(Nabadwip Clay Doll)
চৈত্র অবসানের প্রাক্কালে প্রখর রোদ শেষে, বিকেলের বাতাসে ঠাণ্ডা হওয়ার স্রোত খেলা করে যায়। সারিবদ্ধ সুপুরি ও নারকেল গাছের ছায়ায় বসে, শেষ মুহূর্তে তুলির টান দিয়ে চলেন মৃৎশিল্পী শংকর শীল। বাংলার লোকজ মাটির পুতুল মূলত বছরের দুটি সময় তৈরি হয়। প্রথমটি রথযাত্রা এবং দ্বিতীয়টি চড়কের মেলা উপলক্ষ্যে। বাংলার অকৃত্রিম সাংস্কৃতিক পরম্পরার পূর্ণ রূপ প্রস্ফুটিত হয় চড়কের সময়। নদীয়া জেলার ঐতিহ্যবাহী শহর নবদ্বীপে একাধিক চড়কের মেলা বসে। সেই উপলক্ষ্যেই নবদ্বীপের ঘোষপাড়া দু’নম্বর গৌরাঙ্গ কলোনিতে নিজের বাড়ির উঠোনে বসে প্রতি বছরের মতো এ বছরও মাটির পুতুল তৈরি করেছেন মৃৎশিল্পী শংকর শীল। প্রায় ১৮ রকমের পুতুলের বিপুল সম্ভারে ভরে গিয়েছে তাঁর অপ্রশস্ত ঘর।
২৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে রথযাত্রা এবং চড়ক উপলক্ষে মাটির পুতুল তৈরি করেন শংকর শীল। বছরের অন্য সময় উত্তরপ্রদেশে প্রতিমা তৈরির কাজে ব্যস্ত থাকলেও, চড়কের কয়েক মাস আগে ফিরে আসেন পিতৃভূমি নবদ্বীপে। এ বছর প্রায় ৫০০টি মাটির পুতুল তৈরি করেছেন। ছোটবেলায় স্কুল থেকে পালিয়ে ছুটে যেতেন পটুয়া পাড়াতে। মন দিয়ে নিরীক্ষণ করতেন মৃৎশিল্পীদের প্রতিমা তৈরির কৌশল। সেখান থেকেই পুতুল এবং প্রতিমা তৈরির কৌশল শেখেন। তাঁর পুতুল নির্মাণে জড়িয়ে আছে জীবন, প্রকৃতি ও সমাজের এক বিশাল অনুভূতি। তাঁর কারুকার্যমণ্ডিত ঘুঘু পাখির সরল নান্দনিক আকর্ষণ শিশুমনকে আজও আন্দোলিত করে।
আরও পড়ুন: বরিশালের শ্রীঘটের শিল্পসুষমা বাংলার গর্ব
হাতির পিঠে বোমা হাতে, সৈন্য পুতুল, ঘাগড়া চেলি পরা রাজস্থানি বধূ, হাঁস, মাছ, উড়ন্ত বক, সিংহ, খরগোশ, আবক্ষ মহাদেব, আলপনার শৈলিতে কারুকার্যমণ্ডিত হাতি আজও চড়কের মেলা আলো করে থাকে। পুতুল তৈরিতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাঁকে সাহায্য করেন। মা সবিতা শীল পূর্ণরূপে পুত্র শংকর শীলকে পুতুল তৈরিতে অনুপ্রেরণা জোগান। তিনি নিজেও চড়কের সময় মাটির পুতুলের পসরা নিয়ে মেলায় বসেন। চড়কের মেলা উপলক্ষ্যে নবদ্বীপের ঝাপানতলা এবং মুকুন্দপুরে পুতুলের পসরা সাজিয়ে বসেন শিল্পীর পরিবার। মাত্র ১০ টাকা থেকে পুতুলের দাম শুরু হয়। চাহিদা আগের মতোই।

শিল্পী শংকর শীল আগে বঁটি দিয়ে মাছ কাটা বৌ পুতুল, ঘাড় নাড়া বুড়ো পুতুল, বন্দুক হাতে বুকে ভর দিয়ে এগিয়ে চলা সৈনিক পুতুল, শকুন্তলা পুতুল, হরিণ ও পুলিশ পুতুল তৈরি করতেন। বর্তমানে ছাঁচ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সেগুলো আর তৈরি করা হয় না। তাঁর প্রতিটি পুতুলই পোড়ামাটির। প্রতিটিই দুই খোল ছাঁচের তৈরি। চড়ক উপলক্ষ্যে প্রতি বছর মাঘ মাস থেকে পুতুল তৈরির কাজ শুরু হয়। বংশপরম্পরায় পটুয়া না হয়েও শিল্পের প্রতি ভালবাসা থেকেই, পুতুল ও প্রতিমা তৈরিতে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছেন মৃৎশিল্পী শংকর শীল।

নবদ্বীপে আজও যে ক’জন শিল্পী প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও, পুতুল তৈরির শিল্পধারাকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের অন্যতম চটির মাঠের কমলা মোদক। প্রায় পঞ্চাশ বছর ধরে মাটির পুতুল বানিয়ে আসছেন। তাঁর তৈরি প্রতিটা পুতুলই কাঁচা মাটির। পিতা বিনয় কুমার মোদকের কাছে মাটির পুতুল তৈরির কাজ শিখেছিলেন তিনি এবং তার ভাই গৌরাঙ্গ মোদক। এক সময় প্রায় পঞ্চাশ রকমের পুতুল তৈরি করতেন। কিন্তু চাহিদা কমে যাওয়ায় সেই সংখ্যাও কমে গিয়েছে।

তাঁর তৈরি মাটির গর্জনরত বাঘ, ময়ূর, টিয়া পাখি, হাঁস, বিড়াল, কুকুর পুতুল আজও শিশুমনকে আন্দোলিত করে। এছাড়াও, তাঁর বর-বউ পুতুলে স্বতন্ত্র শৈলি লক্ষ্য করা যায়। বর পুতুলের মাথায় সোনালি রঙের মুকুট ও পরনে হলুদ রঙের পাঞ্জাবি তাঁর নিজস্ব শৈলির স্বাক্ষর বহন করে। কমলা মোদকের উল্লেখযোগ্য পুতুল হাতির পিঠে বসা সৈন্য। নীল রঙা হাতির উপর সাদা রঙের আলপনা করা। হাতির পিঠে যে সৈন্য পুতুলটি বসে রয়েছে, তার মাথায় লাল টুপি। গায়ে সবুজ পাঞ্জাবি ও হলুদ ধুতি। পিঠে ধনুক ও হাতে বল্লম। এই পুতুলের মাথায় যে টুপিটি রয়েছে, সেটি ইউরোপীয় শৈলির।

কমলা দেবীর আরও কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পুতুল হল ব্যান্ড পার্টি এবং নৌকায় বসা মাঝি। তাঁর ব্যান্ড পার্টি পুতুলের মাথায় লাল-সবুজ রাঙা পাগড়ি। কপালে টিপ। পরনে লাল হলুদ জামা। এবারও পোড়ামা তলার রথের মেলায় পুতুল নিয়ে বসবেন। হয়তো এই আশাতেই বসবেন যে, বহু মানুষ তাঁর পুতুল কিনবে। চড়ক উপলক্ষ্যে তাঁর পুতুলের সম্ভার দেখতে পাওয়া যায় বুড়োশিবতলায় এবং ঝাপানতলায়।

শ্রীবাস অঙ্গন গঙ্গার ঘাটের কাছে, পারিবারিক পরম্পরা বজায় রেখে মাটির পুতুল তৈরি করেন বছর পঁয়ষট্টির শিল্পী নিমাই পাল। পিতা ভোলানাথ পালের কাছে মাটির পুতুল তৈরি শিখেছিলেন। সেটাকে পাথেয় করে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে, দাঁড়িয়েও আজও ২৫-৩০ রকমের মাটির পুতুল তৈরি করে চলেছেন। তাঁর প্রতিটা পুতুলই পোড়ামাটির। উল্লেখযোগ্য পুতুলগুলি হল সখী, বর-বউ, কলসী হাতে সখী, কৃষক, সবজিওয়ালা, পুলিশ। এ ছাড়াও তিনি তৈরি করেন টিয়া, ময়ূর, সিংহ, গরু, গাছের ডালে বসে থাকা টিয়া, হনুমান, কুকুর, হাতি, হাতে বেলুন নিয়ে বসে থাকা মেয়ে পুতুল। তাঁর পুতুল শৈলির উল্লেখযোগ্য দিক হল ঘাড় নাড়া বুড়ো পুতুলের মাথায় তিলক দেওয়া।

কৃষক পুতুলের গলায় কালো সুতো দিয়ে বাঁধা মাদুলি এবং পরনে থাকা ধুতির প্রতিটি ভাঁজ সুস্পষ্ট। নির্মেদ শরীর। বউ পুতুলের মাথায় সোনালি রঙের মুকুট। নিমাইবাবুর কথায় অবশ্য আক্ষেপের সুর। পরবর্তী প্রজন্ম এই কাজ আর শিখতে চাইছে না। দুই ছেলে টোটো চালায়। মেয়েদের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। আগে তাঁর পুতুল পাইকারি দরে বিক্রি হত। কিন্তু এখন আর সেই দরে দেওয়ার ক্ষমতা নেই। তিনি মনে করেন, নবদ্বীপে এখন ফাইবারের তৈরি মূর্তির চাহিদা সর্বাধিক। সেখানে মাটির পুতুলের চাহিদা নেই বললেই চলে। তাঁর প্রতিটি পুতুলের উচ্চতা ৩-৫ ইঞ্চি। তাঁর আক্ষেপ, কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণি যেমন প্রচারের আলো পেয়েছে, তার একটুও পায়নি নবদ্বীপের মাটির পুতুল শিল্প। তবে, সেই আক্ষেপ নিয়েও প্রতি বছর ভাড়া করা ভ্যান রিক্সায় পুতুলগুলি বসিয়ে নিজের বাড়ি থেকে চড়কের মেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

অভয়মা তলার পালবাড়ির মৃৎশিল্পী সুভাষ পাল মনে করেন, পুতুল তৈরির কাজ শিখে সংসার চালানো কষ্টকর। পাশাপাশি শিল্পীকে ধৈর্যশীল হতে হবে। নবদ্বীপের রাস যে হারে জনপ্রিয়, সে জনপ্রিয়তা পুতুল শিল্পে নেই। সুভাষবাবুর তৈরি উল্লেখযোগ্য পুতুলগুলির মধ্যে হল চিন্তামণি, ঘাড় বুড়োর দাদু, গরু, পাখি, বেড়াল, বাঘ, বর-বউ, টিয়া, ঘোড়া, খরগোশ। প্রায় ৩০ বছর ধরে মাটির পুতুল তৈরি করে চলেছেন তিনি।

পিতা নারায়ণ চন্দ্র পালের কাছ থেকে পুতুল তৈরির কাজ শিখেছিলেন। এমনকি সুভাষবাবুর মা ঊষারানি পাল সক্রিয়ভাবে পুতুল তৈরি করে চলেছেন। এ বছর নীল পুজো ও চড়কের সময়ে তিনি নবদ্বীপের বুড়ো শিবতলা মন্দির সংলগ্ন এলাকায় বসেছিলেন। পুতুল তৈরির পাশাপাশি তিনি দেবপ্রতিমা তৈরি করেন। তাঁর তৈরি উল্লেখযোগ্য প্রতিমাগুলি হল হামা গোপাল, ধামেশ্বর মহাপ্রভু, দালানি গোপাল, মা গঙ্গা, শিব। একটা পুতুল তৈরি করতে কমবেশি এক ঘণ্টা সময় লাগে।

আগে পুলিশ ও সখী পুতুল তৈরি করতেন। তার তৈরি পুতুল এবং প্রতিমা নবদ্বীপের পাশাপাশি সমুদ্রগড়, অম্বিকা কালনা, বেথুয়াডহরিতেও যায়। তাঁর পুতুল শৈলির উল্লেখযোগ্য দিক, ঘোড়া এবং খরগোশ পুতুলের মধ্যে আলপনা করা। তাঁর তৈরি ঘাড় নাড়া বুড়ো দাদু পুতুল ভুঁড়িওলা। এবারের রথে তিনি বসবেন পোড়ামাতলা এবং মণিপুর রাজবাড়ির সামনে।

নবদ্বীপের দণ্ডপানিতলার বর্ষীয়ান মৃৎশিল্পী জগন্নাথ পালের কথায়, নবদ্বীপের মাটির পুতুলের চাহিদা একশো ভাগ থেকে এক ভাগে এসে ঠেকেছে। এক সময় তিনি প্রায় ২০০ রকমের পুতুল তৈরি করতেন। বর্তমানে গঙ্গা পুজো, রথ, ঝুলন, চড়ক উপলক্ষ্যে পুতুল তৈরি করে থাকেন। চাহিদা কমে যাওয়ায় পুলিশ, শ্রমিক এবং কৃষক পুতুল তৈরি আর করেন না। এই শিল্পে আর অর্থ উপার্জনের আশা নেই। কেবলমাত্র পারিবারিক এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য, তিনি আজও পুতুল তৈরি করে চলেছেন।

জগন্নাথ পালের তৈরি উল্লেখযোগ্য পুতুল হল মাথায় পাগড়ি পরা ব্যান্ডপার্টি, এয়ার ইন্ডিয়ার মহারাজ, হরিণ, বাড়ি, ফল, খরগোশ, বন্দুক হাতে বুকে ভর দিয়ে এগিয়ে চলা সৈন্য, মোটরসাইকেলে বসা সখী, ময়ূর। তাঁর তৈরি আধ্যাত্মিক বা প্রতিমাগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল জগন্নাথ দেবকে জড়িয়ে থাকা মহাপ্রভু, মাথায় বিশাল মুকুট গায়ে উত্তরীয় থাকা জগন্নাথ সুভদ্রা বলভদ্র, হামাগোপাল এবং রাধা কৃষ্ণ।

নবদ্বীপ পুতুল শিল্প ক্রমাগত অবলুপ্তির দিকে চলে যাচ্ছে। এর সবথেকে বড় প্রমাণ গোবিন্দ বাড়ি এলাকা। এখানকার বর্ষীয়ান মৃৎশিল্পী গোপাল পাল প্রায় চার দশক ধরে মাটির পুতুল তৈরি করে চলেছেন। কিন্তু এ বছর তিনি দেবপ্রতিমার মধ্যে জগন্নাথ সুভদ্রা বলভদ্র তৈরি করেছেন। অন্যদিকে মাটির পুতুলের মধ্যে কেবল ঘাড় নাড়া বুড়ো পুতুলই তৈরি করতে পেরেছেন। বয়সজনিত অসুস্থতা এবং চাহিদা কম থাকায় এ বছর কেবলমাত্র এক ধরনের পুতুলই তৈরি করেছেন এই শিল্পী।
নবদ্বীপের বুড়ো শিবতলা এলাকার গোপাল দত্ত প্রায় কুড়ি রকমেরও বেশি মাটির পুতুল তৈরি করে থাকেন। তাঁর তৈরি পুতুল কৃষ্ণনগরেও গিয়েছে। উল্লেখযোগ্য পুতুলগুলি হল সখী, মেম পুতুল এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মহারাজ। প্রতিটা পুতুলই পোড়ামাটির।

নবদ্বীপের প্রাচীন মায়াপুর, ফাঁসিতলা ঘাট, কাপালি পাড়া পটুয়াপাড়ায় মাটির পুতুল তৈরি হলেও চাহিদার অভাবে বর্তমানে তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এখানে কেবল মাটির প্রতিমা তৈরি হয়। কাপালি পাড়ার মৃৎশিল্পী সঞ্জয় পাল জানিয়েছেন, তাঁর দাদু বিপুল পরিমাণে মাটির পুতুল তৈরি করত রথ ও চড়কের সময়। পুতুলের ছাঁচগুলো রয়েছে। কিন্তু চাহিদার অভাবে আর করা হয়ে ওঠে না।

উল্লেখ্য, মাটির পুতুলের মধ্যে বাঙালি জাতির আবেগ এবং ভালবাসা মিশে রয়েছে। বাঙালি জাতির মরমি সত্ত্বা প্রস্ফুটিত হয়েছে মাটির পুতুলে। একটা সময় রথ ও চড়কের মেলাতে পুতুল সংগ্রহ করা ছিল বাঙালর স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু কালের বিবর্তনে, বিশ্বায়নের বাজারে বাঙালির পুতুল চর্চা ক্রমাগত বিলুপ্তির দিকে চলে যাচ্ছে। এর সব থেকে বড় উদাহরণ নদীয়ার ঐতিহ্যশালী জনপদ নবদ্বীপ। কয়েক দশক আগেও মকর সংক্রান্তি, শিবরাত্রি, চড়ক, রথযাত্রায় মাটির পুতুলের চাহিদা ব্যাপক হারে থাকত। নবদ্বীপের প্রায় প্রতিটি পটুয়াপাড়ায় পুতুল তৈরি হত। কিন্তু এখন মাত্র কয়েকজন শিল্পীই রয়েছেন, যারা নবদ্বীপের বুকে দাঁড়িয়ে মাটির পুতুল তৈরি করে চলেছেন। চাহিদা কম। প্লাস্টিকের দৌরাত্ম্যে বহু মৃৎশিল্পী মাটির পুতুল তৈরি করা বন্ধ করে দিয়েছেন।
বাংলার এই প্রাচীন শহরের পুতুল শিল্পকে পুরো মাত্রায় উজ্জীবিত করতে রাজ্যের সকল শ্রেণির মানুষের এগিয়ে আসা জরুরি। রথ ও চড়কে পুতুল কেনার যে রীতি বাঙালি পরিবারগুলিতে ছিল, সেই রীতি ফিরিয়ে আনাও দরকার। তবেই অক্সিজেন পাবে নবদ্বীপের মাটির পুতুল শিল্প।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্য়মে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত