Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

প্ল্যানিং কমিশন

প্রবর্তন থেকে বিসর্জন (পর্ব- ৩)

অমিতাভ রায়

আগস্ট ১৯, ২০২৬

Planning Commission 3
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Planning Commission 3)

দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার (১৯৫৬-১৯৬১) মূল লক্ষ্য ছিল নতুন সরকারি উদ্যোগ (Public Sector Understanding) স্থাপন ও উন্নয়ন। দ্রুত শিল্পায়নের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করা হয় এই পরিকল্পনায়। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল লাইফ ইন্স্যুরেন্স করপোরেশন বা এলআইসি-র প্রবর্তন।

এই পরিকল্পনার নকশা প্রণয়ন করেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী তথা বিশিষ্ট পরিসংখ্যানবিদ অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ। ১৯৩১ সালে তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলকাতার ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত ছিল। আর তাঁর নিজের তো জগৎজোড়া খ্যাতি। অধ্যাপক মহলানবিশ যেভাবে দ্বিতীয় পরিকল্পনার মডেল রচনা করেছিলেন, তা এখনও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অনুসরণ করা হয়, এবং পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে এই অর্থনৈতিক উন্নয়ন মডেল পড়ানো হয়। 


আরও পড়ুন: প্ল্যানিং কমিশন প্রবর্তন থেকে বিসর্জন পর্ব- ,


১৯৫৩-এ অধ্যাপক মহলানবিশ জনসমক্ষে তাঁর উন্নয়ন মডেল প্রকাশ করেন। পরিকল্পনাটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক বৃদ্ধি সর্বাধিক করার জন্য উৎপাদনশীল উদ্যোগে সর্বোত্তম বিনিয়োগ বরাদ্দ করার চেষ্টা করেছিল। এটি ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউটে তৈরি পরিসংখ্যানগত মডেলগুলির অভিনব প্রয়োগের পাশাপাশি অপারেশন রিসার্চ ও অপ্টিমাইজেশনের প্রচলিত অত্যাধুনিক কৌশলগুলি ব্যবহার করেছিল। পরিকল্পনাটি এমন একটি বদ্ধ অর্থনীতি ধরে নিয়েছিল, যেখানে মূল ব্যবসায়িক ক্রিয়াকলাপ মূলধনী পণ্য আমদানির উপর কেন্দ্রীভূত হবে। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা থেকে মৌলিক ও মূলধনী ভারী শিল্পের সংস্থাপনের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে জোর দেওয়া হয়।

Planning Commission 3
প্রখ্যাত বিজ্ঞানী তথা বিশিষ্ট পরিসংখ্যানবিদ অধ্যাপক প্রশান্তচন্দ্র মহলানবিশ

এই পাঁচ বছরে কয়েকটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এবং ভিলাই, দুর্গাপুর এবং রাউরকেলায় সোভিয়েত ইউনিয়ন, গ্রেট ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য) ও পশ্চিম জার্মানির সহায়তায় ইস্পাত কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করে উৎপাদন শুরু করা হয়। কয়লার উৎপাদন বাড়ানো হয়, বাড়ানো হয় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা।

টাটা ইনস্টিটিউট অব ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ এবং ভারতের পারমাণবিক শক্তি কমিশন গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসাবে এই পাঁচ বছরেই প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে, পারমাণবিক শক্তিক্ষেত্রের কাজে প্রশিক্ষণ দিতে প্রতিভাবান তরুণ ছাত্রদের খুঁজে বের করার একটি প্রতিভা অনুসন্ধান এবং বৃত্তি প্রদান প্রকল্প শুরু করে। তার ফলে পরবর্তী সময়ে দেশের প্ৰযুক্তিবিদদের হাতেই গড়ে ওঠে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

Planning Commission 3
ব্যাঙ্কের জাতীয়করণের সংবাদ

রাজ্য বিদ্যুৎ বোর্ড এবং রাজ্য মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড গঠিত হয়। মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষার জন্য রাজ্যগুলিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। রাজ্য সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন গঠিত হয় এবং স্থানীয় সড়ক নির্মাণ একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হয়ে ওঠে।

তৃতীয় পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণের কাজ চলতে থাকে। অনেকগুলি সিমেন্ট এবং সার কারখানাও নির্মিত হয়। পাঞ্জাবে প্রচুর পরিমাণে গম উৎপাদন শুরু হয়। গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত হয় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়। তৃণমূল স্তরে গণতন্ত্র আনার প্রয়াসে, পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু করা হল সেই সময়, রাজ্যগুলি পেল আরও উন্নয়নের দায়িত্ব।

ভারতে দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার অধীনে বরাদ্দ অর্থের মোট পরিমাণ ছিল ৪৮০০ কোটি টাকা। এই অর্থ বরাদ্দে বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল বিদ্যুৎ ও সেচ, সামাজিক পরিষেবা, যোগাযোগ ও পরিবহন। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় পরিকল্পনা ছিল ক্রমবর্ধমান মূল্যের সময়কাল। চূড়ান্ত পর্যায়ে দেখা যায়, খরচ হয়েছে ৪৬৭২ কোটি টাকা। বেড়ে যায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার সংকট। জনসংখ্যার দ্রুত বৃদ্ধি মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির গতি কমিয়ে দেয়। বৃদ্ধির (জিডিপি) হারের লক্ষ্য ছিল ৪.৫%, প্রকৃত বৃদ্ধির হার ছিল ৪.২৭%।

Planning Commission 3
কয়লা উত্তোলনকারী সংস্থাগুলিকে একত্রিত করে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়

১৯৬১-তে শুরু হল তৃতীয় পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা (১৯৬১-১৯৬৬)। এই পাঁচ বছরে গুরুত্ব পেল কৃষি উন্নয়ন বিশেষত গম উৎপাদন। কিন্তু ১৯৬২ সালের সংক্ষিপ্ত চিন-ভারত সংঘর্ষ বুঝিয়ে দিল দেশের অর্থনীতি যথেষ্ট দুর্বল। ফলে প্রতিরক্ষা শিল্প ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর দিকে মনোযোগ না দিয়ে উপায় ছিল না। ১৯৬৫ সালে, ভারত পাকিস্তানের যুদ্ধ বাধে। ১৯৬৫ সালে প্রচণ্ড খরাও হয়। যুদ্ধের ফলে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। তখন মূল্য স্থিতিশীল রাখার কাজ অগ্রাধিকার পায়। অবস্থা এতটাই সঙ্গীন হয়ে পড়ে যে, ভারতকে সেই প্রথম আইএমএফ (ইন্টারন্যাশনাল মনিটরি ফান্ড) থেকে ঋণ নিতে হয়। ১৯৬৬ সালে প্রথম টাকার মূল্য অবমূল্যায়ন হয়।

তৃতীয় পরিকল্পনায় বাঁধ নির্মাণের কাজ চলতে থাকে। অনেকগুলি সিমেন্ট এবং সার কারখানাও নির্মিত হয়। পাঞ্জাবে প্রচুর পরিমাণে গম উৎপাদন শুরু হয়। গ্রামাঞ্চলে স্থাপিত হয় অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়। তৃণমূল স্তরে গণতন্ত্র আনার প্রয়াসে, পঞ্চায়েত নির্বাচন শুরু করা হল সেই সময়, রাজ্যগুলি পেল আরও উন্নয়নের দায়িত্ব। তবে তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সূচনা পর্বে জিডিপি বৃদ্ধির হারের লক্ষ্য ৫.৬% ধার্য করা হলেও প্রকৃত বৃদ্ধির হার ছিল ২.৪%।

Planning Commission 3
কাশ্মীরে ভারতীয় সেনা

তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার নথি মূলত জন স্যান্ডি এবং অধ্যাপক সুখময় চক্রবর্তীর মডেলের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল। এই পরিকল্পনায় সরকারি খাতের নির্ধারিত বরাদ্দ (public sector outlay) ছিল প্রায় ৭,৫০০ কোটি টাকা। পরিকল্পনার মূল নথিতে বিনিয়োগ ও অন্যান্য সরকারি পরিকল্পনা-ব্যয় মিলিয়ে এই অঙ্ক নির্ধারিত হয়েছিল। তবে পরিকল্পনার শেষে বাস্তবে মোট ব্যয় হয় প্রায় ৮,৫৭৬.৫ কোটি টাকা— অর্থাৎ পরিকল্পিত বরাদ্দের চেয়ে বেশি। টাকার অবমূল্যায়নের ফলেই এমনটা ঘটে বলে অনুমান করা হয়।

প্রধান লক্ষ্যগুলো ছিল— দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি (প্রতি বছর প্রায় ৫.৭% বৃদ্ধির লক্ষ্য), আত্মনির্ভরশীলতা (Self-reliance) অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র ও আয়-বৈষম্য হ্রাস। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায় ও উন্নয়ন।

তৃতীয় পরিকল্পনার শোচনীয় ব্যর্থতার কারণে সরকার ১৯৬৬ সালে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার ঘোষণা করে। দেশের অর্থনীতির ইতিহাসে ১৯৬৬-১৯৬৭, ১৯৬৭-১৯৬৮ এবং ১৯৬৮-১৯৬৯ ‘প্ল্যান হলিডেস্’ নামে পরিচিত। এই মধ্যবর্তী সময়ে তিনটি বার্ষিক পরিকল্পনার ছক আঁকা হয়েছিল। ১৯৬৬-১৯৬৭ সালে আবারও খরার সমস্যা দেখা দেয়। বার্ষিক পরিকল্পনায় কৃষি এবং কৃষি-সংক্রান্ত কার্যক্রম এবং শিল্প উদ্যোগকে সমান অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পনা ছুটির প্রধান কারণ ছিল যুদ্ধ, সম্পদের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতি।

ভারতের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ১৯৬৯–১৯৭৪ সময়সীমায় কার্যকর হয়। গ্যাডগিল সূত্রের উপর ভিত্তি করে এই পরিকল্পনায় স্থিতিশীলতার সঙ্গে বৃদ্ধি এবং স্বনির্ভরতার অগ্রগতিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। গ্যাডগিল সূত্র হল ভারতে বিভিন্ন রাজ্যের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্র থেকে আর্থিক সাহায্য বা অনুদান বন্টনের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম। রাজ্যগুলির মধ্যে কেন্দ্রীয় তহবিলের সুষ্ঠুভাবে বন্টনের জন্য এটি গ্রহণ করা হয়। এই সূত্রে রাজ্যের জনসংখ্যা, মাথাপিছু আয়, বিশেষ সমস্যাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সমাজবিজ্ঞানী ধনঞ্জয় রামচন্দ্র গ্যাডগিল (ডি. আর. গ্যাডগিল) এই সূত্রটি তৈরি করেন।

Planning Commission 3
ভারত-চিন যুদ্ধে সমর্পণের ছবি

এর প্রধান লক্ষ্যগুলো ছিল— দ্রুত অর্থনৈতিক বৃদ্ধি (প্রতি বছর প্রায় ৫.৭% বৃদ্ধির লক্ষ্য), আত্মনির্ভরশীলতা (Self-reliance) অর্জন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কৃষি ও শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, দারিদ্র ও আয়-বৈষম্য হ্রাস। কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি ও সামাজিক ন্যায় ও উন্নয়ন।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় কেন্দ্র ১৪টি প্রধান ভারতীয় ব্যাঙ্ককে (এলাহাবাদ ব্যাঙ্ক, ব্যাঙ্ক অফ বরোদা, ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ব্যাঙ্ক অফ মহারাষ্ট্র, সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, কানাড়া ব্যাঙ্ক, দেনা ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, সিন্ডিকেট ব্যাঙ্ক, ইউকো ব্যাঙ্ক, ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক এবং ইউনাইটেড ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া) জাতীয়করণ করে। ১৯৭১ সালে বিলুপ্ত হয় রাজন্য ভাতা।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অনুমোদিত সরকারি খাতের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫,৯০২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা শেষে প্রকৃত ব্যয় হয় প্রায় ১৫,৭৭৯ কোটি টাকা। পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৬%, তবে প্রকৃত বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৩%।

কোকিং কোল মাইনস্ (ইমারজেন্সি প্রভিশনস্) আইন প্রণয়ন করে {Coking Coal Mines (Emergency Provisions) Act, 1971} সমস্ত বেসরকারি কয়লা খনি অধিগ্রহণ শুরু হয় এবং ১৯৭২ সালের ১লা মে অধিগৃহীত খনিগুলোর জাতীয়করণ হয়। স্থাপিত হয় ভারত কোকিং কোল লিমিটেড। কিছুদিনের মধ্যেই কোল মাইনস্ (জাতীয় করণ) আইন {Coal Mines (Nationilation) Act 1973} সংসদে পাস করিয়ে ১৯৭৩ সালের ১লা মে দেশের সমস্ত নন-কোকিং কয়লা খনিরও জাতীয়করণ হয়।

প্রসঙ্গত, ১৯৭৫ সালে সমস্ত সরকারি কয়লা সংস্থাকে একত্রিত করে মূল হোল্ডিং কোম্পানি হিসেবে কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড প্রতিষ্ঠা করা হয়। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেড স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল, খনি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কাজের ভাল পরিবেশ নিশ্চিত করা। এছাড়াও, কয়লার অবৈজ্ঞানিক উত্তোলন ও অপচয় রোধ করা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখতে সঠিক উপায়ে কয়লা উৎপাদন ও সরবরাহ করা।

Planning Commission 3
ভারত-পাক যুদ্ধের শেষে চুক্তি

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য ছিল কৃষিজাত দ্রব্যের উৎপাদনে ব্যাপক উন্নতি, যা সবুজ বিপ্লব নামে পরিচিত। চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময় অশান্ত হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তান। শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয় লক্ষ লক্ষ মানুষ। ১৯৭১ সালের আগস্টে ভারতের উপর আক্রমণ চালায় পাকিস্তান। শুরু হয় সরাসরি যুদ্ধ। যুদ্ধ শেষে ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। যুদ্ধের কারণে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল শরণার্থীদের ভরণপোষণে খরচ হয়ে যায়। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয়।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অনুমোদিত সরকারি খাতের বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৫,৯০২ কোটি টাকা। পরিকল্পনা শেষে প্রকৃত ব্যয় হয় প্রায় ১৫,৭৭৯ কোটি টাকা। পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫.৬%, তবে প্রকৃত বৃদ্ধির হার ছিল ৩.৩%।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। খাদ্যশস্য মজুত (buffer stock) রাখার প্রয়োজনীয়তা এই সময়েই অনুভূত হয়, এবং এত ডামাডোলের মধ্যেও ৫০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য মজুত করা হয়।

চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়। খাদ্যশস্য মজুত (buffer stock) রাখার প্রয়োজনীয়তা এই সময়েই অনুভূত হয়, এবং এত ডামাডোলের মধ্যেও ৫০ লক্ষ টন খাদ্যশস্য মজুত করা হয়। একই সঙ্গে এই খরাপ্রবণ এলাকার উন্নয়নের লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি (Drought Prone Areas Programme) চালু করা হয়।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of অমিতাভ রায়

অমিতাভ রায়

প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ ও পরিচিত পরিকল্পনাবিশারদ। পড়াশোনা ও পেশাগত কারণে দেশে-বিদেশে বিস্তর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। তার ফসল বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বই। জোয়াই, আহোম রাজের খোঁজে, প্রতিবেশীর প্রাঙ্গণে, কাবুলনামা, বিলিতি বৃত্তান্ত ইত্যাদি।
Picture of অমিতাভ রায়

অমিতাভ রায়

প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ ও পরিচিত পরিকল্পনাবিশারদ। পড়াশোনা ও পেশাগত কারণে দেশে-বিদেশে বিস্তর ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। তার ফসল বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় বই। জোয়াই, আহোম রাজের খোঁজে, প্রতিবেশীর প্রাঙ্গণে, কাবুলনামা, বিলিতি বৃত্তান্ত ইত্যাদি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

সুপ্রিয় চৌধুরী
বিতস্তা ঘোষাল

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়
ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

নির্মাল্য চ্যাটার্জি
দেবার্চন চ্যাটার্জি

উপন্যাস

[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com