(Three Days To See)
মূল গল্প: থ্রি ডেজ় টু সি – হেলেন কেলার
ভাষান্তর: বন্দনা দাশগুপ্ত সেন
অনেক সময় আমি ভাবি, প্রত্যেকেই যদি সজ্ঞান অবস্থায় দৃষ্টিহীনতা ও শব্দহীনতার মধ্যে অন্তত কিছুদিনের জন্য কাটান, তবে তাঁদের কিছু উপকার হয়। সেই স্বল্পকালীন অন্ধকারেই আলোর সত্যিকারের গুরুত্ব সম্বন্ধে তাঁদের ধারণা জন্মাবে এবং, সেই শব্দই তাঁদের শব্দের আসল আনন্দের সন্ধান দেবে।
কখনও কখনও বন্ধুদের কাছে জানতে চেষ্টা করি, তারা কী কী দেখে! এক বন্ধু সেদিন জঙ্গলের লম্বা সফর শেষ করে এলেন; জিজ্ঞাসা করলাম ‘কী কী দেখলে’? উত্তর করলেন ‘তেমন কিছু নয়’। আশ্চর্য ব্যাপার! একজন জঙ্গলের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে যাচ্ছেন এবং দেখার মতো আকর্ষণীয় কিছু পাচ্ছেন না। আমি তো সম্পূর্ণ অন্ধ। তবু, ছুঁয়ে দেখার আকর্ষণ অনুভব করি বহু জিনিসে। নরম পাতার ভেতরকার সমান্তরাল আঁকিবুকি ছুঁয়ে আনন্দ পাই। আবার রূপালি বার্চ গাছের পেলবতায় বা শুকনো পাইনের রুক্ষতায় হাত বুলিয়ে যাই সমান আবেগে।
বসন্তকালে গাছের শাখায় শাখায় খুঁজি নতুন নতুন কুঁড়ি। মনে হয়, শীত-ঘুমের পরে প্রকৃতির নতুন ভাবে জেগে ওঠার এটাই প্রথম লক্ষণ। কখনও কখনও আমার হাত পড়ে ছোট্ট গাছের গায়ে। পাখির কলকাকলির আওয়াজ থেকে উদ্ভূত সূক্ষ্ম কম্পন অনুভব করে মোহিত হই! প্রাণের ভিতর আকুতি অনুভব করি- ‘যদি দেখতে পেতাম’! ছুঁয়ে যদি এত আনন্দ পাই দেখতে পেলে না জানি কত অধীর হতাম। যদি তিন দিনের জন্য দৃষ্টিশক্তি পাই, তবে কী কী দেখতে চাইব, তার সূচি তৈরি করতে থাকি নিজের কল্পনায়।
পুরো সময়টাকে তিন ভাগে ভাগ করে নেব আমি, প্রথম দেখতে চাইব আমার প্রাণের বন্ধুদের, আত্মার আত্মীয়দের, যারা সমবেদনায়, বন্ধুত্বে পূর্ণ করেছেন আমাকে- বেঁচে থাকার প্রেরণা দিয়েছেন অকৃপণভাবে। আমি তো জানি না মনের আয়না অর্থাৎ এই চোখ দিয়ে কীভাবে তাদের হৃদয় স্পর্শ করব। আমি তো কেবলমাত্র মুখের চার ধারে আঙুল বুলিয়ে তাদের দেখি। এভাবে হাসি কান্না এবং এইরকম কিছু আবেগেরও পরিচয় পাই। ব্যস, এইটুকুই আমি তাদের চিনি।
যদি পাঁচজন কাছের বন্ধুর চেহারার বিশদ বিবরণ দিতে বলি, নির্ভুলভাবে দিতে পারবে? পরীক্ষামূলকভাবে সেদিন কয়েকজনকে তাঁদের স্ত্রীর চোখের মণির রং জিজ্ঞাসা করেছিলাম, অনেকেই অত্যন্ত অস্বস্তিতে পড়ে স্বীকার করলেন, যে তাঁরা জানেন না।
তোমরা যারা দেখতে পাও তারা কত সহজে চেহারা দেখে, ভাব প্রকাশের ভঙ্গি দেখে, মাংসপেশির কম্পন এবং হাতের স্পন্দন দেখে আরেকজনকে চিনে যাও। কিন্তু কখনও তাদের ভেতর অব্দি পড়তে চেষ্টা করেছ? তোমরা যত সহজে নির্ভুলভাবে বাইরের চেহারাটা চিনে ফেলো, তত সহজে তা ভুলেও থাকো। যদি পাঁচজন কাছের বন্ধুর চেহারার বিশদ বিবরণ দিতে বলি, নির্ভুলভাবে দিতে পারবে? পরীক্ষামূলকভাবে সেদিন কয়েকজনকে তাঁদের স্ত্রীর চোখের মণির রং জিজ্ঞাসা করেছিলাম, অনেকেই অত্যন্ত অস্বস্তিতে পড়ে স্বীকার করলেন, যে তাঁরা জানেন না।
