(Loudspeaker)
১
তারপর, সেই অষ্টমীর সন্ধেয় আমার মনে হল, এই গান আসলে দৈববাণী। না হলে এই মুহূর্তেই কেন বেজে উঠলেন সুবীর সেন! কেন এই গানটাই! কেন ঠিক সেই গানকে নেপথ্যে রেখেই ভিড় থেকে বেরিয়ে এল গোলাপি সালোয়ারের ওই মেয়েটি! আমাকে নাম ধরে ডাকল! কীভাবে ছাতিমের গন্ধে মোড়ানো এক গলির আটপৌরে আলো থেকে অন্য গলিতে হাঁটতে হাঁটতে আমি ঠিক ওই গলিতেই এসে দাঁড়ালাম! আসলে তো আমাকে টেনে আনলেন সুবীর সেন-ই। নানা প্রান্তের মাইকের টানে যেদিকে খুশিই আমি চলে যেতে পারতাম, কিন্তু এলাম কোথায়! এসব দৈব ইচ্ছে ছাড়া হয়!
আরও পড়ুন: পর্যটকের উচ্ছিষ্ট, নিসর্গের ভূত এবং একটা প্রহেলিকা
কৈশোরের সন্ধিপুজোয় আমার বারোটা বাজিয়ে ছেড়েছিল ওই মাইক। “সারাদিন তোমায় ভেবে/ হল না আমার কোনো কাজ”…যার কথা ভাবতে ভাবতে হাঁটছি, সেই গান আমাকে এক্কেবারে সটান তার সামনে নিয়ে গিয়ে ফেলল! আমার মনে হল, এসবই পূর্বনির্ধারিত আয়োজন। এই সাক্ষাৎ নিশ্চয়ই আমার ভাগ্যে লেখা ছিল। না হলে অত ভিড়ের মধ্যে ও আমাকে দেখতে পেল কেন! কথাই বা বলতে এল কেন! আমি না হয় লজ্জায় তিন-চারটে কথার বেশি এগোতে পারিনি, বলা ভাল, পালিয়ে বেঁচেছি। কিন্তু ও তো নিশ্চয়ই আমার কথা ভাবছে, অন্তত কয়েক মিনিটের জন্য হলেও। সেই ভাবাটা কি কোনও সাধারণ ব্যাপার! অলীক নয়? আশ্চর্য নয়? কারণ ছাড়াই মাইকে এমনি এমনি ওই গান বেজে উঠল! ভারি দোটানায় পড়ে গেলাম। একদিকে সিপিএম বাড়ির সন্তান। ‘বর্ণহিন্দু’ হলেও নাস্তিক তো! তাছাড়া করিম-মামার চেলা হয়ে বুঝেছি, ওসব ভাগ্য, নিয়তি, গ্রহ-নক্ষত্র-ঈশ্বর সব ভুয়ো। এদিকে সেই গর্বের বিশ্বাসই টলিয়ে দিচ্ছে অন্য বিশ্বাস। যার সূত্র ধরে এমন টলোমলো দশা, সেও পদবিতে বিশ্বাস।

তারপর যা হয় আর কী। অনেক বিশ্বাসই ভাঙে। এই নতুন বিশ্বাসও আমাকে ত্যাগ করল একদিন। বিরহপর্ব কাটিয়ে বেশ কিছুদিন পরে মনে পড়েছিল, সেদিন যুব পরিষদের পুজোয় কিশোর বাজছিল মাইকে— “তোমার বাড়ির সামনে দিয়ে আমার মরণ-যাত্রা যেদিন যাবে”। আমি সেই অপাপবিদ্ধ, চিরায়ত গান ছেড়ে কেন যে কলতলার সুবীর সেনে মজে গেলাম! যুব পরিষদ তো আমার পাড়ার পুজো, তায় আবার কলতলার থেকে ঢের বড়ও। পাড়ার মাইক আমাকে ভবিষ্যতের গূঢ় ইঙ্গিত দিয়েছিল। আমি বোকা ও অন্ধ, তাই বুঝিনি। সেই থেকে ঘোরতর শিক্ষে হল, মাইককে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা পাপ। কোনও মাইক বন্ধু, কোনও মাইক শুভেন্দু। মানে কোনও মাইক নিরীহ অমায়িক, আবার কোনও মাইক ক্ষমতার। বাজারে দেবব্রত বিশ্বাস থেকে ‘লায়লা ও লায়লা’ সবই আছে, থাকবেও। তোমাকে বেছে নিতে হবে, তুমি কোন মাইকের পক্ষে। তবে হ্যাঁ, পক্ষ কিন্তু তোমায় নিতেই হবে। না হলে আর কীসের বাঙালি! ছ্যাহ্!
মাইকের মর্জি মাঝেসাঝে সুইং করে চলে যেত বাম থেকে অতি বামে, কখনও বা তীর্যক দক্ষিণী ঝোঁকে। সেসব আমরা বুঝতাম স্ট্রিট কর্নারের সামনে জড়ো হওয়া আর ছেতরে যাওয়া ভিড় দেখে। আমরা ভিড়কে যেভাবে বুঝতাম, ভিড় কি আর আমাদের সেভাবে বুঝত!
২
বিপ্লবী বামেদের পক্ষে থাকা ভোম্বলদার হ্যান্ড-মাইকের রং ছিল মেটে সবুজ। মোটামুটি ফুট সাতেক উঁচুতে টাঙিয়ে দেগে দিলে পঞ্চাশ-ষাট গজ জায়গা জুড়ে মাইকের আওয়াজ গোঁত্তা খেত। খানিক জড়ানো, তোবড়ানো। তাই আমরা থেমে-থেমে, কেটে-কেটে বলা অভ্যেস করেছিলাম। তাতেও নানা বিপর্যাস ঘটেই যেত। মাইকের মর্জি মাঝেসাঝে সুইং করে চলে যেত বাম থেকে অতি বামে, কখনও বা তীর্যক দক্ষিণী ঝোঁকে। সেসব আমরা বুঝতাম স্ট্রিট কর্নারের সামনে জড়ো হওয়া আর ছেতরে যাওয়া ভিড় দেখে। আমরা ভিড়কে যেভাবে বুঝতাম, ভিড় কি আর আমাদের সেভাবে বুঝত! আমরা অবশ্য চেষ্টায় কোনও খামতি রাখিনি।

ভিড় পাতলা হতে না হতেই বক্তার গলা বদলে যেত। ‘বন্ধুগণ, যত দূর আমাদের আওয়াজ পৌঁছচ্ছে, তত দূর…’ যেন প্রাণপণ এক করে আদর্শের জ্যাভলিন ছোঁড়া হচ্ছে। কিন্তু কমরেড ভোম্বলদার সবুজ রুগ্ন মাইক সেই অগ্নিবাণীর ভার বইতে পারত না। বেশিরভাগ কথাই, অতএব, আমাদের পিচ রাস্তা-মঞ্চের আশপাশেই হুমড়ি খেয়ে পড়ত। খানিক এদিক ওদিক ড্রপ খেয়ে লাফিয়ে উঠত দু-একটা শব্দ, গানের ফুলকি। গান হলে লোকজনও জড়ো হত খানিক। ভোম্বলদা সাইকেলে হেলান দিয়ে ঢুলত। কোনও আগুনখেকো বক্তব্যই ভোম্বলদাকে বেশিক্ষণ জাগিয়ে রাখতে পারেনি।
মিছিল হলে ভোম্বলদা ওই সাইকেলেই বাক্সসমেত মাইক চাপিয়ে সামনে সামনে হাঁটত। মিছিলে গণ্ডগোল হোক, পুলিশ ঝামেলা দিক, ভোম্বলদা কোনওদিন মাইক নিয়ে পালায়নি। হলদেটে হয়ে আসা জামা, পেতে আঁচড়ানো সাদাকালো-তামাটে চুল, রোগা লিকলিকে, সামনের খান তিনেক দাঁত নেই।
কলেজস্ট্রিট চত্বরে মাইক ভাড়া দিত সুশান্তদা আর ভোম্বলদা। শুধু কলেজস্ট্রিট নয় অবশ্য, সূর্য সেন স্ট্রিট, বঙ্কিম চ্যাটার্জি স্ট্রিট মায় মাঝেমধ্যে শিয়ালদা বা বউবাজার অবধিও। সবাই জানত, ভোম্বলদা বিপ্লবী বামেদের পক্ষ। কফি হাউজের উল্টোদিকে স্ট্রিট কর্নার হোক বা কলেজ স্কোয়ারে প্রতিবাদসভা, ভোম্বলদার বাংলা সাইকেলে চেপে আসত পিঁড়ি সাইজের কালো সাউন্ডবক্স, সঙ্গে ছোট মাইক। মিছিল হলে ভোম্বলদা ওই সাইকেলেই বাক্সসমেত মাইক চাপিয়ে সামনে সামনে হাঁটত। মিছিলে গণ্ডগোল হোক, পুলিশ ঝামেলা দিক, ভোম্বলদা কোনওদিন মাইক নিয়ে পালায়নি। হলদেটে হয়ে আসা জামা, পেতে আঁচড়ানো সাদাকালো-তামাটে চুল, রোগা লিকলিকে, সামনের খান তিনেক দাঁত নেই। স্ট্রিট কর্নার বা মিছিল শেষে ভোম্বলদা মাইকের ভাড়া বললে একেকজন একেকটা সংখ্যা শুনত। ভোম্বলদা বিরক্তও হত স্বাভাবিকভাবেই।
প্রসিত বলেছিল, ভোম্বলদার প্রতিটা মাইক আসলে একেকটা ভোম্বলদা। ভোম্বলদার প্রতিটা মাইকেরই নিজস্ব ল্যাদ আছে, অনিচ্ছা আছে, সামনের দাঁত না থাকায় মতপ্রকাশের অনিবার্য অস্পষ্টতা আছে। প্রসিতের থিওরি ছিল, নকশাল হোক বা তৃতীয় ধারা, কলকাত্তাইয়া বাম আন্দোলন আসলে ভোম্বলদার মাইকেই আটকে। এই বাঁধন টুটে বিপুলপ্রসারী হওয়ার সাধ্য তার নেই। এদিকে ভোম্বলদা কমরেড, তাঁকে সরিয়ে রাখাও যাবে না। অকাট্য মার্ক্সীয় দ্বন্দ্ব যাকে বলে। প্রসিত বেশ দার্শনিক মানুষ, আমাদের বিশ্বাস ছিল ও একদিন খুব নাম করবে। কিন্তু ওই যে, আগেই বললাম, বিশ্বাস সতত ভঙ্গুর। তবে, কিছু-কিছু বিশ্বাস ভাঙলে খুব কষ্ট হয়, এটাই যা।

ভোম্বলদা বিপ্লবী বামেদের পক্ষ, কিন্তু বড় কাজ নিকটে এলে প্রকৃত বিপ্লবীরা উড়ে সুশান্তদার কাছে চলে যেত। সুশান্তদার শ্রেণিচরিত্র গোলমেলে। কানাঘুষো শুনি, সুশান্তদা সরেস ধান্দাবাজ। এলাকার সিপিএম ও নব্য তৃণমূল, সবাইকেই তেলিয়ে চলে। তাঁর মাইকের কালেকশনও হেব্বি, সঙ্গে মাউথপিসের মাউথে প্রয়োজনমতো লাল-সবুজ স্পঞ্জ লাগানো। ভোম্বলদার স্টকে তো ওসব নেই। তাই ভোম্বলদার ভাগে পড়ত খুব বেশি হলে মহাবোধি বা স্টুডেন্টস হলের কনভেনশন। কিন্তু ইউনিভার্সিটি ইনস্টিটিউট বা প্রেসিডেন্সির ডিরোজিওতে অনুষ্ঠান হলেই সুশান্তদার গামা গামা বক্স আসবে, মাইক বসবে। আমরা জানতাম, সুশান্তদার মাইক-ভাঁড়ার না থাকলে কলকাতা কল্লোলিনী তিলোত্তমা হত না। কিছুতেই না। ভোটের মাস দুয়েক আগে কলেজস্ট্রিটে সিপিএম মাচা বেঁধেছে, শ্রদ্ধানন্দ পার্কের সামনে অবধি সারি সারি মাইক। সব সুশান্তদার। সেসব দেখে অভিদা বললেন, আমাদেরও এসব দেখে শেখা উচিত। এক-আধটা মাইক লাগিয়ে কিছু হবে না। লোককে শোনাতে গেলে আমাদেরও অন্তত পঞ্চাশটা মাইক ঠেসে দিতে হবে। সেইমতো পরিকল্পনা, বাজেট। তারপর চাঁদা গুনে ঠিক হল, সেই ভাল, পাঁচটা মাইকই যথেষ্ট। চাহিদার এক দশমাংশ প্রাপ্তিও তো কম নয়। আমরা তো এগোচ্ছি। ঠিক পথেই নিশ্চিত। সবাই যখন বলছে…
কার্তিক ভাল পেটো বাঁধত। সেই পেটোই এক দরে কিনত নকশাল আর যুব কংগ্রেস। একদিন দুপক্ষের সমুখ সমরে কংগ্রেসের ছোঁড়া পেটো এক নকশাল যুবকের বুকে লেগেও ফাটল না। কিন্তু সে পালটা পেটো ছোঁড়ায় তা ফেটে কংগ্রেসিরা ছত্রখান হয়ে গেল।
কল্লোলদা পেটো কার্তিকের গল্প বলেছিল। কার্তিক ভাল পেটো বাঁধত। সেই পেটোই এক দরে কিনত নকশাল আর যুব কংগ্রেস। একদিন দুপক্ষের সমুখ সমরে কংগ্রেসের ছোঁড়া পেটো এক নকশাল যুবকের বুকে লেগেও ফাটল না। কিন্তু সে পালটা পেটো ছোঁড়ায় তা ফেটে কংগ্রেসিরা ছত্রখান হয়ে গেল। সেই থেকে বাজারে রটে গেল, কার্তিক আসলে মনেপ্রাণে নকশাল। না হলে ওর পেটো কংগ্রেসি হাতে ফাটে না, আর নকশাল হাতে ফাটে কেন!
সেবারের ভোট মেটার পর আমরাও বুঝে গেলাম, সুশান্তদাও আসলে মনেপ্রাণে পরিবর্তনপন্থী। ছুপা তৃণমূল। না হলে সিপিএম একশোটা মাইক লাগিয়ে যা পারল না, সেদিনের কচি তৃণমূল সুশান্তদার থেকে খান তিরিশেক মাইক ভাড়া নিয়েই তা করে ফেলল! সুশান্তদাকে সে কথা বলতেই যেন টলটলে কালো জলে পূর্ণিমার চাঁদ উথলে পড়ল। বলল, ‘দিদির সভায় আমিই মাইক দিলাম। সঙ্গে প্রোজেকটর। মাইকে সবুজ রঙে নাম্বারিং করে দিয়েছি। লাল দেখলে যদি খচে যায়…’

ঠিকই। রং বড় গোলমেলে ব্যাপার। এর আগে লাল চেয়ার-সবুজ চেয়ার অবধি দেখেছি। কিন্তু মাইকেও আলাদা আলাদা রঙে মার্কিং-এর বিষয়টা সুশান্তদারই আমদানি। সিপিএম ভুলক্রমে ফিরে এলেও চাপ হত না, একটা লাল-লট রেডিই ছিল। অবশ্য আমাদের তাতে কী! আমরা তখন পাঁচটা থেকে ফের একটা মাইকে এসে গেছি। সরকার বদলে গেল। সুশান্তদার মাইক রং বদলাল। তাদের রেটও বাড়ল। আর, আমাদের হাতে পড়ে রইল মন্ত্রগুপ্তির পেনসিল। কী যে চাই, তা কিছুতেই লোককে স্পষ্টাস্পষ্টি বুঝতে দেব না। বুঝলেই সবটা বাজারি হয়ে যাবে।
অতএব, আমরা ফের ভোম্বলদার কাছে ফিরে গেলাম। ভোম্বলদার মাইকবিশ্ব তখনও অপরিবর্তনীয়। সেখানে কোনও বদল নেই। আসতেও পারে না। সেই একই রং, সেই একই তেজ। দু-একটা পথসভায় সামান্য বাজিয়েই বুঝলাম, মাইকের গলায় কফ বসেছে। তবে হ্যাঁ, সেই ঘড়ঘড়ে মাইক ফুঁকলে আগের থেকে বেশি লোক জড়ো হচ্ছে। কেন কে জানে! মাইকের থেকেও জনতার মন বোঝা আরও বেশি কঠিন। মাইক যা বলে আর জনতা যা শোনে, তার ভাগশেষ বের করলে যে কী হবে!
সরকার বদলালে মাইকের আওয়াজ বদলায়। অনেকের মতো মাইকও পালটি খায়। কিন্তু, ওই যে, কোনও এক ব্রাহ্মমুহূর্তে সে ক্ষমতার অন্ত্যমিল ঘেঁটে দিতে পারে। আজ যে মাইক শাসকের, কাল সেই হয়তো শাসককে তাক করে ব্রহ্মাস্ত্র ছুড়বে।
আমাদের পাড়ায় রবীন্দ্র-নজরুল সন্ধ্যা শুরুর আগে বুম্বাদার মাইকে একবার নজরুলগীতির মাঝে বেজে উঠেছিল ‘তু চিজ বড়ি হ্যায় মস্ত মস্ত’। পাড়ার জ্যেঠুকাকুরা বুম্বাদাকে প্রায় মারতে উঠলে বুম্বাদা করজোড়ে বলেছিল, ‘মাইরি বলছি জ্যেঠু, নজরুলের ক্যাসেটই ঢুকিয়েছিলাম। কিন্তু মাঝেমধ্যে লটে অমন দু-একপিস চলে আসে।’

মাঝে মাঝে মনে হয়, মাইক মাত্রেই এমন হাড় বজ্জাত। ওই লটের মাঝে লুটিয়ে থাকা দু-একপিস অন্তর্ঘাত আসলে সব পক্ষের মাইকেই আছে! ঘাপটি মেরে তারা অপেক্ষা করছে ঠিক সময়ের। সরকার বদলালে মাইকের আওয়াজ বদলায়। অনেকের মতো মাইকও পালটি খায়। কিন্তু, ওই যে, কোনও এক ব্রাহ্মমুহূর্তে সে ক্ষমতার অন্ত্যমিল ঘেঁটে দিতে পারে। আজ যে মাইক শাসকের, কাল সেই হয়তো শাসককে তাক করে ব্রহ্মাস্ত্র ছুড়বে।
আমি, অনেকের মতোই ঠেকে শিখেছি, মাইক খুবই বিপজ্জনক। মাইককে বিশ্বাস করতে নেই। কিছুতেই না।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত