বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রমের মধ্যে সেতুবন্ধন এক নাতনির

বৃদ্ধাশ্রম ও অনাথ আশ্রমের মধ্যে সেতুবন্ধন এক নাতনির

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp
ananya

১৬ বছরের প্রাণবন্ত চঞ্চল কিশোরী অনন্যা গ্রোভার| দাদু -ঠাকুমা‚ মা-বাবাকে নিয়ে ভালই দিন কাটছিল তার| কিন্তু গত বছর হঠাৎই কর্কট রোগে আক্রান্ত হয়ে ঠাকুমাকে হারান এই কিশোরী| স্ত্রীর মৃত্যু সহ্য করতে না পেরে এক বছরের মাথায় অনন্যার দাদুরও মৃত্যু হয় | 

ঠাকুমার মৃত্যুর পর পরিবারের সবাই অনন্যার দাদুর সঙ্গে আগের থেকেও বেশি সময় কাটানোর চেষ্টা করতেন| কিন্তু তা-ও উনি একাকিত্বে ভুগতেন| সব সময় মন খারাপ ঘিরে থাকত তাঁকে| কিছুই চোখ এড়ায়নি অন্যন্যার| অনন্যার কথায় ‘দাদুর জন্য আমরা ছিলাম কিন্তু তা সত্ত্বেও দাদুর একলা লাগত| আমার মনে প্রশ্ন জাগে এমন তো অনেকেই আছেন যাঁদের পরিবার নেই‚ তাঁরা তা হলে কতটাই না নিঃসঙ্গতায় ভোগেন|’ 

অনন্যা বুঝতে পারে ঠাকুমাকে হারানোর পর দাদু বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য খুঁজে পাচ্ছিলেন না‚ এবং যখন কারওর জীবন উদ্দেশ্যহীন হয়ে যায় সে আর বেঁচে থাকতে চায় না|

বন্ধুদের সঙ্গে এই নিয়ে অনেক আলোচনা হয় অনন্যার| বহু আলোচনার পর সবাই ঠিক করে এমন একটা কিছু করতে হবে যাতে বয়স্করা বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য না হারিয়ে ফেলেন| অনেক ভাবনা চিন্তার পর অনন্যা‚ অনুষ্কা‚ আরীফা‚ বনশিখা এবং বসুধা নয়ডার অ্যামিটি ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের এই পাঁচ জন কিশোরী মিলে এমন একটা অ্যাপ বের করেছে যাতে বৃদ্ধাশ্রমের বয়স্ক ব্যক্তি ও অনাথ বাচ্চাদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায়|

এই অ্যাপের প্রধান উদ্দেশ্য দুই একাকী ব্যক্তির মধ্যে বন্ধুত্ব স্থাপন করা। তাই অ্যাপটার নাম ও রাখা হয়েছে ‘মৈত্রী’| এই নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনন্যা বলে ‘বয়স্ক ব্যক্তিরা একাকিত্বে ভোগেন অন্য দিকে অনাথ শিশুরাও বাবা-মায়ের ভালবাসা পায় না| ‘

চলতি বছরের মার্চ মাসে রিসার্চ আরম্ভ করে ওই পাঁচ কিশোরী| ১৪০ জনের ও বেশি বৃদ্ধবৃদ্ধা ও অনাথ আশ্রমের বাচ্চাদের সঙ্গে কথা বলে ওরা| জুলাই মাসে অ্যাপটি লঞ্চ করা হয়| অনন্যা জানিয়েছেন এর মধ্যেই হাজারের ও বেশি সংখ্যক ডাউনলোড করা হয়েছে এই অ্যাপ| এই মুহুর্তে দিল্লির ও তার আশপাশের বৃদ্ধাশ্রম এবং অনাথ আশ্রমের সঙ্গে কাজ করছে ওরা| কিন্তু ভবিষ্যতে সারা দেশের বৃদ্ধাশ্রম ও আনাথ আশ্রমের মধ্যে সেতু গড়ার পরিকল্পনা আছে ওদের|

তিন ধরনের ইউজার আছে এই অ্যাপের| স্বেচ্ছাসেবকেরা এই অ্যাপের মাধ্যমে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন| কোনও ব্যক্তি আবার অর্থ দিয়েও সাহায্য করতে পারেন| এ ছাড়াও অনাথ আশ্রম ও বৃদ্ধাশ্রমের কর্তৃপক্ষের মধ্যেও যোগযাগ থাকবে এই অ্যাপের মাধ্যমে|

Tags

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin
Share on whatsapp

Leave a Reply