ফিরে আসি মূল প্রসঙ্গে। তিন দিনের জন্য দৃষ্টিশক্তি পেলে আমি কী কী দেখে নিতে চাই। প্রথম দিন নিশ্চয়ই কাটবে সাংঘাতিক ব্যস্ততা এবং উত্তেজনার মধ্যে। আমি সমস্ত প্রিয় বন্ধুদের কাছে ডাকব এবং বহুক্ষণ তাদের দিকে চেয়ে থাকব। মনের গভীরে গেঁথে নিতে চাইব তাদের প্রতিটি বাহ্যিক ভঙ্গিমা। একটি দুধের শিশুকেও দেখতে চাই আমি। বাস্তবের করাল প্রতিঘাতে চূর্ণ হওয়ার আগে মানুষের সরল জিজ্ঞাসু চেহারা কেমন থাকে, সেটাই দেখতে চাই। এরপর দেখতে চাই, সেই বইগুলি যা আমাকে গভীর জীবনবোধে উত্তীর্ণ করেছে।

আর হ্যাঁ অতি অবশ্যই দেখতে চাই, আমার প্রিয় কুকুর ‘ছোট্ট স্কটি’ এবং ‘বিশাল ডেনের’ বিশ্বস্ততায় ভরা চোখগুলি। বিকেলে জঙ্গলের দিকে হাঁটতে বেরোব। প্রকৃতির আসল রূপে বিমোহিত হতে চাইব এবং প্রার্থনা করব যেন অপূর্ব রঙিন সূর্যাস্ত দেখতে পাই। সেদিন মনে হয় আমার আর ঘুম আসবেই না।
পরদিন খুব ভোরে উঠে সূর্যোদয় দেখব। কেমনভাবে পৃথিবী অন্ধকার থেকে আলোয় প্রবেশ করে- অবাক মুগ্ধতায় বরণ করব সেই অপার্থিব আলোর উদ্ভাসকে। মনে হবে, সূর্য ধীরে ধীরে ঘুমন্ত পৃথিবীকে ডেকে তুলছে। চট করে এদিন দেখে নিতে চাই, অতীত ও বর্তমান পৃথিবীকে। মানুষের প্রগতির চালচিত্রও দেখতে চাই। তাই আমাকে যেতে হবে মিউজিয়ামে।
এরপর যাব কলাভবনে- আর্ট মিউজিয়ামে। স্পর্শের সাহায্যে নীলনদের সভ্যতার দেব-দেবীদের ভাস্কর্যের সঙ্গে ভালই পরিচিত আমি। নকল পার্থেনন ফ্রেস্কোতে হাত বুলিয়ে অনুভব করেছিলাম; তেমনই বুঝতে চেষ্টা করেছি গ্রিক সভ্যতার রণনায়কদের দৃপ্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গি।
সেখানে দেখতে পাব পৃথিবীর সন্নিবদ্ধ ইতিহাস- জীবজগৎ এবং প্রাগৈতিহাসিক মানব প্রজাতির দুনিয়া। উদ্বেলিত হব দানবীয় ডাইনোসর এবং মাসটোডেনের দেহাবশেষের বিশালতায়, যারা নাকি অত বড় দেহ থাকা সত্ত্বেও মানব প্রজাতি উদ্ভবের পর মানুষের বুদ্ধিবলে পরাজিত হয়ে ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।এরপর যাব কলাভবনে- আর্ট মিউজিয়ামে। স্পর্শের সাহায্যে নীলনদের সভ্যতার দেব-দেবীদের ভাস্কর্যের সঙ্গে ভালই পরিচিত আমি। নকল পার্থেনন ফ্রেস্কোতে হাত বুলিয়ে অনুভব করেছিলাম; তেমনই বুঝতে চেষ্টা করেছি গ্রিক সভ্যতার রণনায়কদের দৃপ্ত আক্রমণাত্মক ভঙ্গি।
মহাকবি হোমারের দাড়িওয়ালা মূর্তিও বড় প্রিয় আমার কাছে, কারণ তিনিও অন্ধকারকে জানতেন। দ্বিতীয় দিনে চারুকলার মাধ্যমে মানুষের অন্তরাত্মাকে খুঁজতে চাই আমি। যা এতদিন শুধুমাত্র স্পর্শ করেছি, আজ তা দেখতে পাব। ভেবে শিহরিত হতে হচ্ছে যে, জগৎবিখ্যাত চিত্রকলাগুলি আজ সর্বপ্রথম উদ্ভাসিত হবে আমার চোখের সামনে। হয়তো আমি খুব সামান্য এবং ভাসাভাসা ধারণাই করতে পারব। কারণ শিল্পীরা বলেন যে, ছবি দেখার চোখ তৈরি করতে হয়। ছবির রৈখিক নিপুণতা, বিষয়বস্তু, গঠনশৈলি, রঙের ব্যবহার এসব গভীর শিক্ষার মধ্য দিয়েই শেখা সম্ভব। আমার যদি চোখ থাকত, হয়তো আনন্দের সঙ্গে এই নিয়েই আমি পড়াশোনা করতে পারতাম।

দ্বিতীয় দিনের সন্ধে আমি কোনও থিয়েটার বা সিনেমা দেখে কাটাতে চাই। আমি বোঝাতে পারব না, হ্যামলেটের মোহন রূপ অথবা এলিজাবেথে মুগ্ধ বেগবান ফল স্টাফকে দেখার জন্য কতটা আগ্রহী আমি। ছুঁয়ে যেটুকু বোঝা যায় তার বাইরে ছন্দবদ্ধ অঙ্গ সঞ্চালনা আমার সম্পূর্ণ অজ্ঞাত। নৃত্য ভঙ্গিমার সৌন্দর্য খুব সামান্যই আমি অনুভব করতে পারি, যদিও সংগীতের তালের সুখ কখনও-সখনও মেঝের কাঁপুনি থেকে বুঝতে পারি। কল্পনা করতে পারি যে, সামগ্রিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন খুবই দৃষ্টিনন্দন। মার্বেল ভাস্কর্যের গায়ে আঙুল বুলিয়ে এর খুব সামান্যই আমার বোধগম্য হয়। মনে ভাবি, স্থিরতার রূপ যদি এত সুন্দর, না জানি চলমানতার সৌন্দর্য কত মনোমুগ্ধকর।
সূর্যোদয়কে স্বাগত জানিয়ে আবার পরের দিন শুরু করব আরও নতুন কিছু দেখার আগ্রহে, নতুন কিছু সুন্দরের আশায়। আজ তৃতীয় দিনে কাজের মধ্যে মানুষের প্রতিদিনকার জীবনকে দেখতে চাই। তাই শহরে যাব। প্রথমে দাঁড়িয়ে থাকব শহরের ব্যস্ততম একপ্রান্তে। শুধু জনসমুদ্রের দিকে তাকিয়ে থাকব। তাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ঝলক নিশ্চয়ই বুঝতে পারব। কারও উৎফুল্লভাব আমার মধ্যে সঞ্চারিত হবে, কারও দৃঢ়চিত্ততায় আমি গর্বিত হব, আবার কারও ব্যথায় সমব্যথী হওয়ার চেষ্টা করব।
যদি আমার দৃষ্টিশক্তি থাকত, তবে হয়তো আমিও আজ পাঁচ জন মহিলার মতোই হতাম। নিজের স্টাইল নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতাম যে, এই বৈচিত্র্যপূর্ণ রঙের মিছিলে মন দেওয়ার অবকাশ থাকত না।
ধীর পায়ে এগোব নিউ ইয়র্কের ফিফথ এভিনিউ-এর দিকে। কোনও বিশেষ দিকে নয়, অলস দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকব জনসমুদ্রের রং বাহারের দিকে। ভিড়ের মাঝে সুবেশা মহিলাদের রঙিন পোশাকের রকমারি নিশ্চয়ই খুব চমৎকার। অক্লান্তভাবে দেখতে থাকব তা। তবে যদি আমার দৃষ্টিশক্তি থাকত, তবে হয়তো আমিও আজ পাঁচ জন মহিলার মতোই হতাম। নিজের স্টাইল নিয়ে এত ব্যস্ত থাকতাম যে, এই বৈচিত্র্যপূর্ণ রঙের মিছিলে মন দেওয়ার অবকাশ থাকত না।
ফিফথ এভিনিউ থেকে যাব শহরের অন্যান্য জায়গার বস্তিতে, কলকারখানায়, বাচ্চাদের খেলার পার্কে। বিদেশিদের বসতিতে গিয়েও ঘুরে আসব, যাতে বিদেশ ভ্রমণের খানিকটা স্বাদ পাওয়া যায়। আগ্রাসী এই দু-চোখ খুলে রাখব আনন্দিত এবং বেদনার সমস্ত রকম দৃশ্যের জন্য। এই গভীর নিরীক্ষায় বুঝতে পারব, মানুষ কেমনভাবে কাজ করে এবং বেঁচে থাকে।

তৃতীয় দিনেও দৃশ্যমান্যতার সময়সীমা শেষ হয়ে আসছে। আরও অনেক জিনিস আছে, যা দেখার জন্য হয়তো সময় দেওয়া যেত। কিন্তু, আমার খুব ইচ্ছে, আজ সন্ধ্যাতেও থিয়েটারে যাব। এদিন পুরোপুরি হাসির নাটক দেখব। আসলে আমি মানুষের জীবনযাত্রায় হাস্যকৌতুকের গুরুত্বকেও মনের মধ্যে ধরে রাখতে চাই।
আজ রাতেই আবার স্থায়ী অন্ধকারের জগতে ফিরে যাব আমি। এই স্বল্প তিন দিনের মেয়াদে অনেক কিছু দেখার সাধ অপূর্ণ থেকে গিয়েছে। যখন অন্ধকারের দুনিয়ায় আবার তলিয়ে যাব, তখনই বাকি অনেক কিছু না দেখার অপূর্ণতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
প্রতিটি বস্তুকে স্পর্শ কর, এমন মমতায়, যেন আগামীকাল থেকে স্পর্শ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ফুলের সুঘ্রাণ নাও, প্রতিটি খাবার খাও এমন আবেগ নিয়ে যেন, আগামীকাল ঘ্রাণশক্তি রসনাশক্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের চরমসীমায় উত্তীর্ণ হও।
আমার তিন দিনের এই দৃশ্যতার সূচীর সঙ্গে অনেকেই হয়তো একমত হবেন না। তবে আমি নিশ্চিত, যদি কেউ জেনে যায় যে কিছুদিন পরে তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে লুপ্ত হবে তবে তার চোখ এমনভাবে পৃথিবীকে দেখে নিতে চাইবে, যেভাবে আগে কখনও দেখেনি। যা দেখবে, সবই তার প্রিয় হয়ে উঠবে। চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে জড়িয়ে রাখতে চাইবে সমস্ত দৃষ্টিগোচর বস্তুকে। এইভাবেই চোখ সত্যিকারের দেখা দেখবে এবং সমস্ত পৃথিবী এক নতুন মাত্রা পাবে।

আমি তো অন্ধ। তোমরা যারা দেখতে পাও, তাদের কাছে আমার একটাই প্রস্তাব আছে। এমন মনোনিবেশ করে দেখো, যেন আগামীকাল থেকে তোমার দেখার শক্তি ফুরিয়ে যাবে। একই পদ্ধতি প্রয়োগ কর, বাকি সমস্ত ইন্দ্রিয়ের জন্যও। পাখির কলকাকলি হোক বা অর্কেস্ট্রার ঐকতান- প্রতিটি শব্দের সুরকে ধরে রাখো এমনভাবে যেন, আগামীকাল থেকে তোমার শ্রবণ ক্ষমতা চিরতরে বিলুপ্ত হবে। প্রতিটি বস্তুকে স্পর্শ কর, এমন মমতায়, যেন আগামীকাল থেকে স্পর্শ ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ফুলের সুঘ্রাণ নাও, প্রতিটি খাবার খাও এমন আবেগ নিয়ে যেন, আগামীকাল ঘ্রাণশক্তি রসনাশক্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে। প্রতিটি ইন্দ্রিয়ের চরমসীমায় উত্তীর্ণ হও। প্রকৃতির প্রতিটি বিভঙ্গে যে সৌন্দর্য ও আনন্দ রয়েছে, তার পূর্ণ অনুভূতি গ্রহণ কর পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে। আমি এ সম্পর্কে নিশ্চিত যে, এই অনুভূতির জগতে সবচেয়ে আনন্দদায়ক মাধ্যম হল দৃষ্টিশক্তি।
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
অলংকরণ- আকাশ গঙ্গোপাধ্যায়
2 Responses
খুব সুন্দর
খুব সুন্দর অনুবাদ। বিষয় টা এত sensitive যে আমি অনুভব করলাম সত্যি কত কিছু আমাদের আছে কিন্তু যদি তা না থাকত তবে কি হতো। এই ভাবনা টা যদি আমাদের মধ্যে আসে, আমরা অনেক সংবেদনশীল হয়ে উঠবো প্রত্যেক প্রত্যেকের প্রতি। পৃথিবী ও সুন্দর হবে।