(Deshvikharir Jamijiret 6)
কিছুটা এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি৷ কলেজের দিনগুলির কিছু কথা এখানে বলা উচিত, পরে আর সুযোগ পাব না৷ প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হতে গিয়ে ভয়ে পালিয়েছি৷ বঙ্গবাসী কলেজকে নিজের জায়গা মনে হল৷ এখানে আমি স্বচ্ছন্দ প্রথম দিন থেকে৷
আজ ভাবি, কেন এমন হয়েছিল? শুধুই আমার হীনম্মন্যতা? প্রেসিডেন্সি বিল্ডিংয়ের বিশালতা এবং ছাত্রছাত্রীদের চেহারায়, পোশাকে ধনীঘরের চাকচিক্য দেখে বস্তিবালক নিজেকে বেমানান ভেবেছিল, এটা ঘটনা৷ বঙ্গবাসী কলেজে কেন সে স্বচ্ছন্দ বোধ করল?
আরও পড়ুন: দেশভিখারির জমিজিরেত পর্ব ১, পর্ব ২, পর্ব ৩, পর্ব ৪, পর্ব ৫
যে মানুষটি তাকে বাংলা অনার্স পড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন, এবং সামনে বসিয়ে অ্যাডমিশন ফর্ম ভর্তি করিয়েছিলেন, তিনি নিতান্ত সাদামাটা, গায়ের রং বেশ কালো, তেল-জবজবে মাথা, হালকা সবুজ রঙের টেরিলিনের পাঞ্জাবি পরনে, কথায় বাঙাল টান, তাঁর হাসি পাড়ার ট্যাঁসগলির পানুদার মতো আকছার সাধারণ, ওই মানুষটির মধ্যে বালকটি পেয়েছিল আপনার জন৷ পরে জেনেছে, তিনি অধ্যাপক, নাম জীবনবল্লভ চৌধুরী৷
তিনি পড়িয়েছেন শাক্তপদাবলী৷ কেমন পড়াতেন? গল্প করতেন খুব, বলতেন নিজের ছাত্রজীবনের কথা, পূর্ববঙ্গের কথা, দেশ ছেড়ে আসার কথা৷ সত্যি বলতে কী, শাক্ত পদাবলির সাহিত্যমর্ম জীবনবল্লভ চৌধুরীর পড়ানোর মধ্যে দিয়ে ছুঁতে পারিনি৷ তাঁর পড়ানো এতটাই নীরস ছিল যে, আমরা ক্লাস এড়িয়ে চলেছি একটা সময়৷ তিনি আমাদের তারকনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘স্বর্ণলতা’ও পড়িয়েছিলেন৷ আজ আর মনেই পড়ে না কেমন ছিল সে পড়ানো৷

কলেজে আসার পথে, তা সে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের পাশ দিয়ে আসি, বা শিয়ালদা মোড় থেকে বামদিকের গলিপথ ধরে, বা বউবাজারে নেমে ডালহৌসি-মুখী ডানদিকের ফুটপাথ ধরে খানিকটা এগিয়ে চোরাবাজারের ভিতর দিয়ে— জায়গাটা ঘিঞ্জি, দু’পাশে সার সার দোকান নানা ধরনের আসবাবপত্রের, বোধহয় সেকেন্ড-হ্যান্ড, সেজন্যই চোরাবাজার বলা হত, পথজুড়ে বাজার আর বাজারি— এই অনভিজাত পরিবেশ আমাকে টেনেছিল আমাদের বস্তিপাড়ার সাদৃশ্যে৷ সাজানো-গোছানো বড়োলোকি জায়গাকে ভয় পেয়েছি ছোটবেলা থেকে, অস্বস্তিকর ভেবেছি, যা আজও পাই, ভাবি৷
আরও একটা কারণ হতে পারে, বন্ধু শঙ্কর বণিক বঙ্গবাসী স্কুলের ছাত্র ছিল৷ ওদের আর আমাদের ঘর রাস্তার এপার ওপার৷ ওর কাছে বঙ্গবাসী স্কুলের ইতিহাস শুনেছি কিছুটা, যেখানে ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রাম ও দেশপ্রেমের কথা ছিল৷ একটা স্বাদেশিক বাতাস৷ হতে পারে এই ইতিহাস আমার তরুণ মনকে আচ্ছন্ন করেছিল৷
পরদিন ভোরে গোবরার বামুনপাড়ার অমিয় ডাক্তারের (অমিয় চট্টোপাধ্যায়) মিক্সচার নিয়ে এলেন বাবা৷ দু-দাগ পড়তে মাথা তোলা গেল৷ ট্যাক্সি করে পরীক্ষা দিতে গেলাম উত্তর কলকাতার বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ে৷
আজ বেলাশেষে পৌঁছে স্পষ্ট বুঝতে পারি, বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল না৷ কূপমণ্ডূক মন আর নিরর্থক আবেগ দ্বারা চালিত হয়েছি৷ অভিভাবক বলতে বাবা, দু’বেলার আহার জোটাতে জেরবার তিনি হয়তো আমাকে নিয়ে ভাবার অবকাশ পাননি৷
হায়ার সেকেন্ডারিতে ইংরেজি পরীক্ষা দিলাম সিকবেড-এ৷ চালের ভয়াবহ আকালে দিনের পর দিন আটার রুটি আর গমের খিচুড়ি পেটে সহ্য হয়নি৷ বাংলা পরীক্ষা দিয়ে ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম৷ তারপর আর মাথা তু্লতে পারিনি৷ ওঠবার চেষ্টা করলে মাথা ঘোরে, শুয়ে পড়ি৷ সারারাত ছটফট করেছি, ভাঙা ভাঙা ঘুম৷ কীভাবে পরীক্ষায় বসব ভেবে আঁতকে উঠেছি৷

পরদিন ভোরে গোবরার বামুনপাড়ার অমিয় ডাক্তারের (অমিয় চট্টোপাধ্যায়) মিক্সচার নিয়ে এলেন বাবা৷ দু-দাগ পড়তে মাথা তোলা গেল৷ ট্যাক্সি করে পরীক্ষা দিতে গেলাম উত্তর কলকাতার বিশুদ্ধানন্দ সরস্বতী বিদ্যালয়ে৷ রেজাল্ট বেরোলে দেখা গেল ইংরেজির নম্বর ৫০ শতাংশের নিচে৷ ফলে ইংরেজি নিয়ে পড়া হল না৷
বাবা চেয়েছিলেন৷ আমারও ইচ্ছা ছিল৷ বস্তির ভাড়াটে বিমলাংশু বিশ্বাসের দুপুর-বিকেল জুড়ে শেক্সপিয়র পড়ার প্রভাব ছিল হয়তো৷ ইতিহাস, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়া যেত৷ কেন জানি আঁকড়ে ধরলাম বাংলা৷ টিউশন ও মোটা মোটা বইয়ের খরচের কথা ভেবে কি? যাই হোক, বঙ্গবাসী কলেজে পড়ার সিদ্ধান্তটা ঠিক ছিল না এই জন্যে বলেছি যে এই কলেজে আমাদের বিষয়ে শিক্ষাদানের পরিকাঠামো বেশ দুর্বল ছিল তখন৷
‘অন্নদামঙ্গল’ পড়াতেন অধ্যাপক গৌরমোহন মুখোপাধ্যায়৷ সৌম্যকান্তি সদাপ্রসন্ন৷ পরিপাটি পোশাক ও কেশবিন্যাস৷ প্রায় প্রতিদিন নতুন পাঞ্জাবি, নানা রঙের৷ তাঁকে প্রশ্ন করা যায়, এবং প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যে তাঁর বাড়ি যাওয়া যায়৷ আমরা গিয়েছি৷
যে অধ্যাপক ‘পঞ্চভূত’ পড়িয়েছেন, ‘কাব্য জিজ্ঞাসা’ পড়িয়েছেন, নাম সম্ভবত ব্রজেন সাহা; সামনে বই রেখে রিডিং পড়ে যেতেন আর ফাঁকে ফাঁকে দু-তিন লাইনের যে ব্যাখ্যা দিতেন, তা অস্পষ্ট, রসকষশূন্য৷ যিনি সাহিত্যের ইতিহাস পড়াতেন, বয়োভারে অশক্ত তিনি কোনওক্রমে ক্লাসরক্ষা করতেন৷ শুধু সাল-তারিখ আর নামের তালিকা৷ সাহিত্যের ‘স’ নেই৷
অধ্যাপক বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (ভট্টাচার্য হতে পারে) পড়াতেন দারুণ৷ ওঁর শব্দচয়ন, বিন্যাস ও বলার ভঙ্গিমায় আমরা সম্মোহিত হতাম৷ অনর্গল বলে যেতেন৷ তাঁর বিষয় ছিল আধুনিক সাহিত্য৷ সিলেবাস কথিত আধুনিক৷ পড়াতে পড়াতে সিলেবাসের বেড়া টপকে যেতেন৷ কিন্তু এই স্যরকে পেতাম কম৷ তিনি দলীয় রাজনীতিতে ব্যস্ত৷ প্রায়ই ক্লাস নিতে পারেন না৷ যেদিন নেন, এক ঘণ্টায় ঝড়ের গতিতে চারদিনের পড়া পড়িয়ে দেন৷

কলেজের হস্টেল সুপারের দায়িত্বেও ছিলেন তিনি৷ হস্টেলে তাঁর ঘরের বাইরে বারান্দায় ক্লাস করেছি রবিবার বা কলেজে ছুটি চলাকালে৷ বিশ্বনাথবাবু সিপিআইয়ের বিধায়ক হয়েছিলেন, খুব সম্ভব বেহালা কেন্দ্র থেকে৷ ‘অন্নদামঙ্গল’ পড়াতেন অধ্যাপক গৌরমোহন মুখোপাধ্যায়৷ সৌম্যকান্তি সদাপ্রসন্ন৷ পরিপাটি পোশাক ও কেশবিন্যাস৷ প্রায় প্রতিদিন নতুন পাঞ্জাবি, নানা রঙের৷ তাঁকে প্রশ্ন করা যায়, এবং প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্যে তাঁর বাড়ি যাওয়া যায়৷ আমরা গিয়েছি৷ যতদূর মনে পড়ে, পাইকপাড়ায়৷ তবে টেক্সটের বাইরে গিয়ে জানার আগ্রহ তাঁর কাছে তেমন আমল পায়নি৷ নোট মেটেরিয়াল পেয়েছি গোছানো৷
আজও ছবির মতো মনে আছে অধ্যাপক অরুণকুমার বসুর পড়ানো৷ কলেজের ছাদে গুটিকয় ঘর, মাথায় অ্যাসবেস্টস, আমরা বলতাম ‘সেমিনার ঘর’, এইখানে অনার্সের ক্লাস হত, তারই একটিতে ধুতি-সাদা পাঞ্জাবি পরা এক চঞ্চল যুবক ভাষাতত্ত্ব পড়াচ্ছেন, তিনি চেয়ারে বসেন না, কেবলই হাঁটেন, ছোট্ট ঘরে দু-পাশে বেঞ্চের মাঝখানে অপরিসর স্পেস দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন, পালি-প্রাকৃতের শরীর ভেঙে ভেঙে বাংলা শব্দ জন্ম নেয়, হাঁটতে হাঁটতে চলে যান ব্ল্যাকবোর্ডের কাছে, বাংলাভাষার জন্মবৃত্তান্তের নকশা রচিত হয় বোর্ডের কালো জমিতে, ছাদে হাওয়া খেলা করে, বৃষ্টি ও জলবাতাস জানালায়, স্যারের দিঘল চোখ আমাদের দেখে, আমরা জেনেছি তাঁর আর-একটি নাম আছে, ভাস্কর বসু, তাঁর আরেকটি পরিচয় আছে, তিনি গীতিকার, লিখেছেন ‘সোনার হাতে সোনার কাঁকন কে কার অলংকার’৷
প্রেসিডেন্সিতে পাওয়া যেত কি বিদ্যার্জনের উন্নততর পরিবেশ? ছাত্র আন্দোলনে অশান্ত হয়েছে প্রেসিডেন্সিও সেই সময়, কয়েক বছর৷ নিয়মিত ক্লাস হতে পেরেছে কি?
শুনেছি, এই সেমিনার রুমগুলো অনার্সের ক্লাসের জন্য নির্ধারিত ছিল৷ আমাদের বিভাগের অন্য অধ্যাপকরা তিনতলা সিঁড়ি ভাঙতে পারতেন না৷ অরুণ বসু স্যার তরতরিয়ে উঠে আসতেন, তাঁর চলায় আশ্চর্য ছন্দ, আমরা তাঁর উৎফুল্ল অনুগামী৷ বিশিষ্ট কবি ও রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ জগদীশ ভট্টাচার্য ছিলেন বিভাগীয় প্রধান৷ কিন্তু তাঁকে পেয়েছি মাত্র কয়েকদিন৷ ‘বিসর্জন’ ও ‘মালিনী’ পড়িয়েছেন৷ অসামান্য৷
খদ্দরের ধুতি-পাঞ্জাবির স্বাদেশিক আবহে বসে তাঁর অর্থগর্ভ পাঠ নাটকের দৃশ্যগুলি জীবিত করে তোলে৷ ঘোর লাগে, ক্লাসঘর মুছে যায়৷ তিনি পড়তে বলেছিলেন, তাই প্রেসিডেন্সির রেলিং থেকে কিনে আনি তাঁরই লেখা ‘কবিমানসী’র প্রথম খণ্ড, সেকেন্ড-হ্যান্ড, আজও আছে৷ এই মাপের অধ্যাপকদের ক্লাস বেশি পেলে হয়তো ছাত্রজীবনটা বাউন্ডুলে হয়ে যেত না৷ জগদীশ ভট্টাচার্যের ক্লাসও বেশিদিন পাইনি৷

প্রেসিডেন্সিতে পাওয়া যেত কি বিদ্যার্জনের উন্নততর পরিবেশ? ছাত্র আন্দোলনে অশান্ত হয়েছে প্রেসিডেন্সিও সেই সময়, কয়েক বছর৷ নিয়মিত ক্লাস হতে পেরেছে কি? এইসব প্রশ্নের জবাব পেয়েছি আমার মতো করে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রেসিডেন্সির তিন ছাত্রের সহপাঠী হতে পেরে৷ অরিজিৎ মিত্র, অলক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বপনকুমার দে৷
নকশালবাড়ি আন্দোলনে অংশ নিয়ে অরিজিৎ জেল খেটেছে, পুলিশের হাতে চরম নিগৃহীত হয়েছে৷ নির্দিষ্ট বছরে পরীক্ষায় বসতে পারেনি৷ পরে সিটি সাউথে অধ্যাপনা করে৷ সিপিআইএম লিবারেশন-এর রাজ্য নেতা হয়েছিল৷ সম্পাদনা করত ‘নবান্ন’ পত্রিকা৷ অলক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রখ্যাত গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই৷ পরে আইনজীবী হয়, শুনেছি৷ স্বপনকুমার দে অধ্যাপনার পেশা গ্রহণ করে৷ তিনজনই লেখাপড়ায় ব্রিলিয়ান্ট৷ ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদের রাজনৈতিক আন্দোলনের আবহে থেকেও ওরা প্রেসিডেন্সি থেকে ভাল ফল করেছিল৷
বঙ্গবাসীতে কয়েকজন সহপাঠী মাঝপথে কলেজে আসা বন্ধ করে দেয়৷ তারা লেখাপড়া থেকে ছিটকে যেতে বাধ্য হয়েছিল কি না, জানা নেই৷ হতে পারে, কোথাও রোজগারের সংস্থান করে নাইট ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল৷
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবাসীর সহপাঠীদের একজনকেও পাইনি৷ ওরা অন্য কোথাও পড়েছে কি না, জানা নেই৷ এই মুহূর্তে তিন সহপাঠীর নাম মনে পড়ছে৷ বিমল মিস্ত্রি, রমাপদ গায়েন, মনোরঞ্জন হাজরা৷ ট্রেন ধরবার তাড়া থাকায় এই বন্ধুরা ক্লাসের বাইরে কখনওই কোনও আলোচনা বা আড্ডায় থাকতে পারত না৷ শুনেছি, বিমল মিস্ত্রি সিপিআইএম-এর দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক হয়েছে৷ রমাপদ আর মনোরঞ্জনের খবর নেই৷ দুটো কথা এখানে বলা দরকার৷
এক. বঙ্গবাসীতে কয়েকজন সহপাঠী মাঝপথে কলেজে আসা বন্ধ করে দেয়৷ তারা লেখাপড়া থেকে ছিটকে যেতে বাধ্য হয়েছিল কি না, জানা নেই৷ হতে পারে, কোথাও রোজগারের সংস্থান করে নাইট ক্লাসে ভর্তি হয়েছিল৷ এরা বেশিরভাগই দরিদ্র বা নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের৷

দুই. ক্লাসের মাঝপথে টুক করে কেটে পড়া ছিল কিছু ছাত্রের রোজকার ব্যাপার৷ এরা চব্বিশ পরগনার দূর দূর স্টেশন থেকে আসত৷ পরনে ধুতি, জামা, কাঁধে কাপড়ের ব্যাগ৷ মাথায় টাইমটেবল, কানে ট্রেনের ভোঁ৷ পুরো ক্লাস করলে ট্রেন মিস হবে, পরের ট্রেন এক কি দেড় ঘণ্টা বাদে, সুতরাং…৷ এরা বঙ্গবাসী কলেজে ভর্তি হয়েছিল শিয়ালদা স্টেশনের কাছে বলে৷ অনার্সের ক্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়া একটু কঠিন, কারণ পড়ুয়া কম৷ ‘ট্রেন আছে স্যার’ বললে কোনও শিক্ষক ছেড়ে দিতেন৷ কেউ ধমকে বসিয়ে দিতেন, সেক্ষেত্রে ক্লাসে ঢোকা নেই৷ এরা নিম্নমেধার ছিল, এমনটা বলছি না৷ যেকোনও কারণেই হোক, মনোযোগী ছাত্র হতে পারেনি৷ আধখানা ছাত্র দিয়ে পূর্ণ শিক্ষক মেলে কি?
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত