Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

সুন্দরবনের বাঘ বিধবা কথা…

উজ্জ্বল সরদার

জুন ২৩, ২০২৬

Bagh Bidhaba
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Bagh Bidhaba)

‘আমরা বিধবা পল্লী দেখাই…’ সুন্দরবন ভ্রমণের জন্য এমন বিজ্ঞাপনী চমক প্রচার করে থাকেন ভ্রমণ সংস্থাগুলির কেউ কেউ। সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহতদের স্ত্রীরা ভ্রমণার্থীদের দ্রষ্টব্য হওয়া কি সত্যিই কোনও সুস্থ ভ্রমণ মানসিকতার দৃষ্টান্ত? পরিবারের একমাত্র রোজগেরে মানুষটা যখন জীবন-জীবিকার টানে জঙ্গলে গিয়ে হঠাৎ বাঘের শিকার হয়ে, ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ হয়ে গ্রামে ফেরে বা গহীন জঙ্গলেই হারিয়ে যায়, তখন তাঁর অসহায় স্ত্রীর মাথায় যে বজ্রাঘাত হয়, আর তার পরবর্তীতে যে বিধবা নারী নিজেই শোককে দূরে ঠেলে নিজের পরিবারের জন্য নতুন জীবন যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে যান, তা কি ভ্রমণপিপাসু মানুষের দর্শনীয় হতে পারে?


আরও পড়ুন: সাহিত্য ও বিজ্ঞানের বিরল সাধক


সুন্দরবনের জঙ্গলজীবী মানুষদের কাছে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু সাধারণ ঘটনা বলে তাঁরা নিজেরাই মেনে নিয়েছেন। একইসঙ্গে কুমির ও কামটের (একধরনের হাঙর) আক্রমণে মৃত্যু সুন্দরবনবাসীদের জন্য যেন অতিরিক্ত বরাদ্দ। এমন মৃত্যুর পর তাঁদের বিধবা স্ত্রী বা পরিবার পরিজনেরা প্রকৃত জীবন সংগ্রামে অবতীর্ণ হন।

সুন্দরবনাঞ্চলে বাঘের আক্রমণে নিহতের স্ত্রী-রা আজ ‘বাঘ বিধবা’ এই শব্দবন্ধে পরিচিত। সংখ্যার নিরিখে এই বাঘ বিধবারা কয়েক হাজার। প্রতি বছর গড়ে ১০ জন মহিলা এই এলাকার গ্রামগুলিতে ‘বাঘ বিধবা’ হন। এখানকার গ্রামের মানুষরা স্বামী-স্ত্রীতে মিলে জঙ্গল লাগোয়া নদী, খাল, খাঁড়িতে মাছ, কাঁকড়া ধরার জন্য যান।

Bagh Bidhaba
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে নিহতদের স্ত্রীরা ভ্রমণার্থীদের দ্রষ্টব্য হওয়া কি সত্যিই কোনও সুস্থ ভ্রমণ মানসিকতার দৃষ্টান্ত?

সুন্দরবনের গ্রামজীবন প্রতিনিয়ত প্রকৃতির উপর যেমন নির্ভরশীল, তেমনই পরিবর্তনশীলও। ২০০৯ সালে সুন্দরবনের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আয়লা ঝড়। সেদিনেই ভিটেমাটি ছাড়া হতে হয়েছিল অগণিত অসহায় মানুষকে। যাঁরা গ্রামে রয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের পরিবারের পুরুষরা চলে গিয়েছিলেন দূর দেশে কাজের সন্ধানে। আবার ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির প্রাদুর্ভাবে তাঁরা প্রায় সকলেই ফিরে আসতে বাধ্য হন সুন্দরবনে।

এই ফেরার আগে থেকেই তাঁদের পরিচিতি হতে থাকে ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ শব্দবন্ধে। ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই পেটের টানে পুরুষদের যেতে হয় সুন্দরবনের জঙ্গলে; মাছ, কাঁকড়া ধরে একটু সচ্ছল সংসার চালানোর আশায়। আর, ঠিক তখন থেকেই আবার সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলির মহিলাদের নামের তালিকা যুক্ত হতে থাকে ‘বাঘ বিধবা’ তালিকায়। এই সংযোজনের সঠিক পরিসংখ্যান মেলেনি আজও।

Bagh Bidhaba
বনবিবির পুজো হয় সুন্দরবনে

বাঘের আক্রমণে স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবাদের জীবনযুদ্ধ এক কঠিন কঠোর রুক্ষতার উপর দাঁড়িয়ে। ২০০৯ সালের ২৫শে মে আয়লা, ২০১৯ সালের ৯ই নভেম্বর বুলবুল, ২০২০ সালের ২০ই মে আমফান, ২০২১ সালের মে মাসে ইয়াসের মতো পরপর ঝড়ে তছনছ হয়েছে সুন্দরবন।

বাঘের আক্রমণে নিহতের বিধবা স্ত্রী ও নাবালক সাবালক সন্তানরা আবার পরিবারের পেশা ধরে রাখতে জঙ্গল জীবনেই ফিরে যান। পরে তাঁরাও একই দুর্ঘটনার শিকার হন। আসলে পরিবারের রোজগেরে মানুষের হঠাৎ বিয়োগের পর নিজেদের বাঁচার তাগিদেই তারা যুদ্ধের ময়দানে হাজির হতে বাধ্য।

২০২০ সালের কোভিডও যুক্ত হয়েছিল কঠিন বাস্তবতা নিয়ে। আসলে রোজগারের জন্য বারবার মানুষ ছুটে যায় মৃত্যুর মুখের কাছে। যদিও ভিন্নমত আছে, সচ্ছলতা থাকলেও, মাছ, কাঁকড়া ধরার লোভে ছুটে গিয়ে বাঘের আক্রমণের মুখোমুখি হয় অনেকেই। সুন্দরবনের বাঘ কেন মানুষকে আক্রমণ করে, বা সুন্দরবনের গ্রামের মানুষ কেন বাঘের আক্রমণের সম্মুখীন হয়, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা দিনে দিনে এগিয়েছে। কিন্তু, সবকিছুর পরেও সুন্দরবনের বাঘ বিধবাদের কঠিন লড়াইয়ের অবসান হয়নি আজও।

Bagh Bidhaba
স্বামীর মৃত্যুর পর স্ত্রীদেরও যেতে হয় জীবিকার্জনে

সুন্দরবন জঙ্গলের মধ্যে কেবলমাত্র বাফার জোনের সামান্য অংশে মাছ, কাঁকড়া ধরার বৈধ অনুমতি থাকলেও, জঙ্গলজীবী মানুষের পক্ষে তা মেনে চলা ভীষণ কঠিন। আরও বেশি বেশি মাছ, কাঁকড়া পাওয়ার আশায় যখন তাঁরা বাঘের ডেরার দিকে এগিয়ে যান, তখনই ঘটে বিপদ। বাঘের আক্রমণে নিহতের দেহ কিছু ক্ষেত্রে উদ্ধার হলেও, কিছু ক্ষেত্রে সেই দেহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে গ্রামের অন্যান্য মহিলারা মিলে, নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করে। তারপর বিধবা মহিলাকে আচার-প্রথা মেনে নেওয়ার জন্য সহযোগিতা করেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, বাঘের আক্রমণে নিহতের বিধবা স্ত্রী ও নাবালক সাবালক সন্তানরা আবার পরিবারের পেশা ধরে রাখতে জঙ্গল জীবনেই ফিরে যান। পরে তাঁরাও একই দুর্ঘটনার শিকার হন। আসলে পরিবারের রোজগেরে মানুষের হঠাৎ বিয়োগের পর নিজেদের বাঁচার তাগিদেই তারা যুদ্ধের ময়দানে হাজির হতে বাধ্য। তবে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারানো মানুষদের নিয়ে যে টানাপোড়েন চলে, তা-ও জঙ্গলজীবী মানুষদের কাছে ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক।

Bagh Bidhaba
বাঘের আক্রমণে স্বামীর মৃত্যুতে অসহায় হয়ে পড়ে একটা গোটা পরিবার

সুন্দরবনের গ্রামের ক্ষেত্রে আগে এমন সামাজিক মানসিকতা প্রায়ই দেখা যেত— যাঁর স্বামী বাঘের আক্রমণে নিহত, সেই মহিলাকেই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী করা হত। স্বামী জঙ্গলে যাওয়ার আগে ও জঙ্গলে ঘোরার সময় সেই মহিলা নিশ্চয় কিছু অমঙ্গলসূচক কাজকর্ম করেছেন, তার দরুণ তাঁর স্বামীকে জঙ্গলে প্রাণ হারাতে হল। এই অপবাদ ছিল বাঘ বিধবাদের জন্য বরাদ্দ। আবার যে মহিলার বাবা-স্বামী-পুত্র সকলেই বাঘের আক্রমণে নিহত, তাঁকে চরম অপয়া-অমঙ্গলা হিসাবে গ্রামীণ সমাজ চিহ্নিত করে দিত। প্রায়শই দেখা গেছে, গ্রামীণ সালিশি সভায় বাঘ বিধবাকেই দোষী সাব্যস্ত করে কখনও আর্থিক জরিমানা, কখনও জমি হাতিয়ে নেওয়া, আবার কখনও গ্রামছাড়া করার মতো ঘটনাও ঘটেছে।

যাঁরা কাগজ ছাড়া বা বৈধ অনুমতিপত্র না নিয়েই জঙ্গলে যান, ও বাঘের আক্রমণের শিকার হন, তাঁদের আত্মীয়স্বজন তাঁর মৃত্যুর পর এক অপরাধচক্রের ভাগীদার হয়ে যান। 

বিধবারা পারিবারিক যে হিংসার শিকার হন, তাও বহু ক্ষেত্রে কেবল চাপা থেকে যায়। রাতের অন্ধকারে নিজের ঘরে গুমরে কেঁদে চোখের জলে দিন গুজরান করেন প্রত্যন্ত গ্রামের বাঘ বিধবা মহিলারা। সুন্দরবনের গ্রামীণ সমাজ মেনেই চলত, বাঘের আক্রমণে অল্পবয়সি যুবকের মৃত্যু মানেই, তার সম্পূর্ণ দায় মৃতের অল্পবয়সি স্ত্রীর। যদিও বর্তমান সময়ে এই ধারণার অনেকটাই পরিবর্তন ঘটেছে। অল্পবয়সি বিধবারা গ্রামের মহাজন, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের কুদৃষ্টির শিকার হয়েছেন বহু ক্ষেত্রেই। আবার, বন্ধুবেশে দুর্জন বা দালালের খপ্পরে পড়ে পাচারও হয়ে গিয়েছে অনেকেই। দেশের বিভিন্ন অন্ধকার জগতে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে তাঁদের। 

Bagh Bidhaba
বাঘ বিধবারা কখনও কখনও অপবাদেরও শিকার হন

সুন্দরবন লাগোয়া গ্রামগুলির যেসব মানুষ সরকারি অনুমতি নিয়ে জঙ্গলে যান, বাঘের আক্রমণে মৃত্যু হলে তাঁদের আত্মীয়দের ময়নাতদন্ত থেকে দাহকাজের ব্যাপারে নানা ঝক্কি পোয়াতে হয়। আবার যাঁরা কাগজ ছাড়া বা বৈধ অনুমতিপত্র না নিয়েই জঙ্গলে যান, ও বাঘের আক্রমণের শিকার হন, তাঁদের আত্মীয়স্বজন তাঁর মৃত্যুর পর এক অপরাধচক্রের ভাগীদার হয়ে যান। 

এ এক আশ্চর্য জগত। এখানে ‘মরা দেহ’কেও আইনের আওতায় এনে দোষীসাব্যস্ত করা হয়। বাঘের আক্রমণে নিহতের স্ত্রীদের প্রাপ্য সরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয় নথিপত্র না দিয়ে, দিনের পর দিন হেনস্থা করা হয়। বিধবাদের নাম দিয়ে গ্রামের ভোট সংখ্যা বাড়ানো, ত্রাণ সংখ্যা বাড়ানোর ব্যাপারে রাজনৈতিক নেতারা বেশ সক্রিয় থেকেছেন প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে।

Bagh Bidhaba
সরকারি সাহায্য বা ক্ষতিপূরণ পেতেও সমস্যা হয় অনেকসময়

সরকারিভাবে বাঘের আক্রমণে মৃত্যু পরবর্তী ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিদার তাঁর বিধবা স্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বন বিভাগের ২০১৮ সালের ২৯ শে অক্টোবরের আদেশনামায় স্পষ্ট নির্দেশ আছে বন্যপ্রাণী দ্বারা নিহতের নিকট আত্মীয়কে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়ে। কিন্তু এই প্রকল্পের বাস্তবতা এখানে যেন অধরা। যদিও এই বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন আর গুটিকয়েক সামাজিক সংগঠন নিয়মিত অসহায় বিধবাদের পাশে আছে। 

বিধবা কাঞ্চন রপ্তান স্বামীর মৃত্যুর পর কয়েক মাস এই বাড়িতে থাকলেও, পরবর্তী সময়ে ছোট ছেলেকে রেখেই চলে যায় অন্যত্র, সংসারের আশায়। শুরু করে আবার নতুন জীবন। বাঘ বিধবার পরিচয় লুকিয়ে বা মুছে ফেলে নতুন বউয়ের পরিচিতি নিয়ে নেয় সে নিজেই।

সুন্দরবনের বাঘ বিধবাদের জীবনের গল্পে বিস্তর ফারাক থাকলেও, মিল তাঁদের বৈধব্যে। গোসাবা ব্লকের সাতজেলিয়ার জেমসপুরের বাসিন্দা কুন্তলা সরকার। তিনি ও তাঁর শ্বাশুড়ি দুজনেই একই সংসারে বাঘ বিধবা। কুন্তলার স্বামী রথীন সরকার ও তাঁর বাবা নীরেন সরকার জঙ্গলে বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারান প্রায় এক দশকের ব্যবধানে। 

Bagh Bidhaba
বাঘ বিধবাদের জীবনের গল্পে বিস্তর ফারাক থাকলেও, মিল তাঁদের বৈধব্যে

আবার একই ব্লকের প্রান্তিক দ্বীপ কুমিরমারির বাসিন্দা কাঞ্চন রপ্তানের বয়স যখন ২৭ বছর, তখন তার ৩৩ বছর বয়সি স্বামী বাবুরাম রপ্তানের মৃত্যু হয় বাঘের আক্রমণে। মরিচঝাঁপি জঙ্গলের উল্টোদিকে নদীর পাড়েই ছোট্ট মাটির ঘর তাঁদের। জঙ্গলের বাঘ হিংস্রভাবে ডেকে উঠলে তাঁদের বাড়ি থেকেই স্পষ্ট শোনা যায়। তখন তাঁদের তিন বছর বয়সি ছোট ছেলেটাও জানে, সুন্দরবন জঙ্গলের বাঘ ডেকে উঠছে। কিন্তু সেই ছেলে জানতে পারেনি, বলা ভাল, ঠিক বুঝে উঠতে পারেনি যে, তার বাবার মৃত্যু হয়েছে এমনই এক বাঘের আক্রমণে।

বাবুরাম রপ্তানকে, ঝিলা জঙ্গলের চিলমারির খালে কাঁকড়া ধরার সময়ে পিছন দিক থেকে বাঘ এসে কামড় দেয়। বাবুরামের সঙ্গীদের তৎপরতায় তার দেহ ফিরিয়ে আনা গেলেও, তা ছিল প্রাণহীন। বিধবা কাঞ্চন রপ্তান স্বামীর মৃত্যুর পর কয়েক মাস এই বাড়িতে থাকলেও, পরবর্তী সময়ে ছোট ছেলেকে রেখেই চলে যায় অন্যত্র, সংসারের আশায়। শুরু করে আবার নতুন জীবন। বাঘ বিধবার পরিচয় লুকিয়ে বা মুছে ফেলে নতুন বউয়ের পরিচিতি নিয়ে নেয় সে নিজেই।

Bagh Bidhaba
মরিচঝাঁপি জঙ্গলের উল্টোদিকে নদীর পাড়েই ছোট্ট মাটির ঘর তাঁদের

তাদের বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ওই কুমিরমারি দ্বীপের ২৫ বছর বয়সি অষ্টমী মণ্ডলও অসহায় বাঘ বিধবা। স্বামী হরিপদ মণ্ডল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন। লকডাউনে বাড়ি ফিরে কিছু উপার্জনের আশায় দাদাদের সঙ্গে জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ধরতে যান। ২০১৯ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ৩২ বছর বয়সি হরিপদ মণ্ডল বাঘের আক্রমণে নিহত হন। সেসময়েই তাঁর বিধবা স্ত্রী অষ্টমী মণ্ডল, স্বামীর হঠাৎ চলে যাওয়ার শোকে পাথর হয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় স্নায়বিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। আজও প্রায়ই অন্যের রান্নায় পেটটুকু ভরিয়ে দিন কাটিয়ে দেন অষ্টমী। এ সংগ্রাম যেন বাস্তবতার জীবন সংগ্রাম।

স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জেনেও, শাঁখা-পলা পরে সধবা জীবন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে দীর্ঘ কয়েক মাস পর তাঁকে বিধবা হওয়ার বিধান দেওয়া হয়। এও এক আশ্চর্য সুন্দরবন।

২০২১ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারি কুলতলির আদিবাসী পাড়ার অতুল বৈদ্যকে জঙ্গল থেকেই বাঘে তুলে নিয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অসহযোগিতার দরুণ তাঁর দেহ আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। সেসময়ে তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি বৈদ্য গ্রামীণ রাজনীতির চক্করে, স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের চক্ষুশূল হয়ে, স্বামীর মৃত্যুর নিশ্চয়তা পাননি দীর্ঘদিন। সেই সময় হাতের শাঁখা-পলা সবই ধারণ করে থাকতে হয়েছিল মাতব্বরদের নির্দেশে। দীর্ঘ দিন স্বামীর মৃত্যুর শংসাপত্র না পেয়ে, আর্থিকভাবেও নির্যাতনের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। স্বামীর মৃত্যু হয়েছে জেনেও, শাঁখা-পলা পরে সধবা জীবন কাটাতে হয়েছে তাঁকে। অবশেষে দীর্ঘ কয়েক মাস পর তাঁকে বিধবা হওয়ার বিধান দেওয়া হয়। এও এক আশ্চর্য সুন্দরবন।

Bagh Bidhaba
বাঘের ভয়ে বনবিবির পুজো হয় সুন্দরবনে

ওই একই দিনে বাসন্তী ব্লকের ঝড়খালির সৌমেন রায়ের মৃত্যু হয় বাঘের আক্রমণে। স্ত্রী কদম রায় সংসার চালানোর জন্য কয়েক মাস পরেই নিজে বাঘের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ধরতে চলে যেতেন, মেয়েকে ঘরে একলা রেখে। একদিকে ঘরে একলা রেখে আসা মেয়ে, আর অন্যদিকে সংসার চালানোর চিন্তা এসব নিয়েই জীবনযুদ্ধে আজও অটল বাঘ বিধবা কদম রায়।

আবার, কুলতলি ব্লকের জ্যোৎস্না শী বাঘের সঙ্গে লড়াই করে স্বামী শঙ্কর শী-র জীবন ফিরিয়ে এনে পরিচয় দিয়েছেন অসীম সাহসিকতার। বাস্তব জীবনে তাঁর আরেকটি দৃষ্টান্তমূলক কাজ রয়েছে। বড় মেয়ে বিনোদা-র স্বামী বাঘের আক্রমণে প্রাণ হারালে, জ্যোৎস্না শী-ই তাঁর আবার বিয়ে দেন, গ্রামের মাতব্বরদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে। বাঘ বিধবাদের নতুনভাবে বাঁচার এ এক অনন্য নজির।

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of উজ্জ্বল সরদার

উজ্জ্বল সরদার

সংগ্ৰাহক ও সুন্দরবন বিষয়ক গবেষক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।
Picture of উজ্জ্বল সরদার

উজ্জ্বল সরদার

সংগ্ৰাহক ও সুন্দরবন বিষয়ক গবেষক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

মোহনা মজুমদার
বিতস্তা ঘোষাল
ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়

সংস্কৃতি

আহার

শমিতা হালদার
অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

দেবার্চন চ্যাটার্জি
নির্মাল্য চ্যাটার্জি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com