(Autistic Pride Day)
এই শতাব্দীর সিকিভাগ গেছে পার হয়ে…আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অটিজম বলতে আমরা ঠিক কী বুঝি? অবশ্যই হলিউডের টুকটাক সিনেমা দেখা মানুষজনের কাছে ১৯৮৮ সালে বানানো রেনম্যান সিনেমার ডাস্টিন হফম্যানের চরিত্র, যার অঙ্ক করার ক্ষমতা বিস্ময়কারী, স্মৃতিশক্তি ক্যামেরায় তোলা ফটোগ্রাফের মতো…কিন্তু কখনও চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলেন না, প্রত্যেকদিন একই খাবার খান, একইরকম জামাকাপড় পরেন, ভাবলেশহীন ইত্যাদি।
না তা হয়তো ঠিক নয়, কারণ তারপর পেরিয়ে গেছে তিন দশকের বেশি সময়। শহরবাসী মধ্যবিত্ত আর তার থেকে উঁচু স্তরের মানুষরা, বিশেষ করে যাঁদের সন্তানেরা স্কুল যাচ্ছে তাঁদের কাছে অটিজম শব্দটার পরিচিতি নিঃসন্দেহে বেড়েছে, কারণ বেড়েছে অটিজম ডায়াগনসিস হওয়া শিশুদের সংখ্যা। সারা পৃথিবীতেই। যেমন আমেরিকায় এখন ৩৩ জন শিশুর মধ্যে একজনের অটিজম স্পেকট্রাম ডিসর্ডার আছে। আর হ্যাঁ, অবশ্যই আমরা এখন ইচ্ছা করলেই এই বিষয়ে অনেক কিছু জানতে পারি, কারণ এটা বিশ্বায়নের যুগ।
আরও পড়ুন: ভারী বোঝা যে মায়েদের
সাধারণ বাবা মায়েরা বা সাধারণ মানুষজন যাঁরা কোনও অটিস্টিক ছেলেমেয়েদের চেনেন না, জানেন না, তাঁরাও হয়তো এটুকু জানেন যে, ওই বাচ্চাগুলো— যারা বিশেষ কথা বলে না, প্রশ্নের উত্তর দেয় না, চোখে চোখ মেলায় না, হঠাৎ হঠাৎ চিৎকার করে, এক জায়গায় বসে দোলে বা একটু উত্তেজিত হলে হাতগুলো পাখির মতো ঝাপটায়। কেউ কেউ হয়তো জানেন ওরা একই খাবার খায়, একই জামাকাপড় পরে, একই জিনিস বারবার দেখে, বাইরে খুব বেশি আওয়াজে নিয়ে গেলে দু’হাতে কান চেপে চিৎকার করে।
হতে পারে তারা এও জানেন যে, এদের অনেক প্রতিভা থাকে, কেউ এঁকে ফেলতে পারে অকল্পনীয় সব দৃশ্য, কেউ বা পিয়ানোতে সুরঝংকারে মুগ্ধ করে রাখে, পাতার পর পাতা অঙ্ক কষে কেউ বা ফটোগ্রাফের মতো স্মৃতিতে ধরে রাখে। এ সমস্ত কথাগুলোই সত্যি— কিন্তু সবার ক্ষেত্রে নয়। এর মধ্যে একটা, দুটো, লক্ষণ থাকতে পারে এই বাচ্চাদের মধ্যে এবং অবশ্যই আরও অনেক লক্ষণ। তাই এই অটিজমের ছাতাটি হয়ে উঠেছে অনেক বিস্তৃত।

আমার কাজ এবং জীবনের অভিজ্ঞতা বহু বছর ধরেই বিশেষ ক্ষমতা সম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের ঘিরে। তার মধ্যে অনেকজন অটিজমের এই বিশাল ছাতার তলায় আসে। আমেরিকায় অটিজমসহ বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের পাবলিক স্কুলে যাওয়ার আইনি অধিকার আছে। তাই সাধারণত তারা পাবলিক স্কুলে আসে। প্রত্যেক বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের জন্য প্রফেশনাল থেরাপিস্ট, স্কুল কর্তৃপক্ষ এবং অভিভাবকদের মূল্যায়ন নিয়ে তৈরি হয় ‘ইন্ডিভিজুয়াল এডুকেশন প্ল্যান’, সেই অনুযায়ী চলতে থাকে পড়াশোনা এবং অন্যান্য থেরাপি।
প্রতি বছর মূল্যায়ন এবং রিপোর্ট অনুযায়ী পরিবর্তন হয় এই প্ল্যান। যেহেতু এই ‘ইন্ডিভিজুয়াল এডুকেশন প্ল্যান’ একটি আইনি দলিল, তাই সেটা অনুসরণ করা না হলে, স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন অভিভাবকরা। তাই অটিস্টিক বাচ্চাদের সঙ্গে সঙ্গে সব বিশেষ ছাত্রছাত্রীরাই এই দেশে একটা ন্যুনতম আইনি সুরক্ষা পায়।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটসের সরকারি স্কুলগুলোতে, সমস্ত বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, অটিস্টিক ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ।
ধরা যাক, একটি এলিমেন্টারি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ক্লাসরুম। ঢুকলে দেখবেন একদিকে একটি বোর্ডে লম্বা লম্বা স্ট্রিপে, ছোট ছোট ল্যামিনিটেড স্টিকারে আটকানো আছে এক একটি বাচ্চার রুটিন। ক্লাসে ঢুকে তার ব্যাকপ্যাক নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, জ্যাকেট নির্দিষ্ট জায়গায় রাখা, তারপর তার নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে বসার রুটিনটিই হয়তো ধরে ধরে গভীর মনোযোগ দিয়ে শেখাচ্ছেন একজন শিক্ষক, এভাবে স্ন্যাকস খাওয়া, বাথরুম যাওয়া, সবার সঙ্গে সার্কলে টাইমে অংশগ্রহণ করা— ধরে ধরে প্রত্যেকটা জিনিস।
যারা সেটাও পারছে না তাদের আরও ভেঙে ভেঙে ছোট ছোট স্টেপে শেখানোর চেষ্টা করছেন। যেটা কি না অটিস্টিক বাচ্চাদের শেখানোর একটা মূল মন্ত্র। আর তার চেয়ে বেশি জিনিস যারা পারছে, আয়ত্ত করছে, একটু একটু করে তাদের মূল ধারায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চলছে।

রেগুলার ক্লাসরুম, মিউজিক ক্লাস, ফিজিক্যাল এডুকেশন ক্লাস, আর্ট ক্লাসে একজন সহায়ক শিক্ষকের সঙ্গে দেখা যায় বিশেষ ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ম্যাসাচুসেটসের সরকারি স্কুলগুলোতে, সমস্ত বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে, অটিস্টিক ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ১৩ থেকে ১৫ শতাংশ।
অটিজমের ছাতাটিও অনেক বিস্তৃত, তাই এদের মধ্যে মোটামুটি বা আংশিক ভালভাবে পড়াশোনার ক্ষমতা আছে যাদের— তাদের জন্য, পরীক্ষা, প্রজেক্ট, অ্যাসাইনমেন্ট খানিকটা কাটছাঁট করা হয়। তাদের জন্য কোনও ক্ষেত্রে পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো হয়, আবার কোনও ক্ষেত্রে হয়তো শব্দনিয়ন্ত্রিত শান্ত ঘরে পরীক্ষার ব্যবস্থা হয়।
ইনক্লুশন যদি খুব ছোট থেকে, খুব স্বাভাবিকভাবে দেখতে থাকে মানুষ, সেটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। আর শেষ দুই দশক ধরে আমার অভিজ্ঞতায়— সেটা অনেকখানি হয়েছে।
কোনও একটি স্কুলে গেলে প্যাসেজ দিয়ে শিক্ষকের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছে একটি হেলমেট পরা বাচ্চা, চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়া ছাত্রের পাশে বসে তাকে নানা স্ট্রাটেজি দিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা করছেন কোনও শিক্ষক বা থেরাপিস্ট। যে কোনও গানের প্রোগ্রামে গাইতে থাকা সব বাচ্চাদের মধ্যে চুপ করে থাকা একটি বাচ্চা, শিক্ষকের পাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা, অথবা হাত ঝাপটাতে থাকা কোনও একটি বাচ্চা দেখা যাবেই।
ম্যাসাচুসেটসের অনেক মিডল স্কুলে যখন ছাত্রছাত্রীদের বয়স খানিকটা বেড়ে যায়, তখন ‘স্বাভাবিক’ বাচ্চাদের যুক্ত করা হয়— ‘বিশেষ’ ফিজিক্যাল এডুকেশন ক্লাস অথবা ‘বিশেষ’ মিউজিক বা কোনও ‘বিশেষ’ বিষয়ের একটি ক্লাসে। স্বাভাবিক ছাত্রছাত্রীরা স্বেচ্ছায় এই ক্লাসগুলোতে যোগদান করে। তারা সবাই একসঙ্গে শেখে, একসঙ্গে কিছু বানায় বা খেলে। বলা হয় যে, নিজের বয়সের বাচ্চাদের কাছ থেকে ছোটরা বেশি শেখে।

এই অনেকগুলো ছোট ছোট বিষয়ের একটা অসম্ভব প্রভাব হয় বিপরীত দিক থেকেও। মানে তথাকথিত স্বাভাবিক বাচ্চাদের দিক থেকেও। ইনক্লুশন। অন্তর্ভুক্ত করা। মূল ধারায় ধারণ করা বা ধারণের চেষ্টা করা। শুধু তো কিছু নিয়ম বানিয়ে দিলে হবে না। ইনক্লুশন যদি খুব ছোট থেকে, খুব স্বাভাবিকভাবে দেখতে থাকে মানুষ, সেটা তাদের জীবনের অংশ হয়ে যায়। আর শেষ দুই দশক ধরে আমার অভিজ্ঞতায়— সেটা অনেকখানি হয়েছে। কোনও একটি বাচ্চা কথা বললে উত্তর দেয় না, কানে হাত চাপা দিয়ে চিৎকার করে, একই কথা বারবার বলে, ক্লাস থেকে হঠাৎ দৌড়ে বেরিয়ে গেল বা সহ শিক্ষকের সঙ্গে হাঁটতে বেরিয়ে গেল
— এরকম আরও অনেক জিনিসে এখানকার সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা এত অভ্যস্ত, যে সেটাকে তারা জীবনের অংশ হিসাবেই নিতে শিখছে।
অটিস্টিক মানুষ স্টিমিং-এর মাধ্যমে অতিরিক্ত উত্তেজিত স্নায়ুকে প্রশমিত করে, আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করে, বাইরের অতিরিক্ত শব্দ, ব্যস্ততার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর ঠিক এখানেই আসে ‘অটিজম প্রাইড ডে’র প্রসঙ্গটি।
এই বাচ্চারা একটু আলাদা। কিন্তু সেটাতে বিশেষভাবে মনোযোগ দেওয়া, হাসি ঠাট্টা করা বা নিয়মিতভাবে হেনস্থা করা— সেটা খুব কম দেখা যায়। আর এই বিশেষ বাচ্চারা যখন বড় হয়, নিজেদের সাধ্য অনুযায়ী যে কোনও কাজ করে, বা ভবিষ্যতে করবে বলে আশা করা যায়, তখন তাদের কিছু ব্যবহার, যেটাকে অটিজমের ক্ষেত্রে ‘স্টিমিং’ বলে, যেমন নিজেদের সঙ্গে কথা বলা, বিশেষ কিছু আওয়াজ করা, ছোট একটা জিনিস হাতের মধ্যে রাখা বা ঘোরানো, দ্রুত পায়চারি ইত্যাদি— সেগুলোকে তাদের সঙ্গে বড় হওয়া আজকের ‘স্বাভাবিক বাচ্চারা’ মানিয়ে নেবে এটা আশা করাই যায়।
অটিস্টিক মানুষদের মধ্যে এই স্টিমিং ব্যবহার কেন দেখা যায়? এর মাধ্যমে তারা অতিরিক্ত উত্তেজিত স্নায়ুকে প্রশমিত করে, আবেগকে নিয়ন্ত্রিত করে, বাইরের অতিরিক্ত শব্দ, ব্যস্ততার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। আর ঠিক এখানেই আসে ‘অটিজম প্রাইড ডে’র প্রসঙ্গটি। এপ্রিল মাসকে অটিজম সচেতনতা মাস হিসাবে পালন করা হচ্ছে অনেকদিনই। অটিজম সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা এবং স্নায়ুবৈচিত্র্য (Neurodiversity)-কে উদযাপন করার জন্য এবং অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ, পারিবারিক, সামাজিক, সহায়তার বিষয়ে সচেতনতার কথা বলে— এপ্রিল মাস।

তাহলে ১৮ই জুন দিনটি কেন? অটিজম প্রাইড দিনটি কেন বিশেষ? অটিজম সচেতনতার মাস শুরু করেছি আমরা— অনেককাল। হাওড়া ব্রিজ থেকে ভূর্জ খলিফা, সিডনি অপেরা হাউস থেকে সানফ্রান্সিসকো, গোল্ডেন গেট ব্রিজকে ভরিয়ে দিয়েছি নীল আলোয়। যা অটিজম সচেতনতার প্রতীক। নীল জামাকাপড় পরছি। কিন্তু সেটা আমাদের অর্থাৎ সাধারণ মানুষদের সচেতনতা, অটিজমকে স্বাভাবিক জীবনের স্রোতে মেনে নেওয়ার চেষ্টা। অন্যদিকে অটিজম প্রাইড ডে-টি অটিস্টিক মানুষদের নিজেদের উদযাপন করার দিন।
অটিজম কমিউনিটিতে যাঁরা নিজেদের কথা বলতে পারেন, তাঁরা বলেন— তাঁদের জন্য যে থেরাপি শুরু হয়েছিল, সেটা তাঁদের ‘স্বাভাবিক মানুষদের’ মতো ব্যবহার শেখানোর জন্য। যাতে তাঁরা সাধারণ মানুষদের সঙ্গে মিশে থাকতে পারেন, তাঁদের যাতে আলাদা না মনে হয়। ছোট থেকে পরিবার, থেরাপিস্ট এটাই চেষ্টা করে এসেছে। কিন্তু তাঁরা তো অটিস্টিক, অর্থাৎ তাঁদের ব্রেন কাজ করে অন্যভাবে। তাঁদের ব্যবহার, চালচলন তো আর পাঁচজনের মতো হবে না। যার সেন্সরি সমস্যা আছে, তাকে যদি জোর করে মানুষের হাতে হাত মেলানো শেখানো হয়, কানে ইয়ার প্লাগ পরতে না দেওয়া হয়, স্নায়ু নিয়ন্ত্রণের জন্য খানিকটা জোরে হাঁটতে দেওয়া বা হাতে ফিজেট কিছু রাখতে না দেওয়া হয়, তাহলে তার শরীরে আর মনে অত্যন্ত চাপ পড়ে।
স্বচ্ছ, নির্ভেজাল, যারা মিথ্যাচার করতে পারে না, অসততা বোঝে না, জটিলতা জানে না— যারা নিজের মনে থাকা প্রকৃতির মতো। পাখি, আকাশ, মেঘ, বৃষ্টির মতো। তাদের মেনে নিতে পারি না, তাদের মতো করে?
নিউরোইমেজিং গবেষণায় দেখা গেছে যে, অনেক অটিস্টিক ব্যক্তি যখন চোখে চোখ রেখে কথা বলেন, তখন তাদের মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর ফলে শরীরে অনিচ্ছাকৃতভাবে একটি ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ মানসিক চাপের প্রতিক্রিয়া শুরু হতে পারে, যা সাধারণ মানুষের বিপদে পড়লে হয়। এই প্রতিক্রিয়ার কারণে চোখে চোখ রেখে কথা বলা তাদের জন্য অস্বস্তিকর বা অত্যন্ত ক্লান্তিকর অনুভূত হতে পারে। তাই তারা অনেকসময় চোখে চোখ মিলিয়ে কথা বলেন না।
এঁদের মতে, ‘স্বাভাবিক মানুষদের’ই উচিত এই সমস্ত ব্যবহার মেনে নিয়ে, অটিস্টিক মানুষগুলোকে স্বীকার করে নেওয়া। প্রথা না মেনে চলা, এই ব্যবহারগুলো, তাদের ইচ্ছাধীন নয়, আর ওগুলো অটিজমের একটা বৈশিষ্ট্য— এই বৈশিষ্ট্যগুলো নিয়েই তারা। আর তাদের এই প্রাইড, এই দাবি আমরা স্বীকার করে নিতে পারব না কেন? ওদেরকে ওদের মতো করে গ্রহণ না করলে ওদের কত ক্ষতি হবে জানি না, আমরা তথাকথিত ‘স্বাভাবিক মানুষরাও’ কিন্তু হারাব।

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে, দেড় মিনিটের রিল দেখতে দেখতে আমাদের মস্তিষ্ক হারিয়ে ফেলছে মনসংযোগ। আমরা বই পড়তে পারি না, মানুষের কথা মন দিয়ে শুনতে পারি না, কোনও সুন্দর জায়গায় নিজেকে হারিয়ে ফেলার আগেই, অনেকদিন না দেখা বন্ধু আত্মীয়দের মুখের দিকে ভাল করে দেখার আগেই আমাদের হাতে উঠে আসে ফোন। সেলফি, গ্রুপি তুলতে থাকি। আমরা যেখানে থাকি সেখানে বাস করি? বাস করি হাতে ধরে রাখা চৌকো একটা স্ক্রিনে। কিন্তু আমরা ‘স্বাভাবিক’।
অটিস্টিক মানুষদের অনেকের মধ্যে আছে অসম্ভব গভীরতা। তারা অনেক দিকে মন দিতে পারেন না। কিন্তু যা জানেন তা এত গভীরে জানেন, আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমার মতো সাধারণ মানুষের কাছে তা কল্পনাতীত। কত কিছু তো মেনে নিই আমরা— অকল্পনীয় হিংসা, ধ্বংস, মিথ্যাচার, খারাপ প্রবৃত্তি— আর যে মানুষগুলো প্রকৃতির মতো— স্বচ্ছ, নির্ভেজাল, যারা মিথ্যাচার করতে পারে না, অসততা বোঝে না, জটিলতা জানে না— যারা নিজের মনে থাকা প্রকৃতির মতো। পাখি, আকাশ, মেঘ, বৃষ্টির মতো। তাদের মেনে নিতে পারি না, তাদের মতো করে?
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত