Hrishikesh Mukherjee
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে যে কয়েকজন পরিচালক সাধারণ মানুষের জীবন, সম্পর্ক আর মধ্যবিত্তের ছোট ছোট আনন্দ-কষ্টের অনুভূতি, সিনেমার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছিলেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম হৃষিকেশ মুখার্জি, সবার প্রিয় ‘ঋষিদা’।
১৯২২ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্ম এই বিখ্যাত পরিচালকের। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষে কিছুদিন শিক্ষকতা করেন। তবে মাস্টারিতে বেশিদিন মন টেকেনি। তাই যোগ দেন নিউ থিয়েটার্সে। প্রথমে ক্যামেরাম্যান, পরে সম্পাদক হিসেবে কাজ শেখেন সুবোধ মিত্রের কাছে।
১৯৫১ সালে বিমল রায়ের সঙ্গে মুম্বাইয়ে কাজ শুরু করেন। ‘দো বিঘা জমিন’, ‘দেবদাস’, ‘মধুমতী’র মতো ছবিতে সম্পাদক ও সহকারী পরিচালকের ভূমিকা পালন করেন।
ভিডিও: শশী হে – জন্মদিনে শশী কাপুর
১৯৫৭ সালে ‘মুসাফির’ ছবিতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ। সাফল্য আসে ‘আনাড়ি’ সিনেমা রিলিজের পর। এরপর ‘অনুরাধা’, ‘অনুপমা’, ‘সত্যকাম’, ‘গুড্ডি’, ‘আনন্দ’, ‘অভিমান’, ‘বাবুর্চি’, ‘নমক হারাম’, ‘গোলমাল’, ‘খুবসুরত’— তাঁর একের পর এক ছবি ভারতীয় সিনেমার স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে আছে।
মূলধারার বিনোদন আর আর্ট সিনেমার কঠোর বাস্তবতার মাঝখানে তিনি তৈরি করেছিলেন নিজের এক স্বতন্ত্র পথ, যাকে বলা হয় ‘Middle Cinema’।
আনন্দ-এর মাধ্যমে অমিতাভ বচ্চনকে বড় ব্রেক দেন। আবার গুড্ডি-তে জয়া ভাদুড়ির হাতেখড়ি হয় হিন্দি সিনেমায়। অভিনেতা তৈরিতেও তাঁর অবদান গুরুত্বপূর্ণ।
ভিডিও: গুরু দত্ত – জন্মদিনে শ্রদ্ধার্ঘ্য
তিনি পরিচালক, সম্পাদক ও চিত্রনাট্যকার ছাড়াও ছিলেন CBFC ও NFDC-র চেয়ারম্যান।
চলচ্চিত্রের জগতে এসে পেয়েছেন আটটি Filmfare Award, ১৯৯৯ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০১ সালে পদ্মবিভূষণ পুরস্কার।
২০০৬ সালের ২৭শে আগস্ট এই বিখ্যাত পরিচালকের প্রয়াণ হলেও, তাঁর সিনেমার মানুষগুলোর হাসি- কান্না-ভালবাসা আজও আমাদের জীবনেরই গল্প বলে।
হৃষিকেশ মুখার্জি তাই শুধু একজন চলচ্চিত্র পরিচালক নন, মধ্যবিত্ত ভারতীয় জীবনযাপনকে পর্দার দলিল করে রাখার অসামান্য কারিগরও বটে।