Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

দেশভাগ ও ঋত্বিক ঘটকের সুবর্ণরেখা

বিজয়া দেব

মে ১৫, ২০২৬

Subarnarekha Film
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Subarnarekha Film)

দেশভাগ, ভারতবর্ষের জন্য এক অভিশাপ। সেই দেশভাগের যন্ত্রণা ক্ষতবিক্ষত করেছিল অনন্য প্রতিভাধর ঋত্বিক ঘটককে। ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘সুবর্ণরেখা’ ও ‘কোমল গান্ধার’-এ দেশভাগের প্রসঙ্গ এনেছেন তিনি। সারাজীবনে মাত্র আটটি ছবি করেছিলেন ঋত্বিক- ‘অযান্ত্রিক’ (১৯৫৮), ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’ (১৯৫৯), ‘মেঘে ঢাকা তারা’ (১৯৬০), ‘কোমল গান্ধার’ (১৯৬১), ‘সুবর্ণরেখা’ (১৯৬৫), ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ (১৯৭৩), ‘নাগরিক’ (১৯৭৭) আর ‘যুক্তি তক্কো আর গপ্পো’ (১৯৭৭)। এর মধ্যে দেশভাগ নিয়ে তিনটি ছবির মধ্যে থেকে ‘সুবর্ণরেখা’ কয়েকটি আঙ্গিকে বিশেষ আলোচনার দাবি রাখে।


আরও পড়ুন: “আমরা পারিব, যদি খুঁজি”: শতবর্ষে ঋত্বিক ঘটক


‘সুবর্ণরেখা’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে। মানুষের পুনর্বাসনের লড়াইয়ের পাশাপাশি সুবর্ণরেখা তার উদাসীন প্রকৃতি নিয়ে বয়ে চলেছে। প্রশ্ন জাগে, কেন ঋত্বিক এই চলচ্চিত্রের নাম সুবর্ণরেখা রাখলেন? নদীর উদাসীন প্রকৃতির সঙ্গে শরণার্থী মানুষের প্রতি পারিপার্শ্বিক ঔদাসীন্যের সাযুজ্য থাকার কারণে? নাকি নদীও এমনই অসহায়? তাকেও মানুষ অসদ্ব্যবহার করে নিজের স্বার্থে? ঈশ্বর চক্রবর্তী নামে এক শরণার্থী যুবকের পুনর্বাসন এবং পুনর্বাসিত জীবন থেকে ফের উৎখাত হওয়ার সময়ের সাক্ষী নদী সুবর্ণরেখা। এই জীবনযুদ্ধের দু’টি প্রান্তদেশের সঙ্গে জুড়ে আছে সে।

Subarnarekha Film
প্রশ্ন জাগে, কেন ঋত্বিক এই চলচ্চিত্রের নাম সুবর্ণরেখা রাখলেন?

‘সুবর্ণরেখা’ ছবিটির প্রেক্ষাপট ১৯৪৮ সালের ২৬শে জানুয়ারি, প্রজাতন্ত্র দিবস। চলচ্চিত্রটির শুরুতে তাই বলা হয়েছে। শরণার্থীরা কলকাতার খোলা জায়গা দখল করে কলোনি গড়ে তুলছে। প্রথম দৃশ্যেই দেখানো হচ্ছে শরণার্থীরা কলোনি স্থাপন করে ইশকুল প্রতিষ্ঠা করছে। পতাকা উত্তোলন করলেন যিনি, তিনি হবেন এই ইশকুলের শিক্ষক। তাঁর নাম হরপ্রসাদ, পড়াবেন সংস্কৃত ও বাংলা। আরেকজন শরণার্থীর নাম ঈশ্বর চক্রবর্তী, তিনি পড়াবেন ইতিহাস ও ইংরেজি।

এরপরই দেখা যাচ্ছে, কলোনিতে আশ্রয় খুঁজছে ঢাকা থেকে আসা বিধবা বাগদিবউ কৌশল্যা, সঙ্গে রয়েছে তার ছোট্ট ছেলে অভিরাম। তখনই জমিদারের গুণ্ডারা এসে তাঁকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে, কারণ এই কলোনিতে পাবনার মানুষকে ঠাঁই দেওয়া হয়েছে। কৌশল্যা বাগদি, অন্ত্যজ শ্রেণির। তাকে টেনে হিঁচড়ে ট্রাকের পেছনে তোলার ফলে সে তার ছোট্ট ছেলে অভিরামের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ল।

ওদিকে হরপ্রসাদ ছাত্রছাত্রীদের দেশভক্তির বাণী উচ্চারণ করাচ্ছেন। এদিকে কাঁদতে কাঁদতে গাড়ির পিছু পিছু ধাওয়া করছে অভিরাম। ছবির প্রথমেই মায়ের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল অভিরাম। এই মর্মান্তিক দৃশ্যের নিগূঢ় সংকেত যেন দর্শককে নাড়িয়ে দিয়ে যায়। এই মা কি দেশমাতৃকা? সন্তানের সঙ্গে তার বিচ্ছেদই হয়তো এই বিভাজিত দেশের একমাত্র নিয়তি।

Subarnarekha Film
‘সুবর্ণরেখা’ ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৬৫ সালে

ঋত্বিক জীবনকে দেখেছেন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে এবং অবশ্যই নেতিকে বেছে নিয়েছেন। ইতি নয়, নেতি, নাকি নেতি নেতি করতে করতে ইতিকেই হৃদয় দিয়ে চেয়েছিলেন তিনি? তাঁর ছবি একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে দর্শককে দগ্ধ করে দেয়, করে দেয় ছিন্নভিন্ন, বিক্ষত। জীবনের বাস্তবতাকে চোখে আঙুল দিয়ে এমনভাবে আর কেউ দেখাতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। বাঁচতে চায় সবাই, কিন্তু বাস্তবতার কাছে পরাভূত হয়, সত্যি হয়ে ওঠে মৃত্যু। মানুষের জীবনে চরম ও পরম সত্য মৃত্যু। কিন্তু এত মৃত্যু! দেশভাগের অভিশাপ থেকে কিছুতেই বেরিয়ে আসতে পারে না হরপ্রসাদ, বাগদিবউ কৌশল্যা, সীতা, অভিরাম এবং বাঁচতে বাঁচতে বাঁচার যুদ্ধে হেরে যাওয়া ঈশ্বর।

দু’টি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সীতা ও অভিরাম হয়ে যায় পরস্পরের খেলার সাথী। তবে পড়াশোনা করতে অভিরামকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতায় হস্টেলে। আর কণ্ঠ সুমধুর করতে সীতাকে, পড়াশোনা বাদ দিয়ে, গান শেখানো শুরু হয়।

ঈশ্বর ছিল ওপার বাংলার এক মেধাবী যুবক। ১৯৪৭ থেকে সেই বাংলা হয়ে গেল পাকিস্তান। সে মাটি তাকে ছাড়তে হয়েছে। একদিন কলকাতার পথেঘাটে যখন সে কাজ ও আশ্রয়ের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে, তখন এক গাড়ি তার পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে যায়। ভেতরে বসে আছে তাঁর একসময়ের সহপাঠী রামপ্রসাদ। সে সম্ভবত হিন্দিভাষী, ঈশ্বরকে সে গাড়িতে তুলে নেয়। এই রামপ্রসাদই তাঁকে ঘাটশিলা থেকে খানিকটা দূরের গ্রাম ছাতিমপুরে কাজের সন্ধান দেয়। জায়গাটি সুবর্ণরেখা নদীর তীরে। সেখানে রামপ্রসাদের একটি চালকল ও আরেকটি কারখানা রয়েছে। স্বল্প মাইনেতে সে খুঁজছে মিল দেখাশোনার একজন দক্ষ কর্মী। 

প্রথমে কাজ নিতে চায়নি ঈশ্বর। পরে অনন্যোপায় হয়ে সে সীতা ও অভিরামের হাত ধরে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে আসে। কাজে যোগ দেয়। দু’টি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সীতা ও অভিরাম হয়ে যায় পরস্পরের খেলার সাথী। তবে পড়াশোনা করতে অভিরামকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় কলকাতায় হস্টেলে। আর কণ্ঠ সুমধুর করতে সীতাকে, পড়াশোনা বাদ দিয়ে, গান শেখানো শুরু হয়।

Subarnarekha Film
অনন্যোপায় হয়ে সে সীতা ও অভিরামের হাত ধরে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে আসে

আবহযন্ত্রানুসঙ্গের সংকেতধর্মিতা প্রথমেই যেন অনেক কিছু বলে দেয়। সীতার নাম এবং গান শেখানোর শুরুতে ঘুঙুরের আওয়াজ, এবং কিছু কিছু সংলাপ বলে দেয় সীতার জীবনের অন্তিম পরিণতি কী হতে চলেছে। অনেক কথা, অনেক বিষয়, সমাজমানসের বিচিত্র দিক চলচ্চিত্রে এনে জড়ো করেন পরিচালক। মানুষ সবাই, কিন্তু মানবিকতার ভয়াবহ খামতি তাদের পরিপূর্ণ মানুষ হতে দিল না, যেন এই দুঃখকে হৃদয়ের গভীরে ধারণ করে রেখেছিলেন ঋত্বিক, তাঁর চলচ্চিত্রের অনুপুঙ্খে এই ব্যাপারটিই বারবার ঝলসে উঠতে দেখা যায়।

সীতাকে যখন ভুলিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মিলের লোক, তখন ছোট্ট মেয়েটাকে ভোলাচ্ছে এমনি সংলাপে, যা অসাধারণ সংকেতবাহী। অভিরামকে পাঠানো হল হোস্টেলে, কিন্তু সীতাকে নয়, তাকে শেখানো হল গান। আবহে থেকে থেকে ঘুঙুরের আওয়াজ। সীতার কণ্ঠে ‘ধানের ক্ষেতে রৌদ্র ছায়ায় লুকোচুরির খেলা’ গানটি বেশ কয়েকবার ব্যবহৃত হয়েছে। এই বিশাল প্রকৃতি আর ধানক্ষেতে রৌদ্রছায়ার খেলা যেমন নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা ভেসে যাওয়ার সৌন্দর্যের প্রতি মুগ্ধতা এনে দেয়, তেমনই বলে প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির মাঝের দোলাচলতার কথাও।

কখন এই কথাগুলি বলছে ঈশ্বর? যেদিন তার প্রমোশন হয়েছে, সুখসূর্য উঁকি দিচ্ছে মাত্র। এভাবেই হয়তো নিজে সুখের সন্ধান পেলে দুঃখের জগত থেকে মানুষ পলায়ন করতে চায়, দুঃখীর যন্ত্রণা প্রাণপণে এড়িয়ে যায়।

ঈশ্বর চক্রবর্তীর পদোন্নতি হল। ম্যানেজারের পদে বহাল হওয়ার পর সে এক সুস্থির সমৃদ্ধ জীবনের স্বপ্ন দেখল। সেই সুখবর নিয়ে যখন বাড়ি ফিরছে, তখন দেখল সুবর্ণরেখার উষর তীরে বসে সীতা গাইছে ভৈরবী সুরে ‘আও দেখো ভোর ভঁই’’। ঈশ্বর দাঁড়িয়ে শুনছে, দূর থেকে, সুমধুর কণ্ঠ সীতার।

অতঃপর কাছে গিয়ে ঈশ্বর বলছে- তুই অনেকটা বড় হয়ে গেছিস। -নিজের পদোন্নতির সংবাদটি বোনকে দেয়, এবং জিজ্ঞেস করে, এত মন খারাপ করা উদাসীন গান কেন সীতার? অভিরামের খবর দেয়, আর বলে অভিরাম পড়াশোনায় উন্নতি করেছে। তবে সে নাকি সাহিত্য লিখছে, একটা লেখা ঈশ্বর পড়েছে, পড়ে তার দমবন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। সীতা তখন বলছে, চারপাশে তো তাই ঘটে চলেছে। ঈশ্বর বলে- মানুষ আনন্দ খোঁজে, স্বস্তি খোঁজে, সুতরাং তাই লেখা উচিত, ওসব দুঃখ ইত্যাদি মানুষ পছন্দ করে না, নেয় না।

Subarnarekha Film
দু’টি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে সীতা ও অভিরাম হয়ে যায় পরস্পরের খেলার সাথী

কখন এই কথাগুলি বলছে ঈশ্বর? যেদিন তার প্রমোশন হয়েছে, সুখসূর্য উঁকি দিচ্ছে মাত্র। এভাবেই হয়তো নিজে সুখের সন্ধান পেলে দুঃখের জগত থেকে মানুষ পলায়ন করতে চায়, দুঃখীর যন্ত্রণা প্রাণপণে এড়িয়ে যায়। এরই মধ্যে অভিরাম এসে উপস্থিত হয়। সীতা ও অভিরাম বুঝতে পারে, তারা পরস্পরকে ভালবাসে। উন্মুক্ত প্রকৃতির সামনে বসে চুপি চুপি তারা নিজেদের অনুভূতি পরস্পর বিনিময় করে। এই গোপনীয়তা বুঝিয়ে দেয় সমাজ কিংবা ঈশ্বর এই ভালবাসা মেনে নেবে না।

মেলা থেকে এক সাঁওতালি মালা কিনে সীতাকে উপহার দেয় অভিরাম। ঈশ্বর গোপনে তা দেখে ফেলে। সে অভিরামকে জার্মানিতে পাঠিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবে, এই ছিল তার স্বপ্ন। সুতরাং পারিবারিক বিরুদ্ধতার মুখোমুখি হতে হয় সীতাকে। এদিকে হঠাৎই রামবিলাস এসে উপস্থিত। সে এখন ঈশ্বরের পরিচালক, কারণ চাকরিটা সে-ই দিয়েছে। অভিরামকে দেখে সে তার পরিচয় জিজ্ঞেস করে, এবং অজ্ঞাতকুলশীলকে যে ঈশ্বর আশ্রয় দিয়েছে, তা সে মোটেই ভাল চোখে দেখে না। সে জাতিভেদ বর্ণভেদ মানে, সে কথা সে সাফ জানিয়ে দেয় ঈশ্বরকে।

অভিরাম পড়াশোনা করেও দাঁড়াতে পারেনি, লেখক হতে পারেনি। একটি সন্তান হয়েছে অভিরাম ও সীতার, নাম বিনু। শেষ পর্যন্ত ড্রাইভার হতে গিয়ে প্রথম দিনই সে পথদুর্ঘটনায় নিহত হয়।

ঈশ্বর এখন মাথা উঁচু করে বাঁচার সন্ধান পেয়েছে। জার্মানিতে অভিরামকে পাঠানোর পরিকল্পনা বাতিল করে অভিরামকে কলকাতায় চলে যেতে বলে। সীতা অভিরামকে ভালবাসে জেনে সীতার মৃত্যুকামনা করে। তারপর সীতার বিয়ে দেওয়ার জন্য তড়িঘড়ি বন্দোবস্ত করে ফেলে।

এদিকে অভিরাম যখন ছাতিমপুর ছেড়ে চলে যাচ্ছে কলকাতা, তখন গাড়ি থেকে অসুস্থ এক মহিলাকে স্টেশনে নামিয়ে দিয়ে গাড়ি চলে যায়। মহিলা স্টেশনেই মারা যান। মহিলার শেষের দিকের কথায়, অভিরাম জানতে পারে ইনিই তার হারিয়ে যাওয়া মা। এরপর পর পর কিছু ঘটনা, যদিও পরিচালক সময়ের ব্যবধানটুকু পর্দায় ব্যক্ত করেছেন কয়েক বৎসর পর ইত্যাদি লিখে।

Subarnarekha Film
কিছু কিছু সংলাপ বলে দেয় সীতার জীবনের অন্তিম পরিণতি কী হতে চলেছে

সীতার বিয়ের পিঁড়ি থেকে উঠে অভিরামের সঙ্গে কলকাতা পালিয়ে যাওয়া, যাওয়ার সময় বিয়ের মুকুট সুবর্ণরেখার জলে ফেলে যাওয়া, মুকুটের নদীর জলে ভেসে যাওয়ার শটটি বেশ কিছু সময় জুড়ে দেখানো যেন ইঙ্গিত বহন করে সীতার ভবিষ্যৎ সাংসারিক জীবনের স্থায়িত্ব নিয়ে। যাকে লাল সংকেতবাহী অঞ্চল বলা হয়, তা যেন ভবিতব্যের মতো কতকাল থেকে সীতার জন্য অপেক্ষা করে আছে।

অভিরাম পড়াশোনা করেও দাঁড়াতে পারেনি, লেখক হতে পারেনি। একটি সন্তান হয়েছে অভিরাম ও সীতার, নাম বিনু। শেষ পর্যন্ত ড্রাইভার হতে গিয়ে প্রথম দিনই সে পথদুর্ঘটনায় নিহত হয়। অভিরামের মৃত্যুর আগেই টাকাপয়সার অভাবের জন্য এক মহিলা সীতাকে গান গেয়ে টাকা রোজগারের কথা বলেছিল। সীতা তখন বুঝতে পারেনি গানের সঙ্গে দেহব্যবসাও জড়িত। অভিরামের মৃত্যুর পর সীতা সেই পথেই গেল বিনুকে বাঁচানোর জন্য। এদিকে হরপ্রসাদের স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। জীবনে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলা দু’টি মানুষ, ঈশ্বর ও হরপ্রসাদ, কলকাতায় নামীদামি মদের দোকানে বসে মদ খায়। চিরকুমার ঈশ্বর দেহব্যবসার মহল্লায় ঢুকে যে নারীকে পায়, সে তার বোন সীতা। সীতা তার দাদাকে দেখে বঁটি দিয়ে নিজেকে ছিন্নভিন্ন করে।

সে ছুটছে ওই নদী সুবর্ণরেখার দিকে, মামাকে ডাকছে তাকে, তাড়াতাড়ি তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য।  ঈশ্বরের কাছে চিঠি এসেছে তাঁর চাকরির জায়গায় অন্য একজনের নিযুক্তি হয়েছে।

শেষ দৃশ্যে আবার সেই পিতৃ-মাতৃহীন পুত্র বিনু ঠিক তার বাবা অভিরামের মতোই মামা ঈশ্বরের হাত ধরে। যেন এ এক ঘূর্ণাবর্ত। সে ছুটছে ওই নদী সুবর্ণরেখার দিকে, মামাকে ডাকছে তাকে, তাড়াতাড়ি তার সঙ্গে যাওয়ার জন্য।  ঈশ্বরের কাছে চিঠি এসেছে তাঁর চাকরির জায়গায় অন্য একজনের নিযুক্তি হয়েছে। তাড়াতাড়ি যেন ম্যানেজারের বাংলো খালি করে দেওয়া হয়। ঈশ্বর এখন নিরাশ্রয়, নিরালম্ব, তাঁর প্রাণশক্তি ফুরিয়ে আসছে। অথচ বিনুর অফুরন্ত প্রাণশক্তি, সে নদীর দিকে ছুটে চলেছে, আর মামাকে বলছে তাড়াতাড়ি আসো, তুমি বুড়িয়ে গেছ।

Subarnarekha Film
দেশভাগের যন্ত্রণা ক্ষতবিক্ষত করেছিল অনন্য প্রতিভাধর ঋত্বিক ঘটককে

আদ্যন্ত একটি কাহিনি থাকা সত্ত্বেও, বলা ভাল, সুবর্ণরেখায় কোনই কাহিনি নেই। আছে রামায়ণের সীতার কথা মিলের পূর্বতন মিলের ম্যানেজারের মুখে। প্রতিটি দৃশ্য সুপরিকল্পিত এবং প্রতীকী ব্যঞ্জনার সহযোগে অনেকটা কাব্যিক। রামায়ণ, মহাভারত, পুরাণ ইত্যাদির সংমিশ্রণে আদ্যন্ত এক রূপকাশ্রয়ী চলচ্চিত্র। পরপর এত মৃত্যু স্বাভাবিক মনে না হলেও স্বাভাবিক, যেহেতু এতে কাহিনির চাইতে সামূহিক রাজনৈতিক ও কর্তিত বঙ্গের পরিস্থিতিকে গুরুত্বময় করে তোলা হয়েছে, সুবর্ণরেখার তীরভূমি বড্ড উষর, বড্ড ধুলোমলিন।

তথ্যসূত্র – অন্তর্জাল, কৃত্তিবাস ১৬ নভেম্বর সংখ্যা

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of বিজয়া দেব

বিজয়া দেব

বিশিষ্ট কথাকার ও কবি। লেখারম্ভ উত্তর পূর্ব ভারত থেকে, বর্তমানে কলকাতাবাসী।  প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'নীলাঞ্জনা' প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এগারোটি, তার মধ্যে গল্পগ্রন্থ ছয়টি, অণুগল্প সংকলন একটি, উপন্যাস দুইটি, উপন্যাসিকা একটি, কাব্যগ্রন্থ একটি। পেশায় ছিলেন শিলচরের পাবলিক উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। শিলচর শিবালিক পার্ক নয়া গ্রুপ সানডে ক্লাব ও মহিলা সমিতি থেকে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্যে বিশেষ সম্মাননা, ২০১৮। অনির্বাণ সাহিত্য পত্রিকা থেকে প্রদত্ত মঁঞ্জুলিকা স্মৃতি সম্মান ২০২০। প্রতীতি সাহিত্য পত্রিকা থেকে জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি সম্মাননা ২০২৫।
Picture of বিজয়া দেব

বিজয়া দেব

বিশিষ্ট কথাকার ও কবি। লেখারম্ভ উত্তর পূর্ব ভারত থেকে, বর্তমানে কলকাতাবাসী।  প্রথম প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ 'নীলাঞ্জনা' প্রকাশিত হয়েছে ২০০৩ সালে। প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা এগারোটি, তার মধ্যে গল্পগ্রন্থ ছয়টি, অণুগল্প সংকলন একটি, উপন্যাস দুইটি, উপন্যাসিকা একটি, কাব্যগ্রন্থ একটি। পেশায় ছিলেন শিলচরের পাবলিক উচ্চতর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পরবর্তীতে অধ্যক্ষ। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত। শিলচর শিবালিক পার্ক নয়া গ্রুপ সানডে ক্লাব ও মহিলা সমিতি থেকে সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্যে বিশেষ সম্মাননা, ২০১৮। অনির্বাণ সাহিত্য পত্রিকা থেকে প্রদত্ত মঁঞ্জুলিকা স্মৃতি সম্মান ২০২০। প্রতীতি সাহিত্য পত্রিকা থেকে জীবনানন্দ দাশ স্মৃতি সম্মাননা ২০২৫।

One Response

  1. এখানে ঋত্বিক ঘটকের পরিচালিত চলচ্চিত্রের তালিকা দিতে গিয়ে ‘পলাতক’ চলচ্চিত্রটির নাম লেখা হয়েছে, যা সেটা নয়। ওনার পরিচালিত চলচ্চিত্রটির নাম ‘বাড়ি থেকে পালিয়ে’। ১৯৬৩ সালে মুক্তি প্রাপ্ত ‘পলাতক’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছিলেন যাত্রিক গোষ্ঠী (তরুণ মজুমদার, শচীন মুখার্জী ও দিলীপ মুখার্জী )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়
বিতস্তা ঘোষাল
নীলাঞ্জন দরিপা

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com