(Mughal-E-Azam)
‘মুঘল-এ-আজম’ মুক্তির পরপরই দর্শকমহলে এক মজার বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল। ছবির সংলাপে বারবার ব্যবহৃত ‘তাখলিয়া’ (যার অর্থ ঘর থেকে অন্যদের বেরিয়ে যাওয়ার আনুরোধ) শব্দটা সাধারণ মানুষের কানে ‘তাকিয়া’ (বালিশ) মনে হচ্ছিল। ছবি নির্মাণের সময় অনেকেরই আশঙ্কা ছিল যে, উর্দু ভাষার এত উচ্চাঙ্গের শব্দ ব্যবহার করলে তা সাধারণ দর্শকের মাথার ওপর দিয়ে যাবে। কিন্তু বহু চড়াই উতরাই পেরিয়ে আসা পরিচালক, কে আসিফ জানতেন তাঁর সৃষ্টির শক্তি কোথায়। পরিচালকের আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়। মধুবালার অপার্থিব সৌন্দর্য এবং পৃথ্বীরাজ কাপুরের রাজকীয় উপস্থিতি। নওশাদের সুর, শাকিল বদায়ুনির লেখনীতে কালজয়ী শব্দচয়ন। সুবিশাল সেট, জমকালো পোশাকের মহিমা। হাতি, ঘোড়া, উট এতসব একসঙ্গে পেয়ে, দর্শক ভাষার জটিলতা ভুলে ছবির নান্দনিকতায় মুগ্ধ হয়েছিল।
ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে মুঘল-এ-আজম শুধুমাত্র একটা প্রেম কাহিনির কল্পদৃশ্য বলা যায় না। বরং এই ছবি সময়ের বুক চিরে উঠে আসা এক দীর্ঘশ্বাস, যার নির্মাণের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে নায়ক-নায়িকা-পরিচালকের বাস্তব প্রেমের অভিজ্ঞতা।
আরও পড়ুন: দেশভাগ, মধুবালা ও মুঘল-এ-আজম
পরিচালক কে আসিফ তাঁর এই ছবিকে একাধারে এক ঐতিহাসিক প্রেমকাহিনির এবং দৃশ্যমান এক কবিতার সফল নির্মাণ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। যেখানে প্রেম হবে বিদ্রোহ, যা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়তে শেখাবে। বিদ্রোহই হবে শিল্পের চূড়ান্ত ভাষা। প্রায় দেড় দশকের কঠোর শ্রমে সত্যিই তিনি ব্যক্তিগত সাধনার সার্থক রূপ দিয়েছিলেন। তবে ছবির প্রকৃত রহস্য হল অভিনেতাদের বাস্তব জীবনের সম্পর্কের প্রতিফলন, বিশেষ করে দিলীপ কুমার (সেলিম) এবং মধুবালার (আনারকলি) অসমাপ্ত প্রেম। ইতিহাসের পাতায় এই প্রেম নীরব থাকলেও, সিনেমার পর্দায় অনেক বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে।

পরিচালক রাম দারিয়ানির সিনেমা ‘তারানা'(১৯৫১)-য় দিলীপ কুমার এবং মধুবালা প্রথম পর্দায় জুটি বাঁধেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে দিলীপ কুমারের প্রতি মধুবালা প্রথম আকৃষ্ট হন। সেই প্রেম ‘মুঘল-এ-আজম’-এর শুটিং সেটে এতটাই পূর্ণতা পায় যে, দু’জনেই বিয়ে করে তাঁদের সম্পর্ককে চিরস্থায়ী রূপদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সিনেমায় তাঁদের সেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের রসায়ন আবেগপূর্ণ দৃশ্যগুলোতে স্পষ্টভাবে ধরা দেয়।
কিন্তু এই প্রেমের রোম্যান্টিকতার সঙ্গে ছিল এক চরম দ্বন্দ্ব। সিনেমাতে যেমন সম্রাট আকবর প্রেমের বিরোধী ছিলেন, বাস্তবেও মধুবালার বাবা আতাউল্লাহ খান তাঁর মেয়ের সঙ্গে দিলীপ কুমারের এই সম্পর্কের ঘোর বিরোধী ছিলেন। কারণ তিনি মেয়ের উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল পিতা হিসেবে এই সম্পর্ক বাস্তবে রূপ নিক, সেটা চাইতেন না।
১৯৫৬ সালের সেই কোর্ট কেস, শুধুমাত্র একটা আইনি লড়াই ছিল না, ছিল ভালবাসার এক ঐতিহাসিক দলিল। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দিলীপ কুমার সেদিন স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি মধুবালার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন— এই স্বীকারোক্তি হঠাৎ করেই সেদিনের আদালত কক্ষে শুষ্ক বাতাসে আবেগের উষ্ণতা এনে দেয়।
ঐতিহাসিকভাবে সেলিম অর্থাৎ জাহাঙ্গীর এবং আনারকলির প্রেমের সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, সিনেমায় সেই কিংবদন্তিকে এমনভাবে রূপ দেওয়া হয়েছে, যা দর্শকদের কাছে ইতিহাসের চেয়েও বেশি সত্যি বলে মনে হয়েছে। কারণ এখানে তথ্যের চেয়ে অনুভূতি অনেক বড় আকার ধারণ করে। কে আসিফ জানতেন, নায়ক নায়িকার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা। তিনি নিঃশব্দে এই তীব্র আবেগ ও বিরহকে সিনেমার প্রয়োজনে ব্যবহার করেছেন, এবং সেই কেমিস্ট্রি ছবিকে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। ‘মুঘল-এ-আজম’ প্রমাণ করে, প্রেম কখনও শুধু দু’জন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। সেই সম্পর্ক হয়ে ওঠে সময়, সমাজ এবং শিল্পের বিরুদ্ধে এক নীরব বিদ্রোহ।

ঘটনার সূত্রপাত একেবারেই সাধারণ। প্রযোজক-পরিচালক বি আর চোপড়া তাঁর ‘নয়া দৌড়’ ছবির জন্য আউটডোর শুটিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে নায়ক দিলীপ কুমারের বিপরীতে নায়িকা হিসেবে মধুবালাকে চুক্তিবদ্ধ করেন। কিন্তু আতাউল্লাহ খান মেয়েকে আউটডোর শুটিং-এ কিছুতেই যেতে দিলেন না। তাঁর ভয় মেয়ে চোখের আড়ালে হলে তাঁদের সম্পর্ক বিয়েতে গড়াতে পারে। ফলে শুটিং আটকে গেল। তারপরের ঘটনা আর সিনেমার শুটিং ফ্লোরে আটকে ছিল না। শুটিংয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে বি আর চোপড়া মধুবালার বিরুদ্ধে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। একজন অভিনেত্রী নিজের অজান্তেই মাত্র কয়েক মুহূর্তে হয়ে উঠলেন আসামী। সময় গড়াতেই আদালত ধীরে ধীরে রূপ নেয় এক রঙ্গমঞ্চের।
একদিন সেই মঞ্চে প্রবেশ করেন দিলীপ কুমার। তিনি শুধু একজন অভিনেতা নন, তিনি এই গল্পের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। আদালতের কাঠগড়ায় তাঁর পরিচয় দ্বিধাবিভক্ত— একদিকে তিনি পেশাদার শিল্পী, অন্যদিকে একনিষ্ঠ প্রেমিক। আদালতের সেই মুহূর্তগুলো কল্পনা করলে আজও সারা শরীরে শিহরণ জাগে। ১৯৫৬ সালের সেই কোর্ট কেস, শুধুমাত্র একটা আইনি লড়াই ছিল না, ছিল ভালবাসার এক ঐতিহাসিক দলিল। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে দিলীপ কুমার সেদিন স্বীকার করেছিলেন যে, তিনি মধুবালার প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন— এই স্বীকারোক্তি হঠাৎ করেই সেদিনের আদালত কক্ষে শুষ্ক বাতাসে আবেগের উষ্ণতা এনে দেয়।
কিন্তু পর মুহূর্তেই সেই উষ্ণতা ঠান্ডা হয়ে যায়। যখন তিনি পেশার পক্ষে দাঁড়ান, তখন তাঁদের প্রেম পরাজিত না হয়ে, পরিস্থিতির চাপে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে যায়। এক অংশ থেকে যায় নিজেদের হৃদয়ে, আরেক অংশ বাঁধা পড়ে যুক্তির অক্ষরে। ভালবাসার গভীর অন্তস্থল থেকে তাঁদের দুজনের কাছে সম্পর্কের এই নতুন মোড়, মন থেকে মেনে নেওয়াটা খুব সহজ ছিল না। কিন্তু সেটা এমন সময়ের কথা, যখন ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত কখনও একার হত না। পরিবার, সমাজ, দায়িত্ব সব মিলিয়ে মানুষকে ঘিরে রাখত এক অদৃশ্য বৃত্ত। দিলীপ কুমার-মধুবালা দু’জনেই সেই বৃত্তের ভিতরেই ছিলেন। তাঁরা দু’জনেই আলাদা আলাদা সীমাবদ্ধতার মধ্যে দাঁড়িয়ে একই দিকে তাকিয়েছিলেন, কিন্তু কেউই আর লক্ষ্যের দিকে এগোতে পারেননি।

দিলীপ কুমারের ‘The Substance and the Shadow’ বইয়ে যখন এই কোর্ট কেসের প্রসঙ্গ আসে, তখন তাঁর ভাষা যেন আরও সংযত। কে ঠিক, কে ভুল সেই প্রসঙ্গে একটা শব্দও ব্যবহার না করে শুধু বুঝিয়েছেন, সেদিন তিনি তাঁর কর্তব্য পালন করেছিলেন। তাঁর কলমে মধুবালাকে এক ‘প্রাণবন্ত, উচ্ছ্বল এবং আকর্ষণীয়’ মানুষ হিসেবে বর্ণনা করে, তাঁর প্রতি সম্মান অটুট রেখেছেন। কোথাও কোনও তিক্ততার ছোঁয়া নেই। বরং আছে এক জটিল মানবিক বাস্তবতা, যেখানে মানুষ একইসঙ্গে ভালবাসে, আঘাত পায়, আবার দায়িত্বও পালন করে। এ এক অদ্ভুত পরিণতি, যেখানে একে অন্যের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে গভীর সম্পর্ককে চিরবিদায় জানায়।
১৯৬৯ সালে, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হৃদরোগে মধুবালা–র মৃত্যু হয়। তখন বছর তিনেক হল দিলীপ কুমার সায়রা বানুর সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু মধুবালার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাঁর জীবনের আনারকলির প্রতি ভালবাসা কোনওভাবে লুকোনোর চেষ্টা করেননি। বরং সর্বসমক্ষে তিনি সেদিন শিশুর মতো কেঁদেছিলেন।
আদালতের রায় শেষ পর্যন্ত প্রযোজকের পক্ষে যায়। আইন সর্বদা তার নিজস্ব শীতল, নিরপেক্ষ, নির্লিপ্ত পথে চলে। কিন্তু সেদিনের সেই রায়ের বাইরেও থেকে যায় কিছু প্রশ্ন, কিছু অপূর্ণতা। এই ঘটনার পর দিলীপ কুমার-মধুবালার সম্পর্ক আর আগের জায়গায় ফেরেনি। তবুও তারা একসঙ্গে মুঘল-এ-আজম ছবির কাজ শেষ করেন। প্রেম ভাঙার পরও বাগানের দৃশ্যগুলোতে (যেখানে কাঁটার গোলাপের দৃশ্যটি বিখ্যাত) তাদের বাস্তব বিরহ ফুটে ওঠে, যা পরিচালক আসিফ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি করেন।
ছবির সেইসব দৃশ্যে ওঁদের দু’জনের একসঙ্গে কাজ করাটাই যেন সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি, তখন সেখানে শুধুই অভিনয় ছিল, ব্যক্তিগত আর কোনও অভিপ্রায় ছিল না। হয়তো সেই কারণেই, যখন পর্দায় আনারকলি ভালবাসার ঘোষণা করে তখন সেই কথাগুলো আর সংলাপ বলে মনে হয় না। মনে হয়, ইতিহাসের কোনও এক আদালত কক্ষে উচ্চারিত এক অসম্পূর্ণ ভালবাসার প্রতিধ্বনি। এক প্রতিভাময়ী মেয়ের জীবনে গভীর আঘাত হেনে এক স্বার্থপর বাবার পরিকল্পনা সফল হলেও, তা ছিল ক্ষণস্থায়ী।

১৯৬৯ সালে, মাত্র ৩৬ বছর বয়সে হৃদরোগে মধুবালা–র মৃত্যু হয়। তখন বছর তিনেক হল দিলীপ কুমার সায়রা বানুর সঙ্গে ঘর বেঁধেছেন। কিন্তু মধুবালার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাঁর জীবনের আনারকলির প্রতি ভালবাসা কোনওভাবে লুকোনোর চেষ্টা করেননি। বরং সর্বসমক্ষে তিনি সেদিন শিশুর মতো কেঁদেছিলেন।
সিনেমার ইতিহাসে না বলা এমন কিছু গল্প থাকে, যা কোনওদিন ক্যামেরার সামনে আসে না। অথচ সে সব গল্প অদৃশ্য ছায়ার মতো ছুটে বেড়ায়। মুঘল-এ-আজম নির্মাণ পর্বে এমনই আর এক গল্প গড়ে উঠেছিল, যার কেন্দ্রে ছিলেন তিনজন— পরিচালক কে আসিফ, নায়ক দিলীপ কুমার এবং তাঁর বোন আখতার।
মুঘল-এ-আজম-এর শুটিং চলাকালীন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক হয় অভিনেত্রী নিগার সুলতানার। আসিফ তাঁর আগের স্ত্রী গায়িকা-অভিনেত্রী সিতারা দেবীকে তালাক দিয়ে সেই নিগার সুলতানাকে বিয়ে করেন। সিতারা দেবীর আগেও আসিফের আরও এক স্ত্রী বর্তমান ছিলেন। যিনি আসিফের ছয় সন্তানের জননী। দিলীপ কুমারের বোন আখতার হলেন আসিফের চতুর্থ স্ত্রী।
কে আসিফ এমন একজন পরিচালক, যিনি তাঁর স্বপ্নের ছবিকে বাস্তব করার জন্য সময়, অর্থ, এমনকি ব্যক্তিগত সম্পর্ককেও তুচ্ছ করেছিলেন। তাঁর জীবনে সম্পর্কগুলোও অনেকটা তাঁর সিনেমার মতো তীব্র, আবেগপূর্ণ, কিন্তু বেশিরভাগই অসম্পূর্ণ।
মুঘল-এ-আজম-এর প্রস্তুতি পর্ব থেকেই আসিফ করিম এবং মহম্মদ ইউসুফ খান (দিলীপ কুমার) ভাইয়ের বাড়িতে যাতায়াতের মাধ্যমে পারিবারিক ঘনিষ্ঠতা হয়। সেই সুবাদে তিনি বিয়ে করেন দিলীপ কুমারের বোন আখতার কে। আপাতদৃষ্টিতে এটা সাধারণ পারিবারিক ঘটনা বলে মনে হলেও তার প্রতিধ্বনি ছিল সম্পর্কের অনেক গভীরে। এই বিয়েকে ঘিরে নানা গল্প প্রচলিত থাকলেও, ইতিহাসের নথি খুঁজলে সেখানে অস্বস্তি এবং নীরবতা ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায় না। তার প্রধান কারণ আসিফ করিম আখতারকে বিয়ে করার আগে আরও তিন-তিনটে বিয়ে করেছিলেন।

মুঘল-এ-আজম-এর শুটিং চলাকালীন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক হয় অভিনেত্রী নিগার সুলতানার। আসিফ তাঁর আগের স্ত্রী গায়িকা-অভিনেত্রী সিতারা দেবীকে তালাক দিয়ে সেই নিগার সুলতানাকে বিয়ে করেন। সিতারা দেবীর আগেও আসিফের আরও এক স্ত্রী বর্তমান ছিলেন। যিনি আসিফের ছয় সন্তানের জননী। দিলীপ কুমারের বোন আখতার হলেন আসিফের চতুর্থ স্ত্রী। যেটা ইউসুফ ভাই কিছুতেই মন থেকে মেনে নিতে পারেননি।
এত কিছুর পরেও দিলীপ কুমার এই ঘটনাকে কখনও প্রকাশ্যে প্রাধান্য দেননি। তাঁর আত্মজীবনীতেও এই প্রসঙ্গ খুব সংযতভাবে এসেছে। সেখানে কারুর বিরুদ্ধে কোনও তীব্র অভিযোগ নেই, নেই কোনও নাটকীয় বিচ্ছেদের ঘোষণা, বরং একধরনের সংযম আছে, যা মনের ভিতরের অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। ব্যক্তিগত এই সম্পর্কের ফাটল তাঁদের পেশাগত সম্পর্কে সামান্য ছায়া ফেলেছিল, যার একমাত্র প্রতিফলন “মুঘল-এ-আজম”এর প্রিমিয়ারে দিলীপ কুমারের ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিতি।
দিলীপ কুমার-মধুবালা একে অপরের সঙ্গে কথা না বলেও অসাধারণ অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন, সে কারণেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেমের সাক্ষী মুঘল-এ-আজম।
আসলে সবসময় সব সম্পর্ক উচ্চস্বরে ভাঙে না। কিছু বিশেষ মানুষের নির্দিষ্ট সময়ে নিঃশব্দে সম্পর্ক ভাঙে। সেক্ষেত্রে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, কথা কমে গিয়ে নীরবতাই হয়ে ওঠে সেই সম্পর্কের নতুন ভাষা। কে আসিফ ও দিলীপ কুমারের মধ্যেও ঠিক তেমনই এক দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলে, বিভিন্ন সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া যায়। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, এই ব্যক্তিগত অস্বস্তি তাঁদের ছবির কাজে কোথাও প্রতিফলিত হয়নি। এ যেন এক অদ্ভুত সমীকরণ, একদিকে ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভাঙন, আর অন্যদিকে পেশাগত সম্পর্কের স্থায়িত্ব। এই সিনেমা নির্মাণের শেষভাগে দিলীপ কুমার-মধুবালা একে অপরের সঙ্গে কথা না বলেও অসাধারণ অভিনয় উপহার দিয়েছিলেন, সে কারণেই ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রেমের সাক্ষী মুঘল-এ-আজম।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত