Generic selectors
Exact matches only
Search in title
Search in content
Post Type Selectors

‘চিত্রভানু’- কালিম্পং ও প্রতিমা ঠাকুর

Chitrabhanu
Bookmark (0)
Please login to bookmark Close
(Chitrabhanu)

ছোট দলে সংক্ষিপ্ত যাত্রা। তিলাবাড়ি থেকে দার্জিলিং; মাঝখানে একরাতের জন্য কালিম্পং। আর এখানেই ম্যাজিক। না, মরগান হাউসের ভূত-গপ্পো নয়; একেবারে জলজ্যান্ত রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। পঞ্চাশভাগ লোক জানলেও বাকি অর্ধশত জানেন না। কারণ গাইডেড ট্যুর-এ, এই বাড়িটার পাশেই যে পাইন ভিউ নার্সারি, সেটির উল্লেখ থাকলেও রথীন্দ্রনাথ-প্রতিমা দেবীর ‘চিত্রভানু’ বাড়িটির কোনও উল্লেখ নেই। আমার মেয়ে মধুজার ‘গুগল’-এর কৃপায় জানতে পেরেই একেবারে পা ছড়িয়ে বায়না জুড়ে দিলাম।

একে, আগের দিন বিকেলে তিলাবাড়ি থেকে কালিম্পং আসবার পথে রবি ঠাকুরের বারকয়েক এসে থাকা গৌরীপুর হাউস নামে সেই ঐতিহাসিক বাড়িটি দেখে এসেছি একেবারে হাউমাউ কেঁদে; ড্রাইভারকে দিতে হয়েছে বাড়তি টাকা; ফলে দ্বিতীয় বায়নাটি সফল হবে কি না, তখনও জানা নেই। ম্যাপ দেখে বুঝলাম, গাড়ি ছাড়া যে হেঁটে চলে যাব, সে উপায় নেই। কারণ, আমাদের আস্তানা মরগান হাউস থেকে ‘চিত্রভানু’ বাড়িটি অনেকটাই নিচে।


আরও পড়ুন: মেয়েদের গপ্পো-আড্ডা


উপায় করে দিল বন্ধু শীনা পাঁজা; সে তখন তার দাদুর তৈরি ‘তিস্তা ভিউ’ বাড়িতেই থাকতে এসেছে। শীনাকে ফোন করতেই সব সমাধান হয়ে গেল; কারণ ওই পথ মানে অটাশি রোড (Atashi Road) ধরেই আমাদের মিরিক যাত্রা। দলের সকলেই রাজি হলেন। মিনিট দশেকের ছাড় মেনে, শীনার সঙ্গে পথেই গলা মিলিয়ে, ‘চিত্রভানু’ ঘুরে দেখার প্রস্তাবে।

Chitrabhanu
ক্র্যাফটস ট্রেনিং সেন্টার

এটি বিশ্বভারতীর সম্পত্তি নয়। প্রতিমা দেবীর নামে লিজে জমি কিনে ১৯৪৩ সালে এই বাড়ি করেন রথীন্দ্রনাথ। এলাকাটির নাম গুগল বলছে ‘খাস মহল’। বাঁদিকে লম্বা রানওয়ের মতো বাঁধানো রাস্তার মুখে, লোহার এক গেটের ওপর লেখা ‘সৎ সঙ্গ’। আগে এখানেই ছিল ‘মঞ্জুলা’ নামে একটি বাড়ি, যেটির মালিক ছিলেন উত্তর কলকাতার হাতিবাগান নিবাসী এক বাঙালি। ঘিসিং-এর নেতৃত্বে বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই বাড়ির একমাত্র মেয়ে এবং আজীবন কালিম্পং-বাসী মণিলা দে অসামান্য একটি বই লিখে গিয়েছেন, যেখানে ছবির মতো আঁকা আছে ‘চিত্রভানু’ বাড়িটির কথা।

শীনার দাদু গণপতি পাঁজা এবং বাবা প্রখ্যাত ত্বক চিকিৎসক সদ্যপ্রয়াত সলিল পাঁজার বলা গল্পগুলোও আরও এক প্রামাণ্য সূত্র। বাপ-ঠাকুরদার আমল থেকে শুনে আসা শীনার ভাষ্যে জানলাম, কালিম্পং-এ সাহেবরা যে বিশাল একটা এলাকা গড়ে তোলে, সেটি ছিল শুধুমাত্র royal aristocrats-দের আস্তানা। ১৯৪০ সাল নাগাদ ‘ব্রিটিশ ডেভলপমেন্ট’ নামের সরকারি ফতোয়ায় আরও কিছু জমির লিজ বিনিময়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ, কালিম্পং তখন ‘foreigner’s land’ হিসেবে চিহ্নিত। স্বদেশিদের সঙ্গে আপস করতেই তারা তখন সিদ্ধান্ত নিল সাহেবি অঞ্চলের বাইরে কিছু জমি এমন লোকদের লিজ দিতে যাঁরা রাজা-রাজড়া না হলেও, সম্পন্ন ভারতীয় বা তাঁদের ভাষায় professionals।

Chitrabhanu
বাড়ির প্রধান ফটক

শীনাদের পারিবারিক বন্ধু এবং কালিম্পঙের প্রতিবেশী মণিলা দে ছিলেন সলিল পাঁজার সমসাময়িক। তাঁর বাবার মালিকানায় ‘মঞ্জুলা’ বাড়িটিই এই অঞ্চলের সবচেয়ে পুরনো বাড়ি। সেই বাড়িটিতেই ঘিসিং-দল পরে আগুন ধরিয়ে দেয়; এবং হাত বদল হয়ে সেখানেই গড়ে ওঠে সৎ-সঙ্গীদের আশ্রম। শীনার দাদু তাঁর ‘তিস্তা ভিউ’ বাড়িটি করেন ১৯৪০ সালে, যেটিতে শীনা এখন থাকে। এখানে, একমাত্র এই বাড়ি থেকেই তিস্তা, কাঞ্চনজঙ্ঘা এবং নাথুলা পাস একযোগে দেখা যায়।

আরও কিছু বাঙালিদের ‘বাঙালি’ নামের বাড়ি এখনও আছে। আছে, গ্রাহাম হোমস-এ বড় হওয়া ব্রিটিশজাত নেপালি মায়েদের অরফ্যান বাচ্চাদের নাতি নাতনিরা। সে সবের ইতিহাস পাওয়া যায় তাঁদের লেখা স্মৃতি কথা এবং ব্লগ-এ। রবীন্দ্রনাথ কালিম্পঙের প্রেমে পড়েছিলেন। ফলে তাঁর জীবদ্দশাতেই নাকি পুত্রবধূ প্রতিমা দেবীর নামে এই জমি লিজ নেওয়া হয়। বাবার ভাললাগার কথা মনে রেখেই রথি ঠাকুর এই বাড়িটি করেন, ১৯৪৩ নাগাদ এবং এর নাম দেন ‘চিত্রভানু’। পাথরের ফলকে লেখা ২২শে শ্রাবণ ১৩৫০। রবীন্দ্রনাথ মারা যাবার দু’বছর পরে এবং শ্রাবণের সেই ২২ তারিখই।

মনিলা দে’র সম্পর্কে শীনার গল্প, সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর সম্পর্কে নানা আলোচনা আমাকে তাড়িত করল, ‘চিত্রভানু’ নিয়ে এই লেখাটি শেষ করার আগে, Notion Press থেকে ২০১৮-তে প্রকাশ পাওয়া-Unforgettable Kalimpong— মনিলা দে’র লেখা বইটি যোগাড় করে পড়ে ফেলার। কী যে লাভ হল বলবার নয়।

Chitrabhanu
মাটি ছোঁয়া থাউজেন্ড ফিঙ্গারস কলা গাছ

The Master Craftsman: Page 213-218; এমন বর্ণনা যে মনে হয় ঠিক এমনটাই তো দেখে এলাম। তবে যেগুলি দেখিনি বা জানাই হত না কোনওদিন, সেগুলি পেলাম এই বইটিতে। গা ছমছম বিবরণে জানলাম যে, ‘চিত্রভানু’ করার সময় মাটি কেটে ভিত খুঁড়তেই পাওয়া গেল, সাত-সাতটি গোটা কঙ্কাল। তখনই জানা গেল যে, একসময় এটি ছিল এক কবরস্থান যা বহুদিনই পরিত্যক্ত; এবং সেটাকেই ‘ডেভেলপমেন্টের’ জন্য চিহ্নিত করেছে কালিম্পঙের ব্রিটিশ প্রশাসন। সেই কঙ্কালগুলিকে আরও গভীর গর্ত করে পুনরায় কবর দিয়ে, সেখানেই ‘চিত্রভানু’ নির্মাণ করে ‘রথিবাবু’ তা উপহার দিলেন, স্ত্রী প্রতিমা দেবীকে; এবং রিটার্ন গিফট হিসেবে, শান্তিনিকেতনে রথীন্দ্রনাথের স্টুডিয়োটির নামানুসারে স্ত্রী প্রতিমা দেবী এর নাম রাখলেন ‘চিত্রভানু’।

মনে রাখতে হবে যে ‘ভানু’ শব্দটি নেপালিদের খুব প্রিয়। মণিলা লিখেছেন, গৃহপ্রবেশের দিন সেই অসামান্য নির্মাণকে ‘রথিবাবু’ সকল আমন্ত্রিত অতিথিদের এমন ঘুরে ঘুরে দেখালেন যে, কিশোরী মণিলার মনে হল, তা যেন এক ‘guided tour of his very original magnificient house’। এ বাড়ি নির্মাণের সঙ্গে আরও এক ঐশ্বর্যের কথা যা মণিলা লিখেছেন তা হল, এই বাড়িটিতে রথি-প্রতিমার জীবন যাপন। বৈভবের সঙ্গে রুচি এবং ইউরোপীয় চলনের সঙ্গে স্বদেশিয়ানার মিশেলে টেগোরিয়ানার জাদু। স্বল্পবাক রথিবাবুর ‘presesence’-টাই ছিল ‘participation’। সারাদিন ধরে যে কাঠের কাজে মগ্ন থাকতেন তিনি, তা দেখে মণিলার মনে হয়েছিল, ‘he wrote his poems on woods………had lifelong romance with woods.’ আর লিখেছেন মিতভাষী প্রতিমা দেবীর কথা, যিনি অন্তর এবং বাহির মিলিয়ে ছিলেন এক অপার্থিব মনের মানুষ।

Chitrabhanu
রথি ঠাকুরের নকশা করা কাচের শার্সি

মণিলার বইটি পড়তে-পড়তে আমি যেন আর একবার ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম, সদ্য দেখে আসা লাল মেঝের সেই খোলা উঠোনে, যেখানে মেঘ এসে হিম লেপে দিয়ে যায়; ভেজা ভেজা নরম মেঘের পালক দিয়ে। সেইসব গাছগুলির নিঃশ্বাসে এখনও সেই সতেজতা, যেখানে রথিবাবুর রেখে যাওয়া বাগানের নক্সায় মালিরা কাজ করে চলেছে একমনে; লতানে গোলাপের ঝাড়গুলি বেঁধে রাখছে আদরে; ধুলোবিহীন করে ঝেড়ে রাখছে অসামান্য সব আসবাব এবং ব্যবহার্য।

এখন যাকে স্মারক মনে হচ্ছে, তার অন্তরে আছে এই বাড়িতে বহু মানুষের আনাগোনা এবং রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার নিত্যচর্যা। দীর্ঘ সময় ধরে এই বাড়িতে তাঁদের আসা-যাওয়া এবং থাকা এমনই এক বিভা ছড়িয়ে দিয়েছিল যে, আজও যেন তা অমলিন। মণিলার বইটি হাতে পেয়ে তৃপ্ত হল, মিনিট দশেকের মধ্যে দেখা শেষ করে ‘চিত্রভানু’ থেকে আমার সেই অনিচ্ছুক বেরিয়ে আসবার অতৃপ্তি।

তবে মণিলার বইতে যা নেই তা হল, চিত্রভানুতে প্রতিমদেবীর একলা জীবন। কারণ ইতিমধ্যেই ভাঙন আসে তাঁদের দাম্পত্যে। রথি ঠাকুর তাঁর জীবনকে বিচ্ছিন্ন করে নেন বিশ্বভারতী, স্ত্রী প্রতিমা এবং তাঁর সংসার ধর্মের কাছ থেকেও। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর প্রথম উপাচার্য হিসেবে মনোনীত হয়ে, প্রায় এক দশক সে কাজে আসীন থেকেও, নিজের জীবনে তিনি স্বাগত জানালেন এক নতুন বাঁককে। বিবাহিত সঙ্গিনী এবং তাঁর মেয়েকে নিয়ে চলে গেলেন দেরাদুন। গড়ে তুললেন ‘মিতালী’ নামে আরও এক আবাস; বিবাহবহির্ভূত তাঁর প্রেমের সংসার।

Chitrabhanu
রথি ঠাকুরের করা কাঠের বিভিন্ন কাজ

১৯৫৩ সালটি চিহ্নিত হয়ে রইল প্রতিমাদেবীর সঙ্গে তাঁর যৌথতা পাকাপাকিভাবে ভেঙে যাওয়ার কাল হিসেবেও। রথি ঠাকুরের জীবনের এই অন্তিম পর্বের ইতিহাস নিয়ে নানারকম লেখালেখি আছে। তা প্রায় কুৎসা এবং পরকীয়াজনিত সঙ্কটের প্রতিলিপি। সেগুলি পড়তে আগ্রহী হইনি বলে সঠিক জানি না, কালিম্পঙের ‘চিত্রভানু’তে তিনি আর এসেছিলেন কি না। ১৯৬১ সালে দেরাদুনেই তাঁর জীবনাবসান হয়; ফলে ১৯৫৩ সালের পর কেমন নাড়া পড়ল ‘চিত্রভানু’র যাপনে এবং প্রতিমা দেবীর একার জীবনে সে ইতিহাসও খুঁজে দেখার দায় ঠেকছে।

বিশ্বভারতীরই এক অধ্যাপকের স্ত্রীর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে, ঘর ছাড়েন রথীন্দ্রনাথ; তবে এ তো শুধু নিজের ঘরটুকু ছেড়ে বেরিয়ে আসা নয়, রবীন্দ্রনাথ নামক এক প্রতিষ্ঠানেরও জিম্মাদার তিনি। ফলে, নড়ে উঠল খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। ভাল করে খোঁজ পেতে কেন্দ্রীয় প্রশাসন সক্রিয় হল একথা জানতে যে, কাদের সঙ্গে নিয়ে এবং ঠিক কোন ঠিকানায় চলে গেলেন রথীন্দ্রনাথ; কোনও উইল করে গেলেন কি না! কারণ সে সময় তাঁর স্ত্রী প্রতিমাদেবী ছিলেন কালিম্পঙয়ে ‘চিত্রভানু’ বাড়িতে, এবং বোন মীরা ছিলেন কলকাতায়।

সরকারি নথি Selected Works of Jawaharlal Nehru Second Series, Vol. 69 (pp. 501-502) বলছে —- 

From Prime Minister.

 Shri Rathindranath Tagore, son of Rabindranath Tagore, had fallen out with his wife[ and family and, indeed, with his own associates at Santiniketan. His wife is now at Kalimpong. His sister[ is in Calcutta. The persons living with him in Dehra Dun are in no way related to him and thus have no legal position. 

2. It is not known if Rathindra Babu has left any will or not. He has many valuable paintings, manuscripts, etc., of his father. We are anxious that these should not disappear and get into wrong hands. 

3. Shri Krishna Kripalani and his wife, Nandita Kripalani, and Dr Amir Ali are going by car to Dehra Dun very early tomorrow morning, reaching there probably about 7 o’clock. All these three have been intimately associated with Santiniketan and Visva-Bharati. Shrimati Nandita Kripalani is the niece of Rathindranath Tagore and thus granddaughter of poet Tagore. 

Chitrabhanu
লতানে গোলাপের ঝাড়

4. I do not know if any person is coming from Santiniketan to Dehra Dun. Anyhow it will take some time in reaching there. I should like the district authorities to give such assistance as may be needed to Mr and Mrs Kripalani. 

5. If possible, an enquiry might be made if Rathindranath Tagore has left a will. It would be desirable to collect valuable papers, paintings, etc., and put them under lock so that they may not disappear. 

6. All this should be done without any offence to anyone and in a friendly way. 

7. Perhaps it might be desirable for the City Magistrate to visit the house this evening and find out about the Will. Also, about the safe custody of valuable papers, etc., left by Rathindra Babu.

নেহেরু পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে নৈকট্য গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তি ছিল বন্ধুত্ব এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতি নেহেরুর অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। কিন্তু পরবর্তীকালে নেহেরু-রথীন্দ্রনাথের সম্পর্কে এল অনাস্থা, অনুরোধ এবং তা মানার কড়া নির্দেশ।

ঘটনা যে এখানেই থেমেছে তা নয়। ১৯৬১, রথি ঠাকুরের মৃত্যুর পর, প্রতিমা দেবীর পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে সাহায্য করেছে নেহেরু প্রশাসন, ঠাকুর পরিবারের স্মারক এবং রথি ঠাকুরের ব্যবহার্যগুলি, দেরাদুনের ‘মিতালী’ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে আনার ব্যাপারে। নেহেরু সংরক্ষণশালার নথিপত্র ঘাঁটলেই পাওয়া যাচ্ছে, বিশ্বভারতী ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কিত নানা চিঠি যা বিনিময় হয়েছিল নেহেরু, রথীন্দ্রনাথ এবং প্রতিমাদেবীর মধ্যে। নেহেরু পরিবারের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের যে নৈকট্য গড়ে উঠেছিল, তার ভিত্তি ছিল বন্ধুত্ব এবং রবীন্দ্রনাথের প্রতি নেহেরুর অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালবাসা। কিন্তু পরবর্তীকালে নেহেরু-রথীন্দ্রনাথের সম্পর্কে এল অনাস্থা, অনুরোধ এবং তা মানার কড়া নির্দেশ। আর তা যেহেতু এল খোদ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে, সেখানে তাই সক্রিয় হল প্রশাসন। কারণ, ততদিনে ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথ এবং বিশ্বভারতী দু’টিই হয়ে উঠেছে লব্ধপ্রতিষ্ঠ দুই প্রতিষ্ঠান এবং একইসঙ্গে যা ভারতবর্ষের জাতীয় সম্পদ।

রবীন্দ্রনাথের সমস্ত আঁকা, লেখা এবং যাবতীয় ব্যবহার্যের একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে রথীন্দ্রনাথকে চিহ্নিত করেনি নেহেরু প্রশাসন তথা কেন্দ্রীয় সরকার। সেগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও জারি করেছে প্রশাসন। পুত্র হিসেবে রবীন্দ্র-তনয় রথি ঠাকুর তখনও সম্ভবত সম্যক বুঝতে পারেননি যে, প্রয়াণের পর পিতা রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁর ভূমিকা কী এবং কতটা। ফলে সরকারি স্তরে প্রশাসনিক সক্রিয়তার কারণে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক বৈরীপক্ষ।

(পরের পর্বে সমাপ্য)

মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

Picture of মন্দার মুখোপাধ্যায়

মন্দার মুখোপাধ্যায়

আড্ডা আর একা থাকা,দুটোই খুব ভাল লাগে। লিখতে লিখতে শেখা আর ভাবতে ভাবতেই খেই হারানো।ভালোবাসি পদ্য গান আর পিছুটান। ও হ্যাঁ আর মনের মতো সাজ,অবশ্যই খোঁপায় একটা সতেজ ফুল।
Picture of মন্দার মুখোপাধ্যায়

মন্দার মুখোপাধ্যায়

আড্ডা আর একা থাকা,দুটোই খুব ভাল লাগে। লিখতে লিখতে শেখা আর ভাবতে ভাবতেই খেই হারানো।ভালোবাসি পদ্য গান আর পিছুটান। ও হ্যাঁ আর মনের মতো সাজ,অবশ্যই খোঁপায় একটা সতেজ ফুল।

4 Responses

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Subscribe To Newsletter

কথাসাহিত্য

হেমেন্দ্রকুমার রায়
বিতস্তা ঘোষাল
নীলাঞ্জন দরিপা

সংস্কৃতি

আহার

অমৃতা ভট্টাচার্য
ইন্দ্রনাথ রুদ্র
অমৃতা ভট্টাচার্য

বিহার

কলমকারী

ফোটো স্টোরি

উপন্যাস

বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
বিতস্তা ঘোষাল
[adning id="384325"]
[adning id="384325"]

Banglalive.com/TheSpace.ink Guidelines

Established: 1999

Website URL: https://banglalive.com and https://thespace.ink

Social media handles

Facebook: https://www.facebook.com/banglaliveofficial

Instagram: https://www.instagram.com/banglalivedotcom

Twitter: @banglalive

Needs: Banglalive.com/thespace.ink are looking for fiction and poetry. They are also seeking travelogues, videos, and audios for their various sections. The magazine also publishes and encourages artworks, photography. We however do not accept unsolicited nonfiction. For Non-fictions contact directly at editor@banglalive.com / editor@thespace.ink

Time: It may take 2-3 months for the decision and subsequent publication. You will be notified. so please do not forget to add your email address/WhatsApp number.

Tips: Banglalive editor/s and everyone in the fiction department writes an opinion and rates the fiction or poetry about a story being considered for publication. We may even send it out to external editors/readers for a blind read from time to time to seek opinion. A published story may not be liked by everyone. There is no one thing or any particular feature or trademark to get published in the magazine. A story must grow on its own terms.

How to Submit: Upload your fiction and poetry submissions directly on this portal or submit via email (see the guidelines below).

Guidelines:

  1. Please submit original, well-written articles on appropriate topics/interviews only. Properly typed and formatted word document (NO PDFs please) using Unicode fonts. For videos and photos, there is a limitation on size, so email directly for bigger files. Along with the article, please send author profile information (in 100-150 words maximum) and a photograph of the author. You can check in the portal for author profile references.
  2. No nudity/obscenity/profanity/personal attacks based on caste, creed or region will be accepted. Politically biased/charged articles, that can incite social unrest will NOT be accepted. Avoid biased or derogatory language. Avoid slang. All content must be created from a neutral point of view.
  3. Limit articles to about 1000-1200 words. Use single spacing after punctuation.
  4. Article title and author information: Include an appropriate and informative title for the article. Specify any particular spelling you use for your name (if any).
  5. Submitting an article gives Banglalive.com/TheSpace.ink the rights to publish and edit, if needed. The editor will review all articles and make required changes for readability and organization style, prior to publication. If significant edits are needed, the editor will send the revised article back to the author for approval. The editorial board will then review and must approve the article before publication. The date an article is published will be determined by the editor.

 

Submit Content

For art, pics, video, audio etc. Contact editor@banglalive.com