Gaganendranath Tagore
ঠাকুরবাড়ির সন্তান হয়েও তিনি ঠাকুরবাড়ির শিল্পধারা অনুকরণ করেননি। ব্যঙ্গচিত্র থেকে কিউবিজম—বারবার নিজের শিল্পভাষা বদলেছেন। তিনি গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর।
১৮৬৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্ম। গগনেন্দ্রনাথ ছিলেন গুণেন্দ্রনাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ পুত্র, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দাদা এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো। তবে শিল্পের জন্য কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেননি তিনি।
জলরঙের শিল্পী হরিনারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে প্রশিক্ষণ নিয়ে শুরু হয় তাঁর শিল্পচর্চা। ১৯০৭ সালে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে যৌথভাবে প্রতিষ্ঠা করেন ‘ইন্ডিয়ান সোসাইটি অফ ওরিয়েন্টাল আর্ট’। ১৯০৬ থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে জাপানি ও দূরপ্রাচ্যের শিল্পরীতি গভীরভাবে আত্মস্থ করেন।
রবীন্দ্রনাথের ‘জীবনস্মৃতি’র অলঙ্করণেও তাঁর রীতির ছাপ দেখা যায়। ‘চৈতন্য’ ও ‘পিলগ্রিম’ সিরিজে তৈরি করেন নিজস্ব শৈলী। তবে এরপরই আসে বড় পরিবর্তন— বেঙ্গল স্কুলের পুনরুজ্জীবনবাদী ধারা ছেড়ে বেছে নেন ব্যঙ্গচিত্র।
ভিডিও: অনন্য অরুন্ধতী: জন্মশতবর্ষে ফিরে দেখা (১৯২৪-১৯৯০)
১৯১৭ সাল থেকে তাঁর ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত হতে থাকে ‘দ্য মডার্ন রিভিউ’-এ। Play of Opposites’, ‘Realm of the Absurd’ এবং ‘Reform Screams’-এর মতো গ্রন্থে লিথোগ্রাফের মাধ্যমে তিনি বিদ্ধ করেন সমাজের ভণ্ডামি ও অসঙ্গতিকে।
তারপর, ১৯২০ থেকে ১৯২৫—আরও এক নতুন পরীক্ষা। গগনেন্দ্রনাথ ভারতীয় শিল্পে কিউবিজম ব্যবহার শুরু করেন।
আকার, আলো, ছায়া ও দৃষ্টিকোণকে ভেঙে তৈরি করেন এক সম্পূর্ণ নিজস্ব আধুনিক ভাষা। ১৯২৫-এর পর তাঁর শিল্পে দেখা যায় আরও জটিল উত্তর-কিউবিস্ট রূপ।
শুধু চিত্রশিল্পী বা কার্টুনিস্ট নন—গগনেন্দ্রনাথ ছিলেন লেখকও। লুইস ক্যারলের ঢঙে লিখেছিলেন শিশুতোষ বই ‘ভোঁদড় বাহাদুর’।
১৮৬৭ থেকে ১৯৩৮— মাত্র একটি জীবনে গগনেন্দ্রনাথ বারবার বদলেছেন নিজের শিল্পকে। শুধু ঠাকুরবাড়ির শিল্পী নন—তিনি সত্যিকার অর্থেই ভারতীয় আধুনিক শিল্পের এক অগ্রপথিক।