(Egg Movement)
জব্বলপুরের স্মৃতি ও ডিম
মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে আমাদের পুরনো পারিবারিক বাড়িটার কথা মনে পড়লেই চোখের সামনে প্রথমে ভেসে ওঠে সকালের নরম রোদ, আর পাড়ার মোড়ের ছোট্ট দোকানটা। জ্যাঠতুতো-খুড়তুতো ভাইবোনেরা মিলে যখনই সেই দোকানের সামনে দিয়ে যেতাম, দেওয়ালে বড় বড় হরফে লেখা একটা লাইন চোখে পড়ত– ‘শাকাহারী আন্ডে’। আর আমরা সবাই হেসে গড়িয়ে পড়তাম।
আন্ডে খায় শাক
আমরা হতবাক!
নিরামিষ ডিম আবার হয় নাকি! ডিম তো ডিমই, সেটা ‘শাকাহারী’ হয় কী করে? প্রতিবার একই লাইন, প্রতিবার একইরকম হাসি।
আরও পড়ুন: দ্য অডিসি: হোমার থেকে নোলান— একটি পর্যালোচনা
বড় হয়ে বুঝেছিলাম, লাইনটি মোটেও রসিকতা ছিল না। মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থানের মতো ভারতের বিশাল ‘নিরামিষ বলয়ে’, যেখানে জৈন আর বৈষ্ণব ঐতিহ্য বহু প্রজন্ম ধরে থালার নিয়ম ঠিক করে দেয়, সেখানে ডিম বেচতে গেলে দরকার পড়ে একটা যুক্তির, একটা সেতুর। যে ডিম নিষিক্ত হয়নি, যাতে কোনও ভ্রূণ নেই বা প্রাণের সঞ্চার হয়নি, সেই ডিমকে অনেক নিরামিষাশী পরিবার ‘অহিংস’ বলে মেনে নিয়েছিলেন। বাণিজ্যিক পোলট্রি ফার্মের মুরগিরা যেহেতু মোরগের সংস্পর্শ ছাড়াই ডিম পাড়ে, তাই নিষিক্ত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না সেখানে। ‘শাকাহারী আন্ডে’ আসলে সেই বিজ্ঞানকেই এক লাইনে বুঝিয়ে দেওয়ার একটা কৌশল।
দেশের অভ্যাস বদলে দিল যে লেবেল

এই যুক্তি অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। স্বাধীনতার পর কয়েক দশক ধরে ভারতে অপুষ্টি ছিল এক বিরাট সমস্যা, বিশেষ করে গ্রাম আর নিরামিষাশী পরিবারগুলোয়। সরকার আর পোলট্রি শিল্প বুঝেছিল, ডিমের মতো সস্তা প্রোটিনকে যদি ‘নিরামিষ-বান্ধব’ করে দেখানো যায়, বাজারটা রাতারাতি অনেক বড় হয়ে যাবে। সেখান থেকেই জন্ম ‘শাকাহারী আন্ডে’ লেবেলের, আর পরে ন্যাশনাল এগ কো-অর্ডিনেশন কমিটি বা NECC-র সেই বিখ্যাত স্লোগান— ‘সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে’। ধর্মীয় আবেগে আঘাত না করেই ডিমকে রোজকার পাতে জায়গা করে দেওয়ার এক নিপুণ চেষ্টা। ফলও মিলল হাতেনাতে। যে ডিম একসময় ‘অখাদ্য’ গণ্য হত, সেটাই আস্তে আস্তে ঢুকে পড়ল কোটি কোটি নিরামিষাশী রান্নাঘরে, ঢুকে পড়ল বাচ্চাদের টিফিন বাক্সে, স্কুলের মিড-ডে মিলে।
সেই ভার পড়ল বিজ্ঞাপন সংস্থা এন্টারপ্রাইজ-এর ওপর, মোহাম্মদ খানের নেতৃত্বে। আনন্দ হালভে লিখলেন প্রথম লাইনটা, ‘Have you had an egg today?’, যা হয়ে উঠল গোটা প্রচারের ভিত্তি। কিন্তু আসল লড়াই ছিল অন্যত্র। বেশিরভাগ ভারতীয় ভাবতেন, তাঁদের খাদ্যাভ্যাস এমনিই সুষম, ডিমের আলাদা দরকার নেই।
জিংগেল যেভাবে কিংবদন্তি হল
ব্যাপারটা আরও জমে উঠল ১৯৮০ সালে এসে। তখন ভারতের পোলট্রি শিল্প রীতিমতো ধুঁকছে, উৎপাদন খরচ আকাশছোঁয়া, লাভ তলানিতে, প্রায় ৪০ শতাংশ খামার লাটে ওঠার জোগাড়। এই সংকট থেকেই জন্ম নেয় NECC, ভেঙ্কটেশ্বরা হ্যাচারিজের প্রতিষ্ঠাতা পদ্মশ্রী ড. বি ভি রাও-এর হাত ধরে, অনেকটা দুধ শিল্পে ‘অপারেশন ফ্লাড’-এর সাফল্য দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে। রাও-এর স্লোগান ছিল ঝাঁঝালো— ‘মাই এগ, মাই প্রাইস, মাই লাইফ’। কিন্তু উৎপাদকদের ন্যায্য দাম পাইয়ে দেওয়ার আগে দরকার ছিল চাহিদা তৈরির।
সেই ভার পড়ল বিজ্ঞাপন সংস্থা এন্টারপ্রাইজ-এর ওপর, মোহাম্মদ খানের নেতৃত্বে। আনন্দ হালভে লিখলেন প্রথম লাইনটা, ‘Have you had an egg today?’, যা হয়ে উঠল গোটা প্রচারের ভিত্তি। কিন্তু আসল লড়াই ছিল অন্যত্র। বেশিরভাগ ভারতীয় ভাবতেন, তাঁদের খাদ্যাভ্যাস এমনিই সুষম, ডিমের আলাদা দরকার নেই। আর নিরামিষাশী বলয়ে ডিমের নামই তো প্রায় নিষিদ্ধ।

একটা বিজ্ঞাপন অবশ্য ইতিহাসে থেকে গেছে, ভুল কারণে। কপিরাইটার রাজন নায়ার লিখেছিলেন ‘এগ অ্যাজ ভেজ’ নামের একটা বিজ্ঞাপন, দুটো সানি-সাইড-আপ ভাজা ডিমের ছবির নিচে হেডলাইন, ‘আসছে একটা দারুণ নতুন সবজি’। যুক্তি হিসেবে টানা হয়েছিল গান্ধীজির একটা পুরনো মন্তব্যও— নিষিক্ত না হওয়া ডিম নাকি নিরামিষ। কিন্তু বিজ্ঞাপনটা বেরোনোর কয়েকদিনের মধ্যেই গুজরাতি আর জৈন সমাজ থেকে প্রবল প্রতিবাদ ওঠে, আর সংস্থা তড়িঘড়ি সেটা তুলে নিতে বাধ্য হয়। এই ছোট্ট ব্যর্থতাই শিখিয়ে দেয়, ডিম বেচতে হবে যুক্তি দিয়ে, বিতর্ক দিয়ে নয়।
তারপর এল সেই আসল চমক। ‘Have you had an egg today?’ আর পুরনো হিন্দি সিনেমার গান ‘আনা মেরি জান, মেরি জান, সানডে কে সানডে’ (১৯৪৭ সালের ছবি ‘সেহনাই’, সুর সি রামচন্দ্রের), এই দুই ভাবনা এক করে আনন্দ হালভে বানালেন সেই অমর লাইন— ‘সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে’। গাইলেন দেবাং প্যাটেল, বিজ্ঞাপনে দেখা গেল কুস্তিগীর-অভিনেতা দারা সিংকে, সুরে মিশল ম্যাকারেনার ছোঁয়া, দেশি ঢঙে। মধুকর দইফোড়ে, বেহরোজ ব্যাংকার, দানিশ, জারভান প্যাটেল, গোটা একটা দল খেটেছিল এই ক্যাম্পেইনের পেছনে।
রজত বিপ্লবের আসল কারিগর ড. বি ভি রাও ১৯৭১ সালে ভেঙ্কটেশ্বরা হ্যাচারিজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশে ঢোকে আধুনিক হাইব্রিড লেয়ার মুরগি, বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও টিকাকরণ কর্মসূচি। ১৯৮২ সালে গঠিত হয় NECC, যা কৃষকদের ফাটকাবাজদের কবল থেকে বাঁচিয়ে একটা জাতীয় মূল্য-কাঠামো দাঁড় করায়।
কেন এই গান এত জনপ্রিয় হল? কারণ এটা এমন সহজ ও কানে লেগে থাকার মতো সুরে বাঁধা, যে ডিম না খেলেও প্রায় সবাই গুনগুন করতেন। ১৯৯০-এর দশকে বড় হওয়া গোটা একটা প্রজন্মের কাছে এই জিংগেল টিভির সঙ্গে সমার্থক হয়ে উঠল। ডিমকে বলা হত ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুস্বাদু মাল্টিভিটামিন ক্যাপসুল’, দাবি করা হত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছ থেকে ‘১০০ পয়েন্ট রেটিং’ পাওয়ার কথাও। ‘বোরিং’ তকমা ঘোচাতে পরের বিজ্ঞাপনগুলোয় হাজির হল ডিমের চাট, ডিমের বিরিয়ানি, যাতে মানুষ ডিমকে শুধু ব্রেকফাস্টে নয়, দিনের যে কোনও সময়ে খেতে শেখে। ক্যাম্পেইনটা জিতেছিল অ্যাডভার্টাইজিং ক্লাব অফ বম্বের ‘ক্যাম্পেইন অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কারও।
চার দশক পরেও ‘সানডে হো ইয়া মানডে, রোজ খাও আন্ডে’ ভারতীয় বিজ্ঞাপনের ইতিহাসে একটা মাইলফলক, অনেকটা ‘দুধ দুধ দুধ দুধ’-এর মতোই সেই সময়ের গুটিকয়েক কাল্ট জিংগেলের একটা। প্রমাণ করে দিয়েছে, একটা সহজ সুর আর সৎ যুক্তি কীভাবে সংশয় ভেঙে গোটা একটা জাতির খাদ্যাভ্যাস বদলে দিতে পারে।

সবুজ বিপ্লবের সঙ্গে ‘প্যাকেজ’?
এবার অর্থনীতির দিকে আসা যাক। প্রায়ই শোনা যায়, ডিম বিপ্লব নাকি সবুজ বিপ্লবের সঙ্গে একই প্যাকেজে এসেছিল। তথ্য ঘাঁটলে দেখা যায়, কথাটা পুরো ঠিক না, আবার পুরো ভুলও না। সবুজ বিপ্লব (১৯৬০-৭০-এর দশক) মূলত গম-ধানের ফলন বাড়ানো নিয়ে ছিল, আর ডিম উৎপাদনের বিপ্লবের নিজস্ব একটা নাম আছে, ‘রজত বিপ্লব’ বা সিলভার রেভোলিউশন (১৯৬৯-৭৮)। দুটো একসঙ্গে বাঁধা কোনও সরকারি প্রকল্প ছিল না, কিন্তু দুটোই একই সময়ে, একই লক্ষ্যে, খাদ্য নিরাপত্তা আর অপুষ্টি দূর করতে, শুরু হয়েছিল ইন্দিরা গান্ধীর আমলে। তাই ‘একসঙ্গে এসেছিল’ বলাটা সময়ের হিসেবে ঠিক, কিন্তু ‘একই প্রকল্পের অংশ’ বলাটা ভুল।
রজত বিপ্লবের আসল কারিগর ড. বি ভি রাও ১৯৭১ সালে ভেঙ্কটেশ্বরা হ্যাচারিজ প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর হাত ধরেই দেশে ঢোকে আধুনিক হাইব্রিড লেয়ার মুরগি, বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও টিকাকরণ কর্মসূচি। ১৯৮২ সালে গঠিত হয় NECC, যা কৃষকদের ফাটকাবাজদের কবল থেকে বাঁচিয়ে একটা জাতীয় মূল্য-কাঠামো দাঁড় করায়।
আর টাকার অঙ্কে হিসেব করলে? ভারতের ডিমের বাজারের আকার ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালে সেই বাজার ১৩.৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা।
সংখ্যা বলে দেয় বাস্তব পরিসংখ্যানে চোখ রাখলে বোঝা যায়, এই বিপ্লব আসলে কতটা বড় ছিল। ১৯৫০-৫১ সালে ভারতে ডিম উৎপাদন হত মাত্র দুশো কোটি। ২০২৪-২৫ সালে সেই সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১৪৯১১ কোটিতে, অর্থাৎ ১৪৯.১১ বিলিয়নে। অর্থাৎ, ভারত এখন চিনের পরেই বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ডিম উৎপাদক দেশ। ১৯৫০-৫১ সালের ২ বিলিয়ন ২০২৪-২৫ সালে পৌঁছেছে ১৪৯.১১ বিলিয়নে।
তবে উৎপাদন বাড়লেই তো হল না। প্রশ্ন হল, মানুষের পাতে কতটা পৌঁছাচ্ছে। প্রতি বছর মাথাপিছু ডিমের প্রাপ্যতা ২০১৪-১৫ সালের ৬২টা থেকে বেড়ে ২০২৪-২৫ সালে দাঁড়িয়েছে ১০৬টাতে। বৃদ্ধিটা চোখে পড়ার মতো, কিন্তু ICMR-এর সুপারিশ করা ১৮০টার তুলনায় এখনও অনেকটাই পিছিয়ে আমরা।

ডিম উৎপাদনের প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ আসে সংগঠিত বাণিজ্যিক পোলট্রি খাত থেকে, বাকিটা ব্যাকইয়ার্ড পোলট্রি থেকে। আর এই উৎপাদনের ভৌগোলিক ছবিটাও বেশ অসম। অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, পশ্চিমবঙ্গ আর কর্ণাটক, এই পাঁচটা রাজ্য মিলে দেশের প্রায় ৬৪ শতাংশ ডিম উৎপাদন করে। দক্ষিণ ভারতের আধিপত্য এখানে স্পষ্ট।
আর টাকার অঙ্কে হিসেব করলে? ভারতের ডিমের বাজারের আকার ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার। ২০৩০ সালে সেই বাজার ১৩.৮২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা।
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| সূচক | মান |
|---|---|
| মোট ডিম উৎপাদন (২০২৪-২৫) | ১৪৯.১১ বিলিয়ন (১৪৯১১ কোটি) |
| ১৯৫০-৫১ সালে উৎপাদন | প্রায় ২ বিলিয়ন |
| গোটা বিশ্বে স্থান | ২য় স্থান (চিনের পরেই) |
| মাথাপিছু বার্ষিক প্রাপ্যতা (২০২৪-২৫) | ১০৬টি ডিম |
| মাথাপিছু প্রাপ্যতা (২০১৪-১৫) | ৬২টি ডিম |
| ICMR প্রস্তাবিত মাথাপিছু চাহিদা | ১৮০টি ডিম/বছর |
| সংগঠিত বাণিজ্যিক ক্ষেত্রের অবদান | প্রায় ৮৪-৮৫ শতাংশ |
| বাজারের আকার (২০২৪) | প্রায় ৯.৪৭ বিলিয়ন ডলার |
| প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ কর্মসংস্থান | প্রায় ২ কোটি+ মানুষ |
| কৃষিজ জিডিপিতে পোলট্রির অবদান | প্রায় ১৪% |
ফিড-এর দাম, অর্থাৎ ভুট্টা আর সয়াবিনের দাম, যা মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ দখল করে, প্রসেসিং পরিকাঠামোর অভাব (মাত্র ৭-১০ শতাংশ ডিম প্রসেসড হয়, উন্নত দেশে যা ৬০ শতাংশেরও বেশি), আর রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, এই তিনটেই এখনও শিল্পের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে পোলট্রি এখন ভারতের জিডিপিতে প্রায় ১.২ শতাংশ অবদান রাখে। আর কৃষিজ জিডিপির একটা বড় অংশ, প্রায় ১৪ শতাংশ, দখল করে আছে ডিম। প্রত্যক্ষ আর পরোক্ষভাবে এই শিল্প দুই কোটিরও বেশি মানুষের রুটিরুজির উৎস। ক্রমবর্ধমান আয়, শহরায়ন আর স্বাস্থ্য সচেতনতার কারণে এই বৃদ্ধি আগামী দিনেও চলবে বলেই মনে হয়। তবে চ্যালেঞ্জও কম নেই। ফিড-এর দাম, অর্থাৎ ভুট্টা আর সয়াবিনের দাম, যা মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ৮০-৮৫ শতাংশ দখল করে, প্রসেসিং পরিকাঠামোর অভাব (মাত্র ৭-১০ শতাংশ ডিম প্রসেসড হয়, উন্নত দেশে যা ৬০ শতাংশেরও বেশি), আর রপ্তানিতে প্রতিযোগিতার ঘাটতি, এই তিনটেই এখনও শিল্পের সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

শেষপাতে ডিমের চার পদ
ইতিহাস আর অর্থনীতির গল্প শেষে আসা যাক রসনার তৃপ্তিসাধনে। ডিম দিয়ে বানানো যায় এমন কিছু চিরন্তন পদ রইল খাদ্যরসিক বাঙালির জন্য!
১. ডিমের ঝোল (বাঙালি স্টাইল): সেদ্ধ ডিম হালকা ভেজে নিন, তারপর পেঁয়াজ, আদা-রসুন বাটা, টমেটো, হলুদ, লঙ্কা, জিরে গুঁড়োর মশলা দিয়ে কষিয়ে হালকা ঝোল বানিয়ে ডিমগুলো ছেড়ে দিন। গরম ভাতের সঙ্গে জমে যায় এই পদ।
২. ডিম ভুর্জি: ডিম ফেটিয়ে তাতে নুন-হলুদ মিশিয়ে রাখুন। কড়াইতে পেঁয়াজ, কাঁচালঙ্কা, টমেটো কষিয়ে তাতে ডিম ঢেলে অনবরত নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না ঝুরঝুরে হয়ে যায়। পাউরুটি বা পরোটার সঙ্গে দারুণ জলখাবার।
জব্বলপুরের সেই দোকানের দেওয়ালের লেখাটা আজ আর হাসির খোরাক নেই। বরং সেটা মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে বিজ্ঞান, বাণিজ্য আর সংস্কৃতি মিলেমিশে একটা গোটা দেশের পাতে বদল আনতে পারে।
৩. দেভিলড এগ (মশলা ডিম): সেদ্ধ ডিম দু’ভাগ করে কুসুম আলাদা করুন। কুসুমের সঙ্গে মেয়োনিজ, সর্ষের বাটা, গোলমরিচ আর সামান্য লঙ্কা গুঁড়ো মিশিয়ে সেই পুর আবার ডিমের সাদা অংশে ভরে দিন। যেকোনও পার্টির স্টার্টার হিসেবে অসাধারণ।
৪. ডিমের রোল: পরোটা হালকা সেঁকে নিন, তার ওপর ফেটানো ডিম ঢেলে দুপাশ উল্টে ভেজে নিন। তাতে পেঁয়াজ-শসা কুচি, লঙ্কার সস আর চাট মশলা দিয়ে রোল বানিয়ে ফেলুন, ফাস্ট ফুডের স্বাদ বাড়ি বসেই উপভোগ করুন।
জব্বলপুরের সেই দোকানের দেওয়ালের লেখাটা আজ আর হাসির খোরাক নেই। বরং সেটা মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে বিজ্ঞান, বাণিজ্য আর সংস্কৃতি মিলেমিশে একটা গোটা দেশের পাতে বদল আনতে পারে; নিঃশব্দে, একটি লেবেল থেকে যাত্রা শুরু করে, একটা স্লোগান হয়ে, শেষে এক মহা শিল্প বিপ্লবে পরিণত হয়ে।
তথ্যসূত্র
১. Department of Animal Husbandry and Dairying (DAHD), Basic Animal Husbandry Statistics 2025
২. APEDA, Poultry Products
৩. Dataful/Factly, Four Southern States Produce Over Half of India’s Eggs
৪. Newstrail, India Poultry Eggs Market, Status and Outlook (2025-2033)
৫. ThePrint, Roz khao ande: When a pro-egg campaign was a hit with Indian vegetarians
৬. Forbes India, How NECC’s Sunday ho ya Monday, roz khao ande campaign was made
৭. Onlykutts, Iconic Ads: NECC, Roz Khao Ande Point of View
৮. Eggoz (LinkedIn), Sunday Ho Ya Monday, Roz Khao Ande!
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত