সদস্য শ্রী তপন কুমার দে জানালেন, আগে রথটি ঠাকুরবাড়ির বাইরে নিয়ে যাওয়া হত। শেষবার এটি বাইরে গিয়েছিল প্রায় চার দশক আগে; বর্তমানে রথটি কেবল বাড়ির আঙিনার মধ্যেই ঘোরানো হয়। তিনি আরও বলেন, যখন রথটি বাইরে যেত, তখন তা পরিবারের সদস্যদের প্রতিটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হত এবং সেখানে ভোগ নিবেদন করা হত, কারণ সদস্যরা জগন্নাথকে তাঁদের নিজ নিজ বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাতেন। কিন্তু এখন যেহেতু রথটি বাইরে যায় না, তাই সদস্যরাই এখানে এসে উপস্থিত হন।
এই রথের আরও একটা উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই বাড়ির জগন্নাথের কোনও ‘মাসির বাড়ি’ নেই। রথযাত্রা থেকে উল্টোরথ—এই আট দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট তিথিগুলোতে জগন্নাথের দুটি বিশেষ বেশ বা সাজ দেখা যায়: বামন বেশ ও রাজ বেশ। রথটি আগে ছিল চারতলা, কিন্তু বর্তমানে তিনতলার। এতে পাঁচটি চূড়া, দুটি সাদা ঘোড়া এবং দ্বারপাল রয়েছে।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত