(Jolke Chol 23)
মা, ও মা বলে মোহনার গা ঘেঁষে বসল রাই।
মোবাইলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কিছু দেখতে ব্যস্ত ছিল মোহনা। রাই আবার ডাকল— মা…
– হুঁ, বল
– রাখো না ফোনটা, বলে মায়ের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে রাই পাশে রেখে দিল। সারাদিন বাদে বাড়ি ফিরেও আমার জন্য তোমার এতটুকু সময় নেই। নয় কারওর সঙ্গে কথা বলছ, আর নয়তো ফেসবুক, চ্যাট এসবে ব্যস্ত।
মেয়ের মুখের দিকে তাকাল মোহনা— একটা জরুরি কাজ করছিলাম রাই। মানুষের সঙ্গে ফালতু বকার সময় নেই আমার।
আরও পড়ুন: জলকে চল: পর্ব – (১) (২) (৩) (৪) (৫) (৬) (৭) (৮) (৯) (১০) (১১), (১২) (১৩), (১৪) ,(১৫), (১৬), (১৭), (১৮), (১৯), (২০), (২১), (২২)
– আমি তোমার কাছে ফালতু? আমার জন্য তোমার সময় নেই?
– আমি কোথায় এ কথা বললাম রাই? বিরক্তির সুরে মোহনা বলল। কী বলছিলে, সেটা না বলে উলটোপালটা কথা কেন বলছ?
– বেশ, আমার কথা তোমার উলটোপালটা মনে হলে আমি চলে যাচ্ছি।
মোহনার রাগ হচ্ছিল রাইয়ের এই ধরনের কথায়। সে নিজের রাগ সংযত করে বলল— তোর পরীক্ষা কবে থেকে?
– এই তো রুটিন দিয়েছে। এক সপ্তাহ পরে।

– পড়াশোনা করছিস?
– তোমার কি মনে হয়, না পড়লে এমনি এমনি আমি ফার্স্ট ক্লাস পেয়েছি?
মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে মাথাটা বুকের কাছে টেনে নিয়ে মোহনা বলল— দিন রাত চুল এলো করে ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগে তোর? চুল সব পড়ে যাবে তো! বিকেল হলে বাঁধতে পারিস না?
– চুল বাঁধলে মাথায় ব্যথা করে।
– আমি জানতাম টেনে চুলে বিনুনি বা পনিটেল করলে চুলের গোড়া মজবুত হয়।
সুন্দরবন থেকে এসেছিল। আমাদের পাড়ায় কারওর বাড়িতে কাজ করার জন্য। সেই বাড়িটায় একটা ছেলে ওকে খুব বিরক্ত করত। একদিন দুপুরে ওকে জড়িয়ে ধরেছিল। আর ও চিৎকার করে উঠেছিল ভয়ে।
– তুমি বাঁধতে চুল ছোটবেলায়?
– হ্যাঁ, রোজ। নইলে মা যা বকত। এলো চুলে সন্ধের পর ঘুরলে ভূতে ধরে বলত মনি।
– মাসি তোমাদের অনেকদিনের পুরনো?
– হ্যাঁ। আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন থেকে মনি।
– তোমার থেকে বড় না ছোট?

– বড়ই হবে। সুন্দরবন থেকে এসেছিল। আমাদের পাড়ায় কারওর বাড়িতে কাজ করার জন্য। সেই বাড়িটায় একটা ছেলে ওকে খুব বিরক্ত করত। একদিন দুপুরে ওকে জড়িয়ে ধরেছিল। আর ও চিৎকার করে উঠেছিল ভয়ে। সেই কাকিমা নিজের ছেলেকে বাঁচাতে মনিকেই বাড়ি থেকে বের করে দিল। তোর দিদুন তখন স্কুল থেকে ফিরছিল। মনিকে ওভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে দেখে মা জিজ্ঞেস করল— কী হয়েছে? তখন মনি মাকে বলল যা যা ঘটেছে। মা আর কথা না বাড়িয়ে বাড়ি নিয়ে চলে এল। সেই থেকে মনি আমাদের বাড়িতে।
– কিন্তু এখন তো মনি মাসি আলাদা বাড়িতে থাকে।
– হ্যাঁ, সে তো বিয়ে হওয়ার পর সব মেয়েই আলাদা বাড়িতেই থাকে। আমিও যেমন এখানে।
মা…আ… বলে একটু চেঁচিয়ে উঠল রাই। একটু থেমে বলল— মা, আমি কিন্তু শিবকে কোনও প্রতিশ্রুতি দিইনি যে, বিয়ে করব তাকেই। আমরা একটা রিলেশনশিপে আছি। ভাল বন্ধু। কিন্তু বিয়ের কথা ভাবার সময় এখনও হয়নি।
রাই মায়ের কথা শুনে কিছু একটা ভাবল। তারপর বলল— আমি কিন্তু বিয়ের পরেও কোথাও যাব না। এখানেই থাকব তোমার আর আম্মার সঙ্গে।
– তাহলে বুঝি তোর বর এখানে এসে থাকবে তার মা-বাবাকে ছেড়ে?
– সে যদি না আসে, আসবে না। আমি এখানে থাকব, আর সে ওখানে থাকবে। শুধু উইকএন্ড-এ আমরা এক সঙ্গে কোথাও কাটাব।
– তাহলে আর বিয়ে করে কী লাভ! শিব মনে হয় এই শর্তে রাজি হবে না।
– মা…আ… বলে একটু চেঁচিয়ে উঠল রাই। একটু থেমে বলল— মা, আমি কিন্তু শিবকে কোনও প্রতিশ্রুতি দিইনি যে, বিয়ে করব তাকেই। আমরা একটা রিলেশনশিপে আছি। ভাল বন্ধু। কিন্তু বিয়ের কথা ভাবার সময় এখনও হয়নি।
– সেটা অবশ্য ঠিক। আগে কেরিয়ার, বাকি সব পরে।
– হ্যাঁ। তাছাড়া শিব হয়তো নেক্সট ইয়ার ইউএসএ চলে যাবে হায়ার স্টাডি করতে। তখন এমনিও এই সম্পর্ক থাকবে কি না, তার কোনও গ্যারান্টি নেই।
– আর তুই? বাইরে যাবি না দেশেই থাকবি?
– আমি আপাতত দেশেই থাকব। মিডিয়া সায়েন্স নিয়ে পড়ব।
মোহনা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছিল। মেয়েটা এতকিছু ভেবে নিয়েছে তাকে ছাড়াই, ভেবে অবাক হচ্ছিল। সে তো নিজে সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি, কী পড়া উচিত তার। মা ঠিক করেছিল সায়েন্স।
– এটা পড়লে সত্যি খুব ভাল হবে প্রকাশনীর জন্য। মোহনা বলল।
– নো ওয়ে মা। আমি বইয়ের বিজনেসে আসব না। আমার একটা অন্য প্ল্যান। তবে আমি আরেকটা বিষয়ও ভেবে রেখেছি। সেটারও এক্সাম দেব।
– কী? মোহনা মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে উত্তরের অপেক্ষা করছিল। মেয়েটা এতকিছু ভেবে নিয়েছে তাকে ছাড়াই, ভেবে অবাক হচ্ছিল। সে তো নিজে সিদ্ধান্তই নিতে পারেনি, কী পড়া উচিত তার। মা ঠিক করেছিল সায়েন্স। বাবা ভেবেছিল কমার্স। শেষ অবধি ইকোনমিক্স নিয়ে পড়ল। কিন্তু সে নিজে চেয়েছিল অ্যানথ্রোপলজি নিয়ে পড়তে। তার ইচ্ছের দাম কেউই দেয়নি।

প্রমিত ঠাট্টা করত তার ইচ্ছের কথা শুনে— তুমি তাহলে হাজার হাজার হাজার বছরের পুরনো জিনিস নিয়ে কাজ করবে। তোমার গা দিয়ে সোঁদা স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বেরবে।
– কেন? গন্ধ বেরোবে কেন?
– আরে অত বছরের সব পুরনো জিনিস খোঁড়াখুড়ি করবে, কঙ্কাল, মমি, ধ্বংসাবশেষ… দেখো বাবা শেষে তুমি নিজেই প্রত্নতাত্ত্বিক বিষয় হয়ে যেও না।
– তুমি দেখেছ নাকি কাউকে এমন?
– পাগল? তবে গল্পে পড়েছি এসব নিয়ে বেশি যারা কাজ করে, তারা হয় শেষ জীবনে পাগল হয়ে গেছে, নয় নিজের বাড়ির নিচে কী আছে দেখার জন্য শাবল দিয়ে গর্ত খুঁড়েছে।
তোমার ইচ্ছে হলে তুমি সামলিও। এসবের মধ্যে আমাকে জড়াবে না। আমার সঙ্গে থাকতে গেলে মন এখন থেকে তৈরি করে নাও। বিদেশেই থাকতে হবে।
– যতসব গাঁজাখুড়ি গল্প। এসব পাও কোথা থেকে? মোহনা রেগে জানতে চেয়েছে প্রমিতের থেকে।
– আরে আমাদের বাড়িতে হাজার হাজার বই, বইয়ের মধ্যেই ডুবে আছি আমরা। চারদিকে খালি বই আর বই।
সেই চারদিকে শুধু জল আর জল, দেখে দেখে চিত্ত আমার হয়েছে বিকল-এর মতো আমিও জন্মে থেকে খালি বই দেখে যাচ্ছি।
– এরপর তো তুমিই মালিক হবে। তখন আরও দেখতে পাবে।
– তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে? প্রমিতের হঠাৎ এই কথার মানে বোধগম্য হল না মোহনার। সে জানতে চাইল—
এতে মাথা খারাপের কী দেখলে! নিজেদের ব্যবসা নিজে সামলাবে না তো কে সামলাবে?
– সে গুড়ে বালি। আমি বিদেশে চলে যাব। এসব বইয়ের ব্যবসা আমার দ্বারা হবে না।
– কিন্তু তুমি বাইরে চলে গেলে এগুলো কে সামলাবে?
– তোমার ইচ্ছে হলে তুমি সামলিও। এসবের মধ্যে আমাকে জড়াবে না। আমার সঙ্গে থাকতে গেলে মন এখন থেকে তৈরি করে নাও। বিদেশেই থাকতে হবে।
মন পাকাপাকিভাবে ঠিক করার আগেই দুই বাড়ি মিলে বিয়ে দিয়ে দিল দু’জনের। নিরুপায় মোহনা স্বামীর সঙ্গে পাড়ি দিল বহু দূরে। অচেনা পরিবেশ, ভাষা, অভ্যাসগুলোও ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছিল, অনেক বেশি প্রোটোকল মানতে গিয়ে নিজস্ব যে স্বাধীন সত্তা, তাই হারিয়ে যেতে বসেছিল।
মেয়ের মুখে কথাটা শুনে একটু চমকে গেল মোহনা। মেয়েও কি তাহলে বাবার মতোই ভাবছে! বুকটা হঠাৎ করে কেমন করে উঠল তার। সে আলতো স্বরে বলল— ক্যাট দিবি?
প্রমিতই তখন তাকে এমবিএ করতে বলেছিল বাড়িতে বসে না থেকে। এই একটি কাজ তাকে বাঁচিয়ে দিল বদ্ধ জীবনে হারিয়ে যাওয়ার থেকে।
– ও মা শুনছ আমি কী বলছি?
রাইয়ের ডাকে সম্বিৎ ফিরে পেল মোহনা। হুঁ, শুনছি। বল।
– আমি ভেবেছি অল ইন্ডিয়া জয়েন্ট দেব।

– কী বিষয়ে? মেয়ের মুখে কথাটা শুনে একটু চমকে গেল মোহনা। মেয়েও কি তাহলে বাবার মতোই ভাবছে! বুকটা হঠাৎ করে কেমন করে উঠল তার। সে আলতো স্বরে বলল— ক্যাট দিবি?
রাই বলল— না।
– তুই এম এ করবি না?
– না। আমার ইচ্ছে ভবিষ্যতে রাজনীতিবিদ হব।
– রাজনীতিবিদ?
– হ্যাঁ। তারাই দেশ চালায়।
– আমি জানতাম দেশ চালায় আমলারা। তারাই বুদ্ধি দেয় নেতাদের।
– কে বলল এ কথা তোমায়?
– রাই তোর মা মূর্খ নয়। মোহনা হেসে বলল।
কিন্তু পলিটিশিয়ান আর ব্যু্রোক্র্যাটের মধ্যে রেসপেক্ট অনেক বেশি নেতাদের। এমনকি ব্যু্রোক্র্যাটরাও তাঁদের তেলিয়ে চলে। দেখো না কেমন জুতোটা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়, তারা মন্ত্রীদের পায়ের দিকে।
– জানি মা। কিন্তু পলিটিশিয়ান আর ব্যু্রোক্র্যাটের মধ্যে রেসপেক্ট অনেক বেশি নেতাদের। এমনকি ব্যু্রোক্র্যাটরাও তাঁদের তেলিয়ে চলে। দেখো না কেমন জুতোটা পর্যন্ত এগিয়ে দেয়, তারা মন্ত্রীদের পায়ের দিকে। এই দেখো আমি বেশ নেতা। আর তুমি হোম সেক্রেটারি। আমি বললাম, এই আজ কতজনকে সাইকেল দেওয়া হয়েছে? তুমি বললে— ম্যাডাম একশো জন।
তুমি সঙ্গে সঙ্গে বলবে…
মেয়ের বলার ভঙ্গি দেখে হেসে উঠল মোহনা— আমি কী বলব?
তুমি বলবে— ‘এ কে রে? তোর বাড়ির কেউ পেয়েছে? না, পায়নি তো! তাহলে সংখ্যাটা কম বলে আমার প্রেস্টিজ পাংচার করতে চাইছিস কেন রে? শোন সংখ্যাটা হল পাঁচ হাজার।’
– কিন্তু ম্যাডাম, ছাত্রদের বাড়ির লোক তো জানে, তাদের ছেলেরা পায়নি।
– তুই দেখতে গেছিস কে জানে না জানে? আর এক স্কুলে তো নয়। তুই জেলা ধরে কথা ভাব। আর সেভাবেই রিপোর্ট তৈরি কর।
মোহনা হেসে উঠল রাইয়ের বলার ভঙ্গিতে। সে বলল—
– বুঝলাম। কিন্তু তাহলে ল নিয়ে পড়লেই পারতি। ক্রাইম করলেও আইনের ফাঁকফোকর জেনে করতিস।
– ছি! মা! পলিটিশিয়ানরা জনগণের দ্বারা ইলেক্টেড অ্যান্ড সিলেক্টেড। ডেমোক্রাটিক কান্ট্রিতে এটাই প্রধান স্তম্ভ। তারা খামোখা ক্রাইম করবে কেন? পাবলিকদের ভালর জন্যই নেতাদের রাজনীতিতে আসতে হয়।
ইন্টারন্যাশনাল হলে সব কটা দল চাইবে আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিই। আমার হাতে অপশন থাকবে চুজ করার। তোমার মেয়ের হেব্বি বুদ্ধি মা। চুলের ডগায় ডগায় কিলবিল করে। তুমি এত বুঝবে না।
– তাহলে তুই জনগণের ভালর জন্য রাজনীতি করবি?
– ইয়েস মাম্মি। তার আগে নিজের ব্র্যান্ড বানিয়ে ‘ভোগ’ এর ফ্রন্ট পেজে মডেল হিসেবে আসব।
– একেবারে ‘ভোগ’-এ?

-হ্যাঁ। ইন্টারন্যাশনাল হলে সব কটা দল চাইবে আমি তাদের সঙ্গে যোগ দিই। আমার হাতে অপশন থাকবে চুজ করার। তোমার মেয়ের হেব্বি বুদ্ধি মা। চুলের ডগায় ডগায় কিলবিল করে। তুমি এত বুঝবে না।
– তাই তো দেখছি। কিন্তু চুল না বাঁধলে সব বুদ্ধি চুলের ডগা দিয়ে নেমে যাবে। আর উকুন রক্ত চুষে সব মেদ মজ্জা নিয়ে নেবে। মোহনা বলল।
– আমার মাথায় খামোখা উকুন হবে কেন? ও সব অপরিষ্কার যারা থাকে, তাদের হয়।
– না, রাই, চুল ভাল করে না আঁচড়ালেও হয়।
– মোটেই না। আমার মাথায় কখনও উকুন হয়নি।
– সে ছোটবেলায় আমি রোজ ভালো করে আঁচড়ে চুল বেঁধে দিতাম, তাই এখনও হয়নি। এখন হবে।
– তুমি যা চুল বাঁধতে, বন্ধুরা হাসত আমার চুল বাঁধা নিয়ে। একটা ঝুটি উত্তর গোলার্ধ আরেকটা দক্ষিণ প্রান্ত। ভাগ্যিস আমি নিজে শিখে নিয়েছিলাম।
– কিন্তু তোর বন্ধুদের মাথায় প্রচুর উকুন থাকত। তুই নিজে এসে বলতিস, আমিও দেখেছি পুলকারে তোলার সময়।
পুরাকালে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অত্যাচারী লোক ছিল। তাদের অসুর বলত সকলে। গায়ে তাদের যেমন জোর, তেমনই তারা অত্যাচারী। তারা ত্রিলোক বিজয় করে ঋষিদের অত্যাচার করে দেবতাদের স্বর্গচ্যুত করল।
– তোমার মনে আছে, বিদিতার মাথায় কত উকুন ছিল! গাল বেয়ে নেমে আসত সেগুলো আর সে হাতে করে সেটা বাইরে ফেলে দিত। ম্যামরা ওকে কত বলত লাইসিল লাগাতে। কিন্তু ওর কমতই না।
– উকুন যে হারে বাড়ে, আর কোনও জীব অত দ্রুত বাড়ে না। আমার মা বলে, ওরা রক্তবীজের জাত।
– রক্তবীজটা আবার কী?
মোহনা বলল— শোন তাহলে। দেবীভাগবত পুরাণ ও মার্কণ্ডেয় পুরাণে বলছে শুম্ভ ও নিশুম্ভের প্রধান সেনাপতি হল রক্তবীজ। মহাদেবের আশীর্বাদে মহাদানব রক্তবীজের রক্ত মাটিতে পড়লেই এক নতুন রক্তবীজের সৃষ্টি হত। এটা আসলে দেবী দুর্গার সৃষ্টির গল্পও বলতে পারিস। পুরাকালে শুম্ভ ও নিশুম্ভ নামে দুই অত্যাচারী লোক ছিল। তাদের অসুর বলত সকলে। গায়ে তাদের যেমন জোর, তেমনই তারা অত্যাচারী। তারা ত্রিলোক বিজয় করে ঋষিদের অত্যাচার করে দেবতাদের স্বর্গচ্যুত করল। তখন দেবতারা মহামায়ার স্তব করতে শুরু করল। দেবতার স্তুতিতে প্রসন্ন হয়ে পার্বতী তার গাত্রকোশ থেকে পরম তেজস্বী, পরম রূপবতী নারীর সৃষ্টি করেন। পার্বতীর কোশ থেকে উৎপন্ন বলে সেই দেবী কৌশিকী নামে বিখ্যাত হয়। তিনিই কখনও চণ্ডী, কখনও কালিকা।
(ক্রমশ)
মুদ্রিত ও ডিজিটাল মাধ্যমে সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত